শারীরিক প্রতিবন্ধকতা তাকে থামিয়ে রাখতে পারেনি, কিন্তু দারিদ্র্য বারবার পথ আটকে দাঁড়িয়েছে। সংসারের হাল ধরতে চাইলেও পুঁজির অভাবে ছোট্ট একটি দোকানও করতে পারছিলেন না জয়পুরহাটের আক্কেলপুর উপজেলার সোনামুখী ইউনিয়নের কোলা গ্রামের শারীরিক প্রতিবন্ধী যুবক তুহিন দেওয়ান। অবশেষে তার সেই স্বপ্নপূরণে পাশে দাঁড়িয়েছে বসুন্ধরা শুভসংঘ।
বসুন্ধরা শুভসংঘের আক্কেলপুর উপজেলা শাখার উদ্যোগে তুহিন দেওয়ানের জন্য মুদি দোকানের প্রয়োজনীয় বিভিন্ন পণ্যসামগ্রী কিনে দেওয়া হয়েছে। এসব পণ্য দিয়ে তিনি নিজের বাড়িতেই একটি ছোট দোকান পরিচালনা শুরু করবেন। এতে তার পরিবারের আয় রোজগারের নতুন একটি পথ তৈরি হবে বলে আশা করছেন স্থানীয়রা।
দীর্ঘদিন ধরেই শারীরিক প্রতিবন্ধকতার কারণে তুহিনের পক্ষে ভারী বা নিয়মিত শ্রমের কাজ করা সম্ভব হয়নি। সংসারের অভাব-অনটনের মধ্যেও তিনি কখনো ভিক্ষার পথ বেছে নেননি। নিজের পরিশ্রমে সম্মানের সঙ্গে বেঁচে থাকার ইচ্ছা থেকেই একটি দোকান করার স্বপ্ন দেখেছিলেন। কিন্তু অর্থাভাবে সেই স্বপ্ন বাস্তবায়ন হচ্ছিল না।
তুহিন দেওয়ান বলেন, একটি দোকান করার খুব ইচ্ছা ছিল। কিন্তু পুঁজি না থাকায় তা সম্ভব হয়নি। বসুন্ধরা শুভসংঘ আমার পাশে দাঁড়িয়েছে। এখন দোকান চালিয়ে পরিবারের খরচ চালাতে পারব বলে বিশ্বাস করছি। এই সহযোগিতা আমার জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে।
বসুন্ধরা শুভসংঘ আক্কেলপুর উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক শাদমান হাফিজ শুভ জানান, অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে তাদের স্বাবলম্বী করে তোলাই শুভসংঘের অন্যতম লক্ষ্য। সেই দায়িত্ববোধ থেকেই তুহিন দেওয়ানের জন্য ব্যবসার প্রয়োজনীয় মালামাল কিনে দেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের মানবিক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, কাউকে সাময়িক সহায়তা দেওয়ার চেয়ে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করে দেওয়া অনেক বেশি কার্যকর। তুহিনের মতো একজন শারীরিক প্রতিবন্ধী মানুষের হাতে ব্যবসার পুঁজি তুলে দিয়ে বসুন্ধরা শুভসংঘ যে মানবিক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে, তা সমাজের বিত্তবান ও সামাজিক সংগঠনগুলোর জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।








