রাজধানীর পুরান ঢাকার বুড়িগঙ্গা নদীর ঐতিহ্যবাহী সিমসন ঘাট পুনরায় চালুর দাবিতে আন্দোলনে নেমেছেন নৌকা মাঝিরা। শনিবার (১৮ জুলাই) সকালে নদীতে নৌকা চলাচল বন্ধ রেখে কেরানীগঞ্জের কালীগঞ্জ গুদারাঘাট এলাকায় অবস্থান ধর্মঘট ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন তারা।
এ সময় নৌকা মাঝিরা দ্রুত সিমসন ঘাট পুনরায় চালুর পাশাপাশি সদরঘাট টার্মিনালের ৪ ও ৫ নম্বর পল্টন অপসারণের দাবি জানান। তাদের অভিযোগ, সিমসন ঘাট বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর থেকে যাত্রী পারাপার কমে গেছে। ঘাটটি সরিয়ে নেওয়ায় কেরানীগঞ্জের গার্মেন্টস পল্লিতে পাইকারদের যাতায়াত কমেছে। এতে ব্যবসায়ীরা যেমন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন, তেমনি ক্ষতির মুখে পড়েছেন মাঝিরাও।
আন্দোলনরত মাঝিরা জানান, প্রায় ২০০ বছরের পুরোনো সিমসন ঘাট বুড়িগঙ্গা নদীতে খেয়া পারাপারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ঘাট। এই ঘাট ব্যবহার করে দেশের বিভিন্ন এলাকার পাইকাররা সহজেই কেরানীগঞ্জের গার্মেন্টস পল্লিতে যাতায়াত করতেন। বর্তমানে ঘাটটি বন্ধ থাকায় তাদের ওয়াইজঘাট হয়ে ঘুরে আসতে হয়। অতিরিক্ত পথ অতিক্রম করতে হওয়ায় অনেক পাইকার আর আগ্রহী হচ্ছেন না। একই সঙ্গে মাঝিদেরও বেশি দূর নৌকা চালিয়ে যাত্রী পারাপার করতে হচ্ছে, এতে তাদের শ্রম ও সময় দুটোই বেশি ব্যয় হচ্ছে।
আরো পড়ুন
হামের উপসর্গে নিয়ে আরো ৪ প্রাণহানি, আক্রান্ত ৭৭৩
দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানা ঘাট মাঝি শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন কিসলু অভিযোগ করেন, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় তৎকালীন নৌপরিবহনমন্ত্রী শাহজাহান খান এবং বিআইডব্লিউটিএর কয়েকজন কর্মকর্তা সদরঘাটের লঞ্চ মালিকদের সঙ্গে অনৈতিক সমঝোতার মাধ্যমে একতরফাভাবে সিমসন ঘাট বন্ধ করে দেন। তার দাবি, এ সিদ্ধান্তের ফলে মাঝিদের জীবিকা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং স্থানীয় ব্যবসায়ীরাও আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০০৮ সালে তৎকালীন সরকারের সময়ে হঠাৎ করেই সিমসন ঘাট বন্ধ করে দেওয়া হয়। সে সময় ব্যবসায়ী ও মাঝিদের আন্দোলনের মুখে ঘাটটি পুনরায় চালু করা হয়। পরবর্তীতে ২০২০ সালে আবারও বিআইডব্লিউটিএর কিছু কর্মকর্তার বিরুদ্ধে লঞ্চ মালিকদের সুবিধা দিতে ঘাটটি বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। সেখানে লঞ্চ রাখার জন্য পল্টন স্থাপন করা হয়। এতে কালীগঞ্জ এলাকার ব্যবসা-বাণিজ্যে স্থবিরতা নেমে আসে এবং নদীতে মাঝিদের নৌকা পারাপারে যাত্রীও কমে যায় বলে স্থানীয়রা জানান।
উল্লেখ্য, এর আগে গত বুধবার একই দাবিতে কেরানীগঞ্জ গার্মেন্টস পল্লির ব্যবসায়ীরাও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন। আন্দোলনকারীরা দ্রুত সিমসন ঘাট পুনরায় চালুর জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।