• ই-পেপার

বিশ্বকাপের প্রাইজমানিতে জোয়ার, অর্থ পাবে বাংলাদেশও

‘চকলেট মেডেলের ম্যাচ’ খেলার ইচ্ছা নেই ফ্রান্স খেলোয়াড়দের

ক্রীড়া ডেস্ক
‘চকলেট মেডেলের ম্যাচ’ খেলার ইচ্ছা নেই ফ্রান্স খেলোয়াড়দের
ছবি : রয়টার্স

গত দুই বিশ্বকাপের ফাইনালিস্ট তারা। অথচ এবার সেমিফাইনালের গণ্ডিটাই পার হতে পারল না ফ্রান্স। শেষ চারে থমকে গেছে কিলিয়ান এমবাপ্পেদের বিশ্বজয়ের স্বপ্ন। তবে স্বপ্নভঙ্গের বেদনায় পুড়লেও এখনই দেশে ফেরার বিমান ধরার উপায় নেই ফরাসিদের। টুর্নামেন্ট থেকে পুরোপুরি বিদায় নেওয়ার আগে তাদের খেলতে হচ্ছে অলিখিত এক ‘বাধ্যতামূলক’ ম্যাচ।

মিয়ামি স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ সময় আজ শনিবার দিবাগত রাত ৩টায় তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ব্রোঞ্জ মেডেলের এই ম্যাচে ফ্রান্সের মুখোমুখি হচ্ছে আরেক সেমিফাইনালে স্বপ্নভঙ্গ হওয়া ইংল্যান্ড। তবে মাঠের লড়াইয়ের আগেই ম্যাচটি নিয়ে তৈরি হয়েছে চরম অনীহা। ইংলিশরা আগেই সাফ জানিয়ে দিয়েছিল, এমন ‘অর্থহীন’ ম্যাচ খেলার কোনো ইচ্ছেই নেই হ্যারি কেইনদের। এবার সুর মেলালো ফরাসি শিবিরও। 

ফরাসি ডিফেন্ডার ইব্রাহিম কোনাতে তো হেসেই উড়িয়ে দিচ্ছেন ম্যাচটিকে। মজার ছলে এই ম্যাচের নাম দিয়েছেন ‘চকলেট মেডেলের ম্যাচ’। তবে খেলতে নামার তীব্র অনীহা থাকলেও, সতীর্থদের নিয়ে একটি বিশেষ কারণে ম্যাচটি জিততে চান কোনাতে। কারণ, এই ম্যাচ দিয়েই অবসান ঘটছে ফ্রান্স ফুটবলে ‘দিদিয়ের দেশম’ অধ্যায়ের। ফরাসি ডাগআউটে এটিই এই কিংবদন্তি কোচের শেষ ম্যাচ।

প্রিয় কোচের বিদায়বেলায় জয় উপহার দিতে চান কোনাতে, ‘আমাদের কেউই তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচটি খেলতে চাইনি, কিন্তু আমাদের তো কোনো উপায় নেই। আমরা আমাদের কোচকে উপযুক্ত সম্মান দিয়ে বিদায় জানাতে চাই। ফ্রান্স দলের জন্য তিনি যা করেছেন, তার জন্য আমাদের কৃতজ্ঞ থাকতেই হবে। এই চকলেট মেডেল বা ব্রোঞ্জ মেডেল যা-ই বলুন, তা জেতার জন্য আমরা আমাদের সবকিছু উজাড় করে দেব।’

শিষ্যের মতো দেশম নিজেও ম্যাচটি নিয়ে বিরক্তি লুকাতে পারেননি। মনের বিরুদ্ধে গিয়েই আজ দলকে মাঠে নামাতে হচ্ছে বিদায়ী এই মাস্টারমাইন্ডকে, ‘এই ম্যাচের প্রতি আমার একটা দায়বদ্ধতা আছে। এটা কোনো প্রীতি ম্যাচ নয়, অফিশিয়াল ম্যাচ। খেলোয়াড়, স্টাফ এবং আমার দায়িত্ব হলো লক্ষ্য পূরণ করা; যদিও এটি ফাইনালের চেয়ে অনেক কম গুরুত্বপূর্ণ। ইংল্যান্ড যেমন খেলতে চায় না, আমরাও চাই না। তবুও আমাদের খেলতে হচ্ছে।’

নিজের বিদায়ের আবহে আবেগাক্রান্ত হতে চান না বিশ্বকাপজয়ী এই কিংবদন্তি। ম্যাচ শুরুর আগে শিষ্যদের কড়া বার্তাই দিয়ে রাখলেন দেশম, ‘আমাদের লক্ষ্য একটাই—তৃতীয় হওয়া। এই জার্সিটার একটা মর্যাদা আছে, সেটা আমাদের রক্ষা করতেই হবে। আমি জানি এটা আমার শেষ ম্যাচ, তবে আমি চাই না কেউ কাঁদুক। একটা অধ্যায়ের শেষ হতেই পারে, কিন্তু জীবন তো আর থেমে থাকে না।’
 

জুরিখ থেকে ফাইনালের মঞ্চে, বিশেষ ট্রাংকে বিশ্বকাপ ট্রফি

অনলাইন ডেস্ক
জুরিখ থেকে ফাইনালের মঞ্চে, বিশেষ ট্রাংকে বিশ্বকাপ ট্রফি

বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে কাঙ্ক্ষিত পুরস্কার ফিফা বিশ্বকাপ ট্রফি। এবারও পৌঁছাবে ফাইনালের ভেন্যুতে বিশেষ আয়োজনে। সুইজারল্যান্ডের জুরিখে সংরক্ষিত ট্রফিটি নিউ ইয়র্ক-নিউ জার্সির ফাইনাল ভেন্যুতে নেওয়া হবে বিশেষভাবে তৈরি লুই ভিতঁর বিলাসবহুল ট্রাংকে।

বিশ্বকাপ ট্রফি বহনের জন্য ট্রাংকটি ডিজাইন করেছে ফরাসি বিলাসবহুল ফ্যাশন হাউস লুই ভিতঁ। ট্রাংকটির সামনের অংশে রয়েছে সোনালি রঙের ‘ভি’ অক্ষর, যা ‘ভিক্টরি’ ও ‘ভিতঁ’-এর প্রতীক। এ ছাড়া এতে ব্যবহার করা হয়েছে ব্র্যান্ডটির স্বাক্ষর মনোগ্রাম প্যাটার্ন এবং সোনার প্রলেপ দেওয়া পিতলের কর্নার প্রোটেক্টর।

ট্রাংকটির ভেতরের অংশ বেইজ রঙের চামড়ায় মোড়ানো। লুই ভিতঁ ও ফিফার দীর্ঘদিনের অংশীদারত্বের স্মারক হিসেবে এতে একটি বিশেষ প্যাঁচও যুক্ত করা হয়েছে।

সাধারণত মূল বিশ্বকাপ ট্রফিটি সুইজারল্যান্ডের জুরিখে অবস্থিত ফিফা মিউজিয়ামে সংরক্ষিত থাকে। ফাইনাল ম্যাচ উপলক্ষে কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে ট্রফিটি বিশেষ এই ট্রাংকে করে স্টেডিয়ামে আনা হবে।

এবার নিয়ে টানা পঞ্চমবারের মতো বিশ্বকাপ ট্রফি বহনের ট্রাংক ডিজাইন করল লুই ভিতঁ। এর আগে ২০১০, ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২২ সালের বিশ্বকাপেও একই দায়িত্ব পালন করেছিল ফরাসি প্রতিষ্ঠানটি।

মেসি-ইয়ামালকে নিয়ে যে মন্তব্য করলেন বার্সা সভাপতি

ক্রীড়া ডেস্ক
মেসি-ইয়ামালকে নিয়ে যে মন্তব্য করলেন বার্সা সভাপতি

‘দ্য গেটেস্টে শো অন আর্থ’ খ্যাত ফিফা বিশ্বকাপের ২৩ তম আসর শেষে হতে বাকি আর দুই ম্যাচ। বর্তমান সময়ের নিজ নিজ মহাদেশের শ্রেষ্ঠত্বের মুকুট বহনকারী আর্জেন্টিনা এবং স্পেন উঠেছে ফাইনালে। এতে দুইদলের তারকার নিয়ে শুরু হয়েছে বিশ্লেষণ।

ইতিমধ্যে নিজের সেরাটা দিয়ে ফুটবলে মহাতারকা বনে গেছেন আর্জেন্টাইন লিওনেল মেসি। এই সময়ে তারকা হয়ে উঠছে তরুন প্রতিভাবান স্পেনের ইয়ামাল। দুইজনই স্প্যানিশ লিগের দল বার্সেলোনার লা মাসিয়া একাডেমি উঠে এসেছে। 

তাই বার্সেলোনা অতীত এবং বর্তমান দুই খেলোয়াড়কে নিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছে বার্সেলোনার প্রেসিডেন্ট হোয়ান লাপোর্তা। তিনি বলেছেন, লিওনেল মেসি হলেন অতীত ও বর্তমান, আর লামিনে ইয়ামাল হলেন বর্তমান ও ভবিষ্যৎ।

বিশ্বকাপ ফাইনালের ঠিক আগে স্পেনের ইয়ামাল এবং আর্জেন্টিনার মেসির মুখোমুখি হওয়াকে কেন্দ্র করে বার্সেলোনার লা মাসিয়া একাডেমির এই দুই প্রতিভাকে নিয়ে এমন ঐতিহাসিক মন্তব্য করেন স্প্যানিশ ক্লাবের এই প্রেসিডেন্ট।

ইএসপিএন এফসি ও আরএসি১-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে স্পষ্ট করে লাপোর্তা বলেন, ‘মেসি বার্সার সোনালী অতীতকে বহন করছেন, আর ইয়ামাল ক্লাবটির নতুন যুগের নেতৃত্ব দিচ্ছেন।’

বার্সেলোনা প্রেসিডেন্ট গর্ব প্রকাশ করে বলেন, ‘বিশ্বকাপের ফাইনালে মুখোমুখি হতে যাওয়া দুইজনই লা মাসিয়া একাডেমি থেকে উঠে এসেছেন।’

মেসি হলেন মেসি আর লামিনে হলেন লামিনে। মেসি ইতিহাসের সেরা, তবে বর্তমান সময়ে নিজের পজিশনে ইয়ামালও অন্যতম সেরা জিনিয়াস বলে যোগ করেন লাপোর্তা।

স্পেন ও আর্জেন্টিনা দুই দলই সেমিফাইনালে যথাক্রমে ফ্রান্স ও ইংল্যান্ডকে হারিয়ে ফাইনালে উঠেছে। এই ম্যাচের মাধ্যমে ফুটবল বিশ্ব এক অভূতপূর্ব মশাল বদলের সাক্ষী হতে যাচ্ছে।

স্যার গ্যারি সোবার্স মারা গেছেন

ক্রীড়া ডেস্ক
স্যার গ্যারি সোবার্স মারা গেছেন

ক্রিকেট জগতের সবচেয়ে উজ্জ্বলতম নক্ষত্রগুলোর একটি তিনি। সেই নক্ষত্র যেন আজ খসে পড়ল!

সর্বকালের অন্যতম সেরা ক্রিকেটার স্যার গ্যারি সোবার্স আর নেই। ৮৯ বছর বয়সে মারা গেছেন তিনি। কিছুক্ষণ আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সোবার্সের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে ক্রিকেট ওয়েস্ট ইন্ডিজ (সিডব্লিউআই)।

সিডব্লিউআই লিখেছে, ‘এক অসাধারণ ইনিংসের সমাপ্তি ঘটল। আমাদের হৃদয়ে, আজীবন ও চিরকাল বেঁচে থাকবেন স্যার গারফিল্ড সোবার্স।’ তার মৃত্যুতে বিশ্ব ক্রিকেটে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

বার্বাডোজে জন্ম নেওয়া সোবার্সকে ক্রিকেট ইতিহাসের অন্যতম সেরা অলরাউন্ডার হিসেবে বিবেচনা করা হয়। ব্যাটিং, বোলিং ও ফিল্ডিং—তিন বিভাগেই তিনি ছিলেন অসাধারণ। বাঁহাতি ব্যাটার হওয়ার পাশাপাশি তিনি পেস, বাঁহাতি স্পিন এবং চায়নাম্যান—তিন ধরনের বোলিংই করতে পারতেন, যা তাকে অন্যদের থেকে আলাদা করেছে।

মাত্র ১৭ বছর বয়সে ওয়েস্ট ইন্ডিজের হয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক হয় সোবার্সের। এরপর দীর্ঘ ক্যারিয়ারে তিনি ৯৩টি টেস্ট ম্যাচ খেলেন। করেন ৮০৩২ রান, যার মধ্যে ছিল ২৬টি সেঞ্চুরি। বল হাতে নেন ২৩৫টি উইকেট এবং ফিল্ডিংয়ে ধরেন ১০৯টি ক্যাচ।

SOBERS
খেলোয়াড়ি জীবনে গ্যারি সোবার্স যেমন ছিলেন। ছবি: সংগৃহীত

১৯৫৮ সালে পাকিস্তানের বিপক্ষে কিংস্টনে অপরাজিত ৩৬৫ রানের ইনিংস খেলে বিশ্ব রেকর্ড গড়েছিলেন সোবার্স। সেই সময় এটি ছিল টেস্ট ক্রিকেটের সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত ইনিংস। রেকর্ডটি প্রায় ৩৬ বছর টিকে ছিল। পরে ব্রায়ান লারা ৩৭৫ রান করে তা ভাঙেন।

১৯৬৮ সালে ইংল্যান্ডের কাউন্টি ক্রিকেটে নটিংহামশায়ারের বিপক্ষে গ্ল্যামরগানের হয়ে খেলতে নেমে এক ওভারে টানা ছয়টি ছক্কা মেরে ইতিহাস গড়েন সোবার্স। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে এক ওভারে ছয় ছক্কা মারার কীর্তি গড়া প্রথম ব্যাটার ছিলেন তিনি।

ক্রিকেটে অসাধারণ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ১৯৭৫ সালে ব্রিটিশ রাজপরিবার সোবার্সকে ‘নাইট’ উপাধিতে ভূষিত করে। এরপর থেকেই তিনি ‘স্যার গারফিল্ড সোবার্স’ নামে পরিচিত হন। পরে আইসিসিও তাকে তাদের ‘হল অব ফেম’-এ অন্তর্ভুক্ত করে।

স্যার গ্যারি সোবার্সের মৃত্যুতে ক্রিকেট বিশ্ব হারাল এমন একজন কিংবদন্তিকে, যিনি শুধু পরিসংখ্যানেই নয়, নিজের বহুমুখী প্রতিভা ও অসাধারণ নৈপুণ্যে প্রজন্মের পর প্রজন্মের ক্রিকেটারদের অনুপ্রাণিত করে গেছেন।