• ই-পেপার

নবী-রাসুলদের প্রধান চার কাজ

সফল হতে কোরআনের যে তিন সূত্র মানা জরুরি

ইসলামী জীবন ডেস্ক
সফল হতে কোরআনের যে তিন সূত্র মানা জরুরি
সংগৃহীত ছবি

এখানে এমন তিনটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় আলোচনা করা হচ্ছে, যা দ্বিন ও দুনিয়ার সফলতার সূত্র।

১. দোয়া : দ্বিন ও দুনিয়ার প্রতিটি কাজে আল্লাহ তাআলার কাছে দোয়া করতে হবে, যেন তিনি কাজটি সহজ করে দেন এবং সফলতা দান করেন। কারণ দোয়া হলো ইবাদত, আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের মাধ্যম এবং সেই মহান রবের কাছে সাহায্য প্রার্থনা, যার হাতেই সব কিছুর নিয়ন্ত্রণ। পবিত্র কোরআনে এসেছে, ‘তোমাদের রব বলেছেন, ‘তোমরা আমাকে ডাকো, আমি তোমাদের ডাকে সাড়া দেব। নিশ্চয়ই যারা অহংকারবশত আমার ইবাদত থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়, তারা অপমানিত অবস্থায় জাহান্নামে প্রবেশ করবে।’ (সুরা : গাফির, আয়াত : ৬০)
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘দোয়াই হলো ইবাদত। ’ (আবু দাউদ, হাদিস : ১৪৭৯)

একজন বান্দার উচিত দুনিয়া ও আখিরাতের প্রতিটি ছোট-বড় প্রয়োজন আল্লাহর কাছেই চাওয়া। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমাদের প্রত্যেকে যেন তার সকল প্রয়োজনই তার রবের কাছে চায়; এমনকি তার জুতার ফিতা ছিঁড়ে গেলেও সেটিও যেন আল্লাহর কাছেই চায়।’ (তিরমিজি, হাদিস : ৩৬০৪)

২. তাওয়াক্কুল বা আল্লাহর ওপর পূর্ণ ভরসা : দ্বিন ও দুনিয়ার প্রতিটি কাজে আল্লাহর ওপর ভরসা করতে হবে এবং তাঁরই সাহায্য কামনা করতে হবে, যেন তিনি কাজকে সহজ করে দেন এবং সফলতা দান করেন। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘যে ব্যক্তি আল্লাহর ওপর তাওয়াক্কুল করে, আল্লাহই তার জন্য যথেষ্ট।’ (সুরা : আত-তালাক, আয়াত : ৩)
অর্থাৎ আল্লাহই তার জন্য যথেষ্ট সাহায্যকারী ও অভিভাবক।

তাওয়াক্কুলের অন্যতম সুন্দর ও পূর্ণাঙ্গ সংজ্ঞা প্রদান করেছেন আল্লামা শাইখ মুহাম্মাদ ইবনু উসাইমিন (রহ.)। তিনি বলেন, ‘তাওয়াক্কুল হলো, উপকার লাভ ও ক্ষতি প্রতিরোধের জন্য আল্লাহর ওপর আন্তরিকভাবে নির্ভর করা, পাশাপাশি আল্লাহ যে উপায়-উপকরণ গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন, তা যথাযথভাবে অবলম্বন করা।’ (মাজমুউল ফাতাওয়া ওয়া রাসায়িল, ১/১০৬)

সুতরাং একজন মুমিন ছোট-বড় প্রতিটি বিষয়ে আল্লাহর ওপর নির্ভর করে এবং তার হৃদয় আল্লাহর সঙ্গেই সম্পর্কযুক্ত রাখে। কারণ সে বিশ্বাস করে, সব কিছুই আল্লাহর ইচ্ছায়, তাঁর ফয়সালায় এবং তাঁর নিয়ন্ত্রণেই সংঘটিত হয়।

৩. উপায়-উপকরণ গ্রহণ করা : সফলতা অর্জনের জন্য কল্যাণকর উপায় গ্রহণ করা এবং অকল্যাণ থেকে বাঁচার ব্যবস্থা করা অপরিহার্য। এটি কখনো তাওয়াক্কুলের বিরোধী নয়। বরং সর্বশ্রেষ্ঠ তাওয়াক্কুলকারী ছিলেন আমাদের প্রিয় নবী মুহাম্মদ (সা.)। তিনি যেমন আল্লাহর ওপর পূর্ণ ভরসা করতেন, তেমনি শরিয়তসম্মত ও বাস্তবসম্মত সব উপায়ও অবলম্বন করতেন। তিনি বিভিন্ন জিকিরের মাধ্যমে নিজেকে সুরক্ষিত রাখতেন। ঘুমানোর আগে সুরা ইখলাস, ফালাক ও নাস পাঠ করতেন। যুদ্ধে বর্ম পরিধান করতেন। খন্দকের যুদ্ধে প্রতিরক্ষার জন্য খন্দক খনন করেছিলেন। এভাবে তিনি সব বৈধ উপায় গ্রহণ করতেন। তিনি আমাদের জন্য সর্বোত্তম আদর্শ। এমনকি দুর্বল উপায় হলেও তা গ্রহণ করা উচিত। উপায় গ্রহণের গুরুত্ব বোঝানোর জন্য আল্লাহ তাআলা মারইয়াম (আ.)-এর ঘটনা উল্লেখ করেছেন। তিনি তখন ছিলেন অত্যন্ত দুর্বল, সদ্য সন্তান প্রসবকারী এক নারী। অথচ আল্লাহ তাঁকে নির্দেশ দিলেন একটি বিশাল খেজুরগাছের কাণ্ড ঝাঁকাতে, যা শক্তিশালী পুরুষদের পক্ষেও সহজ ছিল না। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘আর তুমি খেজুরগাছের কাণ্ডটি তোমার দিকে নাড়াও; তাহলে তোমার ওপর ঝরে পড়বে তাজা ও পাকা খেজুর।’ (সুরা : মারইয়াম, আয়াত : ২৫)

আল্লামা আশ-শানকিতি (রহ.) বলেন, ‘আল্লাহ তাআলা চাইলে গাছ না ঝাঁকিয়েই মারইয়ামের ওপর খেজুর ঝরিয়ে দিতে পারতেন। কিন্তু তিনি তাঁকে গাছের কাণ্ড নাড়ানোর নির্দেশ দিয়েছেন, যাতে মানুষ শিক্ষা লাভ করে যে আল্লাহর ওপর ভরসা করার পাশাপাশি বৈধ উপায়-উপকরণ গ্রহণ করাও অপরিহার্য।’

অতএব একজন মুসলিমের জন্য দ্বিন ও দুনিয়ার প্রতিটি কাজে এই তিনটি নীতি সর্বদা অনুসরণ করা উচিত—
১. আল্লাহর কাছে আন্তরিকভাবে দোয়া করা।
২. পূর্ণ বিশ্বাস ও নির্ভরতাসহ আল্লাহর ওপর তাওয়াক্কুল করা।
৩. শরিয়তসম্মত ও বৈধ সব উপায়-উপকরণ গ্রহণ করা।

যখন এই তিনটি বিষয় একত্র হয়, তখন আল্লাহর ইচ্ছায় কাজ সহজ হয়, অন্তরে প্রশান্তি আসে এবং দুনিয়া ও আখিরাতে সফলতা অর্জনের পথ সুগম হয়।

আজকের নামাজের সময়সূচি, ১৮ ‍জুলাই, ২০২৬

অনলাইন ডেস্ক
আজকের নামাজের সময়সূচি, ১৮ ‍জুলাই, ২০২৬

আজ শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬, ৩ শ্রাবণ, ১৪৩৩, ৩ সফর, ১৪৪৮।

ঢাকা ও এর পার্শ্ববর্তী এলাকার নামাজের সময়সূচি নিম্নরূপ—

জোহরের সময় শুরু ১২টা ৮ মিনিটে।

আসরের সময় শুরু ৪টা ৪৩ মিনিটে।

মাগরিব ৬টা ৫২ মিনিটে।

এশার সময় শুরু ৮টা ১৫ মিনিটে।

আগামীকাল ফজর শুরু ৪টা ০০ মিনিটে 

আজ ঢাকায় সূর্যাস্ত ৬টা ৪৯ মিনিটে এবং আগামীকাল সূর্যোদয় ৫টা ১৯ মিনিটে।

সূত্র : ইসলামিক রিসার্চ সেন্টার বসুন্ধরা, ঢাকা।

বাংলাদেশকে আদর্শ রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তোলার আহ্বান আল্লামা সাজ্জাদ নোমানির

অনলাইন ডেস্ক
বাংলাদেশকে আদর্শ রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তোলার আহ্বান আল্লামা সাজ্জাদ নোমানির

বাংলাদেশকে বিশ্বের জন্য একটি আদর্শ ও অনুসরণযোগ্য রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন ভারতীয় ইসলামী স্কলার আল্লামা ড. খলিলুর রহমান সাজ্জাদ নোমানি। 

তিনি বলেন, একটি রাষ্ট্রের প্রকৃত উন্নয়ন ও স্থায়ী শান্তির ভিত্তি হলো নিরাপত্তা, অর্থনৈতিক স্বচ্ছলতা এবং সর্বস্তরে ইনসাফ প্রতিষ্ঠা। ব্যক্তি থেকে রাষ্ট্র প্রতিটি স্তরে ন্যায়বিচার, মানবিকতা ও কোরআনের শিক্ষা অনুসরণের মাধ্যমেই একটি সমৃদ্ধ ও শান্তিপূর্ণ সমাজ গড়ে উঠতে পারে।

শুক্রবার (১৭ জুলাই) জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে জুমার নামাজের আগে প্রদত্ত বয়ানে তিনি এসব কথা বলেন। পরে জুমার নামাজ শেষে জাতীয় মসজিদের খতিব মুফতি আবদুল মালিকের অনুরোধে দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনায় বিশেষ দোয়া পরিচালনা করেন তিনি।

বয়ানের শুরুতে আল্লাহ তাআলার প্রশংসা এবং মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর প্রতি দরুদ পাঠ করেন সাজ্জাদ নোমানি। এরপর জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থানে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ করে দেওয়ায় ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক, বায়তুল মোকাররমের খতিব এবং সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।

আদর্শ রাষ্ট্রের বৈশিষ্ট্য তুলে ধরতে গিয়ে সাজ্জাদ নোমানি পবিত্র কোরআনের সুরা আন-নাহলের ১১২ নম্বর আয়াত তিলাওয়াত করে বলেন, আল্লাহ তাআলা একটি নিরাপদ ও নিশ্চিন্ত জনপদের উদাহরণ দিয়েছেন, যেখানে চারদিক থেকে পর্যাপ্ত জীবিকা পৌঁছে আসে। এ আয়াতের আলোকে একটি উন্নত রাষ্ট্র গঠনের জন্য দুটি বিষয় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দেশে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সব মানুষের খাদ্য ও জীবিকার নিশ্চয়তা দেওয়া। এমন পরিবেশ গড়ে তুলতে হবে, যেখানে মানুষ নিরাপত্তাহীনতায় ভুগবে না এবং কেউ অভুক্ত থাকবে না।

রাষ্ট্রের স্বাভাবিক পরিবেশ কেমন হওয়া উচিত, এ প্রসঙ্গে তিনি হজরত ইবরাহিম (আ.)-এর ঐতিহাসিক দোয়ার কথা উল্লেখ করেন, যা সুরা ইবরাহিমের ৩৫ নম্বর আয়াতে বর্ণিত হয়েছে। তিনি বলেন, নিরাপদ সমাজ প্রতিষ্ঠার জন্য নবী-রাসুলরাও আল্লাহর কাছে দোয়া করেছেন। নিরাপত্তা একটি বড় নেয়ারমত, যা আল্লাহর পক্ষ থেকেই আসে।

বাংলাদেশের সর্বস্তরের জনগণের উদ্দেশে তিনি বলেন, আপনারা একটি সুন্দর, সমৃদ্ধ ও শান্তিপূর্ণ দেশ পেয়েছেন। এটি আল্লাহর পক্ষ থেকে একটি বড় নেয়ামত। সুরা ইবরাহিমের ৭ নম্বর আয়াতে আল্লাহ বলেন, মানুষ যদি আল্লাহর নেয়ামতের শুকরিয়া আদায় করে, তবে আল্লাহ সেই নেয়ামত আরও বৃদ্ধি করে দেন।

সাজ্জাদ নোমানি দেশের আলেম-উলামা, শিক্ষাবিদ, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী, পেশাজীবী, চিকিৎসক, প্রকৌশলীসহ সর্বস্তরের মানুষের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, সবাই মিলে এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে, যা বিশ্বের সামনে আদর্শ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে।

তিনি রাজনৈতিক নেতৃত্ব, সরকার, বিরোধী দল, প্রধানমন্ত্রী, সংসদ সদস্য, মন্ত্রী, প্রশাসনিক কর্মকর্তা, আইনজীবী এবং সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মুসলিম নারী-পুরুষের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, প্রত্যেকে যেন প্রতিদিন কুরআনের কিছু অংশ অর্থসহ পড়েন এবং কোরআনের শিক্ষা বোঝার জন্য প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময় বরাদ্দ করেন।

তিনি বলেন, দেশের মানুষকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে এবং এমনভাবে দেশ গড়ে তুলতে হবে, যাতে বাংলাদেশ বিশ্বের বুকে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারে। একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করে বলেন, শয়তান যেন বিভেদ সৃষ্টি করতে না পারে। উলামায়ে কেরামের সঙ্গে দৃঢ় সম্পর্ক বজায় রাখারও আহ্বান জানান তিনি।

তিনি বলেন, আল্লাহ তাআলা মানবজাতিকে অসংখ্য নেয়ামত দান করেছেন। এর মধ্যে অন্যতম হলো একটি দেশের শান্তি, নিরাপত্তা ও স্বস্তির পরিবেশ। মানুষ তখনই স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারে, যখন তার জান-মাল, ইজ্জত-আবরু ও মৌলিক অধিকার নিরাপদ থাকে এবং জীবিকার পথ উন্মুক্ত থাকে।

তিনি বলেন, এই শান্তি কেবল শক্তি, ক্ষমতা কিংবা আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত হয় না; বরং এর প্রকৃত ভিত্তি হলো ন্যায়বিচার, সমতা ও ইনসাফ। সমাজে যখন বৈষম্য, জুলুম, বেইনসাফি ও অধিকার হরণের সংস্কৃতি বিস্তার লাভ করে, তখন শান্তি নষ্ট হয়, মানুষের মধ্যে ভয় ও অস্থিরতা ছড়িয়ে পড়ে এবং রাষ্ট্রের স্থিতিশীলতা ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

তিনি ফের সুরা আন-নাহলের ১১২ নম্বর আয়াত উদ্ধৃত করে বলেন, নিরাপত্তা ও জীবিকার প্রাচুর্য একটি আদর্শ সমাজের মৌলিক বৈশিষ্ট্য।

এরপর সুরা কুরাইশের আয়াত তিলাওয়াত করেন তিনি বলেন, আল্লাহ তাআলা কুরাইশদের স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন যে, ক্ষুধা থেকে মুক্তি এবং ভয় থেকে নিরাপত্তা মানুষের জীবনের সবচেয়ে বড় দুটি প্রয়োজন। তাই মানুষের কর্তব্য হলো আল্লাহর বিধান অনুসরণ করা এবং ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গড়ে তোলা।

তিনি বলেন, ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ, রাষ্ট্র এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গন সব ক্ষেত্রেই ইনসাফ প্রতিষ্ঠিত হলে মানুষের অধিকার নিশ্চিত হবে, ভয় দূর হবে এবং স্থায়ী শান্তি ফিরে আসবে।

এ সময় তিনি কোরআনের দুটি আয়াত উদ্ধৃত করে  বলেন, প্রত্যেক মানুষের উচিত আত্মসমালোচনা করা নিজের প্রতি, পরিবার, আত্মীয়-স্বজন, প্রতিবেশী, সমাজ ও রাষ্ট্রের প্রতি আল্লাহ প্রদত্ত দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করা হচ্ছে কি না। অর্থনীতি, প্রশাসন, বিচার বিভাগ, শিক্ষা ও সমাজের প্রতিটি স্তরে ইনসাফ প্রতিষ্ঠিত হলে দেশে শান্তি ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠা সময়ের ব্যাপার মাত্র।

তিনি বলেন, সমাজ পরিবর্তনের সূচনা রাষ্ট্র থেকে নয়; বরং ব্যক্তি ও পরিবার থেকেই শুরু হয়। প্রত্যেকের সংকল্প হওয়া উচিত নিজের কারণে যেন কোনো মানুষ কষ্ট না পায়।

প্রতিবেশীর হক আদায়ের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, প্রতিবেশী মুসলিম, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান কিংবা অন্য যে কোনো ধর্মাবলম্বী হোক না কেন, তার পাশে দাঁড়াতে হবে, খোঁজ নিতে হবে এবং প্রয়োজন হলে সহযোগিতা করতে হবে।

তিনি প্রত্যেককে প্রতিবেশীর কাছে গিয়ে নিজের ফোন নম্বর দিয়ে বলার আহ্বান জানান, আপনার কোনো বিপদ, অসুবিধা বা প্রয়োজন হলে আমাকে জানাবেন। আমি আমার সামর্থ্য অনুযায়ী আপনার পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব।

তিনি বলেন, এমন মানবিক আচরণ বহু বছরের দূরত্ব ও অবিশ্বাস দূর করতে পারে। মানুষের হৃদয় জয় করার সবচেয়ে কার্যকর মাধ্যম হলো উত্তম চরিত্র, সুন্দর আচরণ এবং বিপদের সময় পাশে দাঁড়ানো।

আজ আন্তর্জাতিক ন্যায়বিচার দিবসে ইসলামের নির্দেশনা

মুফতি ওমর বিন নাছির
আজ আন্তর্জাতিক ন্যায়বিচার দিবসে ইসলামের নির্দেশনা
সংগৃহীত ছবি

মানবসভ্যতার ইতিহাসে এমন অনেক শক্তিশালী সাম্রাজ্য এসেছে, যারা সম্পদ, ক্ষমতা ও অস্ত্রের জোরে পৃথিবী শাসন করেছে। কিন্তু ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়—অন্যায়, জুলুম ও বৈষম্যের ওপর দাঁড়িয়ে কোনো সমাজ, রাষ্ট্র কিংবা সভ্যতা দীর্ঘদিন টিকে থাকতে পারেনি। ন্যায়বিচারই একটি রাষ্ট্রের প্রকৃত ভিত্তি, সমাজের শান্তির মূল চাবিকাঠি এবং মানুষের পারস্পরিক আস্থার প্রধান স্তম্ভ। তাই প্রতি বছর ১৭ জুলাই আন্তর্জাতিক ন্যায়বিচার দিবস পালিত হয়। ইসলামও চৌদ্দশ বছর আগে ন্যায়বিচারকে এমন উচ্চ মর্যাদা দিয়েছে, যা জাতি, ধর্ম, বর্ণ কিংবা ব্যক্তিগত স্বার্থের ঊর্ধ্বে।

আল্লাহ তাআলা পবিত্র কোরআনে ইরশাদ করেন, ‘হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহর উদ্দেশ্যে ন্যায়বিচারের ওপর দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত থাকবে এবং ন্যায়ের সাক্ষ্য দেবে। কোনো সম্প্রদায়ের প্রতি বিদ্বেষ যেন তোমাদেরকে ন্যায়বিচার পরিত্যাগ করতে প্ররোচিত না করে। তোমরা ন্যায়বিচার কর; এটাই তাকওয়ার অধিক নিকটবর্তী।’ (সুরা : মায়িদা, আয়াত : ৮)

অন্য আয়াতে আল্লাহ বলেন, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ ন্যায়বিচার, সদাচার এবং আত্মীয়-স্বজনকে দান করার নির্দেশ দেন; আর অশ্লীলতা, অন্যায় ও সীমালঙ্ঘন থেকে নিষেধ করেন।’ (সুরা : নাহল, আয়াত : ৯০)

ইসলামে ন্যায়বিচার শুধু আদালতের বিচারকের দায়িত্ব নয়; বরং পরিবার, সমাজ, ব্যবসা-বাণিজ্য, প্রশাসন এবং রাষ্ট্র পরিচালনার প্রতিটি স্তরে ন্যায় প্রতিষ্ঠা করা প্রত্যেক মানুষের দায়িত্ব। একজন মুসলিমের কাছে আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু কিংবা নিজের বিরুদ্ধে গেলেও সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে অবস্থান নেওয়াই ঈমানের দাবি।

আল্লাহ তাআলা বলেন,‘হে ঈমানদারগণ! তোমরা ন্যায়বিচারের ওপর দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত থাকবে এবং আল্লাহর জন্য সাক্ষ্য দেবে, যদিও তা তোমাদের নিজেদের, পিতা-মাতা বা নিকটাত্মীয়দের বিরুদ্ধে হয়।’ (সুরা : নিসা, আয়াত : ১৩৫)

রাসুলুল্লাহ (সা.) ছিলেন ন্যায়বিচারের সর্বোত্তম আদর্শ। তিনি কখনো ব্যক্তিগত সম্পর্ক, বংশ-মর্যাদা বা ক্ষমতার কারণে বিচারে পক্ষপাত করেননি। একবার এক সম্ভ্রান্ত বংশের নারী চুরির অপরাধে অভিযুক্ত হলে কিছু সাহাবি তার শাস্তি মওকুফের সুপারিশ করেন। তখন মহানবী (সা.) বলেন, ‘আল্লাহর কসম! যদি মুহাম্মদের কন্যা ফাতিমাও চুরি করত, তবে আমি তারও হাত কেটে দিতাম।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৩৪৭৫)

এ হাদিস প্রমাণ করে যে, ইসলামে আইনের দৃষ্টিতে সবাই সমান। কোনো ব্যক্তির পরিচয়, সম্পদ বা সামাজিক মর্যাদা তাকে ন্যায়বিচারের ঊর্ধ্বে স্থান দিতে পারে না। আরেক হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ন্যায়পরায়ণ ব্যক্তিরা কিয়ামতের দিন আল্লাহর ডান পাশে নুরের মিম্বরের ওপর অবস্থান করবেন। তারা হলো সেই সব ব্যক্তি, যারা নিজেদের সিদ্ধান্ত, পরিবার ও দায়িত্বপ্রাপ্ত সকল বিষয়ে ন্যায়বিচার করেছে।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ১৮২৭)

বর্তমান বিশ্বে যুদ্ধ, নিপীড়ন, দুর্নীতি, বৈষম্য ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের অন্যতম কারণ হলো ন্যায়বিচারের অভাব। আন্তর্জাতিক ন্যায়বিচার দিবস আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় যে, শান্তি ও উন্নয়নের জন্য শুধু আইন প্রণয়ন যথেষ্ট নয়; প্রয়োজন ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গঠন এবং সবার জন্য সমান বিচার নিশ্চিত করা। ইসলামও ঠিক এই শিক্ষাই দেয়—ক্ষমতার নয়, সত্যের বিজয়ই প্রকৃত বিজয়।