• ই-পেপার

জ্বালানি ও বিনিয়োগের বিনিময়ে কুয়েতের সঙ্গে প্রতিরক্ষা চুক্তির আলোচনায় পাকিস্তান

চীনের ভূমিধসে নিহত অন্তত ৮, নিখোঁজ ৩৪

অনলাইন ডেস্ক
চীনের ভূমিধসে নিহত অন্তত ৮, নিখোঁজ ৩৪
ছবি : রয়টার্স

দক্ষিণ-পশ্চিম চীনের চংকিং শহরের উপকণ্ঠে শুক্রবার ভয়াবহ ভূমিধসে অন্তত আটজন নিহত এবং ৩৪ জন নিখোঁজ হয়েছেন। ভূমিধসে একাধিক বাড়িঘর চাপা পড়েছে এবং এক হাজার ১০০ জনের বেশি মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম সিসিটিভির তথ্য অনুযায়ী, স্থানীয় সময় সকাল ৯টা ৮ মিনিটে চংকিং পৌরসভার পেংশুই কাউন্টিতে এ দুর্ঘটনা ঘটে। পাহাড় থেকে বিপুল পরিমাণ মাটি ও পাথর ধসে নিচে নেমে এসে ১০টিরও বেশি আবাসিক ভবন চাপা দেয়। পেংশুই কাউন্টির মেয়র রেন শুজিয়াং জানান, উদ্ধারকারীরা ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে ১০ জনকে জীবিত উদ্ধার করেছেন। তাদের মধ্যে দুজনের অবস্থা গুরুতর।

চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং দুর্ঘটনার কারণ তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন এবং উদ্ধারকাজ জোরদারের আহ্বান জানিয়েছেন বলে রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে। স্থানীয় পরিকল্পনা ও প্রাকৃতিক সম্পদ বিভাগের প্রধান ওয়াং চুয়ানজুন জানান, ভূমিধসে প্রায় ১৮ হাজার ঘনমিটার পাথর ও ধ্বংসাবশেষ নেমে এসেছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় পাথরটির আয়তন ছিল প্রায় ৩ হাজার ঘনমিটার।

তিনি আরো সতর্ক করে বলেন, ভারি বৃষ্টিপাত বা দীর্ঘ সময়ের গরম ও শুষ্ক আবহাওয়ার কারণে এলাকায় নতুন করে ভূমিধসের ঝুঁকি রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের পরিদর্শনে পাহাড়ের চূড়া ও ঢালের বিভিন্ন স্থানে এখনও অস্থিতিশীল পাথরের স্তূপ দেখা গেছে।

ভূমিধসের পর আরো দুর্ঘটনা এড়াতে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার এক কিলোমিটার ব্যাসার্ধের মধ্যে পানি, বিদ্যুৎ ও গ্যাস সরবরাহ বন্ধ করে দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। স্থানীয় সরকারের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, উদ্ধার ও ত্রাণকাজে ৮০০ জনের বেশি কর্মী অংশ নিচ্ছেন। রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা সিনহুয়া জানিয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পর্যবেক্ষণ ও পরিস্থিতি মূল্যায়নের জন্য ড্রোন ব্যবহার করা হচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, পাহাড় থেকে ছোট ছোট পাথর গড়িয়ে পড়া এবং অস্বাভাবিক শব্দ শোনার পর স্থানীয় প্রশাসন ও সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরা দ্রুত মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ নেন।

স্থানীয় সংবাদপত্র চংকিং ডেইলি জানায়, সরিয়ে নেওয়ার কাজ চলাকালীনই বড় ধরনের ভূমিধসের ঘটনা ঘটে। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন সিসিটিভির সম্প্রচারিত ভিডিওতে দেখা গেছে, পাহাড়ের একটি বড় অংশ ধসে পাশের আবাসিক এলাকার ওপর পড়ছে।

ধসের স্থানটির আশপাশে বেশ কয়েকটি ভবন ছিল এবং উদ্ধারকারীরা ধ্বংসস্তূপের মধ্যে নিখোঁজদের খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছিলেন। তবে অস্থিতিশীল ভূখণ্ড এবং নতুন করে ভূমিধসের আশঙ্কার কারণে উদ্ধার অভিযান বারবার বাধাগ্রস্ত হচ্ছে বলে সিসিটিভি জানিয়েছে।

সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশিত ছবিতে দেখা গেছে, কমলা রঙের পোশাক পরা উদ্ধারকর্মীরা ধ্বংসস্তূপ সরাতে খননযন্ত্র ব্যবহার করছেন। এক পর্যায়ে উদ্ধারকারীরা ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে একজন ব্যক্তিকে জীবিত উদ্ধার করতে সক্ষম হন। ভূমিধসের ফলে পাহাড় থেকে বিশাল পাথরের খণ্ড নিচের একটি জলপথে গিয়ে পড়ে। ঘটনাস্থলের পাশে থাকা প্রায় পাঁচ ও পনেরো তলা উচ্চতার দুটি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হলেও ধসে পড়েনি।

প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, টানা বৃষ্টিপাতের কারণে এই ভূমিধসের ঘটনা ঘটেছে। দুর্ঘটনাস্থলটি উজিয়াং নদীর একটি অংশের কাছে, যা ছোট ছোট শহর ও ধাপযুক্ত কৃষিজমির মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে।

দুর্যোগ মোকাবিলায় চীনা কর্তৃপক্ষ ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় ১৩ হাজারের বেশি ত্রাণসামগ্রী পাঠিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে তাঁবু, ভাঁজ করা বিছানা এবং জরুরি পারিবারিক সহায়তা কিট। পেংশুই কাউন্টি চংকিংয়ের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত। এটি হুবেই ও গুইঝৌ প্রদেশের সীমান্তঘেঁষা একটি এলাকা।

মার্কিন কম্পানির সঙ্গে ৬০ বিলিয়ন ডলারের জ্বালানি চুক্তি সই ইরাকের

অনলাইন ডেস্ক
মার্কিন কম্পানির সঙ্গে ৬০ বিলিয়ন ডলারের জ্বালানি চুক্তি সই ইরাকের
ছবি: রয়টার্স

পশ্চিমা জ্বালানি কম্পানিগুলোর সঙ্গে তেল, গ্যাস এবং পাইপলাইন খাতে কয়েক ডজন চুক্তি করেছে ইরাক। শুক্রবার ওয়াশিংটনে অনুষ্ঠিত যুক্তরাষ্ট্র-ইরাক ব্যবসায়িক সম্মেলনে এসব চুক্তি ও সমঝোতা স্মারকে সই হয়।

ইরাকি কর্মকর্তাদের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি, স্বাস্থ্যসেবা ও প্রযুক্তি খাতের বিভিন্ন কোম্পানি ৬০ বিলিয়ন ডলারের বেশি মূল্যের 'বাধ্যতামূলক নয়'- এমন চুক্তি ও সমঝোতা স্মারকে সই করেছে। ইরাক সরকার বলছে, তারা বিদেশি বিনিয়োগ বাড়াতে এবং বিশ্বের বড় কম্পানিগুলোর জন্য দেশটিকে আরো উন্মুক্ত করতে চায়। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সম্পর্ক আরো শক্তিশালী করার লক্ষ্য নিয়েও কাজ করছে। সম্মেলনে দোভাষীর মাধ্যমে ইরাকের প্রধানমন্ত্রী আলি আল-জাইদি বলেন, তাদের সরকার সবার জন্য 'দরজা খোলা রাখার নীতি' অনুসরণ করছে।

তিনি বলেন, যেকোনো কোম্পানি বা বিনিয়োগকারী নতুন প্রকল্প নিয়ে ইরাকের সঙ্গে আলোচনা করতে পারে। সরকার বিনিয়োগের ক্ষেত্রে অপ্রয়োজনীয় জটিলতা তৈরি করবে না বলেও তিনি আশ্বাস দেন। ওয়াশিংটনে যুক্তরাষ্ট্রের চেম্বার অব কমার্সে এই সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। এতে ইরাকের সরকারি প্রতিনিধিদের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন বড় প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা অংশ নেন। ইরাকের এই উদ্যোগ এমন সময় এসেছে, যখন দেশটি বিশ্ববাজারে তেল ও গ্যাস রপ্তানির নতুন পথ খুঁজছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে বিকল্প রপ্তানি ব্যবস্থা গড়ে তোলার চেষ্টা করছে বাগদাদ।

সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের সংঘাত পুরো মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি করেছে। এই পরিস্থিতিতে জ্বালানি সরবরাহের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগও বেড়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক দূত টম ব্যারাক বলেন, সাম্প্রতিক যুদ্ধ একদিকে অনিশ্চয়তা ও অস্থিরতা তৈরি করেছে। অন্যদিকে, ইরাক এখন যুক্তরাষ্ট্র ও তার অংশীদার দেশগুলোর সঙ্গে নতুন কৌশলগত নিরাপত্তা সহযোগিতার গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে রয়েছে।

সম্মেলনের আগে বৃহস্পতিবার ইরাকের প্রধানমন্ত্রী আলি আল-জাইদি যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি প্রতিষ্ঠান শেভরনের সদর দপ্তর পরিদর্শন করেন। এরপর ইরাকের কর্মকর্তারা শেভরনের সঙ্গে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি সই করেন। এসব চুক্তির মাধ্যমে ইরাকের পশ্চিম কুরনা-২ এবং নাসিরিয়া তেলক্ষেত্রে কম্পানিটির সম্ভাব্য কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে। সম্মেলনে শেভরনের করপোরেট ব্যবসা উন্নয়ন বিভাগের সভাপতি জেক স্পিয়ারিং জানান, তাদের কম্পানি এমন একটি নতুন পাইপলাইন প্রকল্পে বিনিয়োগ করতে আগ্রহী, যা হরমুজ প্রণালি ব্যবহার না করেই ইরাকের তেল রপ্তানির সুযোগ তৈরি করবে।

তিনি বলেন, এই পাইপলাইন চালু হলে ইরাক নতুন একটি রপ্তানি পথ পাবে। এর মাধ্যমে দেশটির তেল ভূমধ্যসাগর উপকূলে সিরিয়ার পশ্চিম উপকূলে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে। এতে হরমুজ প্রণালির ওপর নির্ভরতা কমবে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে তেল সরবরাহের বিকল্প পথ তৈরি হবে।


 

বিদেশি শিক্ষার্থী-সাংবাদিকদের জন্য ভিসানীতি কঠোর করছে যুক্তরাষ্ট্র

অনলাইন ডেস্ক
বিদেশি শিক্ষার্থী-সাংবাদিকদের জন্য ভিসানীতি কঠোর করছে যুক্তরাষ্ট্র
ছবি: রয়টার্স

বিদেশি শিক্ষার্থী, সাংস্কৃতিক বিনিময় কর্মসূচির অংশগ্রহণকারী এবং বিদেশি সাংবাদিকদের জন্য ভিসানীতিতে বড় পরিবর্তন আনছে যুক্তরাষ্ট্র। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, এসব ভিসার মেয়াদ কমিয়ে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিবর্তন এবং যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান নিয়েও নতুন বিধি-নিষেধ আরোপ করছে দেশটি। 

বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা বিভাগ (ডিএইচএস) এসংক্রান্ত একটি চূড়ান্ত নিয়ম প্রকাশ করেছে। ফেডারেল নিবন্ধনে প্রকাশের ৬০ দিন পর এটি কার্যকর হবে। তবে তার আগে কংগ্রেসের পর্যালোচনার সুযোগ থাকবে। বর্তমানে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের এফ (এফ-১) ভিসা, সাংস্কৃতিক বিনিময় কর্মসূচির জে ভিসা এবং বিদেশি সাংবাদিকদের আই ভিসা সাধারণত সংশ্লিষ্ট কর্মসূচি বা চাকরির পুরো সময় পর্যন্ত বৈধ থাকে। নতুন নিয়ম কার্যকর হলে এই ব্যবস্থা বদলে যাবে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী ও সাংস্কৃতিক বিনিময় কর্মসূচির অংশগ্রহণকারীদের ভিসার সর্বোচ্চ মেয়াদ হবে চার বছর।

অন্যদিকে বিদেশি সাংবাদিকদের আই ভিসার মেয়াদ সর্বোচ্চ ২৪০ দিন নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে চীনের নাগরিকদের ক্ষেত্রে এই ভিসার মেয়াদ হবে সর্বোচ্চ ৯০ দিন। ডোনাল্ড ট্রাম্প ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই অভিবাসননীতিতে কঠোর অবস্থান নেন। অবৈধ অভিবাসনের পাশাপাশি বৈধ অভিবাসনের ক্ষেত্রেও নজরদারি বাড়ানো হয়। এর অংশ হিসেবে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ভিসা ও গ্রিন কার্ড বাতিল করা হয়েছে। একই সঙ্গে কয়েক লাখ অভিবাসীর বৈধ অবস্থানও বাতিল করেছে প্রশাসন। সর্বশেষ এই সিদ্ধান্তের ফলে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী, সাংস্কৃতিক বিনিময় কর্মসূচির অংশগ্রহণকারী এবং বিদেশি সাংবাদিকদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ ও অবস্থান আরো কঠিন হয়ে উঠবে বলে মনে করা হচ্ছে। তবে ভিসাধারীরা চাইলে নির্ধারিত সময় শেষ হওয়ার আগে ভিসার মেয়াদ বাড়ানোর জন্য আবেদন করতে পারবেন বলে জানিয়েছে স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা বিভাগ।

নতুন নিয়মে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য আরো কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত যোগ করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, স্নাতকোত্তর পর্যায়ের শিক্ষার্থীরা আর তাদের শিক্ষার লক্ষ্য বা কোর্স পরিবর্তন করতে পারবেন না। অনুমতি ছাড়া অন্য কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেও ভর্তি হওয়া যাবে না। এ ছাড়া পড়াশোনা বা প্রশিক্ষণ শেষ হওয়ার পর বর্তমানে শিক্ষার্থীরা যুক্তরাষ্ট্র ছাড়ার জন্য ৬০ দিন সময় পান। নতুন নিয়মে সেই সময় কমিয়ে ৩০ দিন করা হচ্ছে। অর্থাৎ পড়াশোনা শেষ হওয়ার এক মাসের মধ্যে হয় যুক্তরাষ্ট্র ছাড়তে হবে, নয়তো বৈধভাবে থাকার জন্য অন্য কোনো অনুমতি বা ভিসার ব্যবস্থা করতে হবে। নতুন এই নিয়মের সমালোচনা করেছেন অভিবাসন ও শিক্ষাসংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।

যুক্তরাষ্ট্রের স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা বিভাগের সাবেক কর্মকর্তা ডাগ র‌্যান্ড বলেন, আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের স্বাগত জানানো এবং অপ্রয়োজনীয় জটিলতা কমানো যুক্তরাষ্ট্রের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু নতুন এই নিয়ম ঠিক উল্টো প্রভাব ফেলবে। অভিবাসনবিষয়ক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ক্যাটো ইনস্টিটিউটের অভিবাসন গবেষণা বিভাগের পরিচালক ডেভিড জে. বিয়ার বলেন, পড়াশোনার বিষয় বা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিবর্তনের ওপর যে নিষেধাজ্ঞা আনা হয়েছে, তার কোনো স্পষ্ট আইনি ভিত্তি নেই। তিনি বলেন, অনেক আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী বছরের পর বছর যুক্তরাষ্ট্রে পড়াশোনা করেন। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, পড়াশোনা শেষ হওয়ার পর চাকরিদাতার মাধ্যমে নতুন ভিসার ব্যবস্থা করার জন্য তাদের হাতে মাত্র ৩০ দিন থাকবে। এই সময়ের মধ্যে তা সম্ভব না হলে তারা অবৈধ অভিবাসীতে পরিণত হওয়ার ঝুঁকিতে পড়বেন।

যুক্তরাষ্ট্রের এই সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করেছে চীন। শুক্রবার চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নতুন ভিসা নীতিকে 'বৈষম্যমূলক' বলে আখ্যা দেয়। একই সঙ্গে ওয়াশিংটনকে চীনা সাংবাদিকদের জন্য নতুন নিয়ম অবিলম্বে প্রত্যাহারের আহ্বান জানায়। বেইজিংয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র লিন জিয়ান বলেন, এই সিদ্ধান্ত ২০২১ সালে চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে গণমাধ্যমবিষয়ক তিন দফা সমঝোতা লঙ্ঘন করেছে। পাশাপাশি এটি যুক্তরাষ্ট্রে কর্মরত চীনা সংবাদমাধ্যমের স্বাভাবিক কাজকেও বাধাগ্রস্ত করবে। তিনি আরো বলেন, প্রয়োজন হলে চীনও একই ধরনের পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়ার অধিকার সংরক্ষণ করে।

স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা বিভাগের দাবি, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে শিক্ষার্থী, সাংস্কৃতিক বিনিময় কর্মসূচির অংশগ্রহণকারী এবং বিদেশি সাংবাদিকদের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ফলে তাদের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ ও তদারকি করা আগের তুলনায় কঠিন হয়ে পড়েছে। বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে শিক্ষার্থী ভিসায় ১৮ লাখের বেশি মানুষ যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেছেন। যা আগের বছরের তুলনায় ১১ শতাংশের বেশি। এ ছাড়া ২০২৪ অর্থবছরে পাঁচ লাখের বেশি মানুষ সাংস্কৃতিক বিনিময় কর্মসূচির ভিসা পেয়েছেন। একই সময়ে ৩৭ হাজার ৩০০ জন বিদেশি সাংবাদিককে আই ভিসা দেওয়া হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ২০২৪ অর্থবছর শুরু হয়েছিল ২০২৩ সালের ১ অক্টোবর।

স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা বিভাগ আরো জানিয়েছে, তাদের কাছে এমন অনেক উদাহরণ রয়েছে, যেখানে শিক্ষার্থী ও সাংস্কৃতিক বিনিময় কর্মসূচির ভিসাধারীরা নির্ধারিত সময়ের অনেক বেশি, এমনকি কয়েক দশক ধরে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করেছেন। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, নির্ধারিত সময়ের বেশি যুক্তরাষ্ট্রে থাকতে চাইলে ভিসাধারীদের স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা বিভাগের কাছে মেয়াদ বাড়ানোর আবেদন করতে হবে। অন্যথায় তাদের যুক্তরাষ্ট্র ছেড়ে নিজ দেশে বা অন্য কোনো দেশে গিয়ে নতুন করে ভিসা নিয়ে আবার যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করতে হবে।


 

সাড়ে ৮ ঘণ্টার অস্ত্রোপচারের পর অবিশ্বাস্যভাবে বেঁচে ফেরা

অনলাইন ডেস্ক
সাড়ে ৮ ঘণ্টার অস্ত্রোপচারের পর অবিশ্বাস্যভাবে বেঁচে ফেরা
সংগৃহীত ছবি

লখনউয়ের কিং জর্জ মেডিক্যাল ইউনিভার্সিটির (কেজিএমইউ) ট্রমা সেন্টারে একদল চিকিৎসক সাড়ে আট ঘণ্টার এক অস্ত্রোপচারের পর ২৩ বছর বয়সী এক নির্মাণ শ্রমিকের জীবন বাঁচিয়েছেন। উমেশ নামের ওই যুবকের বুক ও পেট ভেদ করে চারটি লোহার রড ঢুকে গিয়েছিল, যার ফলে তার শরীরের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। চিকিৎসকদের নিখুঁত পরিকল্পনা ও দ্রুত সিদ্ধান্তের কারণে মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে এসেছেন ওই যুবক।

উত্তর প্রদেশের ফারুখাবাদ জেলার বাসিন্দা উমেশ ১৩ জুলাই (সোমবার) ভোর সাড়ে ৪টার দিকে লখউয়ের বাদশাহনগর এলাকায় একটি নির্মাণাধীন ভবনে কাজ করার সময় ভারসাম্য হারিয়ে নিচে থাকা উন্মুক্ত লোহার রডের ওপর পড়ে যান। আঘাতটি এতটাই মারাত্মক ছিল যে চারটি রড তার শরীরের বাঁ পাশ দিয়ে ঢুকে পেট ও বুক ভেদ করে অন্য পাশ দিয়ে বেরিয়ে যায়। এর মধ্যে তিনটি রড তার ডান কাঁধ ও গলা পর্যন্ত চলে গিয়েছিল। তবে উপস্থিত স্থানীয় বাসিন্দারা বুদ্ধিমত্তার পরিচয় দিয়ে রডগুলো টেনে বের করার চেষ্টা না করে, নির্মাণস্থলেই রডগুলো কেটে ফেলেন এবং রডবিদ্ধ অবস্থায়ই উমেশকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যান।

হাসপাতালে আনার পর চিকিৎসকেরা দেখেন, উমেশের অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক। তার মূত্রাশয়, ক্ষুদ্রান্ত্র, পাকস্থলী, প্লীহা ও ফুসফুস মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। চিকিৎসকদের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল রডগুলো বের করার সময় যেন অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ না হয়। কারণ, রডগুলো শরীরের ভেতরে ক্ষত তৈরি করলেও সেগুলো নিজেই রক্তনালিগুলোকে চেপে ধরে রক্তপাত সাময়িকভাবে বন্ধ রাখছিল, যাকে চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় ‘ট্যাম্পোনেড এফেক্ট’ বলা হয়। সামান্য ভুল হলেই কয়েক মিনিটের মধ্যে রক্তক্ষরণে রোগীর মৃত্যু হতে পারত।

পরবর্তী সময়ে সার্জনদের একটি দল অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে বুক ও পেটের সম্মিলিত অস্ত্রোপচার শুরু করেন। তারা এক এক করে রডগুলো বের করার পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত ফুসফুস, পাকস্থলী, মূত্রাশয় ও রক্তনালিগুলো মেরামত করতে থাকেন। দীর্ঘ সাড়ে আট ঘণ্টার এই জটিল প্রক্রিয়ায় রোগীকে কয়েক ইউনিট রক্ত ও প্লাজমা দেওয়া হয়। সফল অস্ত্রোপচার শেষে উমেশকে বর্তমানে আইসিইউতে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে এবং তার অবস্থা এখন স্থিতিশীল। 

এই ঘটনার পর ট্রমা বিশেষজ্ঞরা জনসাধারণের উদ্দেশে একটি জরুরি নিরাপত্তা বার্তা দিয়েছেন। তারা জানিয়েছেন, যেকোনো দুর্ঘটনায় কারো শরীরে লোহার রড বা ধারালো কিছু ঢুকে গেলে, তা যেন কখনোই হাসপাতালে নেওয়ার পথে টেনে বের করার চেষ্টা করা না হয়। কারণ, এগুলো বের করে ফেললে সঙ্গে সঙ্গে মারাত্মক অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণ শুরু হয়ে রোগীর মৃত্যু হতে পারে। এ ধরনের বস্তু শুধু হাসপাতাল বা অপারেশন থিয়েটারের ভেতরে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানেই অপসারণ করা নিরাপদ।