• ই-পেপার

মার্কিন কম্পানির সঙ্গে ৬০ বিলিয়ন ডলারের জ্বালানি চুক্তি সই ইরাকের

জাপানের রাজকীয় আইনে পরিবর্তন, বহাল রইল নারী সম্রাটের ওপর নিষেধাজ্ঞা

অনলাইন ডেস্ক
জাপানের রাজকীয় আইনে পরিবর্তন, বহাল রইল নারী সম্রাটের ওপর নিষেধাজ্ঞা
সংগৃহীত ছবি

জাপানের রাজপরিবারের সদস্য সংখ্যা দিন দিন কমে যাওয়া নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে রাজউত্তরাধিকারের নিয়ম শিথিল করে একটি নতুন বিল অনুমোদন করেছে দেশটির সংসদ। শুক্রবার (১৭ জুলাই) সংসদের উচ্চকক্ষে পাস হওয়া এই বিলটি ১৯৪৯ সালের পর জাপানের রাজতন্ত্রে সবচেয়ে বড় পরিবর্তন নিয়ে এসেছে। তবে সাধারণ মানুষের ব্যাপক জনসমর্থন থাকা সত্ত্বেও, নারীদের সিংহাসনে বসার ওপর যে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে, নতুন আইনে তা পরিবর্তন করা হয়নি। ফলে বর্তমান সম্রাটের একমাত্র সন্তান রাজকুমারী আইকো এখনও সিংহাসনের উত্তরাধিকারী হওয়ার যোগ্য নন।

নতুন এই বিলের মাধ্যমে রাজপরিবারের সংকট কাটাতে দুইটি বড় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এখন থেকে রাজপরিবার ১৫ বছরের বেশি বয়সী দূর সম্পর্কের পুরুষ আত্মীয়দের দত্তক নিতে পারবে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর যে ১১টি রাজবংশীয় শাখাকে পরিবার থেকে বাদ দেওয়া হয়েছিল, মূলত তাদের পুরুষ বংশধরদের পরিবারে ফিরিয়ে আনার সুযোগ দেওয়া হয়েছে এর মাধ্যমে। পাশাপাশি, রাজপরিবারের নারী সদস্যরা সাধারণ পরিবারের কাউকে বিয়ে করলেও এখন থেকে তাদের রাজকীয় মর্যাদা বজায় রাখতে পারবেন। আগের আইন অনুযায়ী, সাধারণ মানুষকে বিয়ে করলে নারীদের রাজকীয় উপাধি ত্যাগ করে পরিবার ছেড়ে চলে যেতে হতো। ২০২১ সালে রাজকুমারী মাকো তার কলেজ জীবনের প্রেমিককে বিয়ে করার সময় ঠিক এই নিয়মের কারণেই রাজপদ হারিয়েছিলেন।

২৬০০ বছরেরও বেশি পুরোনো ঐতিহ্যের জাপানি রাজতন্ত্রে বর্তমানে সিংহাসনের যোগ্য পুরুষ উত্তরাধিকারী আছেন মাত্র তিনজন। বর্তমান সম্রাটের পর প্রথম সারিতে আছেন তার ছোট ভাই ৬০ বছর বয়সী ফুমিহিতো। দ্বিতীয় সারিতে আছেন ফুমিহিতোর ১৯ বছর বয়সী পুত্র যুবরাজ হিসাহিতো এবং সর্বশেষ প্রার্থী হলেন সম্রাটের ৯০ বছর বয়সী চাচা। নতুন আইনে বলা হয়েছে, সাধারণ মানুষকে বিয়ে করা রাজকীয় নারীদের সন্তানেরা সিংহাসনের উত্তরাধিকারী হতে পারবে না। ফলে যুবরাজ হিসাহিতোর কোনো পুত্রসন্তান না হলে এই রাজবংশের ধারা ভবিষ্যতে শেষ হয়ে যাওয়ার ঝুঁকিতে থাকবে।

জাপানের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি এবং অন্যান্য রক্ষণশীল রাজনৈতিক নেতারা রাজতন্ত্রের ঐতিহ্য ধরে রাখতে শুধুমাত্র পুরুষ উত্তরাধিকার নীতির পক্ষেই অবস্থান নিয়েছেন। কিন্তু দেশটির সাধারণ মানুষের মনোভাব সম্পূর্ণ ভিন্ন। সাম্প্রতিক বিভিন্ন জনমত জরিপে দেখা গেছে, ৭০ থেকে ৮৩ শতাংশ সাধারণ মানুষ একজন নারী সম্রাট থাকার পক্ষে মত দিয়েছেন। নতুন এই আইনের ফলে রাজপরিবারের সদস্য সংখ্যা বাড়ার কারণে রাজদরবারের আনুষ্ঠানিক দায়িত্বগুলো পালন করা সহজ হলেও, সিংহাসনের ভবিষ্যৎ উত্তরাধিকার নিয়ে মূল বিতর্ক ও উদ্বেগ রয়েই গেল।

ভেনেজুয়েলায় ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা ৫০০০ ছাড়াল

অনলাইন ডেস্ক
ভেনেজুয়েলায় ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা ৫০০০ ছাড়াল
ছবি : রয়টার্স

গত জুনে ভেনেজুয়েলায় আঘাত হানা দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্পে এখন পর্যন্ত প্রায় ৫ হাজার মানুষের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। তবে জাতিসংঘের আশঙ্কা, এখনো প্রায় ৫০ হাজার মানুষ নিখোঁজ থাকতে পারেন, যাদের অনেকেই ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে আছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার আইনপ্রণেতা হোর্হে রদ্রিগেজ জানান, ভূমিকম্পে নিশ্চিত মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৪ হাজার ৯৩০ জনে পৌঁছেছে। প্রায় এক মাস আগে ঘটে যাওয়া এই দুর্যোগে আরো কয়েক হাজার মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।

সরকারি হিসাবে, প্রায় ১৭ হাজার মানুষ আহত হয়েছেন এবং ২১ হাজার ১২০ জন বর্তমানে অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রে বসবাস করছেন। ভূমিকম্পের পর থেকেই উদ্ধারকাজ চালিয়ে যাচ্ছে ভেনেজুয়েলার বিভিন্ন দল। তবে স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, সরকারের প্রতিক্রিয়া যথেষ্ট দ্রুত ছিল না।

ভূমিকম্পে বাস্তুচ্যুত সিনথিয়া পুলিদো আল জাজিরাকে বলেন, ‘ভূমিকম্পের পরপরই সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছিল সাধারণ মানুষ ও স্বেচ্ছাসেবকরা। শুরু থেকেই তারাই উদ্ধার ও সহায়তা কার্যক্রম চালিয়েছে। সরকারের তৎপরতা এখন দেখা যাচ্ছে। আমরা এখনো কোনো কার্যকর সমাধানের অপেক্ষায় আছি।’

ভূমিকম্পের পরপরই সহায়তার আসা আন্তর্জাতিক উদ্ধারকারী দলগুলো তাদের কাজ শেষ করে ইতিমধ্যে ফিরে গেছে। এখন উদ্ধার তৎপরতার পরিবর্তে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জন্য মানবিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার দিকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। ভূমিকম্পে বাস্তুচ্যুত লুইসমারেজ পায়েজ আলজাজিরাকে বলেন, ‘আমি যা সামান্য পাচ্ছি, তা দিয়ে শুধু নিজের বেঁচে থাকা, সন্তানদের দেখাশোনা এবং মাকে সাহায্য করার চেষ্টা করছি।’

তিনি জানান, তার মা সরকারের কাছ থেকে কোনো সহায়তা পাচ্ছেন না। তিনি নিজে যা দিতে পারেন, সেটাই তার একমাত্র ভরসা।

বিশ্লেষকদের মতে, ২০১৫ সাল থেকে যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত কঠোর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার কারণে দুর্যোগ মোকাবেলায় ভেনেজুয়েলা অতিরিক্ত চাপে পড়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর ইকোনমিক অ্যান্ড পলিসি রিসার্চের জ্যেষ্ঠ অর্থনীতিবিদ মার্ক ওয়েইসব্রট বলেন, ‘ভেনেজুয়েলার এমন কিছু গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ ও অর্থনৈতিক সম্পদ রয়েছে, যেগুলোতে দেশটির প্রবেশাধিকার নেই। ফলে সংকট মোকাবেলা আরো কঠিন হয়ে পড়েছে।’

তিনি মনে করেন, এসব সীমাবদ্ধতার কারণে সরকার ক্ষতিগ্রস্ত মানুষদের জন্য প্রয়োজনীয় সহায়তা দ্রুত ও কার্যকরভাবে পৌঁছে দিতে হিমশিম খাচ্ছে। মার্ক ওয়েইসব্রটের মতে, ভেনেজুয়েলার প্রায় ১১০০ কোটি ডলার সমমূল্যের সম্পদ যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের বিভিন্ন দেশে অবরুদ্ধ রয়েছে, যা দেশটির আইনগতভাবে পাওয়ার কথা।

এদিকে চলতি সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের ডেমোক্র্যাটিক পার্টির ১৪ জন আইনপ্রণেতা হোয়াইট হাউসের কাছে একটি চিঠি পাঠিয়ে ভেনেজুয়েলার ওপর আরোপিত অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার আহ্বান জানিয়েছেন। স্প্যানিশ সংবাদপত্র এল পাইসের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

চিঠিতে তারা বলেন, বর্তমান নিষেধাজ্ঞাগুলো জরুরি ত্রাণ কার্যক্রমকে গুরুতরভাবে বাধাগ্রস্ত করছে এবং ভেনেজুয়েলার দুর্যোগ মোকাবেলা ও পুনর্গঠন প্রচেষ্টাকে উল্লেখযোগ্যভাবে দুর্বল করে দিয়েছে। জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী, ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত অঞ্চলগুলোর পুনর্গঠন ও পুনরুদ্ধার কার্যক্রমে ভেনেজুয়েলার প্রায় ৩৭০০ কোটি ডলার ব্যয় হতে পারে।


 

গাজায় ইসরায়েলি হামলায় শোকযাত্রায় অংশগ্রহণকারীসহ নিহত ১৪

অনলাইন ডেস্ক
গাজায় ইসরায়েলি হামলায় শোকযাত্রায় অংশগ্রহণকারীসহ নিহত ১৪
ছবি: রয়টার্স

গাজা উপত্যকার বিভিন্ন এলাকায় ইসরায়েলের একাধিক হামলায় অন্তত ১৪ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরো অনেক মানুষ। নিহতদের মধ্যে আটজন একটি জানাজা শেষে দাফনের উদ্দেশ্যে বের হওয়া শোকযাত্রায় অংশ নিয়েছিলেন। তাদের ওপর ড্রোন হামলা চালানো হয় বলে জানিয়েছে গাজার স্বাস্থ্য ও উদ্ধার কর্তৃপক্ষ।

শুক্রবার মধ্য গাজার নুসেইরাত শরণার্থী শিবিরের আল-বালাতা বাজার এলাকায় এই হামলার ঘটনা ঘটে। গাজার সিভিল ডিফেন্স সংস্থা এবং আল-আওদা হাসপাতাল জানিয়েছে, হামলায় আটজন নিহত এবং অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, একই এলাকায় এর আগে আরেকটি হামলায় নিহত এক ফিলিস্তিনির জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজা শেষে দাফনের জন্য শোকযাত্রা বের হওয়ার অপেক্ষায় আহমদ ইয়াসিন মসজিদের বাইরে অনেক মানুষ জড়ো হয়েছিলেন। ঠিক সেই সময় একটি ইসরায়েলি ড্রোন সেখানে হামলা চালায়। এতে ঘটনাস্থলেই কয়েকজন নিহত হন।

গাজা সিটি থেকে আল জাজিরার প্রতিবেদক হানি মাহমুদ বলেন, যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকার কথা থাকলেও বাস্তবে প্রতিদিনই হামলা চলছে। তার ভাষায়, মসজিদ থেকে বের হওয়ার সময় শোকযাত্রায় অংশ নেওয়া মানুষের ওপর ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, ইসরায়েলি সেনাবাহিনী এই হামলার কথা স্বীকার করেছে। তবে সেনাবাহিনীর দাবি, তারা মধ্য গাজায় একটি 'সন্ত্রাসী' দলের সদস্যদের লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। একই সঙ্গে তারা বলেছে, হামলায় সাধারণ মানুষ হতাহত হওয়ার অভিযোগ তাদের নজরে এসেছে এবং বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অন্যদিকে ফিলিস্তিনি সংগঠন হামাস এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। এক বিবৃতিতে হামাস অভিযোগ করেছে, যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকার পরও ইসরায়েল ধারাবাহিকভাবে সেই চুক্তি লঙ্ঘন করছে। তাদের দাবি, নিরীহ মানুষকে হত্যা এবং আতঙ্ক সৃষ্টি অব্যাহত রয়েছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ও মধ্যস্থতাকারীরা সবকিছু দেখলেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না বলেও অভিযোগ করেছে সংগঠনটি।

শুধু নুসেইরাত নয়, শুক্রবার গাজার আরো কয়েকটি এলাকায় হামলার খবর পাওয়া গেছে। ফিলিস্তিনি বার্তা সংস্থা ওয়াফা জানিয়েছে, উত্তর গাজার বেইত লাহিয়া শহরে আবু তাম্মাম স্কুলের কাছে একটি ইসরায়েলি ড্রোন থেকে বোমা ফেলা হয়। এতে ৫২ বছর বয়সী এক নারী নিহত হন। মধ্য গাজার আজ-জাওয়াইদা এলাকায় সাধারণ মানুষের একটি জড়ো হওয়া স্থানে আরেকটি হামলায় একজন নিহত এবং কয়েকজন আহত হন। নুসেইরাত শরণার্থী শিবিরের পশ্চিমে আল-সাওয়ারহা এলাকায় বাস্তুচ্যুত মানুষের আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত একটি স্থাপনায় হামলায় আরো একজন নিহত হন। এ ছাড়া গাজা সিটির একটি আবাসিক ভবনে ইসরায়েলি ড্রোন হামলায় একজন ফিলিস্তিনি নিহত হন। এতে শিশুদেরসহ আরো কয়েকজন আহত হয়েছেন। অন্যদিকে দক্ষিণ গাজার খান ইউনিসের দক্ষিণ-পশ্চিমে ইসরায়েলি বাহিনীর গুলিতে আহত এক নারী পরে মারা যান।

গত বছরের অক্টোবর যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পরও গাজায় নিয়মিত হামলা চালিয়ে যাচ্ছে ইসরায়েল। প্রায় প্রতিদিনই বিভিন্ন এলাকায় বিমান হামলা, ড্রোন হামলা ও গোলাবর্ষণের ঘটনা ঘটছে। গবেষণা প্রতিষ্ঠান 'আর্মড কনফ্লিক্ট লোকেশন অ্যান্ড ইভেন্ট ডেটা (এসিএলইডি)' বুধবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, মে মাসের পর থেকে গাজায় ইসরায়েলের হামলার সংখ্যা আরো বেড়েছে। প্রতিষ্ঠানটির তথ্য অনুযায়ী, গত মাসে গাজায় ৪০টির বেশি হামলার ঘটনা ঘটেছে। যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর এক মাসে এটিই সর্বোচ্চ হামলার সংখ্যা। এই পরিস্থিতিতে যুদ্ধবিরতি কার্যকর রয়েছে কি না এবং গাজায় সহিংসতা আদৌ শেষ হবে কি না, তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।

আল জাজিরার প্রতিবেদক হানি মাহমুদ বলেন, এখন গাজার আকাশজুড়ে প্রায় সব সময়ই ড্রোন উড়তে দেখা যায়। তার ভাষায়, চারদিকে ড্রোনের যান্ত্রিক শব্দ শোনা যায়। একই সঙ্গে ইসরায়েল গাজায় টিকে থাকা অবকাঠামোগুলোও ধ্বংস করে চলেছে। এদিকে শুক্রবার ইসরায়েলি সংবাদপত্র 'হারেৎজ' জানিয়েছে, যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে ইসরায়েলি হামলায় ২৭৪ জন শিশু নিহত হয়েছে। প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছে, এই সময়ে গড়ে প্রতিদিন একজন করে শিশু প্রাণ হারিয়েছে।


 

মহাকাশে ‘ট্যাক্সি সেবা’ দিতে প্রস্তুত ভারতের প্রথম বেসরকারি রকেট

অনলাইন ডেস্ক
মহাকাশে ‘ট্যাক্সি সেবা’ দিতে প্রস্তুত ভারতের প্রথম বেসরকারি রকেট
ছবি : রয়টার্স

ট্যাক্সি বা উবার ডাকার মতোই সহজে এবার মহাকাশে পাঠানো যাবে স্যাটেলাইট। এই লক্ষ্য নিয়ে শনিবার (১৭ জুলাই) ভারতের শ্রীহরিকোটা থেকে নিজেদের প্রথম রকেট ‘বিক্রম-১’ উৎক্ষেপণ করতে যাচ্ছে দেশটির প্রথম স্পেস-টেক ইউনিকর্ন ‘স্কাইরুট এরোস্পেস’। এই ঐতিহাসিক মিশনটি সফল হলে, আমেরিকা ও চীনের পর ভারত হবে বিশ্বের তৃতীয় দেশ, যেখানে কোনো বেসরকারি সংস্থা কক্ষপথে রকেট পাঠাতে সক্ষম হলো।

সাধারণত বড় বড় রকেটে স্যাটেলাইট পাঠাতে হলে কম্পানিগুলোকে মাসের পর মাস বা বছরের পর বছর অপেক্ষা করতে হয়। ‘স্কাইরুট’ এই অপেক্ষার অবসান ঘটাতে চায়। তাদের ৭ তলা বিশিষ্ট ছোট রকেট ‘বিক্রম-১’ গ্রাহকদের প্রয়োজন ও সময় অনুযায়ী যেকোনো নির্দিষ্ট কক্ষপথে স্যাটেলাইট পৌঁছে দেবে। ট্রেনের জন্য অপেক্ষা না করে যেমন মানুষ উবার বা ট্যাক্সি বুক করে, এটিও ঠিক তেমনই এক ‘ক্যাব পরিষেবা’। ৩৫০ কেজি পর্যন্ত ওজন বহনে সক্ষম এই রকেটটি মাত্র ১৬ মিনিটের ফ্লাইটে ২৮০ মাইল দূরের নিম্ন ভূ-কক্ষপথে পৌঁছাবে।

‘আগমন’ নামের এই পরীক্ষামূলক অভিযানে মোট ছয়টি বৈজ্ঞানিক যন্ত্রপাতি বা পেলোড মহাকাশে পাঠানো হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে মহাকাশের আবর্জনা সরানোর রোবোটিক আর্ম, জার্মানির তৈরি একটি স্যাটেলাইট ও পৃথিবী পর্যবেক্ষণকারী ক্যামেরা। তবে সবচেয়ে বেশি আলোড়ন সৃষ্টি করেছে দুইটি বিশেষ প্রতীকী জিনিস। একটি হলো ল্যাবরেটরিতে তৈরি হীরা দিয়ে বানানো পদ্মফুল এবং অন্যটি একটি ছোট্ট সোনার রকেট। এই সোনার রকেটের ভেতর ধানের দানার চেয়েও ছোট আকারে খোদাই করা হয়েছে ভারতের তিন মহান বিজ্ঞানী—বিক্রম সারাভাই, সি ভি রমন ও এপিজে আবদুল কালামের ভাস্কর্য।

২০১৮ সালে ভারতের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা (ইসরো)-র দুই সাবেক বিজ্ঞানী পবন কুমার চন্দনা ও নাগা ভারত ডাকা চাকরি ছেড়ে এই স্টার্টআপটি শুরু করেন। ২০২০ সালে ভারত সরকার বেসরকারি খাতের জন্য মহাকাশ উন্মুক্ত করার পর স্কাইরুট দ্রুত উন্নতি করে এবং বর্তমানে কম্পানিটির বাজার মূল্য ১.১ বিলিয়ন ডলার। ২০২২ সালে ভারতের প্রথম বেসরকারি সাব-অরবিটাল রকেট উৎক্ষেপণ করে তারা ইতিহাস গড়েছিল। হায়দ্রাবাদে অবস্থিত তাদের কারখানায় প্রতি মাসে একটি করে রকেট তৈরির সক্ষমতা রয়েছে। স্কাইরুটের সিইও পবন কুমার চন্দনা জানান, আজকের এই পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণের পর আগামী বছর থেকেই তারা বাণিজ্যিক কার্যক্রম শুরু করবেন। যদিও তারা ইসরোর মহাকাশ অভিযানেও যুক্ত হতে পারে, তবে তাদের মূল লক্ষ্য বিশ্ববাজার।

যোগাযোগ ব্যবস্থা, কৃষি, মৎস্য চাষ, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও জাতীয় নিরাপত্তার মতো দৈনন্দিন কাজে ব্যবহৃত বৈশ্বিক স্যাটেলাইটগুলোর ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ বাজার ধরাই তাদের মূল লক্ষ্য। ২০৩০ সালের মধ্যে বৈশ্বিক মহাকাশ বাজারে ভারতের অংশ ২% থেকে বাড়িয়ে ১০% করার যে স্বপ্ন সরকার দেখছে, স্কাইরুটের এই মিশন তাতে বড় মাইলফলক হিসেবে কাজ করবে।