আমরণ অনশনের ২১তম দিনে অ্যাক্টিভিস্ট সোনম ওয়াংচুককে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। শনিবার খুব সকালে পুলিশ দিল্লির যন্তর-মন্তর থেকে তুলে হাসপাতালে নিয়ে যায়। তাকে দিল্লির সফদরজং হাসপাতালের জরুরি বিভাগে ভর্তি করা হয়েছে। তিনি সচেতন রয়েছেন ও তার শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল রয়েছে।
শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে ককরোচ জনতা পার্টির ধারাবাহিক আন্দোলনের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করে গত ২৮ জুন থেকে যন্তর-মন্তরে আমরণ অনশন শুরু করেন লাদাখের বিখ্যাত প্রকৌশলী, বিজ্ঞানী, শিক্ষাসংস্কারক এবং পরিবেশবাদী সোনম ওয়াংচুক। এই সময়ে অনেকেই তাকে অনশন ভাঙ্গার আহ্বান জানালেও তিনি তাতে সম্মত হননি। আন্দোলনের অংশ হিসেবে আগামী ২০ জুলাই সংসদের বর্ষাকালীন অধিবেশনের প্রথম দিনে ককরোচ জনতা পার্টি ‘সংসদ চলো’ কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। দুদিন আগে এক ভিডিও বার্তায় সোনম ওয়াংচুক সে কর্মসূচিতে বিপুল সংখ্যায় অংশগ্রহণের জন্য সবার প্রতি আহ্বান জানান। ‘সংসদ চলো’ কর্মসূচির দুদিন আগে ওয়াংচুককে আন্দোলনস্থল থেকে সরিয়ে নেওয়া হলো।
শনিবার ভোরে সাদা পোশাকে পুলিশ যন্তর-মন্তরে আসে। কেউ কিছু বুঝে ওঠার আগেই তারা সোনম ওয়াংচুকের অনশনস্থল চাদর দিয়ে ঢেকে ফেলে এবং কেউ কিছু বুঝে ওঠার আগেই তাকে উঠিয়ে নিয়ে যায়। এ সময় তার সঙ্গের কর্মীরা বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে কিছুটা উত্তেজনা দেখা দেয়। তবে পুলিশ কৌশলে শান্তিপূর্ণভাবেই সোনমকে সরিয়ে নেয়। এ সময় বেশ কয়েকজনকে আটক করা হয়েছে। দিল্লি পুলিশ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, সোনম ওয়াংচুকের স্বাস্থ্যের অবনতি হওয়ায় হাইকোর্টের নির্দেশ এবং বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের পরামর্শ মেনেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। পুলিশি বিবৃতিতে বলা হয়, ‘প্রয়োজনীয় চিকিৎসার জন্য সোনম ওয়াংচুককে হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়েছে।’
বিবৃতিতে বলা হয়, ‘মাননীয় হাইকোর্টের আদেশ পালন করার সময় আন্দোলনকারীরা বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেন, যার ফলে সামান্য উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। তবে পুলিশ সর্বোচ্চ সংযম দেখিয়ে নিরাপদে এই কাজ সম্পন্ন করেছে। আমরা যন্তর-মন্তরে থাকা আন্দোলনকারীদের যত দ্রুত সম্ভব শান্তিপূর্ণভাবে জায়গাটি খালি করার অনুরোধ করছি।’ দুদিন আগে দিল্লি হাইকোর্ট সোনম ওয়াংচুকের জীবন রক্ষায় সম্ভাব্য সব কিছু করতে সরকারকে নির্দেশ দিয়েছিল। গতকাল শুক্রবার ওয়াংচুককে পরীক্ষা করা চিকিৎসকরা তার অবস্থাকে জরুরি বলে বর্ণনা করেছিলেন এবং তার অঙ্গপ্রত্যঙ্গ বিকল হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন। দৈনিক মেডিক্যাল বুলেটিনগুলোতেও সোনম ওয়াংচুকের স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছিল। দুদিন আগের একটি মেডিক্যাল আপডেটে বলা হয়েছিল, এই সমাজকর্মী ৮ কেজিরও বেশি ওজন হারিয়েছেন এবং তার স্বাস্থ্যের অবনতি হচ্ছে।
গত কয়েক দিনে বিরোধী দলগুলোর বেশ কয়েকজন রাজনীতিবিদ ওয়াংচুকের আন্দোলনের প্রতি সংহতি জানাতে এবং অনশন ভাঙার অনুরোধ করতে প্রতিবাদস্থলে যান। কংগ্রেসের পবন খেরা, সমাজবাদী পার্টির সংসদ সদস্য ডিম্পল যাদব এবং আম আদমি পার্টির প্রধান অরবিন্দ কেজরিওয়ালসহ অন্যান্য নেতারা গত দুদিনে ওয়াংচুকের সঙ্গে দেখা করেন এবং তার স্বাস্থ্যের কথা বিবেচনা করে অনশন শেষ করার আহ্বান জানান। নিট পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রতিবাদে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে ককরোচ পার্টি আন্দোলন করছে। তবে শিক্ষামন্ত্রী তাদের দাবি উড়িয়ে দিয়ে সিজেপি এবং তার সমর্থকদের ‘বিঘ্ন সৃষ্টিকারী উপাদানগুলোর বি-টিম’ বলে অভিহিত করেছেন। আন্দোলনকারীদের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘যাদের দেশের অগ্রগতির ওপর কোনো আস্থা নেই।’





