• ই-পেপার

সুনামগঞ্জ কারাগারে হাজতির মৃত্যু

জরুরি মুহূর্তে অ্যাম্বুল্যান্স মিলবে এক ক্লিকে, অ্যাপ তৈরি করলেন বাগেরহাটের ধিলন

চিতলমারী-কচুয়া (বাগেরহাট) প্রতিনিধি
জরুরি মুহূর্তে অ্যাম্বুল্যান্স মিলবে এক ক্লিকে, অ্যাপ তৈরি করলেন বাগেরহাটের ধিলন
জরুরি অ্যাম্বুল্যান্স সেবা সহজ করতে উদ্ভাবিত ‘নিওসেভার’ অ্যাপের নির্মাতা বাগেরহাটের চিতলমারীর তরুণ উদ্যোক্তা ধিলন রায়।

জরুরি মুহূর্তে দ্রুত অ্যাম্বুল্যান্স খুঁজে পাওয়ার সমস্যার সমাধানে ‘নিওসেভার’ নামে একটি ডিজিটাল অ্যাপ তৈরি করেছেন বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলার তরুণ উদ্যোক্তা ধিলন রায়। ব্যবহারকারীর অবস্থানের কাছাকাছি থাকা অ্যাম্বুল্যান্স শনাক্ত করে দ্রুত বুকিংয়ের সুযোগ দেওয়ায় স্বাস্থ্য প্রযুক্তি খাতে তার এ উদ্ভাবন জাতীয় পর্যায়ে স্বীকৃতি পেয়েছে। সম্প্রতি আয়োজিত একটি জাতীয় উদ্ভাবনী প্রতিযোগিতায় দেশসেরা তিনটি উদ্যোগের একটি হিসেবে নির্বাচিত হয়েছে ‘নিওসেভার’। এ স্বীকৃতির অংশ হিসেবে তিনি এক লাখ টাকার ‘সিড ফান্ড’ পেয়েছেন।

শনিবার (১৮ জুলাই) বেলা ১১টার দিকে নিজ বাড়িতে এক সাক্ষাৎকারে ধিলন রায় তার উদ্ভাবন, গবেষণা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে বিস্তারিত জানান।

ধিলন রায় বলেন, দেশে অধিকাংশ অ্যাম্বুল্যান্স সেবা এখনো ফোনকলনির্ভর। জরুরি মুহূর্তে রোগী বা স্বজনদের বিভিন্ন নম্বরে ফোন করে অ্যাম্বুল্যান্স খুঁজতে হয়। অনেক সময় দ্রুত সাড়া না পাওয়ায় মূল্যবান সময় নষ্ট হয়। এ বাস্তবতা থেকেই একটি সমন্বিত ডিজিটাল প্ল্যাটফরম তৈরির চিন্তা শুরু হয়।

তিনি জানান, ‘নিওসেভার’ অ্যাপ ব্যবহার করে মাত্র তিনটি ধাপে অ্যাম্বুল্যান্স বুক করা যায়। প্রথমে ব্যবহারকারী নিজের অবস্থান (লোকেশন) নির্বাচন করবেন। এরপর গন্তব্য নির্ধারণ করবেন। সবশেষে বুকিং নিশ্চিত করলে নিকটবর্তী অ্যাম্বুল্যান্সচালকের কাছে অনুরোধ পৌঁছে যাবে। এতে অল্প সময়ের মধ্যে রোগী প্রয়োজনীয় পরিবহনসেবা পেতে পারেন।

ধিলন রায়ের ভাষ্য, অ্যাপটি এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে, যাতে জরুরি অবস্থায় সাধারণ মানুষ সহজেই এটি ব্যবহার করতে পারেন। ধীরে ধীরে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের অ্যাম্বুল্যান্স সেবাদাতাদের এই প্ল্যাটফরমের আওতায় আনা হচ্ছে।

ধিলন রায় বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলার চরবানিয়ারি দক্ষিণপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। তার বাবা ধনঞ্জয় রায় এবং মা মীরা রানী বাড়ৈ। তিনি খুলনা নর্দান ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস অ্যান্ড টেকনোলজি থেকে কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসই) বিষয়ে স্নাতক সম্পন্ন করেছেন।

তিনি জানান, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইউনিভার্সিটি ইনোভেশন হাব কর্মসূচির আওতায় ‘নিওসেভার’-এর আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়। শুরুতে পাঁচজন প্রতিষ্ঠাতা সদস্য নিয়ে কাজ শুরু হলেও বর্তমানে শতাধিক সদস্যের একটি নেটওয়ার্ক গড়ে উঠেছে। এ দলে সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, মেডিক্যাল ও নার্সিং শিক্ষার্থী এবং বিভিন্ন পেশাজীবী কাজ করছেন। পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের অ্যাম্বুল্যান্স সংগঠনের সঙ্গে সমন্বয় করে সেবার পরিধি বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

ধিলন রায় বলেন, গত ১৪ জুলাই ঢাকার বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট হলে অনুষ্ঠিত জাতীয় উদ্ভাবনী উদ্যোগের এক অনুষ্ঠানে তাকে এক লাখ টাকার ‘সিড ফান্ড’ দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি খাতের নীতিনির্ধারকসহ সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

তিনি আরো বলেন, সারা দেশ থেকে প্রায় ৩০০টি উদ্ভাবনী উদ্যোগ প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়। একাধিক ধাপে মূল্যায়নের পর ‘নিওসেভার’ শীর্ষ তিনটি উদ্যোগের একটি হিসেবে নির্বাচিত হয়। এই স্বীকৃতি তাদের কাজের প্রতি নতুন আস্থা তৈরি করেছে এবং ভবিষ্যতে আরো বড় পরিসরে সেবা সম্প্রসারণে সহায়ক হবে বলে তিনি মনে করেন।

ধিলন রায়ের ভাষ্য, ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকে একটি সমস্যার সমাধান খুঁজতে গিয়ে ‘নিওসেভার’-এর ধারণা তৈরি হয়েছিল। এখন এটি একটি স্বীকৃত স্বাস্থ্যপ্রযুক্তি স্টার্টআপে পরিণত হয়েছে। ভবিষ্যতে দেশের জরুরি স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থাকে আরো কার্যকর করতে প্রযুক্তিনির্ভর সমন্বিত প্ল্যাটফরম হিসেবে কাজ করার লক্ষ্য নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি।

১১৫ মিলিয়ন কেজি চা উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা

অনলাইন ডেস্ক
১১৫ মিলিয়ন কেজি চা উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা
সংগৃহীত ছবি

বাংলাদেশ চা গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিটিআরআই) উদ্ভাবিত উচ্চফলনশীল জাতের সম্প্রসারণ এবং আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে ২০৩০ সালের মধ্যে দেশে ১১৫ মিলিয়ন কেজি চা উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে বাংলাদেশ চা বোর্ড। এই লক্ষ্য অর্জনে চা চাষের উপযোগী অব্যবহৃত জমির সর্বোচ্চ ব্যবহার এবং ক্ষুদ্র চা চাষিদের সম্পৃক্ততাকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

চা বোর্ডের তথ্যমতে, শুধু সাধারণ চা নয়, আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে গ্রিন টি, উলং টি এবং হোয়াইট টি-এর মতো ভ্যালু-অ্যাডেড চা উৎপাদনে মনোযোগ বাড়াতে হবে। এজন্য জলবায়ু ও খরাসহনশীল জাতের চারা রোপণ এবং আধুনিক সেচ ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বর্তমানে দেশে মোট ১৭২টি চা বাগান রয়েছে, যেখানে ১ লাখ ৫৮ হাজার ৭৪১ একর জমিতে চা চাষ হচ্ছে। আরো প্রায় ১৬ হাজার ১৩০ একর উপযোগী জমি চাষের আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে। উৎপাদনের সাম্প্রতিক পরিসংখ্যানে ২০২৩ সালে ১০২.৯২ মিলিয়ন কেজি (সর্বোচ্চ উৎপাদন), ২০২৪ সালে ৯৩.০৪ মিলিয়ন কেজি ও ২০২৫ সালে ৯৪.৯৩ মিলিয়ন কেজি চা উৎপাদন হয়েছে।

চা বোর্ডের চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল মো. মেসবাহ উদ্দিন আহমেদ জানান, চলতি মৌসুমে ১০৪ মিলিয়ন কেজি উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। আবহাওয়ার অনুকূল পরিস্থিতি বজায় থাকলে ২০৩০ সালের নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাওয়া সম্ভব।

চায়ের গুণগত মান ও অর্থনৈতিক সুরক্ষা প্রসঙ্গে চেয়ারম্যান বলেন, চা শিল্পের টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যে বিটিআরআই নিয়মিত বাগান ব্যবস্থাপক ও শ্রমিকদের প্রশিক্ষণ দিচ্ছে। এছাড়া পরিবেশবান্ধব বালাইনাশকের ব্যবহার বৃদ্ধি ও গবেষণা কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। বাগান মালিকদের জন্য পাঁচ বছর মেয়াদি কৃষিঋণ ও ভর্তুকি মূল্যে সার সরবরাহ করা হচ্ছে।

ফরিদপুরে নিখোঁজের ২ দিন পর পাটক্ষেত থেকে ব্যবসায়ীর মরদেহ উদ্ধার

ফরিদপুর প্রতিনিধি
ফরিদপুরে নিখোঁজের ২ দিন পর পাটক্ষেত থেকে ব্যবসায়ীর মরদেহ উদ্ধার
সংগৃহীত ছবি

ফরিদপুর জেলা সদরের চরমাধবদিয়া ইউনিয়নের মমিনখার হাট এলাকার বাসিন্দা ব্যবসায়ী ইউসুফ ফকির (৪৫) নিখোঁজ হওয়ার দুদিন পর পাটক্ষেত থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শনিবার (১৮ জুলাই) উপজেলার মমিনখার হাটসংলগ্ন একটি পাটক্ষেত থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।

নিহত চরমাধবদিয়া ইউনিয়নের মমিনখার হাট এলাকার সহির উদ্দিন ফকিরের ছেলে। তিনি স্থানীয়ভাবে একজন বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ছিলেন।

নিহতের পরিবারের অভিযোগ, অপহরণের পর মুক্তিপণ হিসেবে ৩০ হাজার টাকা দাবি করা হয়েছিল। টাকা না দেওয়ায় তাকে হত্যা করা হয়েছে। তবে পুলিশ বলছে, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনের পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।

জানা গেছে, শনিবার সকাল ১০টার দিকে ফরিদপুর সদর উপজেলার মমিনখার হাটসংলগ্ন একটি পাটক্ষেতে ইউসুফ ফকিরকে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন স্থানীয়রা। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ও পরিবারের সদস্যরা তাকে উদ্ধার করে ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। পরে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) সন্ধ্যায় মমিনখার হাট এলাকা থেকে একটি অটোরিকশায় বাড়ির উদ্দেশে রওনা দেন ইউসুফ ফকির। পরিবারের দাবি, বাড়ির কাছাকাছি পৌঁছানোর পর থেকেই তিনি নিখোঁজ হন। এরপর আত্মীয়স্বজন ও সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।

নিহতের বড় ভাই গিয়াসউদ্দিন জানান, নিখোঁজ হওয়ার পরেরদিন শুক্রবার (১৭ জুলাই) তার মোবাইল ফোনে অজ্ঞাতপরিচয় এক ব্যক্তি কল করে ইউসুফকে ছাড়িয়ে নিতে ৩০ হাজার টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। পরিবারের অভিযোগ, ওই টাকা না দেওয়ায় দুর্বৃত্তরা ইউসুফকে হত্যা করেছে।

কোতোয়ালি থানার ওসি মো. মাহমুদুল হাসান বলেন, ‘মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে এবং মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদ্‌ঘাটনে তদন্ত চলছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও তদন্তের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।’

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সোনারগাঁ এলাকার রাস্তা যেন মরণফাঁদ

ডালিম হোসাইন, ​সোনারগাঁ
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সোনারগাঁ এলাকার রাস্তা যেন মরণফাঁদ
সংগৃহীত ছবি

বর্ষার টানা বৃষ্টি আর সংস্কারহীনতায় বেহাল হয়ে পড়েছে দেশের অর্থনীতির লাইফলাইন ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সোনারগাঁ এলাকার রাস্তা। মহাসড়কের কাঁচপুর সেতুর পূর্ব প্রান্ত থেকে মেঘনা সেতুর টোল প্লাজা পর্যন্ত প্রায় ১৪ কিলোমিটার রাস্তার যেন এখন মৃত্যুফাঁদ। রাস্তা সংস্কার নয় স্থায়ী সমাধানের দাবি জানিয়েছেন গাড়িচালক ও স্থানীয়রা।

গত কয়েক দিনের বৃষ্টি আর প্রতিদিন গড়ে ৫০ হাজার ভারি ও মাঝারি যানবাহন চলাচলের চাপে সড়কের পিচ-পাথর উঠে গিয়ে সৃষ্টি হয়েছে ছোট-বড় অসংখ্য খানাখন্দ। যেকোনো মুহূর্তে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কায় বুক কাঁপছে চালক ও যাত্রীদের।

সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কাঁচপুর সেতুর ঢালু থেকে জাংগাল, মল্লিকপাড়া, চেঙ্গাইন, মদনপুর, কেওঢালা, মালিবাগ, লাঙ্গলবন্দ, দড়িকান্দি, টিপুর্দী, ছোট সাদিপুর ,মোগরাপাড়া চৌরাস্তা এবং মেঘনা টোলপ্লাজা পর্যন্ত প্রায় ১৪ কিলোমিটার অংশে মহাসড়কের দুপাশের বিভিন্ন স্থানে যানবাহনের চাকায় পিষ্ট হয়ে কার্পেটিং উঠে গেছে। ফলে মহাসড়কে ছোট-বড় খানাখন্দের সৃষ্টি হয়েছে। দ্রুতগতির যানবাহনের চালকদের জন্য এটি মারণফাঁদে পরিণত হয়েছে। যে ফাঁদে পড়ে দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে দূরপাল্লার যানবাহনসহ পথচারীরা।

 

মহাসড়ক দিয়ে চলাচলকারী দূরপাল্লার একাধিক চালকরা  অসহায়ত্ব নিয়ে অভিযোগ করে জানান, বৃষ্টির পানিতে গর্তের গভীরতা আন্দাজ করা যায় না। দ্রুতগতির কোনো গাড়ি যখন হঠাৎ ব্রেক কষে, পেছনের গাড়ি এসে সজোরে ধাক্কা দেয়। সবচেয়ে বেশি বিপদে পড়ছে মোটরসাইকেল ও ছোট থ্রি-হুইলারগুলো। 

শ্যামলী পরিবহনের বাসচালক হাসান মিয়া বলেন, ‘কাঁচপুর পার হইলেই স্টিয়ারিং শক্ত কইরা ধরা লাগে। কখন যে গাড়ি গর্তে পইড়া এক্সেল ভাইঙা যায় ঠিক নাই। গাড়ি তো নষ্ট হয়ই, সাথে জানের ঝুঁকি তো আছেই। আমরা এর একটা স্থায়ী সমাধান চাই।’ 

গৌরীপুর থেকে আসা হানিফ পরিবহনের যাত্রী হান্নান মিয়া বলেন, ‘ইদানীং মহাসড়কে ছোট বড় অসংখ্য খানাখন্দ সৃষ্টি হয়েছে। দিনের বেলায় গর্তগুলো দেখা গেলেও রাতে গাড়ি চালানো ও চলাচল করা অনেক ঝুঁকিপূর্ণ। খানাখন্দের কারণে দুর্ঘটনার ঝুঁকি নিয়ে নিয়ে চলাচল করতে হয়। এ ছাড়া এই এলাকাটি মহাসড়কের হটস্পট হিসেবে পরিচিত হওয়ায় রাতে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে গাড়ি আটকে থাকলে ছিনতাইয়ের প্রবল ভয় কাজ করে।’

প্রাইভেটকার চালক ইমরান বলেন, ‘বৃষ্টির কারণে গর্তের সংখ্যা ও গভীরতা অনেক বেড়েছে। গাড়ির চাকা গর্তে পড়লেই নিয়ন্ত্রণ রাখা কঠিন হয়ে পড়ে। এ যেন সড়ক নয় মারণফাঁদ।’

মহাসড়কের বেহাল দশা সম্পর্কে নারায়ণগঞ্জ সড়ক ও জনপদ (সওজ) বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুর রহিম বলেন, ‘টানা বৃষ্টির কারণেই মহাসড়কে নতুন করে খানাখন্দের সৃষ্টি হয়েছে। এ ছাড়া মহাসড়কের পাশের ঘাস ও ঝোপঝাড়ের কারণে পানি নিষ্কাশন বাধাগ্রস্ত হওয়ায় রাস্তা দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে এবং এরই মধ্যে সংস্কার কাজ শুরু হয়েছে। তবে বৃষ্টির কারণে কাজে কিছুটা বিঘ্ন ঘটছে ‘ 

প্রকৌশলী আশা প্রকাশ করে বলেন, ‘আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এক সপ্তাহের মধ্যেই সড়কটি চলাচলের জন্য ঝুঁকিমুক্ত করা সম্ভব হবে।’