• ই-পেপার

রংপুর বিভাগে অতিভারি বর্ষণের আশঙ্কা

আজ থেকে কৃষক কার্ডের তথ্য সংগ্রহ শুরু

বাসস
আজ থেকে কৃষক কার্ডের তথ্য সংগ্রহ শুরু

সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারে ঘোষিত ‘কৃষক কার্ড’ কর্মসূচি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সারা দেশে কৃষক ও কৃষিজমির তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রম শুরু করতে যাচ্ছে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর (ডিএই)।

আজ শনিবার (১৮ জুলাই) থেকে দেশের সব উপজেলায় একযোগে এ কার্যক্রম শুরু হবে। প্রাথমিকভাবে প্রতিটি উপজেলা থেকে একটি করে ব্লক নির্বাচন করে তথ্য সংগ্রহ করা হবে, যা পরবর্তীতে পর্যায়ক্রমে সব ব্লকে সম্প্রসারণ করা হবে।

সম্প্রতি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. আব্দুর রহিম স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

সেখানে বলা হয়েছে, একই দিন কৃষি মন্ত্রণালয়ে কৃষিমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ‘কৃষক কার্ড কারিগরি ওয়ার্কিং কমিটির দ্বিতীয় সভায় গৃহীত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী দেশের প্রতিটি উপজেলায় একযোগে কৃষক ও জমির তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।

আদেশে আরো বলা হয়, প্রথম ধাপে প্রতিটি উপজেলার একটি করে নির্বাচিত ব্লকে তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রম শুরু হবে। 

পরবর্তীতে পরীক্ষামূলক এ কার্যক্রমের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে উপজেলার অন্যান্য সব ব্লকেও পর্যায়ক্রমে তথ্য সংগ্রহ করা হবে।

কার্যক্রম সফলভাবে বাস্তবায়নের জন্য ১৪ থেকে ১৮ জুলাইয়ের মধ্যে তথ্য সংগ্রহে নিয়োজিত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ‘তথ্য সংগ্রহ অ্যাপ’ ব্যবহারের ওপর প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। প্রশিক্ষণ শেষে ১৮ জুলাই থেকে মাঠপর্যায়ে কৃষক ও কৃষিজমির তথ্য সংগ্রহ শুরু হবে।

অফিস আদেশে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সকল পরিচালক, অতিরিক্ত পরিচালক, উপপরিচালক এবং উপজেলা কৃষি কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণ ও নির্দেশনা অনুযায়ী দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

বিষয়টিকে অত্যন্ত জরুরি হিসেবে উল্লেখ করে তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রম নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, কৃষকদের একটি নির্ভুল ও সমন্বিত তথ্যভাণ্ডার তৈরি হলে সরকারের প্রতিশ্রুত ‘কৃষক কার্ড’ বাস্তবায়নের পথ আরও সহজ হবে।

এর মাধ্যমে প্রকৃত কৃষকদের শনাক্তকরণ, কৃষি প্রণোদনা, ভর্তুকি, ঋণ সুবিধা এবং অন্যান্য সরকারি সেবা আরও দ্রুত, স্বচ্ছ ও কার্যকরভাবে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে।

কৃষক কার্ডের তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রম শুরু

বাসস
কৃষক কার্ডের তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রম শুরু

সারা দেশে কৃষক ও কৃষিজমির তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রম শুরু করতে যাচ্ছে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর (ডিএই)। শনিবার (১৮ জুলাই) থেকে দেশের সব উপজেলায় একযোগে এ কার্যক্রম শুরু হবে। 

প্রাথমিকভাবে প্রতিটি উপজেলা থেকে একটি করে ব্লক নির্বাচন করে তথ্য সংগ্রহ করা হবে, যা পরবর্তীতে পর্যায়ক্রমে সব ব্লকে সম্প্রসারণ করা হবে। সম্প্রতি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. আব্দুর রহিম স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

সেখানে বলা হয়েছে, একই দিন কৃষি মন্ত্রণালয়ে কৃষিমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ‘কৃষক কার্ড কারিগরি ওয়ার্কিং কমিটির দ্বিতীয় সভায় গৃহীত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী দেশের প্রতিটি উপজেলায় একযোগে কৃষক ও জমির তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।

আদেশে আরও বলা হয়, প্রথম ধাপে প্রতিটি উপজেলার একটি করে নির্বাচিত ব্লকে তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রম শুরু হবে। পরবর্তীতে পরীক্ষামূলক এ কার্যক্রমের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে উপজেলার অন্যান্য সব ব্লকেও পর্যায়ক্রমে তথ্য সংগ্রহ করা হবে।

কার্যক্রম সফলভাবে বাস্তবায়নের জন্য ১৪ থেকে ১৮ জুলাইয়ের মধ্যে তথ্য সংগ্রহে নিয়োজিত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ‘তথ্য সংগ্রহ অ্যাপ’ ব্যবহারের ওপর প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। প্রশিক্ষণ শেষে ১৮ জুলাই থেকে মাঠপর্যায়ে কৃষক ও কৃষিজমির তথ্য সংগ্রহ শুরু হবে।

অফিস আদেশে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সকল পরিচালক, অতিরিক্ত পরিচালক, উপপরিচালক এবং উপজেলা কৃষি কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণ ও নির্দেশনা অনুযায়ী দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। বিষয়টিকে অত্যন্ত জরুরি হিসেবে উল্লেখ করে তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রম নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, কৃষকদের একটি নির্ভুল ও সমন্বিত তথ্যভাণ্ডার তৈরি হলে সরকারের প্রতিশ্রুত ‘কৃষক কার্ড’ বাস্তবায়নের পথ আরও সহজ হবে।

এর মাধ্যমে প্রকৃত কৃষকদের শনাক্তকরণ, কৃষি প্রণোদনা, ভর্তুকি, ঋণ সুবিধা এবং অন্যান্য সরকারি সেবা আরও দ্রুত, স্বচ্ছ ও কার্যকরভাবে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে।

দুর্যোগ থেকে উপকূলীয় এলাকাকে রক্ষা করতে বেড়িবাঁধ নির্মাণ করবে সরকার : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

অনলাইন ডেস্ক
দুর্যোগ থেকে উপকূলীয় এলাকাকে রক্ষা করতে বেড়িবাঁধ নির্মাণ করবে সরকার : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
সংগৃহীত ছবি

বন্যা, জলোচ্ছ্বাস এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে উপকূলীয় এলাকাকে আরো সুরক্ষিত করতে টেকসই ও শক্তিশালী বেড়িবাঁধ নির্মাণের উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। শনিবার (১৮ জুলাই) দুপুরে পেকুয়ায় বন্যাকবলিত এলাকা পরিদর্শনের সময় তিনি এ কথা জানান।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, অভ্যন্তরীণ পানি নিষ্কাশনের জন্য যেসব খালের মুখ বন্ধ রয়েছে, সেখানে স্লুইস গেট নির্মাণ করা হচ্ছে, যাতে প্রয়োজন অনুযায়ী পানি সহজে বের হয়ে যেতে পারে। কক্সবাজারসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় এ ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, লবণাক্ততা, প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও সময়ের প্রভাবে অনেক সময় বেড়িবাঁধ ও স্লুইস গেট ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এসব অবকাঠামোর রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব নির্ধারিত মন্ত্রণালয়, পানি উন্নয়ন বোর্ড এবং সংশ্লিষ্ট বিভাগ নিয়মিতভাবে পালন করে থাকে।

তিনি বলেন, এ বিষয়ে সরকার নতুন নির্দেশনা জারি করেছে। এখন থেকে পানি উন্নয়ন বোর্ড স্লুইস গেটের দৈনন্দিন ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে থাকবে না। এর পরিবর্তে স্থানীয় প্রশাসন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও সদস্যরা এ দায়িত্ব পালন করবেন।

তিনি বলেন, এর ফলে স্থানীয় পর্যায়ে প্রয়োজনের সময় স্লুইস গেট খুলে পানি নিষ্কাশন এবং প্রয়োজনে গেট বন্ধ রেখে লবণাক্ত পানি প্রবেশ রোধ করা সহজ হবে। এতে স্থানীয় জনগণের দুর্ভোগ কমবে এবং স্লুইস গেটের ব্যবস্থাপনা আরও কার্যকর হবে।

এর আগে বেলা সাড়ে ১১টায় পেকুয়া উপজেলা মাঠে শামসুল হক ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনে ১০০ ঘর নির্মাণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

দুইদিনের সফর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ শুক্রবার কক্সবাজার আসেন। প্রথমদিন তিনি চকরিয়ায় বন্যা কবলিত এলাকা পরিদর্শনের পাশাপাশি বন্যার্তদের মধ্যে ত্রাণ বিতরণ করেন।

সড়ক প্রতিমন্ত্রী

বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক-মহাসড়ক দ্রুত সংস্কারের নির্দেশ

বাসস
বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক-মহাসড়ক দ্রুত সংস্কারের নির্দেশ

সড়ক পরিবহন ও সেতু এবং রেলপথ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিব বলেছেন, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে, বিশেষ করে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও পার্বত্য এলাকায় সাম্প্রতিক টানা বর্ষণ ও বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক ও মহাসড়ক দ্রুত সংস্কারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, দুর্যোগের কারণে কোনো অবস্থাতেই দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থা দীর্ঘ সময় ব্যাহত হতে দেওয়া হবে না। জনগণের দুর্ভোগ কমাতে এবং অর্থনৈতিক কার্যক্রম সচল রাখতে ক্ষতিগ্রস্ত সড়কগুলো অগ্রাধিকার ভিত্তিতে মেরামত করা হচ্ছে।

সম্প্রতি সচিবালয়ে সড়ক মন্ত্রণালয়ের নিজ কার্যালয়ে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, অতিবৃষ্টি ও বন্যার কারণে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সড়ক অবকাঠামোর ওপর ব্যাপক চাপ সৃষ্টি হয়েছে। কোথাও সড়কের কার্পেটিং উঠে গেছে, কোথাও সড়কের কিনারা ধসে পড়েছে, আবার কোথাও কালভার্ট ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার ক্ষতি হয়েছে। এরই মধ্যে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরকে ক্ষতিগ্রস্ত সড়কের তালিকা প্রস্তুত, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ এবং জরুরি ভিত্তিতে সংস্কারকাজ শুরু করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, প্রাথমিক মূল্যায়নে চট্টগ্রাম অঞ্চলের প্রায় ২১২ কিলোমিটার সড়ক বিভিন্ন মাত্রায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে জাতীয় ও আঞ্চলিক মহাসড়ক এবং জেলা পর্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক রয়েছে। কোথাও বন্যার তীব্র স্রোতে সড়কের অংশ ভেঙে গেছে, কোথাও দীর্ঘ সময় পানি জমে থাকায় বিটুমিনাস স্তর নষ্ট হয়েছে। আবার কিছু স্থানে সড়কের নিচের মাটি সরে যাওয়ায় ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

হাবিবুর রশিদ হাবিব বলেন, দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দর, রপ্তানি-আমদানি কার্যক্রম এবং শিল্পাঞ্চলের কেন্দ্র হওয়ায় চট্টগ্রামের যোগাযোগ ব্যবস্থা সচল রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই এ অঞ্চলের ক্ষতিগ্রস্ত ২১২ কিলোমিটার সড়ক সংস্কারকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। এরই মধ্যে সংশ্লিষ্ট নির্বাহী প্রকৌশলী, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী ও প্রধান প্রকৌশলীদের সমন্বয়ে বিশেষ তদারকি ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে।

তিনি বলেন, প্রথম ধাপে যেসব সড়ক দিয়ে জরুরি পণ্য, খাদ্যশস্য, ওষুধ, জ্বালানি ও ত্রাণ পরিবহন করা হয়, সেগুলো দ্রুত মেরামত করা হচ্ছে। পাশাপাশি জেলা ও উপজেলা সদর, হাসপাতাল, বন্দর, শিল্পাঞ্চল, বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং গুরুত্বপূর্ণ সরকারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সংযোগকারী সড়কগুলোও অগ্রাধিকার পাচ্ছে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, কোথাও স্থায়ী সংস্কারে সময় লাগলে আপাতত অস্থায়ী সংস্কারের মাধ্যমে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখা হবে। বর্ষা মৌসুম শেষে টেকসই ও স্থায়ী পুনর্নির্মাণকাজ বাস্তবায়ন করা হবে।

তিনি বলেন, জনগণের ভোগান্তি কমানোই এখন সরকারের প্রধান লক্ষ্য। এজন্য মাঠপর্যায়ের প্রকৌশলী ও কর্মকর্তাদের ২৪ ঘণ্টা প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যেসব এলাকায় নতুন করে ভাঙনের আশঙ্কা রয়েছে, সেখানে নিয়মিত পর্যবেক্ষণের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ও নির্মাণসামগ্রী প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, বন্যার কারণে অনেক এলাকায় কৃষিপণ্য, শিল্পপণ্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য পরিবহনে সাময়িক বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে। তবে বিকল্প সড়ক ব্যবহার, ক্ষতিগ্রস্ত অংশে জরুরি মেরামত এবং স্থানীয় প্রশাসনের সমন্বয়ে পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে। দেশের অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে যোগাযোগ ব্যবস্থা নিরবচ্ছিন্ন রাখা অত্যন্ত জরুরি।

তিনি বলেন, জরুরি সংস্কারকাজ পরিচালনায় প্রাথমিকভাবে রক্ষণাবেক্ষণ তহবিল ব্যবহার করা হচ্ছে। ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ হিসাব পাওয়ার পর প্রয়োজন হলে অতিরিক্ত অর্থ বরাদ্দের জন্য সরকারের কাছে প্রস্তাব পাঠানো হবে। অর্থের অভাবে কোনো গুরুত্বপূর্ণ সংস্কারকাজ যেন বিলম্বিত না হয়, সে বিষয়েও সরকার অত্যন্ত সতর্ক রয়েছে।

হাবিবুর রশিদ হাবিব বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে অতিবৃষ্টি ও আকস্মিক বন্যার প্রবণতা বাড়ছে। তাই ভবিষ্যতের কথা বিবেচনা করে সড়ক নির্মাণে নতুন পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে। উন্নত ড্রেনেজ ব্যবস্থা, অধিক উচ্চতায় সড়ক নির্মাণ, টেকসই নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার এবং নদীভাঙনপ্রবণ এলাকায় অতিরিক্ত সুরক্ষা নিশ্চিত করা হবে। নতুন প্রকল্পে জলবায়ু-সহনশীল অবকাঠামো নির্মাণকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে।

তিনি বলেন, শুধু ক্ষতিগ্রস্ত অংশ মেরামত করলেই হবে না, ভবিষ্যতে যেন একই স্থানে বারবার ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সে বিষয়েও পরিকল্পনা নিতে হবে। এজন্য প্রকৌশলীদের আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার এবং দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের ওপর গুরুত্ব দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, সেতু ও কালভার্টগুলোর অবস্থাও নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। যেসব সেতুতে অতিরিক্ত চাপ বা ক্ষতির ঝুঁকি রয়েছে, সেখানে বিশেষ নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। প্রয়োজনে ভারী যানবাহন চলাচলে সাময়িক বিধিনিষেধ আরোপ করা হতে পারে।

মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, জনগণের দুর্ভোগ কমাতে আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করতে হবে। কোনো ধরনের অবহেলা বা গাফিলতি বরদাশত করা হবে না। প্রতিটি প্রকল্পের অগ্রগতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হবে এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই কাজ শেষ করতে হবে।

তিনি বলেন, দুর্যোগ মোকাবেলায় সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর, স্থানীয় প্রশাসন, পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট সংস্থা সমন্বিতভাবে কাজ করছে। এ উদ্যোগের মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে দ্রুত যোগাযোগ পুনঃস্থাপন সম্ভব হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

জনসাধারণের প্রতি আহ্বান জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বন্যাকবলিত ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় অপ্রয়োজনীয় ভ্রমণ থেকে বিরত থাকতে হবে। কোথাও সড়ক বা সেতু ক্ষতিগ্রস্ত হলে দ্রুত স্থানীয় প্রশাসন বা সড়ক বিভাগের কর্মকর্তাদের জানাতে হবে। জনগণের সহযোগিতা থাকলে সংস্কারকাজ আরো দ্রুত শেষ করা সহজ হবে।

তিনি বলেন, সরকারের লক্ষ্য শুধু বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক পুনঃসংস্কার নয়, ভবিষ্যতের প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলায় আরো টেকসই, নিরাপদ ও জলবায়ু-সহনশীল যোগাযোগ অবকাঠামো গড়ে তোলা।

প্রতিমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে অগ্রাধিকারভিত্তিতে ক্ষতিগ্রস্ত অধিকাংশ সড়ক ও মহাসড়কের সংস্কারকাজ দ্রুত শেষ হবে এবং দেশের সার্বিক যোগাযোগ ব্যবস্থা আবার স্বাভাবিক গতিতে ফিরে আসবে।