• ই-পেপার

ঠাকুরগাঁও

খেলার সময় পুকুরে পড়ে শিশুর মৃত্যু

ফেনী

সন্ধ্যার পর শিক্ষার্থীদের চা-দোকানে আড্ডা ও ঘোরাঘুরি নিষিদ্ধ

ফেনী প্রতিনিধি
সন্ধ্যার পর শিক্ষার্থীদের চা-দোকানে আড্ডা ও ঘোরাঘুরি নিষিদ্ধ
সংগৃহীত ছবি

ফেনীতে সন্ধ্যার পর শিক্ষার্থীদের শহরে অযথা ঘোরাঘুরি, চায়ের দোকানে অবস্থান ও আড্ডা নিরুৎসাহিত করতে জনসচেতনতামূলক মাইকিং করেছে জেলা প্রশাসন। শুক্রবার (১৭ জুলাই) সন্ধ্যায় শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও এলাকায় মাইকিং করে এ বিষয়ে জনসাধারণকে অবহিত করা হয়। শনিবার (১৮ জুলাই) দুপুরে ফেনীর জেলা প্রশাসক মনিরা হক গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

মাইকিংয়ে জানানো হয়, জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় গৃহীত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী মাগরিবের পর শিক্ষার্থীদের অপ্রয়োজনীয়ভাবে বাইরে অবস্থান, চা-দোকানে আড্ডা বা উদ্দেশ্যহীন ঘোরাঘুরি থেকে বিরত থাকতে হবে। এ সময় অভিভাবকদেরও সন্তানদের বিষয়ে সচেতন থাকার আহ্বান জানানো হয়। পাশাপাশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্ট সবাইকে এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে সহযোগিতা করার অনুরোধ জানিয়েছে জেলা প্রশাসন।

জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে আরো জানানো হয়, এ নির্দেশনা অমান্য করলে প্রচলিত আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। প্রশাসনের এ উদ্যোগকে জনশৃঙ্খলা বজায় রাখা, শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং অপরাধপ্রবণতা প্রতিরোধের অংশ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

জেলা প্রশাসক মনিরা হক জানান, অভিভাবক, শিক্ষার্থী ও জনসাধারণকে জনসচেতনতা ও পরামর্শমূলক প্রচারণা করা হয়েছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ছুটির পরে কেউ প্রতিষ্ঠান আঙ্গিনায় অবস্থান না করে সে জন্য জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় প্রচারণা চালানোর জন্য তথ্য অফিসারকে বলা হয়েছে। সে হিসেবে তথ্য অফিস শহরের বিভিন্ন স্থানে মাইকিং করার কথা। তারা না-বুঝে ভিন্নভাবে মাইকিং করেছে। যেটি কারফিউর মতো হয়ে গেছে। যেটা সঠিক নয়। সেটি কারেকশন করে আজ শনিবার পুনরায় মাইকিং ও প্রচারণা করতে বলা হয়েছে। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এ ব্যাপারটি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

জেলা প্রশাসক আরো জানান, এটি কোনো দমনমূলক সিদ্ধান্ত নয়। শিক্ষার্থী বাইরে বের হলেই আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে, বিষয়টি এমনও নয়। মূল লক্ষ্য হলো, কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম্য কমানো, অভিভাবকদের সচেতন করা এবং শিক্ষার্থীদের মাগরিবের পর অপ্রয়োজনে বাইরে ঘোরাফেরা করতে নিরুৎসাহিত করা। জেলা প্রশাসনের তদারকি দল মাঠে কাজ করবে। পাশাপাশি পুলিশও বিষয়টি নজরদারি করবে বলে তিনি জানান।

এখনো বেঁচে আছি শরীরে ২২টি সিসা নিয়ে

আঞ্চলিক (পিরোজপুর) প্রতিনিধি
এখনো বেঁচে আছি শরীরে ২২টি সিসা নিয়ে
সংগৃহীত ছবি

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নারী শিক্ষার্থীদের ওপর নির্মম হামলার দৃশ্য দেখে আর ঘরে বসে থাকতে পারিনি। অধিকার আদায়ে আন্দোলনে গিয়েছিলাম। আন্দোলনে চলাকালীন হঠাৎ বুকে গুলি লাগে। এতে আমার মুহূর্তের মধ্যেই পুরো শরীর রক্তে ভিজে যায় এবং অচেতন হয়ে  যায়। মনে হয়েছিল শহীদ হয়ে যাব, তবে এখনো ২২টি সিসা নিয়ে বেঁচে আছি। এভাবেই স্মৃতিচারণ করে কথাগুলো বলছিলেন আহত জুলাইযোদ্ধা মুশফিকুর রহমান আশিক।


আশিক পিরোজপুরের নাজিরপুর উপজেলার সাতকাছিমিয়া গ্রামের বাসিন্দা। জুলাইযোদ্ধাদের সংগঠনের স্থায়ী কমিটির সদস্য।

জুলাই আন্দোলনের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে আশিক বলেন, তখন আমি এইচএসসি পরীক্ষার্থী। ১ জুলাই থেকেই আন্দোলনের খবর জানতে পারছিলাম। কিন্তু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নারী শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ভিডিও দেখে নিজেকে আর আটকে রাখতে পারিনি। তাদের রক্তাক্ত মুখ দেখে মনে হয়েছে, ঘরে বসে থাকলে নিজের বিবেকের কাছে অপরাধী হয়ে থাকব।

তিনি জানান, ১৬ জুলাই আন্দোলনে সরাসরি যোগ দেন। এরপর রাজধানীর বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নেন। ৪ আগস্ট রাজধানীর সায়েন্স ল্যাব ও পিলখানার মধ্যবর্তী এলাকায় আন্দোলনে অংশ নেওয়ার সময় ছাত্রলীগের হামলায় তিনি গুরুতর আহত হন। সেদিনের বিভীষিকাময় মুহূর্ত স্মরণ করে আশিক বলেন, হঠাৎ বুকে গুলি লাগে। মুহূর্তের মধ্যেই পুরো শরীর রক্তে ভিজে যায়। আমি ধীরে ধীরে অচেতন হয়ে পড়েছিলাম। তখন মনে হয়েছিল, আর হয়তো বাঁচব না শহীদ হয়ে যাব। চিকিৎসার পর তার শরীর থেকে একটি গুলি বের করা সম্ভব হলেও এখনো ২২টি সিসা কার্তুজ শরীরের ভেতরে রয়ে গেছে। এসব সিসার কারণে তিনি নিয়মিত শারীরিক যন্ত্রণা অনুভব করেন। চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী, দীর্ঘদিন এগুলো শরীরে থাকলে ভবিষ্যতে জটিল স্বাস্থ্যঝুঁকি, এমনকি ক্যান্সারের আশঙ্কাও তৈরি হতে পারে।

আশিক বলেন, আমরা কোনো ব্যক্তিগত লাভের জন্য আন্দোলনে করিনি। একটি বৈষম্যহীন, ন্যায়ভিত্তিক ও মানবিক বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন নিয়েই রাজপথে নেমেছিলাম। সেই স্বপ্ন এখনো বুকে লালন করি।

তিনি আরো বলেন, আজও অনেক জুলাইযোদ্ধা গুলির ক্ষত, শারীরিক অক্ষমতা ও মানসিক ট্রমা নিয়ে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন। অনেকেই পর্যাপ্ত চিকিৎসা পাচ্ছেন না। আমি সরকারের কাছে আবেদন জানাই, আহত জুলাই যোদ্ধাদের দ্রুত উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করা হোক এবং তাদের জন্য টেকসই পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা হোক। পিরোজপুরের প্রত্যন্ত জনপদ থেকে উঠে আসা এই তরুণের শরীরে এখনো আন্দোলনের রক্তাক্ত স্মৃতি বহন করছে ২২টি সিসা কার্তুজ। কিন্তু তার কণ্ঠে হতাশার চেয়ে বেশি উচ্চারিত হয় একটি স্বপ্ন একটি বৈষম্যহীন বাংলাদেশ, যেখানে অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ানো মানুষকে আর জীবন দিয়ে মূল্য দিতে হবে না।
 

‘মুনসুর উল করিম শুধু রাজবাড়ীর নন, সমগ্র দেশের গর্ব’

রাজবাড়ী প্রতিনিধি
‘মুনসুর উল করিম শুধু রাজবাড়ীর নন, সমগ্র দেশের গর্ব’
ছবি: কালের কণ্ঠ

দেশের শিল্পাঙ্গনে অনন্য অবদান রাখা একুশে পদকপ্রাপ্ত বরেণ্য শিল্পী মুনসুর উল করিম শুধু রাজবাড়ীর সম্পদ নন, তিনি পুরো দেশের গর্ব—এমন মন্তব্য করেছেন সংস্কৃতিবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ও রাজবাড়ী-১ আসনের সংসদ সদস্য আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম।

শিল্পীর ৭৬তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে শনিবার (১৮ জুলাই) সকালে রাজবাড়ী জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে আয়োজিত স্মরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। জেলা শিল্পকলা একাডেমি ও বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠনের উদ্যোগে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম বলেন, মুনসুর উল করিম শুধু রাজবাড়ীর নন, তিনি সমগ্র দেশের গর্ব। তার সৃজনশীল শিল্পকর্ম দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে রয়েছে। এমন একজন ক্ষণজন্মা গুণী শিল্পীর জন্ম রাজবাড়ীতে হওয়ায় এ জেলার মানুষ গর্বিত।

তিনি আরো বলেন, মুনসুর উল করিম বেঁচে থাকলে দেশের শিল্প ও সংস্কৃতির অঙ্গন আরো সমৃদ্ধ হতো। তার সৃষ্টিকর্ম নতুন প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, মুনসুর উল করিমকে ঘিরে রাজবাড়ীবাসীর গর্বের শেষ নেই। তার জন্মবার্ষিকীতে শিল্পীর আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন তিনি। পাশাপাশি রাজবাড়ীকে দেশের অন্যতম সংস্কৃতিচর্চার কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে সরকারের উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন।

অনুষ্ঠানে জেলা বিএনপির অন্যতম নেতা এ বি এম মঞ্জুরুল আলম দুলাল, কবি সালাম তাছির, সৈয়দ সিদ্দিকুর রহমান, আজিজা খানমসহ জেলার বরেণ্য শিল্পী, কবি, সাহিত্যিক, সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধি, লালন স্মৃতি সংসদের সদস্য এবং সংস্কৃতিপ্রেমী ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

আলোচনাসভায় বক্তারা মুনসুর উল করিমের শিল্পকর্ম, কর্মজীবন এবং দেশের শিল্পাঙ্গনে তার অবদানের কথা স্মরণ করেন। তারা বলেন, তার সৃষ্টিশীলতা ও শিল্পদর্শন আগামী প্রজন্মের জন্য পথপ্রদর্শক হয়ে থাকবে। তার শিল্পকর্ম সংরক্ষণ এবং নতুন প্রজন্মের কাছে তা তুলে ধরার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন বক্তারা।

পরে শিল্পীকে স্মরণ করে সাংস্কৃতিক পরিবেশনার আয়োজন করা হয়। এর আগে বেলুন উড়িয়ে কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়। শেষে জন্মবার্ষিকীর কেক কাটার মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে।

মাধবদীতে ডাকাতদলের হামলায় নিহত ১

নরসিংদী প্রতিনিধি
মাধবদীতে ডাকাতদলের হামলায় নিহত ১
ছবি : কালের কণ্ঠ

নরসিংদীর মাধবদীতে ডাকাতদের উপর্যুপরি ধারালো অস্ত্রের আঘাতে মোহাম্মদ শাহজাহান (৫৬) নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। তার চাচা সুরুজ মিয়া গুরুতর আহত অবস্থায় ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

শুক্রবার (১৮ জুলাই) দিবাগত রাত ২টা থেকে ভোর ৪টা পর্যন্ত মাধবদী থানার নুরালাপুর ইউনিয়নের বলভদ্রদী গ্রামের মনির হোসেন ও মিলনের বাড়িতে এই ডাকাতি ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার গভীর রাতে ৬ জনের অজ্ঞাতনামা একদল সশস্ত্র ডাকাতদল বলভদ্রদী গ্রামের মনির হোসেন ও মিলনের বাড়িতে হানা দেয়। ডাকাতরা ঘরে ঢুকে মূল্যবান মালামাল, গয়না ও টাকা-পয়সা লুটপাটের চেষ্টা করলে বাড়ির লোকজন তাতে বাধা দেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে ডাকাতদল ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কোপাতে শুরু করে। এ সময় ডাকাতদের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে বলভদ্রদী গ্রামের মৃত শামসুল হকের ছেলে মোহাম্মদ শাহজাহান ঘটনাস্থলেই নিহত হন। তার চাচা সুরুজ মিয়া তাকে বাঁচাতে এগিয়ে এলে ডাকাতরা তাকেও কুপিয়ে গুরুতর জখম করে। পরে পরিবারের অন্য সদস্যদের ডাক-চিৎকারে প্রতিবেশীরা এগিয়ে এলে ডাকাতদল পালিয়ে যায়।

মাধবদী থানার ওসি কামাল হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ‘ঘটনার খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে মাধবদী থানার এসআই বারেক হাওলাদারকে সঙ্গীয় ফোর্সসহ দ্রুত ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়। পুলিশ গিয়ে রক্তাক্ত অবস্থায় সুরুজ মিয়াকে উদ্ধার করে দ্রুত চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠায়। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।’

তিনি আরো জানান, নিহত শাহজাহানের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নরসিংদী সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। এই ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করতে ইতিমধ্যে তদন্ত শুরু হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা দায়েরসহ প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।