ব্যাপারটা অনেকটা সিনেমার মতো। সিনেমায় দেখা যায়, কোনো সন্ত্রাসীচক্রের উত্থানের পেছনে পুলিশের কোনো অসৎ কর্মকর্তার হাত থাকে। অসৎ পুলিশ কর্মকর্তা সন্ত্রাসী গ্যাংকে সহায়তা করেন বা গ্যাংয়ের সদস্য হয়ে যান।
সেই পুলিশ সদস্য সন্ত্রাসী গ্যাংকে গোপন তথ্য দেন, অভিযানের খবর আগেভাগে ফাঁস করে দেন বা সন্ত্রাসীদের হয়ে হুমকি দেন। বাস্তবে তেমন এক অসৎ পুলিশ কর্মকর্তার সন্ধান পাওয়া গেছে ভারতের পাঞ্জাবে। তার নাম গুরিন্দরজিৎ সিং নাগরা।
যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন-এফবিআই তার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসীচক্রের সঙ্গে সম্পৃক্ততা ও চাঁদাবাজির অভিযোগ আনার পর প্রথমে তাকে বদলি করা হয়। প্রাথমিক তদন্ত শেষে শুক্রবার রাতে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাংসহ ভারতের বেশ কয়েকটি অপরাধীচক্র যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা এবং ইউরোপের নানা দেশে খুন, অপহরণ, চাঁদাবাজি, মাদক, অর্থ, অস্ত্র, মানবপাচারসহ নানা অপকর্ম করে বেড়াচ্ছিল।
আন্তর্জাতিক চক্রটিকে নিশ্চিহ্ন করতে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা এবং ইউরোপের কয়েকটি দেশ মিলে ‘অপারেশন হার্ড বল’ নামে বিরল যৌথ অভিযান শুরু করে। দীর্ঘদিন গোপনে এসব গ্যাংয়ের ব্যাপারে তথ্য সংগ্রহ করা হয়।
গত ৭ জুলাই মার্কিন বিচার বিভাগ লস অ্যাঞ্জেলেসের আদালত থেকে ৩টি চার্জশিট প্রকাশ করে, যেখানে মোট ৩৭ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়। অভিযোগনামা প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গেই যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা এবং ইউরোপের বিভিন্ন দেশে একযোগে ৫০টিরও বেশি স্থানে এক বিশাল ক্র্যাকডাউন চালানো হয়। অভিযানে ভারতভিত্তিক গ্যাংগুলোর ২৪ জন সক্রিয় সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পাঞ্জাবের পুলিশ কর্মকর্তা গুরিন্দরজিৎ সিং নাগরা সেই ৩৭ জনের একজন। অভিযোগ আসার সময় তিনি পাঞ্জাব রাজ্যের হোশিয়ারপুর জেলার টাণ্ডা থানার স্টেশন হাউস অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। অভিযোগ আসার পর প্রথমে তাকে হোশিয়ারপুরের পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়। শুক্রবার রাতে তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
মার্কিন বিচার বিভাগের অভিযোগে বলা হয়, গুরিন্দরজিৎ সিং নাগরা পাঞ্জাবভিত্তিক ‘জগ্গু ভগবানপুরিয়া অর্গানাইজড ক্রাইম গ্রুপ’-এর সদস্য। গ্রুপের সদস্যরা তাকে তথ্য সরবরাহ করত। আর সে তথ্যের ভিত্তিতে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর হুমকি দিয়ে চাঁদা আদায় করতে গুরিন্দরজিৎ।
অভিযোগে বলা হয়, ভগবানপুরিয়া গ্যাংয়ের সদস্য গুরলাল সিং লস অ্যাঞ্জেলেসের এক ভুক্তভোগীর তথ্য নাগরার কাছে সরবরাহ করেছিল।
অভিযোগে আরো বলা হয়, গত জানুয়ারি মাসে পাঞ্জাবের টাণ্ডা থানা এলাকায় বলউইন্দর সিং নামে এক স্থানীয় ব্যবসায়ী খুন হন। সেই হত্যাকাণ্ডের তদন্তের সুযোগ নিয়ে নাগরা যুক্করাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেসে প্রবাসী একটি পরিবারের কাছে ৪ কোটি রুপি চাঁদা দাবি করেন।
গুরিন্দরজিৎ হুমকি দেন, টাকা না দিলে ভারতে থাকা তাদের আত্মীয়দের এই খুনের মামলায় প্রধান আসামি হিসেবে ফাঁসিয়ে দেওয়া হবে। গুরিন্দরজিৎ এরই মধ্যে ভুক্তভোগী পরিবারের কাছ থেকে ১৬ লাখ রুপি আদায়ও করেছিল বলে অভিযোগ করা হয়।