• ই-পেপার

রাজধানীতে ২৪ ঘণ্টায় গ্রেপ্তার ৪৬৩, মামলা ৩৮

জাতীয় কৃষক শক্তির আত্মপ্রকাশ

আহ্বায়ক সাঈদ, সদস্যসচিব সেলিম, মুখ্য সংগঠক নফিউল

নিজস্ব প্রতিবেদক
আহ্বায়ক সাঈদ, সদস্যসচিব সেলিম, মুখ্য সংগঠক নফিউল
আহ্বায়ক সাঈদ উজ্জ্বল, সদস্যসচিব গোলাম মর্তুজা সেলিম ও মুখ্য সংগঠক নফিউল ইসলাম। ছবি : সংগৃহীত

কৃষকদের অধিকার আদায়ে কাজ করতে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) অঙ্গসংগঠন হিসেবে জাতীয় কৃষক শক্তির আত্মপ্রকাশ ঘটেছে। একই সঙ্গে এটির কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক কমিটিও (আংশিক) ঘোষণা করা হয়েছে।

আহ্বায়কের দায়িত্ব পেয়েছেন সাঈদ উজ্জ্বল ও সদস্যসচিব হয়েছেন কৃষিবিদ গোলাম মর্তুজা সেলিম। মুখ্য সংগঠক হিসেবে নফিউল ইসলামকে দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে। একই সঙ্গে সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট ফখরুদ্দিন আহমেদ জাকি ও মো. আব্দুল আজিজ এবং সিনিয়র যুগ্ম সদস্যসচিব মজিবুর রহমান খোকন ও মো. রাকিবুল হাসান রানা দায়িত্ব পেয়েছেন।

বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার টগরাই হাট দ্বিমুখী উচ্চবিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠিত সমাবেশে এনসিপির আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম কমিটির সদস্যদের নাম ঘোষণা করেন।

কুড়িগ্রাম-২ আসনের সংসদ সদস্য ও এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক ড. আতিক মুজাহিদের সভাপতিত্বে ও গোলাম মর্তুজা সেলিমের সঞ্চালনায় এতে প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন এনসিপির সদস্যসচিব আখতার হোসেন। কৃষক সমাবেশে জুলাই শহীদ রাজীবের মা জান্নাতুল ফেরদৌস এবং জুলাইযোদ্ধা আরিফুল ইসলামও বক্তব্য দেন।

জাতীয় কৃষক শক্তির ঘোষণাপত্র পাঠকালে নবগঠিত কমিটির আহ্বায়ক সাঈদ উজ্জ্বল বলেন, “‘কৃষকের শক্তি, জাতীয় মুক্তি’ স্লোগানকে সামনে রেখে এগিয়ে যাবে। আমরা মনে করি, বাংলাদেশের কৃষক শুধু খাদ্য উৎপাদক নয়, একই সঙ্গে এই ভূখণ্ডের অর্থনীতির ভিত্তি এবং রাজনৈতিক সংগ্রামের অন্যতম প্রধান শক্তি। নীলচাষ-বিরোধী আন্দোলন, ফকির-সন্ন্যাসী বিদ্রোহ, তিতুমীরের বাঁশের কেল্লা, টঙ্ক আন্দোলন, কৃষকপ্রজা পার্টি, তেভাগার সংগ্রাম এবং মাওলানা ভাসানীর কৃষক রাজনীতি আমাদের সেই ঐতিহাসিক ধারার অংশ। এসব আন্দোলন জমির মালিকানা, উৎপাদনের অধিকার এবং রাষ্ট্রে কৃষকের মর্যাদার প্রশ্নে আপসহীন লড়াই করে গেছে। কিন্তু স্বাধীনতার পর কৃষককে ধীরে ধীরে রাজনীতির কেন্দ্র থেকে সরিয়ে কেবল উৎপাদনের দায়িত্বে সীমাবদ্ধ করা হয়েছে।”

সাঈদ উজ্জ্বল আরো বলেন, ‘রাষ্ট্রের খাদ্য নিরাপত্তা কৃষকের কাঁধে ন্যস্ত হয়েছে, অথচ কৃষিনীতি, বাজারনীতি, মূল্যনীতি কিংবা ভূমিনীতি নির্ধারণের টেবিলে কৃষকের কোনো কার্যকর উপস্থিতি তৈরি হয়নি। উৎপাদন করে কৃষক, কিন্তু লাভ পায় অন্যেরা। কৃষক ঝুঁকি নেয়, কিন্তু সিদ্ধান্ত নেয় অন্যেরা। আমরা বিশ্বাস করি, এই অবস্থার পরিবর্তন না হলে কৃষকের মুক্তি সম্ভব নয়; আর কৃষকের মুক্তি ছাড়া বাংলাদেশের অর্থনৈতিক মুক্তিও অসম্ভব। বাংলাদেশের অর্থনীতি তিনটি মহান শ্রমশক্তির ওপর দাঁড়িয়ে আছে— কৃষকের মাঠের শ্রম, কৃষকের সন্তানের প্রবাসের শ্রম এবং কৃষককন্যার গার্মেন্টসশিল্পের শ্রম। এই তিনটি শক্তিই বৈদেশিক মুদ্রা, খাদ্য নিরাপত্তা ও জাতীয় অর্থনীতির প্রধান ভিত্তি। অথচ এই শ্রমশক্তির মূল উৎস, গ্রামীণ কৃষক সমাজ, আজও রাষ্ট্রীয় নীতি ও রাজনৈতিক ক্ষমতার কাঠামোয় সবচেয়ে অবহেলিত।’

সমাবেশে জাতীয় কৃষক শক্তির ১৪ দফা অধিকার সনদ পাঠ করেন সদস্যসচিব কৃষিবিদ গোলাম মর্তুজা সেলিম। দফাগুলো হলো—

১. কৃষকের রাজনৈতিক স্বীকৃতি : কৃষককে শুধু উৎপাদক নয়, একটি রাজনৈতিক জনগোষ্ঠী ও জাতীয় শক্তি হিসেবে সাংবিধানিক ও নীতিগত স্বীকৃতি দিতে হবে। জাতীয় ও স্থানীয় পর্যায়ে কৃষকের কার্যকর রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে হবে।

২. ন্যায্যমূল্যের অধিকার : প্রতিটি কৃষিপণ্যের উৎপাদন ব্যয়, শ্রম ও ন্যায্য মুনাফা বিবেচনায় মূল্য নির্ধারণ করতে হবে। বাজার সিন্ডিকেট ও মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য বন্ধে রাষ্ট্রকে কার্যকর ভূমিকা পালন করতে হবে। সরকারকে কৃষকের উৎপাদিত কৃষিপণ্য ন্যায্য মূল্যে সরাসরি ক্রয়ের কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে, যাতে কৃষক তার উৎপাদন ব্যয় ও ন্যায্য লাভ নিশ্চিত করতে পারেন।

৩. কৃষি বীমার অধিকার : জলবায়ু পরিবর্তন, বন্যা, খরা, ঘূর্ণিঝড়, লবণাক্ততা ও অন্যান্য প্রাকৃতিক দুর্যোগের ক্ষতি মোকাবিলায় এলাকাভিত্তিক ফলন সূচকের ভিত্তিতে সর্বজনীন কৃষি বীমা চালু করতে হবে।

৪. কৃষি অঞ্চলের পুনর্বিন্যাস : বাংলাদেশকে হাওর, উপকূল, চর, পাহাড়, বরেন্দ্র, প্লাবনভূমি ও অন্যান্য জলবায়ুভিত্তিক কৃষি অঞ্চলে ভাগ করে অঞ্চলভিত্তিক কৃষিনীতি, গবেষণা, ভর্তুকি ও উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে।

৫. খাদ্য সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠা : দেশীয় বীজ সংরক্ষণ, গবেষণা ও উন্নয়নকে রাষ্ট্রীয় অগ্রাধিকার দিতে হবে। বহুজাতিক কোম্পানির একচেটিয়া বীজনির্ভরতা কমিয়ে কৃষকের বীজের অধিকার নিশ্চিত করতে হবে।

৬. কৃষি উপকরণের নিশ্চয়তা : মানসম্মত বীজ, সার, সেচ, বিদ্যুৎ, ডিজেল ও কৃষিযন্ত্র সহজলভ্য এবং সহনীয় মূল্যে নিশ্চিত করতে হবে। ভেজাল কৃষি উপকরণের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।

৭. সংরক্ষণ ও বাজারব্যবস্থা : প্রতিটি কৃষি অঞ্চলে আধুনিক হিমাগার, গুদাম, সংগ্রহকেন্দ্র, প্রক্রিয়াজাতকরণ কেন্দ্র এবং রাষ্ট্রীয় বিপণন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে, যাতে কৃষক সরাসরি বাজারে প্রবেশ করতে পারে।

৮. প্রযুক্তি ও তথ্যের অধিকার : প্রতিটি কৃষকের হাতে আবহাওয়া, বাজারদর, রোগবালাই, সরকারি সহায়তা ও প্রযুক্তিগত পরামর্শ পৌঁছে দিতে একটি সমন্বিত জাতীয় ডিজিটাল কৃষি প্ল্যাটফর্ম গড়ে তুলতে হবে।

৯. কৃষিশ্রমিকের মর্যাদা : কৃষিশ্রমিকের ন্যায্য মজুরি, নিরাপদ কর্মপরিবেশ, সামাজিক নিরাপত্তা এবং শ্রমের মর্যাদা নিশ্চিত করতে হবে।

১০. কৃষিতে তরুণদের অংশগ্রহণ : তরুণ উদ্যোক্তা, কৃষিবিজ্ঞানী ও প্রযুক্তিনির্ভর নতুন প্রজন্মকে কৃষিতে আকৃষ্ট করতে বিশেষ ঋণ, প্রশিক্ষণ, গবেষণা ও বিনিয়োগ সহায়তা দিতে হবে।

১১. নারী কৃষকের অধিকার : নারী কৃষকের শ্রমের স্বীকৃতি, ভূমির অধিকার, ঋণ, প্রশিক্ষণ, প্রযুক্তি ও বাজারে সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে।

১২. কৃষকের সামাজিক নিরাপত্তা : বয়স্ক কৃষকের পেনশন, স্বাস্থ্যবীমা, দুর্ঘটনা সহায়তা এবং কৃষক পরিবারের জন্য সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি চালু করতে হবে।

১৩. কৃষিভিত্তিক শিল্প ও রপ্তানি : কৃষিপণ্য সংরক্ষণ, প্রক্রিয়াজাতকরণ, মূল্য সংযোজন এবং রপ্তানিমুখী কৃষিভিত্তিক শিল্প গড়ে তুলে কৃষকের আয় বৃদ্ধি করতে হবে।

১৪. কৃষক নেতৃত্বাধীন রাষ্ট্রনীতি : কৃষি, খাদ্য, ভূমি, পানি ও গ্রামীণ অর্থনীতি সম্পর্কিত সব নীতি প্রণয়নে কৃষক সংগঠন, কৃষিবিদ ও স্থানীয় প্রতিনিধিদের বাধ্যতামূলক অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। কৃষককে নীতির বিষয় নয়, নীতিনির্ধারক হিসেবে প্রতিষ্ঠা করাই হবে চূড়ান্ত লক্ষ্য।

বন্যা ব্যবস্থাপনায় পরিবেশসম্মত ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণের দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক
বন্যা ব্যবস্থাপনায় পরিবেশসম্মত ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণের দাবি

সাম্প্রতিক বন্যা শুধু প্রাকৃতিক দুর্যোগ নয়; জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবের পাশাপাশি অপরিকল্পিত উন্নয়ন, নদী-খাল-জলাশয় দখল, পাহাড় কাটা এবং প্রাকৃতিক পানি প্রবাহে বাধার সম্মিলিত ফল বলে মন্তব্য করেছে পরিবেশবাদী সংগঠন ধরিত্রী রক্ষায় আমরা (ধরা)। সংগঠনটি বলেছে, শুধু ত্রাণ কার্যক্রম নয়, বন্যার মূল কারণ চিহ্নিত করে বিজ্ঞানভিত্তিক, পরিবেশসম্মত ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে।

শনিবার (১৮ জুলাই) জাতীয় প্রেস ক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে আয়োজিত ‘সাম্প্রতিক বন্যার তথ্যভিত্তিক পর্যালোচনা’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলা হয়।

ধরার সহ-আহ্বায়ক এম এস সিদ্দিকীর সভাপতিত্বে সংবাদ সম্মেলনে মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন সংগঠনের সদস্যসচিব শরীফ জামিল। রিভার বাংলার সম্পাদক ফয়সাল আহমেদের সঞ্চালনায় সংবাদ সম্মেলনে আরো বক্তব্য দেন শেরে বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক মীর মোহাম্মদ আলী, চুনতি রক্ষা আন্দোলনের সমন্বয়ক সানজিদা রহমান, কক্সবাজার ধরার সদস্য ফরিদুল আলম শাহিন ও মাতামুহুরী ধরার সদস্য বদরুননাহার কলি।

মূল বক্তব্যে শরীফ জামিল বলেন, টানা অতিভারি বৃষ্টি, উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল এবং আন্ত সীমান্ত নদ-নদীর অস্বাভাবিক পানি বৃদ্ধিতে দেশের অন্তত ১৭টি জেলা বন্যা ও জলাবদ্ধতায় আক্রান্ত হয়েছে। এতে ১০ লাখের বেশি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। এ ছাড়া হাজার হাজার হেক্টর কৃষিজমি, মাছের ঘের, সড়ক, সেতু ও অন্যান্য অবকাঠামোর ক্ষতি হয়েছে। এ বন্যা শুধু অতিবৃষ্টি বা পাহাড়ি ঢলের কারণে নয়; নদী-খাল-জলাশয় দখল, নাব্যতা হ্রাস, অপরিকল্পিত সড়ক ও অবকাঠামো নির্মাণ, পাহাড় কাটা, বন উজাড় এবং জলবায়ু পরিবর্তনের সম্মিলিত প্রভাবে পরিস্থিতি আরো জটিল হয়েছে।

তিনি বলেন, ২০২৩ সাল থেকে ২০২৬ সালের জুলাই পর্যন্ত তিন পার্বত্য জেলায় সংঘটিত বন্যা ও জলাবদ্ধতার বড় অংশের জন্য চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রেললাইন নির্মাণ দায়ী। তাই উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণে আরো সতর্ক হওয়া প্রয়োজন। নদী অববাহিকাভিত্তিক সমন্বিত পরিকল্পনা, আধুনিক আগাম সতর্কীকরণ ব্যবস্থা, আন্ত সীমান্ত নদী ব্যবস্থাপনায় সহযোগিতা, নদী-খাল পুনরুদ্ধার, জলবায়ু-সহনশীল অবকাঠামো নির্মাণ এবং ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের দ্রুত পুনর্বাসনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

এম এস সিদ্দিকী বলেন, বাংলাদেশে বন্যা নতুন কোনো দুর্যোগ নয়। কিন্তু সাম্প্রতিক বন্যার ভয়াবহতা বাড়ার পেছনে শুধু প্রাকৃতিক কারণ নয়, অপরিকল্পিত উন্নয়ন, নদী-খাল ভরাট, পানি প্রবাহে বাধা এবং জলবায়ু পরিবর্তনও দায়ী। তবে ক্ষয়ক্ষতি কমাতে জাতীয় থেকে স্থানীয় পর্যায় পর্যন্ত সমন্বিত প্রস্তুতি, দ্রুত লজিস্টিক সহায়তা এবং স্থানীয় সক্ষমতা বাড়ানো জরুরি। বন্যা মোকাবেলায় বিজ্ঞানসম্মতভাবে কার্যকর ও দীর্ঘমেয়াদি পদক্ষেপ গ্রহণে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

সংবাদ সম্মেলন থেকে সরকার ও সংশ্লিষ্ট সংস্থার প্রতি নদী অববাহিকাভিত্তিক সমন্বিত পরিকল্পনা গ্রহণ, প্রাকৃতিক পানি প্রবাহ পুনরুদ্ধার, পরিবেশসম্মত উন্নয়ন নিশ্চিত করা এবং জলবায়ু পরিবর্তনের বাস্তবতা বিবেচনায় দীর্ঘমেয়াদি বন্যা ব্যবস্থাপনা কৌশল প্রণয়নের আহ্বান জানানো হয়।

১৮ জুলাই : বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিরোধে বদলে যায় আন্দোলনের চিত্র

অনলাইন ডেস্ক
১৮ জুলাই : বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিরোধে বদলে যায় আন্দোলনের চিত্র

২০২৪ সালের রক্তাক্ত জুলাইয়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিন হিসেবে ১৮ জুলাইকে স্মরণ করা হয়। সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হল বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর আন্দোলনের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হলেও এদিন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ব্যাপক অংশগ্রহণে নতুন গতি পায় আন্দোলন। সফল হয় শিক্ষার্থীদের ঘোষিত ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচি।

সেদিন শিক্ষার্থীরা আবু সাঈদ, ওয়াসিমসহ নিহতদের হত্যার বিচার এবং বৈষম্যবিরোধী দাবিতে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন এলাকায় বিক্ষোভে অংশ নেন।

সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের হল বন্ধ হওয়ার পর আন্দোলন কিছুটা গতি হারালেও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে তা আবারও সক্রিয় হয়ে ওঠে। 

শিক্ষার্থীদের ভাষ্য, অন্যায়ের প্রতিবাদ এবং নিহতদের বিচারের দাবিতেই তারা রাজপথে নেমেছিলেন।

১৮ জুলাই রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ, ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এক পর্যায়ে কয়েকজন পুলিশ সদস্য কানাডিয়ান বিশ্ববিদ্যালয়ের ভবনে আশ্রয় নেন। পরে ভবনটি ঘিরে ফেললে হেলিকপ্টারের মাধ্যমে পুলিশ সদস্যদের সরিয়ে নেওয়া হয়।

একই সময়ে রামপুরা, নতুনবাজার, প্রগতি সরণিসহ রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ ও প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। দেশের বিভিন্ন জেলার শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষও ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচিতে অংশ নেয়।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে তৎকালীন সরকার সারা দেশে বিজিবি মোতায়েন করে। সংঘর্ষে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা ছাড়াও দেশের কয়েকটি জেলায় হতাহতের ঘটনা ঘটে বলে দাবি করা হয়।

এদিন দুপুরে সরকার আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনার প্রস্তাব দেয়। তবে আন্দোলনের সমন্বয়কদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, নিহতদের বিচার নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত আলোচনায় যাওয়ার বিষয়ে তারা আগ্রহী নন।

দিন শেষে ইন্টারনেট সেবা বন্ধ করে দেওয়া হয়। সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়, গুজব ও অপপ্রচার ঠেকাতেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

রাতে শনির আখড়া, কাজলা, সাইনবোর্ডসহ বিভিন্ন এলাকায় উত্তেজনা অব্যাহত থাকে। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীরা পরবর্তী কর্মসূচির প্রস্তুতি নিতে থাকেন।

জুলাইয়ের শুরু থেকেই আন্দোলনে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু শিক্ষার্থী সক্রিয় থাকলেও ১৮ জুলাই তাদের ব্যাপক অংশগ্রহণ আন্দোলনের গতি আরো বাড়িয়ে দেয়।

কনস্টেবল সাইদুলের করুণ বার্তা

‘বাইরে আগুন ভেতরে ছাই, এটাই আমার জীবন’

অনলাইন ডেস্ক
‘বাইরে আগুন ভেতরে ছাই, এটাই আমার জীবন’
সংগৃহীত ছবি

‘হারিয়ে ফেলতে চাইনি বলেই আমাদের সম্পর্কের নাম দিয়েছি স্বামী-স্ত্রী। যদি তোমাকে হারানোর ইচ্ছে থাকত, যদি এই ভালোবাসা ক্ষণিকের মোহ হতো, তবে কখনোই এত পবিত্র এক বন্ধনের নামে তোমাকে নিজের বলে ঘোষণা করতাম না। কখনোই তোমাকে নিজের নামে লিখিত করতাম না।’

মৃত্যুর আগে নিজের ফেসবুক আইডি থেকে দেওয়া এক পোস্টে কথাগুলো লিখেছিলেন রাজধানীর ডেমরা পুলিশ লাইনে কর্মরত তরুণ কনস্টেবল সাইদুল ইসলাম (২১)। তিনি ফেনী সদর উপজেলার লেমুয়া উত্তর চাঁদপুর গ্রামের এক সাধারণ মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান।

ওই পোস্টে সাইদুল লিখেন, ‘‘দিনের বেলা আমি যোদ্ধা... কিন্তু রাত? রাত আসলেই সব মুখোশ খুলে যায়। যে মানুষটা দিনের আলোয় পাহাড় ঠেলতো, সে রাতের অন্ধকারে একটা মেসেজের কাছে ভেঙে পড়ে। লোকে বলে 'সময় সব ঠিক করে দেয়', আমি হাসি কারণ আমি জানি কিছু ক্ষত সময়ে না, অভ্যাসে ভালো হয়; আর তোমাকে ভোলার অভ্যাসটা আমার হচ্ছে না। এটাই এখন আমার জীবন— দিনে যুদ্ধ, রাতে পরাজয়; বাইরে আগুন, ভেতরে ছাই। একটা শেষ হয়ে যাওয়া মন নিয়ে রোজ বেঁচে থাকার মিথ্যে অভিনয়...’

তার ফেসবুক আইডির একাধিক পোস্টে উঠে আসে হতাশার গল্প। ২৩ জুন এক পোস্টে তিনি লিখেন, ‘হে জীবন তুমি সংক্ষিপ্ত হয়ে যাও, বেদনার রজনী সংক্ষিপ্ত হবার নয়...!!’ ৩০ জুন লিখেন, ‘আত্মারও একটা আত্মসম্মান আছে, সুতরাং বিদায়...।’

গত ১৪ জুলাই আরেক পোস্টে তিনি লিখেন, ‘দরজাটা তুমি বন্ধ করলা, শাস্তিটা আমি পাইলাম, মানুষ বিয়েটাও এখন ট্রায়াল দিয়ে দেখে কি অদ্ভুত বাস্তবতা..!! শেষে এটাই মেনে নিলাম: যে থাকে না তাকে জোর করে স্টকে রাখি না। এটাই শেষ চিঠি তোমার নামে, আর কোনো অক্ষর খরচ হবে না। এরপর থেকে তুমি শুধু নীরবতা। চিরতরে বিদায়।’

মৃত্যুর আগে ফেসবুকে স্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে একটি ভিডিও পোস্ট করেন সাইদুল, যা মূলত তার জীবনের শেষ আকুতি ও চিরকুট। ভিডিওটিতে দেখা যায়, তাদের মিলনের পর বিচ্ছেদের সেই  মুহূর্ত, যেখানে তারা আইনজীবীর (অ্যাডভোকেট) সামনে বিষণ্ণ মনে বসে আছেন এবং বিচ্ছেদের দলিলে খাতায় স্বাক্ষর করছেন।

ভিডিওর ক্যাপশনে তিনি লিখেন, ‘তোমায় কেন্দ্র করে আমি যে জগৎ সাজিয়ে গুছিয়ে গড়ে তুলেছিলাম একটু একটু করে, হঠাৎ যেন সে জগৎটাকে দুদিনেই চোখের সামনে ভেঙেচুরে চুরমার করে দিলে। আমি সবকিছু চুপচাপ দেখে গেলাম। সমুদ্রের মাঝখানে তরী ডোবা মানুষ অনেকক্ষণ সাঁতার কাটার পর যেমন কুলের দেখা না পেয়ে শেষমেশ নিয়তিকে মেনে নেয়, সদরে গ্রহণ করে মৃত্যুকে, তেমনি আমারও যেন কিছুই করার নেই।

কত তুচ্ছ বাহানা দিয়ে মানুষ একটা গভীরতম সম্পর্কের ইতি টানে, আমি অবাক হই, মানুষ আসলেই কি মানুষকে ভালোবাসে..? জানো.? মাঝে মাঝে কেন জানি নিজেরে দেখলে নিজের অনেক মায়া লাগে, হাহাকার লাগে কি হয়ে গেলাম কি বানাইয়া গেলা, আচ্ছা বলতো আমার দোষটা কি ছিল.? কি করছিলাম আমি.? তোমারে ভালোবাসাটা অপরাধ.? নাকি সব কিছু উপেক্ষা করে তোমাকে বিয়ে করাটা অপরাধ?

তুমি না বলছিলা মৃত্যু ছাড়া তুমি কখনোই আমাকে ছেড়ে যাবে না? এখন কই তুমি? আমিতো তোমার অভাবেই শেষ হয়ে গেলাম, অনেকবারই তো আঘাত করছো সব ভুলে বার বার মাপ করে তোমাকে বুকে টেনে নিলাম এই মূল্য দিলা.? একেবারেই শেষ করে দিতে আসলা? আমি তো নিয়তি মেনে নিয়ে দূরেই ছিলাম তোমার থেকে কেন আবার আসছিলা কেন এত কাছে আসচিলা? কোন উত্তর খুঁজে পাইনা আমি। শুধু দ্বিতীয় বার না, তৃতীয় বার না, চতুর্থ বার না, আমি হাজার বার সুযোগ দিয়েছি। কিন্তু তুমি প্রতিবারই আমাকে বুঝিয়ে দিয়েছো মানুষকে এতটাও বিশ্বাস করতে হয় না, যে বিশ্বাস করলে নিজেই আর বাঁচার সুযোগ থাকে না।

আমার কাছে এই সম্পর্ক কোনো সাময়িক অনুভূতি নয় এটি আজীবনের অঙ্গীকার, বিশ্বস্ততা আর একে অপরকে পাশে থাকার নীরব শপথ ছিল কিন্তু তুমি সব শেষ করে দিলা। আচ্ছা যদি যাওয়ারই ছিল আসছিলাই কেন.? বহুকাল বয়ে বেড়াতে হবে হৃদয় ভাঙা এই ব্যথা, হয়তো এই জন্মে আর সেরে উঠবে না মৃত্যু ছাড়া। তাই আমি সেই পথেই গেলাম। সারা জীবন মানুষকে বুঝাইলাম অথচ দিন শেষে এসে দেখি আমি নিজেই অবুঝ..!

যাও ভালো থাকো, যতটুকু দূরত্ব নিয়ে তুমি চলে গেলে তার থেকে দ্বিগুণ দূরত্ব নিয়ে আমি হারিয়ে গেলাম, সুখে থাকো এটাই কামনা। তোমাকে বলেছিলাম না এটাই আমার শেষ শক্তি হয়তো তুমি, নয়তো আমি শেষ। নাও তারও প্রমাণ দিলাম সারা জীবন তো প্রমাণই দিয়ে আসলাম তারপরও। যাই হোক। তুমি তো জানোই চাইলে আমি অনেক কিছুই করতে পারতাম কিন্তু আমার প্রতিপক্ষ তো তুমি হয়ে গেলা কি আর করব, যাও প্রমাণ সব তোমার অনুকূলে কারণ আমার পক্ষের উকিল হচ্ছে এমন নীরবতা আমার নীরবে হারিয়ে যাওয়া, যেখানে তুমি জবানবন্দি দিলে আর তুমি দিলে বিচ্ছেদের চূড়ান্ত রায়।’’

পোস্টের শেষে তিনি তার জন্মদাতা বাবা-মায়ের কাছে ক্ষমা চেয়ে লিখেন, ‘দুঃখিত আম্মু আব্বু আপনাদের ছেলে আর নিতে পারতেছে না আম্মু আর পারতেছে না আর তিলে তিলে মরার শক্তি আমার নাই। মাপ করবেন আপনাদের অযোগ্য ছেলেকে। আমার যেন আর কিছুই করার নেই। একদম ভেঙে চুরে শেষ হয়ে গেলাম।’

মৃত্যুর ঠিক কয়েক ঘণ্টা আগে পুলিশের তরুণ এই সদস্য আরেকটি পোস্টে লিখেছিলেন, ‘মন হৃদয়টা আর বাজে না, পুরোপুরি শেষ, একদম নিঃশব্দ একটা কবরখানা। ভেতরে আর কোনো শব্দ নেই, শুধু পুরনো দেয়ালে ঝুলে থাকা তোমার রেখে যাওয়া কিছু ফ্রেম যা খুলে ফেলার সাহস হয় না। তবু আমি অভিনয় করি প্রতিদিন, সকালে ঘুম থেকে উঠে চোখে পানি মুছে ঠোঁটে হাসির রং লাগাই, বন্ধুদের আড্ডায় সবচেয়ে জোরে হাসি, স্ট্যাটাসে লিখি 'নিজেকে নিয়ে ব্যস্ত', সবাইকে দেখাই আমি কত স্ট্রং।

কেউ বোঝে না এই স্ট্রংনেসটা আসলে একটা ইউনিফর্ম, যুদ্ধের ময়দানে পরে থাকা মিথ্যে বর্ম, ভেতরে রক্ত ঝরে, বাইরে মেডেল ঝোলে। ...অনেক চেয়েছি শক্ত হতে, নিজেকে বুঝিয়েছি 'যা গেছে তা গেছে', নতুন করে শুরু করেছি একশো বার, কিন্তু মন তো কাগজ না যে চাইলেই নতুন পাতা পাওয়া যায়। এটা মাংসের টুকরো যেখানে তোমার নামটা খোদাই হয়ে আছে, যতই ঘষি, দাগটা থেকে যায়। ...তাই আমি আবার সকালে উঠি, আবার স্ট্রং সাজি, আবার মানুষকে দেখাই আমার কিছু হয়নি, আর রাতে আবার হেরে যাই স্মৃতির কাছে, নিজের কাছে, নিজের মিথ্যের কাছে। ...যদি কোনোদিন সত্যি স্ট্রং হতে পারি, সেদিন তোমাকে চিঠি লিখবো না, শুধু নিজেকে বলবো 'যুদ্ধটা শেষ পর্যন্ত জিতেছি'। কিন্তু আজ? আজও আমি হেরে যাচ্ছি, দিনশেষে তোমার স্মৃতির কাছে।’’

নিহতের বাবা মোহাম্মদ সাদেক জানান, এ বছরের ফেব্রুয়ারি মাসের ২ তারিখে বাংলাদেশ পুলিশে জয়েন করেছে। অনেক স্বপ্ন নিয়ে আমার এই ছেলে... আমার এবং আমার ছেলের স্বপ্ন ছিল খুব বড় কিছু। সব এক মুহূর্তেই শেষ হয়ে গেল!

তিনি আরো বলেন, ‘আমি কি করমু? আমি কি বলমু? আমি জানি না। কেউ কিছু জানে না, তার ফেসবুকে আমিও দেখতে পেয়েছি। যা হয়েছে সে জানে আর আল্লাহই জানে। তাছাড়া তার মোবাইল থেকে শুরু করে সবকিছু পুলিশ নিয়ে গেছে। আর আমরা বুঝি না, গ্রামের মানুষ। আমার মন মানসিকতাও ঠিক নেই।’

ডিএমপি কল্যাণ ট্রাস্টের এএসআই কামরুল পুরো প্রক্রিয়ার বিস্তারিত জানিয়ে বলেন, ‘ময়নাতদন্তের প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর মরদেহ ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল মর্গ থেকে প্রথমে রাজারবাগ পুলিশ লাইন্সে নিয়ে যাওয়া হয় এবং সেখানে সহকর্মীদের উপস্থিতিতে তার প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এরপর মরদেহ ডেমরা পুলিশ লাইন্সে নেওয়া হলে সেখানে সহকর্মী ও স্থানীয়দের অশ্রুসিক্ত উপস্থিতিতে দ্বিতীয় জানাজা সম্পন্ন করা হয়।’

তিনি আরো বলেন, ‘দুই দফা জানাজা সম্পন্ন করার পর মরদেহটি চূড়ান্তভাবে তার শোকসন্তপ্ত পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। স্বজনরা চোখের জলে ভাসতে ভাসতে তার নিথর দেহ গ্রামের বাড়ি ফেনী সদর উপজেলার লেমুয়া উত্তর চাঁদপুর গ্রামে নিয়ে যান এবং সেখানে আরেকটি জানাযা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে চিরনিদ্রায় দাফন করা হয়।’

ডেমরা থানা সূত্রে জানা গেছে, এ ঘটনায় একটি অপমৃত্যু মামলা রুজু হয়েছে এবং তদন্তের স্বার্থে সাইদুলের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনসহ যাবতীয় আলামত পুলিশ হেফাজতে নিয়ে পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত চালানো হচ্ছে।

নিহত সাইদুলের পরিবার ও সহকর্মীদের সূত্রে জানা যায়, ডেমরা পুলিশ লাইন্সের ২০ তলা ভবনের নবম তলার একটি কক্ষে থাকতেন তিনি। বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে নিজ কক্ষে গলায় ফাঁস দেন তিনি। পরে সহকর্মীরা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় একটি হাসপাতালে এবং পরবর্তীতে অবস্থার অবনতি হলে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নিয়ে যান। হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়া হলে শুক্রবার ভোরে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

সাইদুলের ঠিক পাশের সিটে থাকা এক পুলিশ সদস্যের বরাতে এসআই নজরুল জানান, সাইদুল চলতি বছরের ২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনের ঠিক এক সপ্তাহ আগে পুলিশে যোগদান করেন। তিনি অত্যন্ত হাসিখুশি ও উদ্যমী স্বভাবের ছেলে ছিলেন। তার মনের ভেতর যে এমন গভীর বিষাদ ও আত্মহননের পরিকল্পনা চলছিল, তা কেউ টের পাননি।

ঢামেক হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ পরিদর্শক মো. ফারুক চিকিৎসকের বরাত দিয়ে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছিল। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট থানাকে গুরুত্বের সঙ্গে জানানো হয়েছে।