• ই-পেপার

বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র যৌথ সামরিক মহড়া ‘টাইগার লাইটনিং’ শুরু রবিবার

চিকিৎসার জন্য যেন দেশের বাইরে যেতে না হয়, সে ব্যবস্থা করতে হবে : রিজভী

অনলাইন ডেস্ক
চিকিৎসার জন্য যেন দেশের বাইরে যেতে না হয়, সে ব্যবস্থা করতে হবে : রিজভী
বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী। ছবি : সংগৃহীত

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, দেশের বিপুল জনসংখ্যা চিকিৎসার জন্য দেশের বাইরে যাচ্ছে। রোগীরা দেশের বাইরে যেন না যায়, তার ব্যবস্থা করতে হবে। অথচ ষাটের দশকে চিকিৎসার জন্য ভারত থেকেই চিকিৎসকেরা রাজশাহীতে আসতেন।

শনিবার (১৮ জুলাই) বিকেলে হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে বাংলাদেশ কার্ডিয়াক সোসাইটির কর্মশালায় তিনি এসব কথা বলেন।

রিজভী বলেন, মানুষের বাঁচা-মরার প্রশ্নের ক্ষেত্রে রাজনীতির প্রশ্ন আসতে পারে না। শুধু রাজনীতির কারণে চিকিৎসকদের বিবেচনা করা যাবে না। চিকিৎসকদের মেধা ও যোগ্যতাকে কাজে লাগাতে হবে।

তিনি আরো বলেন, চিকিৎসা খাতে যে ঘাটতি আছে, সেসব পূরণ করতে পারলে সাধারণ মানুষের সেবাপ্রাপ্তি নিশ্চিত করা যাবে।

সরকার সেই চেষ্টা করছে বলেও জানান বিএনপির এই সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব।

ট্রলার-নৌযান মালিকদের জন্য বিশেষ সতর্কবার্তা

নিজস্ব প্রতিবেদক
ট্রলার-নৌযান মালিকদের জন্য বিশেষ সতর্কবার্তা

উপকূলীয় অঞ্চলের জেলে, ট্রলার ও নৌযান মালিকদের জন্য বিশেষ সতর্কবার্তা জানিয়েছে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড। সতর্কবার্তায় পরবর্তী নির্দেশনা না পাওয়া পর্যন্ত কোনো ট্রলার বা নৌযানকে মাছ ধরা বা অন্য কোনো উদ্দেশ্যে সমুদ্রে না যাওয়ার অনুরোধ করা হয়েছে।

শনিবার (১৮ জুলাই) এক বার্তায় এ অনুরোধ জানিয়েছেন বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা সাব্বির আলম সুজন।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর উপকূলীয় এলাকায় ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত জারি করেছে। এ অবস্থায় ট্রলার, মাছ ধরার নৌকা এবং অন্যান্য নৌযানের সমুদ্রে চলাচল অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। আবহাওয়া অধিদপ্তরের পরবর্তী নির্দেশনা না পাওয়া পর্যন্ত কোনো ট্রলার বা নৌযানকে মাছ ধরা বা অন্য কোনো উদ্দেশ্যে সমুদ্রে না যাওয়ার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ জানানো হচ্ছে। 

তিনি আরো বলেন, বর্তমানে সমুদ্রে অবস্থানরত সব ট্রলার, মাছ ধরার নৌকা ও অন্যান্য নৌযানকে দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ে ফিরে আসার আহ্বান জানানো হচ্ছে। নৌযান ও ট্রলারের মালিকদের এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড দক্ষিণ জোন সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। যেকোনো জরুরি প্রয়োজনে অথবা সমুদ্রে দুর্ঘটনার তথ্য জানাতে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের জরুরি সেবা নম্বর ১৬১১১-এ যোগাযোগ যোগাযোগ করার আহ্বান জানাচ্ছি।

বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড দেশের সমুদ্র ও উপকূলীয় অঞ্চলে জননিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, দুর্যোগ মোকাবিলা এবং উদ্ধার কার্যক্রমে সর্বদা প্রস্তুত রয়েছে বলে জানান তিনি।
 

হরিদাস চন্দ্রের মুক্তির দাবিতে ঢাকায় বিক্ষোভ

নিজস্ব প্রতিবেদক
হরিদাস চন্দ্রের মুক্তির দাবিতে ঢাকায় বিক্ষোভ
সংগৃহীত ছবি

গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে আলোচিত হরিদাস চন্দ্র তরণী দাসের মুক্তির দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ। সংগঠনটির নেতারা তার নিঃশর্ত মুক্তির পাশাপাশি গাইবান্ধায় রামমূর্তিসহ শ্রীশ্রী রাধাগোবিন্দ ও কালীমন্দির নির্মাণে সরকারি সহযোগিতা দাবি করেছেন।

আজ শনিবার (১৮ জুলাই) জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে আয়োজিত প্রতিবাদ সমাবেশে এসব দাবি জানানো হয়। 
সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে ঐক্য পরিষদের সভাপতি নির্মল রোজারিও বলেন, মন্দির নির্মাণ ধর্মীয় স্বাধীনতার অংশ। প্রতিটি ধর্মের মানুষের নিজস্ব উপাসনালয় নির্মাণ, রক্ষা ও সংরক্ষণের অধিকার রয়েছে। সেই অধিকার নিশ্চিত করতে হবে।

তিনি বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়েরও অংশগ্রহণ ছিল। সরকার গঠনের আগে সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তার যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, বাস্তবে তার প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না।

গাইবান্ধায় মন্দির নির্মাণে বাধা দেওয়া হয়েছে অভিযোগ করে ওই ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

ঐক্য পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মনীন্দ্র কুমার নাথ বলেন, মন্দিরে কত উচ্চতার মূর্তি নির্মাণ করা হবে, তা নিয়ে আইনি কোনো নির্ধারিত সীমা নেই। আর যে মন্দিরকে কেন্দ্র করে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে, সেটি দীর্ঘদিন ধরে নির্মাণাধীন ছিল এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরাও বিষয়টি জানতেন। এর পরও মন্দিরের তত্ত্বাবধায়ক হরিদাস চন্দ্র তরণী দাসকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

তিনি বলেন, ধর্ম অবমাননার অভিযোগে সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হলেও সংখ্যালঘুদের ধর্ম নিয়ে অবমাননাকর মন্তব্যকারীদের বিরুদ্ধে একই ধরনের পদক্ষেপ দেখা যায় না।

যুব ঐক্য পরিষদের সভাপতি শিমুল সাহার সঞ্চালনায় সমাবেশে আরো বক্তব্য দেন সংগঠনের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য সুব্রত চৌধুরী, সাংগঠনিক সম্পাদক হেমন্ত আই কোরাইয়া, ঢাকা মহানগর শাখার সভাপতি অতুল মণ্ডল প্রমুখ।

সমাবেশ শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল প্রেস ক্লাব থেকে শুরু হয়ে পুরানা পল্টন এলাকা প্রদক্ষিণ করে।

উল্লেখ্য, মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনের একটি মামলায় গাইবান্ধার পলাশবাড়ীর আলোচিত হরিদাস চন্দ্র তরণী দাসকে গ্রেপ্তার করে সিআইডি। গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে ৮১ ফুট উচ্চতার রামমূর্তি নির্মাণের উদ্যোগের কারণে তিনি আলোচনায় আসেন। পুলিশের দেওয়া তথ্য মতে, তার ব্যাংক হিসাবে প্রায় ১০ কোটি টাকা অবৈধ লেনদেন ছিল, এটা নগদ লেনদেন। এ ছাড়া হুন্ডির মাধ্যমেও লেনদেন হয়েছে।

এ বিষয়ে সিআইডির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তি থেকে জানা যায়, হরিদাস চন্দ্র ২০০৬ সালে হাসবাড়ী বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি এবং ২০০৮ সালে ঢাকার কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেন। এরপর ২০১০ সালে অবৈধভাবে ভারতে গিয়ে শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ গ্রহণ শেষে দেশে ফেরেন।

সিআইডির সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ২০১৯ সালে হরিদাস ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে তৌহিদ ইসলাম নাম ধারণ করেন। এরপর বিভিন্ন সময় নিজেকে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর প্রটোকল কর্মকর্তা হিসেবে পরিচয় দিতেন। তার বিরুদ্ধে সরকারি চাকরি পাইয়ে দেওয়া, বদলি, হুন্ডি ও সংঘবদ্ধ অপরাধসংক্রান্ত বিভিন্ন অভিযোগ আছে।

এসব অভিযোগের বিষয়ে প্রাথমিক অনুসন্ধানে দেখা যায়, বৈধ কোনো আয়ের উৎস না থাকা সত্ত্বেও বিভিন্ন ব্যাংক হিসাব ও মুঠোফোনে আর্থিক সেবার হিসাবে তার ৯ কোটি ৩৫ লাখ টাকা জমা হয়েছে। একই সঙ্গে প্রায় সমপরিমাণ অর্থ উত্তোলনও করা হয়েছে, যা সন্দেহজনক হিসেবে দেখছে সিআইডি।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, হরিদাসের ব্যাংক হিসাবগুলোতে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে বিভিন্ন ব্যক্তি বিপুল অর্থ জমা করেছেন, যা তার পেশার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। অনুসন্ধানকালে বনানী থানায় তার বিরুদ্ধে একটি মামলার তথ্যও পাওয়া যায়। ওই মামলায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের ২৪ ধারাসহ দণ্ডবিধির ১৬৭, ১৬৮, ৪০৬ ও ৪২০ ধারার অভিযোগ আনা হয়েছে।

সরকারের প্রতিটি মুহূর্তই দায়িত্ব ও জবাবদিহির পরীক্ষা : মাহদী আমিন

অনলাইন ডেস্ক
সরকারের প্রতিটি মুহূর্তই দায়িত্ব ও জবাবদিহির পরীক্ষা : মাহদী আমিন
সংগৃহীত ছবি

মানুষের প্রত্যাশা পূরণকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে সরকার কাজ করছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন। শনিবার (১৮ জুলাই) বিকেলে সরকারের পাঁচ মাস পূর্তি উপলক্ষে তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি একথা বলেন। 

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে নির্বাচিত সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের পাঁচ মাস পূর্তি উপলক্ষে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়। আজ বিকেল সাড়ে ৩টায় প্রধানমন্ত্রীর তেজগাঁও কার্যালয়ের করবী হলে এ সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন, প্রেসসচিব সালেহ শিবলী, অতিরিক্ত প্রেসসচিব আতিকুর রহমান রুমন বক্তব্য দেন।

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন বলেন, ‘সরকার রাষ্ট্র পরিচালনায় স্বচ্ছতা, সুশাসন, জনকল্যাণ এবং মানুষের প্রত্যাশা পূরণকে সর্বোচ্চ অগ্রধিকার দিয়ে কাজ করে যাচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারের মাত্র ১০৫ দিন, অর্থাৎ পাঁচ মাস পূর্ণ হয়েছে। এটা হয়তো খুব দীর্ঘ কোনো সময় নয়। প্রতিটি মুহূর্তেই দায়িত্ব ও জবাবদিহিতা পালনের পরীক্ষা। আর প্রতিটি পদক্ষেপই মানুষের আস্থা অর্জনের নতুন পরীক্ষা।’ 

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র বলেন, জনগণের আস্থা ও বিশ্বাসই একটি সরকার সবচেয়ে বড় শক্তি। তাই সরকারের প্রতিটি উদ্যোগ, প্রতিটি অর্জন, প্রতিটি সংস্কার এবং প্রতিটি চ্যালেঞ্জ সম্পর্কে জনগণকে অবহিত করাকে আমরা নৈতিক দায়িত্ব হিসেবে দেখি। 

মাহদী আমিন বলেন, ‘জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত হয়ে দায়িত্ব গ্রহণের পর সরকার মূলত গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানসমূহের পুনর্গঠন এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়েছে। দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, আর্থিক খাতের শৃঙ্খলা পুনরুদ্ধার, পাচারকৃত অর্থ ফেরত আনা এবং বিভিন্ন প্রকল্পের ব্যয়শাস্ত্রয়ী ও দুর্নীতিমুক্ত পর্যালোচনা নিশ্চিত করে সরকারের সুশাসনের দৃঢ়বার্তা। একই সঙ্গে সাম্প্রতিক বন্যা দুর্গতের পুনর্বাসন, বিপর্যস্ত ও লুণ্ঠিত স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতের বিভিন্ন ধরনের বিনির্মাণ চলমান রয়েছে।’

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন বলেন, ‘অন্তর্ভুক্তিমূলক বৈষম্যহীন এবং সমৃদ্ধশালী বাংলাদেশ বিনির্মাণ করতে চায় সরকার। জনগণের  আস্থা, সমর্থন ও গঠনমূলক মতামতেই আগামী দিনের পথ চলা সরকারের সবচেয়ে বড় প্রেরণা।’

তিনি বলেন, ‘দীর্ঘ ফ্যাসিবাদী শাসনের অবসান ঘটিয়ে বিগত দিনের ভেঙে পড়া রাষ্ট্র কাঠামোকে পুনরুদ্ধার ম্যান্ডেট পেয়েছেন গণমানুষের নেতা বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান অত্যন্ত স্বল্প সময়ে মানুষের আস্থা অর্জন করেছেন। গত পাঁচ মাসে জনগণের আস্থা ও সমর্থন, সব শ্রেণি-পেশার মানুষের স্বার্থ রক্ষা, স্বল্প সময়ে চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় সফলতা, দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার এবং প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্ব এই বহুমাত্রিক অর্জনের পাঁচটি দিক নতুন ইতিহাস তৈরি করেছে।’