• ই-পেপার

ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী

সারা দেশে ১০টি আন্তর্জাতিক মানের স্পোর্টস ভিলেজ নির্মাণ করা হবে

পাওনা টাকা চাওয়ায় ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে জখম, বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ

ময়মনসিংহ প্রতিনিধি
পাওনা টাকা চাওয়ায় ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে জখম, বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ
ছবি : কালের কণ্ঠ

ময়মনসিংহের গৌরীপুরে পাওনা টাকা চাওয়াকে কেন্দ্র করে স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতার হামলায় সাদির মিয়া (৪০) নামের এক ব্যবসায়ী গুরুতর আহত হয়েছেন। এ ঘটনার প্রতিবাদে ও জড়িতদের বিচারের দাবিতে শনিবার (১৮ জুলাই) দুপুরে গৌরীপুর পৌর শহরে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা।

আহত সাদির মিয়া গৌরীপুর উপজেলার কোনাপাড়া গ্রামের আব্দুল হকের ছেলে। তিনি বর্তমানে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয় সূত্র জানায়, পৌর শহরের কাঁচামাল ব্যবসায়ী হযরত মিয়ার কাছ থেকে চার বছর আগে ৩০ হাজার টাকা ধার নেন উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শান্ত পণ্ডিত। পরে তিনি ১৫ হাজার টাকা পরিশোধ করলেও বাকি টাকা দীর্ঘদিন ধরে পরিশোধ করেননি।

গত ১৫ জুলাই হযরত মিয়া বকেয়া টাকা চাইলে শান্ত পণ্ডিতের সঙ্গে তার কথা-কাটাকাটি হয়। এর জেরে শুক্রবার রাতে শান্ত পণ্ডিত ও তার সহযোগীরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হযরতের দোকানে হামলা চালায় বলে অভিযোগ করেন স্বজনরা। সে সময় হযরত দোকানে না থাকায় তার বড় ভাই সাদির মিয়াকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর জখম করা হয়।

পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে গৌরীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

এ ঘটনার প্রতিবাদে শনিবার দুপুরে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা গৌরীপুর শহরে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন এবং প্রতিবাদ সমাবেশ করেন। তারা হামলার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

আহতের বড় ভাই আব্দুর কাদির বলেন, ‘পাওনা টাকা চাওয়ায় শান্ত পণ্ডিত দলবল নিয়ে আমার ভাইয়ের দোকানে হামলা চালিয়েছে। হযরতকে না পেয়ে নিরপরাধ সাদিরকে কুপিয়ে জখম করেছে। আমরা এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।’

অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে অভিযুক্ত স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা শান্ত পণ্ডিতের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সেটি বন্ধ পাওয়া যায়।

এ বিষয়ে গৌরীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাবিবুর রহমান জানান, এ ঘটনায় মামলা করার প্রস্তুতি চলছে। অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

দেবীদ্বারে ইয়াবাসহ ২ মাদক কারবারি গ্রেপ্তার

দেবীদ্বার (কুমিল্লা) প্রতিনিধি
দেবীদ্বারে ইয়াবাসহ ২ মাদক কারবারি গ্রেপ্তার
সংগৃহীত ছবি

কুমিল্লার দেবীদ্বারে ইয়াবা বিক্রির সময় দুই মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ সময় তাদের কাছ থেকে ১৫ পিস ইয়াবা ও মাদক বিক্রির নগদ তিন হাজার ১৬০ টাকা উদ্ধার করা হয়। শনিবার (১৮ জুলাই) তাদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।

পুলিশ জানায়, শুক্রবার দিবাগত রাতে নৈশ টহল চলাকালে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে উপজেলার রাজামেহার ইউনিয়নের রাজামেহার হাফেজিয়া মাদরাসার পেছনে অভিযান চালানো হয়। অভিযানে ইয়াবা বিক্রির সময় দুজনকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তাররা হলেন রাজামেহার গ্রামের নুরু ডাক্তার বাড়ির জামাল হোসেনের ছেলে মো. ফয়েজ আহমেদ (৩০) এবং একই গ্রামের আব্দুল কাদেরের ছেলে ওমর ফারুক (২৮)।

পরে তাদের দেহ তল্লাশি করে ১৫ পিস ইয়াবা ও মাদক বিক্রির ৩ হাজার ১৬০ টাকা জব্দ করা হয়।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তাররা পুলিশকে জানান, তারা গত কয়েক মাস ধরে পার্শ্ববর্তী উখারী গ্রামের আন্তঃজেলা মাদক কারবারি মো. ইব্রাহিমের কাছ থেকে ইয়াবা সংগ্রহ করে রাজামেহার হাফেজিয়া মাদরাসার পেছনে বিক্রি করে আসছিলেন।

বিষয়টি নিশ্চিত করে দেবীদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান বলেন, ‘গ্রেপ্তার দুজন এবং পলাতক মাদক কারবারি মো. ইব্রাহিমকে আসামি করে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। গ্রেপ্তার আসামিদের শনিবার আদালতে পাঠানো হয়েছে।’

নামাজ পড়ে বের হতেই ব্যবসায়ীর ওপর হামলা, থানায় মামলা

আঞ্চলিক প্রতিনিধি, গাজীপুর
নামাজ পড়ে বের হতেই ব্যবসায়ীর ওপর হামলা, থানায় মামলা
সংগৃহীত ছবি

গাজীপুরের টঙ্গীতে জুমার নামাজ পড়ে মসজিদ থেকে বের হওয়ার পর নুর আলম শিপন (৪৮) নামের এক ব্যবসায়ীর ওপর হামলার ঘটনায় মামলা হয়েছে। শনিবার (১৮ জুলাই) টঙ্গী পূর্ব থানায় ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী মামলা করেছেন।

মামলার আসামিরা হলেন কামরুজ্জামান মুন্না (৫৫), কায়েস (৩০), মাসুদ (৪৫), মাসুম (২০), কাইয়ুম (২৫), জোসনা (৪০), মুন্নি (৩৮), নোমান (৩৫), রাজু মাস্টার (৪৫) ও আজিজ (৫৫)।

মামলা সূত্রে জানা যায়, ব্যবসায়ী শিপন অভিযুক্ত কামরুজ্জামান মুন্নার মাধ্যমে স্থানীয় মধুমিতার তিনতলা মসজিদ এলাকার তুরাগ হাউজিং থেকে একটি ফ্ল্যাট কিনেন। পরে মুন্না ও তার সহযোগীরা মিলে ব্যবসায়ীকে ফ্ল্যাটটি বুঝিয়ে না দিয়ে টালবাহানা করতে থাকে। একপর্যায়ে ফ্ল্যাটটি বুঝিয়ে দিতে ব্যবসায়ী শিপনের কাছে অতিরিক্ত টাকা চাঁদা দাবি করে তারা। এ নিয়ে উভয়ের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। 

এরই জের ধরে শুক্রবার ওই এলাকার তিন তলা মসজিদে জুমার নামাজ শেষে বের হতেই পূর্বপরিকল্পিতভাবে ব্যবসায়ী শিপনের ওপর লোহার রড ও এস এস পাইপ দিয়ে অতর্কিত হামলা চালায় অভিযুক্তরা। এতে গুরুতর আহত হন ব্যবসায়ী। এ সময় তার কাছে নগদ টাকাও ছিনিয়ে নেন হামলাকারীরা। পরে তাকে উদ্ধার করে টঙ্গী শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টার জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়। এর আগে গত ১০ জুলাই অভিযুক্তরা ওই ব্যবসায়ীর ওপর হামলা চালায়।

টঙ্গী পূর্ব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মেহেদী হাসান কালের কণ্ঠকে বলেন, এ ঘটনায় মামলা হয়েছে। আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত আছে।
 

খুলনায় স্কুলছাত্রী নির্জনা হত্যা : মায়ের পর এবার বাবা গ্রেপ্তার

খুলনা অফিস
খুলনায় স্কুলছাত্রী নির্জনা হত্যা : মায়ের পর এবার বাবা গ্রেপ্তার
সংগৃহীত ছবি

খুলনা মহানগরীর আলোচিত স্কুলছাত্রী আরফানা হোসেন নির্জনা (১৬) হত্যা মামলায় নিহতের মায়ের পর এবার গ্রেপ্তার হয়েছেন বাবা ও মামলার প্রধান সন্দেহভাজন আলীম হোসেন আকাশ (৪০) ওরফে আলিম। র‌্যাব-৬ ও খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের (কেএমপি) সদর থানার যৌথ অভিযানে তাকে আটক করা হয়েছে।

শনিবার (১৮ জুলাই) দুপুরে খুলনা জেলার ডুমুরিয়া উপজেলার ডুমুরিয়া বাজার এলাকার একটি চায়ের দোকানে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে জানিয়েছে র‌্যাব-৬-এর মিডিয়া সেল।

গ্রেপ্তার আলীম হোসেন আকাশ খুলনা সদর থানার মিস্ত্রিপাড়া খাল রোড এলাকার বাসিন্দা এবং মীর সোহরাব হোসেনের ছেলে।

র‌্যাব-৬ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পরিচালিত যৌথ অভিযানে তাকে আটক করা হয়। নির্জনা হত্যা মামলার তদন্তে তিনি প্রধান সন্দেহভাজন হিসেবে শনাক্ত হয়েছেন। পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তাকে খুলনা সদর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

মামলার তথ্য অনুযায়ী, গত ৮ জুলাই রাতে আরফানা হোসেন নির্জনাকে হত্যা করে তার মরদেহ প্লাস্টিকের বস্তায় ভরে খুলনা সদর থানাধীন প্রান্তিকা আবাসিক এলাকায় ফেলে রাখা হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে এবং ময়নাতদন্তের জন্য খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। প্রথমে মরদেহটির পরিচয় শনাক্ত করা না গেলেও পরে তা নিশ্চিত হওয়া যায়।

এ ঘটনায় খুলনা সদর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) লাভলী আক্তার বাদী হয়ে অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে হত্যা মামলা করেন। তদন্তের এক পর্যায়ে নিহতের বাবা আলীম হোসেন আকাশকে প্রধান সন্দেহভাজন হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।

এর আগে মামলায় নিহতের মা সীমা আক্তারকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে তিনি আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় দেওয়া জবানবন্দিতে মেয়ে হত্যার দায় স্বীকার করেন।

জবানবন্দিতে তিনি জানান, শাসন করতে গিয়ে নির্জনার মাথায় আঘাত লাগে। এতে সে মারা গেলে মরদেহ প্লাস্টিকের বস্তায় ভরে প্রান্তিকা আবাসিক এলাকায় ফেলে আসা হয়।