• ই-পেপার

ট্রাফিক সার্জেন্টের তৎপরতায় বিদেশি পিস্তলসহ যুবক গ্রেপ্তার

যাত্রাবাড়ীতে শিশু যৌন নিপীড়নের অভিযোগে একজন আটক

নিজস্ব প্রতিবেদক
যাত্রাবাড়ীতে শিশু যৌন নিপীড়নের অভিযোগে একজন আটক

রাজধানীর যাত্রাবাড়ী এলাকায় ১১ বছর বয়সী শিশুকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে রুবেল (৩৫) নামের একজনকে আটক করা হয়েছে।

শুক্রবার (১৭ জুলাই) বিকাল ৩টার দিকে যাত্রাবাড়ী থানাধীন ধোলাইপাড় গোলচত্বর এলাকা থেকে তাকে আটক করে ট্রাফিক পুলিশের সদস্যরা।

ট্রাফিক-যাত্রাবাড়ী জোন সূত্রে জানা যায়, রুবেল ভুক্তভোগী শিশুর পরিবারের পরিচিত এবং একই এলাকায় বসবাস করেন। গত বুধবার রাতে যাত্রাবাড়ীর মীর হাজিরবাগ এলাকায় একটি বাসার বাথরুমে শিশুটিকে একা পেয়ে জোরপূর্বক যৌন নিপীড়নের চেষ্টা করেন রুবেল। এ সময় শিশুটির চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে অভিযুক্ত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।

ঘটনার পর ভুক্তভোগীর পরিবার অভিযুক্তকে খুঁজতে থাকে। আজ শুক্রবার বিকালে ধোলাইপাড় গোলচত্বরে অভিযুক্তকে দেখতে পেয়ে ধাওয়া করে তাকে আটক করেন ট্রাফিক পুলিশ সার্জেন্ট মো. আবদুল্লাহ-আল-নোমানী ও সার্জেন্ট নুর ইসলাম। পরে তাকে যাত্রাবাড়ী থানায় হস্তান্তর করা হয়। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী শিশুর বাবা থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন।

পুলিশ স্টাফ কলেজে এমসিএপিসিএমের ১০ম ব্যাচের উদ্বোধন

নিজস্ব প্রতিবেদক
পুলিশ স্টাফ কলেজে এমসিএপিসিএমের ১০ম ব্যাচের উদ্বোধন

পুলিশ স্টাফ কলেজে মাস্টার্স অব অ্যাপ্লাইড ক্রিমিনোলজি অ্যান্ড পুলিশ ম্যানেজমেন্ট (এমসিএপিসিএম) শীর্ষক প্রোগ্রামের ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের ১০ম ব্যাচের উদ্বোধনী অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শনিবার (১৮ জুলাই) বিকেলে এ ব্যাচের উদ্বোধন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন আইজিপি মো. আলী হোসেন ফকির। এতে স্বাগত বক্তব্য দেন পুলিশ স্টাফ কলেজের পরিচালক (একাডেমিক) সরকার ওমর ফারুক এবং সভাপতিত্ব করেন কলেজের রেক্টর কাজী মো. ফজলুল করিম। অনুষ্ঠানে পুলিশ স্টাফ কলেজকে পুলিশ শিক্ষা, গবেষণা ও পেশাগত নেতৃত্বের উৎকর্ষ কেন্দ্র হিসেবে আরো এগিয়ে নেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন সংশ্লিষ্টরা।

আইজিপি মো. আলী হোসেন ফকির মাস্টার্স প্রোগ্রামে নির্বাচিত সব অংশগ্রহণকারীকে অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, দ্রুত পরিবর্তনশীল বৈশ্বিক বাস্তবতায় পুলিশিংকে আরো আধুনিক, প্রযুক্তিনির্ভর ও সময়োপযোগী হতে হবে। সাইবার অপরাধ, সংগঠিত অপরাধ, সন্ত্রাসবাদ, আর্থিক ও পরিবেশগত অপরাধ, ভুয়া তথ্যের বিস্তার এবং উদীয়মান প্রযুক্তির অপব্যবহারের মতো চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আধুনিক জ্ঞান, গবেষণা ও পেশাগত দক্ষতার কোনো বিকল্প নেই।

তিনি বলেন, আধুনিক পুলিশিংয়ের সাফল্য শুধু অপরাধ দমন বা অপরাধী গ্রেপ্তারের মাধ্যমে নয়; বরং জনগণের আস্থা অর্জন, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা, মানবাধিকার সুরক্ষা, পেশাগত সততা, জবাবদিহিতা এবং নাগরিকদের মানসম্মত সেবা নিশ্চিত করার মধ্যেই নিহিত।

আইজিপি আরো বলেন, পুলিশ স্টাফ কলেজ বাংলাদেশ উচ্চতর পুলিশ শিক্ষা, নেতৃত্ব উন্নয়ন ও গবেষণার ক্ষেত্রে একটি স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠান হিসেবে বাংলাদেশ পুলিশসহ বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানের পেশাগত সক্ষমতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। তিনি আধুনিক পুলিশ কর্মকর্তাদের কৌশলগত চিন্তাশীল, দক্ষ ব্যবস্থাপক, নৈতিক নেতৃত্বসম্পন্ন এবং আজীবন শিক্ষার্থী হিসেবে গড়ে ওঠার আহ্বান জানান। পাশাপাশি গবেষণা, তথ্যভিত্তিক বিশ্লেষণ ও উদ্ভাবনী চিন্তার মাধ্যমে কার্যকর সিদ্ধান্ত গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

উল্লেখ্য, এক বছর মেয়াদি ও দুই সেমিস্টারবিশিষ্ট এমসিএপিসিএম প্রোগ্রামের ১০ম ব্যাচে এবার মোট ৫০ জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করছেন। তাদের মধ্যে পুলিশ, সশস্ত্র বাহিনী, চিকিৎসক, বিচার বিভাগ, জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থা এবং বিভিন্ন পেশাজীবী প্রতিষ্ঠানের সদস্যরা রয়েছেন।

নীলফামারী সাংবাদিক ফোরামের সভাপতি মুফদি, সাধারণ সম্পাদক হাসান

নিজস্ব প্রতিবেদক
নীলফামারী সাংবাদিক ফোরামের সভাপতি মুফদি, সাধারণ সম্পাদক হাসান
মুফদি আহমেদ ও হাসান মেজর। ছবি : সংগৃহীত

রাজধানীতে কর্মরত নীলফামারী জেলার সাংবাদিকদের সংগঠন ‘নীলফামারী সাংবাদিক ফোরাম, ঢাকা’র নতুন কার্যনির্বাহী কমিটি গঠন করা হয়েছে। এতে সিনিয়র সাংবাদিক মুফদি আহমেদকে সভাপতি এবং জুমবাংলার সম্পাদক হাসান মেজরকে সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত করা হয়েছে।

শনিবার (১৮ জুলাই) রাজধানীতে অনুষ্ঠিত সংগঠনের এক সাধারণ সভায় সর্বসম্মতিক্রমে ১৫ সদস্যের এই নতুন কমিটি গঠন করা হয়।

কমিটির অন্য কর্মকর্তারা হলেন—সহসভাপতি মো. মোদাব্বের হোসেন (বাংলাদেশ প্রতিদিন), যুগ্ম সম্পাদক আপেল শাহরিয়ার (এনটিভি), অর্থ সম্পাদক একে শামসুজ্জোহা (সবুজ দেশ), সাংগঠনিক সম্পাদক আরিফ চৌধুরী পলাশ (ডিবিসি), দপ্তর, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক জয়নাল আবেদীন (দ্য ডেইলি ট্রাইব্যুনাল), মহিলাবিষয়ক সম্পাদক সাজেদা হক (দেশ সারাদিন) এবং সাহিত্য, ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক মাহফুজার রহমান মন্ডল (বাংলার গণজাগরণ)।

এ ছাড়া কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্যরা হলেন মু. আ. কুদ্দুস (সিটি নিউজ), লাজ্জাত এনাব মহছি (প্রথম আলো), নজমুল হক সরকার (বর্তমান), আবুল কাশেম আজাদ (চলমান সময়), মহসীনুল করিম লেবু (ডেইলি অবজারভার) এবং আকতারুজ্জামান রকি (চ্যানেল নাইন)।

সাধারণ সভায় বক্তারা বলেন, নীলফামারী সাংবাদিক ফোরাম, ঢাকা পেশাদার সাংবাদিকদের মধ্যে ঐক্য, সৌহার্দ্য ও পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধির পাশাপাশি সদস্যদের পেশাগত দক্ষতা উন্নয়ন এবং কল্যাণে কাজ করবে। একই সঙ্গে নীলফামারীর সামগ্রিক উন্নয়ন, সম্ভাবনা ও জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো জাতীয় পরিসরে তুলে ধরতে এই সংগঠনটি কার্যকর ভূমিকা পালন করবে।

নবনির্বাচিত সভাপতি মুফদি আহমেদ ও সাধারণ সম্পাদক হাসান মেজর সংগঠনের সদস্যদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

তারা বলেন, সকলের সহযোগিতা ও সম্মিলিত প্রচেষ্টায় নীলফামারী সাংবাদিক ফোরাম, ঢাকাকে আগামীতে আরও শক্তিশালী, ঐক্যবদ্ধ ও কার্যকর একটি সংগঠন হিসেবে গড়ে তোলা হবে।

জাতীয় কৃষক শক্তির আত্মপ্রকাশ

আহ্বায়ক সাঈদ, সদস্যসচিব সেলিম, মুখ্য সংগঠক নফিউল

নিজস্ব প্রতিবেদক
আহ্বায়ক সাঈদ, সদস্যসচিব সেলিম, মুখ্য সংগঠক নফিউল
আহ্বায়ক সাঈদ উজ্জ্বল, সদস্যসচিব গোলাম মর্তুজা সেলিম ও মুখ্য সংগঠক নফিউল ইসলাম। ছবি : সংগৃহীত

কৃষকদের অধিকার আদায়ে কাজ করতে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) অঙ্গসংগঠন হিসেবে জাতীয় কৃষক শক্তির আত্মপ্রকাশ ঘটেছে। একই সঙ্গে এটির কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক কমিটিও (আংশিক) ঘোষণা করা হয়েছে।

আহ্বায়কের দায়িত্ব পেয়েছেন সাঈদ উজ্জ্বল ও সদস্যসচিব হয়েছেন কৃষিবিদ গোলাম মর্তুজা সেলিম। মুখ্য সংগঠক হিসেবে নফিউল ইসলামকে দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে। একই সঙ্গে সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট ফখরুদ্দিন আহমেদ জাকি ও মো. আব্দুল আজিজ এবং সিনিয়র যুগ্ম সদস্যসচিব মজিবুর রহমান খোকন ও মো. রাকিবুল হাসান রানা দায়িত্ব পেয়েছেন।

বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার টগরাই হাট দ্বিমুখী উচ্চবিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠিত সমাবেশে এনসিপির আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম কমিটির সদস্যদের নাম ঘোষণা করেন।

কুড়িগ্রাম-২ আসনের সংসদ সদস্য ও এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক ড. আতিক মুজাহিদের সভাপতিত্বে ও গোলাম মর্তুজা সেলিমের সঞ্চালনায় এতে প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন এনসিপির সদস্যসচিব আখতার হোসেন। কৃষক সমাবেশে জুলাই শহীদ রাজীবের মা জান্নাতুল ফেরদৌস এবং জুলাইযোদ্ধা আরিফুল ইসলামও বক্তব্য দেন।

জাতীয় কৃষক শক্তির ঘোষণাপত্র পাঠকালে নবগঠিত কমিটির আহ্বায়ক সাঈদ উজ্জ্বল বলেন, “‘কৃষকের শক্তি, জাতীয় মুক্তি’ স্লোগানকে সামনে রেখে এগিয়ে যাবে। আমরা মনে করি, বাংলাদেশের কৃষক শুধু খাদ্য উৎপাদক নয়, একই সঙ্গে এই ভূখণ্ডের অর্থনীতির ভিত্তি এবং রাজনৈতিক সংগ্রামের অন্যতম প্রধান শক্তি। নীলচাষ-বিরোধী আন্দোলন, ফকির-সন্ন্যাসী বিদ্রোহ, তিতুমীরের বাঁশের কেল্লা, টঙ্ক আন্দোলন, কৃষকপ্রজা পার্টি, তেভাগার সংগ্রাম এবং মাওলানা ভাসানীর কৃষক রাজনীতি আমাদের সেই ঐতিহাসিক ধারার অংশ। এসব আন্দোলন জমির মালিকানা, উৎপাদনের অধিকার এবং রাষ্ট্রে কৃষকের মর্যাদার প্রশ্নে আপসহীন লড়াই করে গেছে। কিন্তু স্বাধীনতার পর কৃষককে ধীরে ধীরে রাজনীতির কেন্দ্র থেকে সরিয়ে কেবল উৎপাদনের দায়িত্বে সীমাবদ্ধ করা হয়েছে।”

সাঈদ উজ্জ্বল আরো বলেন, ‘রাষ্ট্রের খাদ্য নিরাপত্তা কৃষকের কাঁধে ন্যস্ত হয়েছে, অথচ কৃষিনীতি, বাজারনীতি, মূল্যনীতি কিংবা ভূমিনীতি নির্ধারণের টেবিলে কৃষকের কোনো কার্যকর উপস্থিতি তৈরি হয়নি। উৎপাদন করে কৃষক, কিন্তু লাভ পায় অন্যেরা। কৃষক ঝুঁকি নেয়, কিন্তু সিদ্ধান্ত নেয় অন্যেরা। আমরা বিশ্বাস করি, এই অবস্থার পরিবর্তন না হলে কৃষকের মুক্তি সম্ভব নয়; আর কৃষকের মুক্তি ছাড়া বাংলাদেশের অর্থনৈতিক মুক্তিও অসম্ভব। বাংলাদেশের অর্থনীতি তিনটি মহান শ্রমশক্তির ওপর দাঁড়িয়ে আছে— কৃষকের মাঠের শ্রম, কৃষকের সন্তানের প্রবাসের শ্রম এবং কৃষককন্যার গার্মেন্টসশিল্পের শ্রম। এই তিনটি শক্তিই বৈদেশিক মুদ্রা, খাদ্য নিরাপত্তা ও জাতীয় অর্থনীতির প্রধান ভিত্তি। অথচ এই শ্রমশক্তির মূল উৎস, গ্রামীণ কৃষক সমাজ, আজও রাষ্ট্রীয় নীতি ও রাজনৈতিক ক্ষমতার কাঠামোয় সবচেয়ে অবহেলিত।’

সমাবেশে জাতীয় কৃষক শক্তির ১৪ দফা অধিকার সনদ পাঠ করেন সদস্যসচিব কৃষিবিদ গোলাম মর্তুজা সেলিম। দফাগুলো হলো—

১. কৃষকের রাজনৈতিক স্বীকৃতি : কৃষককে শুধু উৎপাদক নয়, একটি রাজনৈতিক জনগোষ্ঠী ও জাতীয় শক্তি হিসেবে সাংবিধানিক ও নীতিগত স্বীকৃতি দিতে হবে। জাতীয় ও স্থানীয় পর্যায়ে কৃষকের কার্যকর রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে হবে।

২. ন্যায্যমূল্যের অধিকার : প্রতিটি কৃষিপণ্যের উৎপাদন ব্যয়, শ্রম ও ন্যায্য মুনাফা বিবেচনায় মূল্য নির্ধারণ করতে হবে। বাজার সিন্ডিকেট ও মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য বন্ধে রাষ্ট্রকে কার্যকর ভূমিকা পালন করতে হবে। সরকারকে কৃষকের উৎপাদিত কৃষিপণ্য ন্যায্য মূল্যে সরাসরি ক্রয়ের কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে, যাতে কৃষক তার উৎপাদন ব্যয় ও ন্যায্য লাভ নিশ্চিত করতে পারেন।

৩. কৃষি বীমার অধিকার : জলবায়ু পরিবর্তন, বন্যা, খরা, ঘূর্ণিঝড়, লবণাক্ততা ও অন্যান্য প্রাকৃতিক দুর্যোগের ক্ষতি মোকাবিলায় এলাকাভিত্তিক ফলন সূচকের ভিত্তিতে সর্বজনীন কৃষি বীমা চালু করতে হবে।

৪. কৃষি অঞ্চলের পুনর্বিন্যাস : বাংলাদেশকে হাওর, উপকূল, চর, পাহাড়, বরেন্দ্র, প্লাবনভূমি ও অন্যান্য জলবায়ুভিত্তিক কৃষি অঞ্চলে ভাগ করে অঞ্চলভিত্তিক কৃষিনীতি, গবেষণা, ভর্তুকি ও উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে।

৫. খাদ্য সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠা : দেশীয় বীজ সংরক্ষণ, গবেষণা ও উন্নয়নকে রাষ্ট্রীয় অগ্রাধিকার দিতে হবে। বহুজাতিক কোম্পানির একচেটিয়া বীজনির্ভরতা কমিয়ে কৃষকের বীজের অধিকার নিশ্চিত করতে হবে।

৬. কৃষি উপকরণের নিশ্চয়তা : মানসম্মত বীজ, সার, সেচ, বিদ্যুৎ, ডিজেল ও কৃষিযন্ত্র সহজলভ্য এবং সহনীয় মূল্যে নিশ্চিত করতে হবে। ভেজাল কৃষি উপকরণের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।

৭. সংরক্ষণ ও বাজারব্যবস্থা : প্রতিটি কৃষি অঞ্চলে আধুনিক হিমাগার, গুদাম, সংগ্রহকেন্দ্র, প্রক্রিয়াজাতকরণ কেন্দ্র এবং রাষ্ট্রীয় বিপণন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে, যাতে কৃষক সরাসরি বাজারে প্রবেশ করতে পারে।

৮. প্রযুক্তি ও তথ্যের অধিকার : প্রতিটি কৃষকের হাতে আবহাওয়া, বাজারদর, রোগবালাই, সরকারি সহায়তা ও প্রযুক্তিগত পরামর্শ পৌঁছে দিতে একটি সমন্বিত জাতীয় ডিজিটাল কৃষি প্ল্যাটফর্ম গড়ে তুলতে হবে।

৯. কৃষিশ্রমিকের মর্যাদা : কৃষিশ্রমিকের ন্যায্য মজুরি, নিরাপদ কর্মপরিবেশ, সামাজিক নিরাপত্তা এবং শ্রমের মর্যাদা নিশ্চিত করতে হবে।

১০. কৃষিতে তরুণদের অংশগ্রহণ : তরুণ উদ্যোক্তা, কৃষিবিজ্ঞানী ও প্রযুক্তিনির্ভর নতুন প্রজন্মকে কৃষিতে আকৃষ্ট করতে বিশেষ ঋণ, প্রশিক্ষণ, গবেষণা ও বিনিয়োগ সহায়তা দিতে হবে।

১১. নারী কৃষকের অধিকার : নারী কৃষকের শ্রমের স্বীকৃতি, ভূমির অধিকার, ঋণ, প্রশিক্ষণ, প্রযুক্তি ও বাজারে সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে।

১২. কৃষকের সামাজিক নিরাপত্তা : বয়স্ক কৃষকের পেনশন, স্বাস্থ্যবীমা, দুর্ঘটনা সহায়তা এবং কৃষক পরিবারের জন্য সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি চালু করতে হবে।

১৩. কৃষিভিত্তিক শিল্প ও রপ্তানি : কৃষিপণ্য সংরক্ষণ, প্রক্রিয়াজাতকরণ, মূল্য সংযোজন এবং রপ্তানিমুখী কৃষিভিত্তিক শিল্প গড়ে তুলে কৃষকের আয় বৃদ্ধি করতে হবে।

১৪. কৃষক নেতৃত্বাধীন রাষ্ট্রনীতি : কৃষি, খাদ্য, ভূমি, পানি ও গ্রামীণ অর্থনীতি সম্পর্কিত সব নীতি প্রণয়নে কৃষক সংগঠন, কৃষিবিদ ও স্থানীয় প্রতিনিধিদের বাধ্যতামূলক অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। কৃষককে নীতির বিষয় নয়, নীতিনির্ধারক হিসেবে প্রতিষ্ঠা করাই হবে চূড়ান্ত লক্ষ্য।