সরকার আগামী ৫ বছরে সারা দেশে ১০টি আন্তর্জাতিক মানের স্পোর্টস ভিলেজ নির্মাণ করবে বলে জানিয়েছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক। তিনি বলেন, আগামী ৫ বছরে দেশের প্রতিটি ইউনিয়নে একটি করে খেলার মাঠ নির্মাণ করবে সরকার।
শনিবার (১৮ জুলাই) বিকেলে নারায়ণগঞ্জের ওসমানী স্টেডিয়ামে বেগম খালেদা জিয়া ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন তিনি।
ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী বলেন, নারায়ণগঞ্জ থেকে একসময় প্রচুর খেলোয়াড় বের হয়ে আসতো। এখন কিছুটা কমে গেছে। বর্তমান সরকার আগামীর বাংলাদেশে খেলাধুলাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে খেলাধুলাকে একটি পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠার জন্য কার্যক্রম শুরু করেছে। এই সরকার শুধু ফুটবল, ক্রিকেটই না সব খেলাধুলাকে গুরুত্ব দিয়ে কার্যক্রম শুরু করেছে।
আমিনুল হক বলেন, সুস্থ জাতি গঠনের জন্য খেলাধুলার কোনো বিকল্প নেই। ডিজিটাল ডিভাইস থেকে শিশু-কিশোরদের দূরে রাখা, মাদকমুক্ত সমাজ গড়ার অন্যতম মাধ্যম হচ্ছে খেলাধুলা। এখনকার বাচ্চারা এতোই মোবাইল ডিভাইসে আসক্ত যে তারা এখন দেরি করে ঘুমায়। আমরা এই অভ্যাসে পরিবর্তন আনতে চাই।
ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আরো বলেন, আগামীতে জাতীয় শিক্ষাক্রমে নতুন কুড়ি স্পোর্টস টুর্নামেন্ট যুক্ত করা হবে। শিক্ষাক্রম এমনভাবে করা হবে যেন পরীক্ষার ৬০ শতাংশ নাম্বার খেলার মাঠে থাকে। তাহলে অভিভাবকরা নাম্বারের জন্য হলেও শিক্ষার্থীদের মাঠে যেতে বাধ্য করবে। আমরা এভাবে সারা দেশে তৃণমূল পর্যায়ে খেলা ছড়িয়ে দিতে চাই।
আমিনুল হক বলেন, খেলার মাঠের জন্য প্রতি ইউনিয়নে ৮ বিঘা করে জমি চেয়ে ৩০০ এমপিকে চিঠি দিয়েছি। আশা করছি, আগামী ৫ বছর পর প্রতিটি ইউনিয়নে একটি করে খেলার মাঠ তৈরি হয়ে যাবে। এরই মধ্যে এমপি, ইউএনও, ডিসিরা কার্যক্রম শুরু করে দিয়েছেন।
তিনি বলেন, সারা দেশে ১০টি আন্তর্জাতিক স্পোর্টস ভিলেজের মধ্যে নারায়ণগঞ্জে একটি স্পোর্টস ভিলেজ করতে চাই। পর্যায়ক্রমে ৬৪ জেলায় একটি করে স্পোর্টস ভিলেজ নির্মাণ করা হবে। পাশাপাশি সবার জন্য সাঁতার শিখানোর লক্ষ্য নিয়ে ২২টি জেলায় যেসব সুইমিংপুল রয়েছে, তা দ্রুত সংস্কার করা হবে। পরবর্তীতে আগামী ৫ বছরে প্রতিটি জেলায় একটি করে সুইমিংপুল নির্মাণ করা হবে। আর নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা স্টেডিয়ামকে সংস্কার করার জন্য যা যা করার প্রয়োজন আমরা সব করব। এই লক্ষ্যে এরই মধ্যে কাজ শুরু হয়েছে।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য আজহারুল ইসলাম মান্নান, নারায়ণগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম আজাদ, নারায়ণগঞ্জ জেলা পরিষদের প্রশাসক অধ্যাপক মামুন মাহমুদ, নারায়ণগঞ্জ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মাসুকুল ইসলাম রাজিব, নারায়ণগঞ্জ পুলিশ সুপার (এসপি) মিজানুর রহমান মুন্সী, মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট আবু আল ইউসুফ খান টিপু, মোস্তাফিজুর রহমান ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান রাকিবুর রহমান রাকিব প্রমুখ।








