• ই-পেপার

টেকনাফে ফের শিশু অপহরণ, মুক্তিপণ দাবি

মাদকমুক্ত সমাজ গড়তে যুবকদের দক্ষ কর্মী হিসেবে গড়ে তুলতে হবে : ডেপুটি স্পিকার

বাগেরহাট প্রতিনিধি
মাদকমুক্ত সমাজ গড়তে যুবকদের দক্ষ কর্মী হিসেবে গড়ে তুলতে হবে : ডেপুটি স্পিকার
ছবি : কালের কণ্ঠ

যুবকদের শুধু মাদক থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানালেই হবে না, তাদের জন্য কর্মসংস্থান ও দক্ষতা উন্নয়নের সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে। দক্ষ কর্মী হিসেবে গড়ে তুলতে পারলেই সমাজকে মাদকের করাল গ্রাস থেকে মুক্ত রাখা সম্ভব বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল। 

শনিবার (১৮ জুলাই) সকালে বাগেরহাট শহরের সোনাতলায় লতিফ মাস্টার ফাউন্ডেশনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান স্কিল ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজির (স্কিল-আইটি) উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ডেপুটি স্পিকার আরো বলেন, ‘আমরা যদি শুধু বলি মাদক নেওয়া যাবে না, তাহলেই হবে না। যুবকদের জন্য বিকল্প ব্যবস্থা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে। স্কিল-আইটির মতো আরো প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠলে দেশ সমৃদ্ধ হবে।’

স্কিল ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজির চেয়ারম্যান ও সাবেক সচিব মো. ফরিদুল ইসলাম বাবলুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাগেরহাট জেলা পরিষদের প্রশাসক ব্যারিস্টার শেখ মোহাম্মদ জাকির হোসেন, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক প্রকৌশলী এ টি এম আকরাম হোসেন তালিম, জেলা বিএনপির সদস্যসচিব বীর মুক্তিযোদ্ধা মোজাফফর রহমান আলম এবং লতিফ মাস্টার ফাউন্ডেশনের চেয়ারপারসন রফিকুল ইসলাম জগলু প্রমুখ।

অনুষ্ঠান শেষে ডেপুটি স্পিকার কৃষকদের মাঝে দুই হাজার ফলদ ও বনজ বৃক্ষের চারা বিতরণ করেন। এ ছাড়া তিনি বাগেরহাট জেলা আইনজীবী সমিতি, সদর উপজেলার বেশরগাতি গ্রামে লতিফ মাস্টার ফাউন্ডেশন পরিচালিত মসজিদ কমপ্লেক্স, এতিমখানা ও কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র পরিদর্শনসহ জেলার আরো কয়েকটি অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে অংশ নেন।

রাজশাহীতে ‘নজরুল ভিলেজ’-এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করলেন ভূমিমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহী
রাজশাহীতে ‘নজরুল ভিলেজ’-এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করলেন ভূমিমন্ত্রী
সংগৃহীত ছবি

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সাহিত্য, কবিতা ও গান নতুন প্রজন্মের মাঝে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে দেওয়ার লক্ষ্যে রাজশাহীতে ‘নজরুল ভিলেজ’-এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন এবং নির্মাণকাজের শুভ উদ্বোধন করা হয়েছে।

শনিবার (১৮ জুলাই) সকাল ১১টায় রাজশাহী কেন্দ্রীয় বোটানিক্যাল গার্ডেন ও চিড়িয়াখানার বিপরীতে এই ভিলেজের উদ্বোধন করেন ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু। 

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন রাজশাহী জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম। এতে উপস্থিত ছিলেন রাজশাহীর ইতিহাস গবেষক মাহবুব সিদ্দিকী।

জেলা প্রশাসক শহিদুল ইসলাম জানান, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সাহিত্য, কবিতা ও গান নতুন প্রজন্মের মাঝে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে দেওয়ার লক্ষ্যে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই উদ্যোগের কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে নির্মিত হচ্ছে ‘নজরুল মঞ্চ’ এবং ‘নজরুল কর্নার’। সম্পূর্ণ উন্মুক্ত পরিবেশে এবং বৃক্ষশোভিত ছায়ায় সাধারণ মানুষের জন্য এই প্রাঙ্গণটি তৈরি করা হচ্ছে, যেখানে বছরব্যাপী চলবে নজরুল সাহিত্য ও শিল্পের চর্চা।

কমলগঞ্জ

পানি কমতেই ধলাইপারে ভাঙন আতঙ্ক

৩০ ফুট সড়কবাঁধ বিলীন  দ্রুত টেকসই সংস্কার দবি

কমলগঞ্জ (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি
পানি কমতেই ধলাইপারে ভাঙন আতঙ্ক
ছবি : সংগৃহীত

মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে ধলাই নদীর পানি কমতে শুরু করেছে। তবে পানি নেমে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রতিরক্ষা বাঁধের বিভিন্ন অংশে ভাঙন দেখা দিয়েছে। 

স্থানীয় সূত্র জানায়, ধসে পড়ছে বাঁধের মাটি। বৃহস্পতিবার বিকেলে কমলগঞ্জ পৌর এলাকার কুমড়াকাপন এলাকায় যাতায়াতের সড়কসহ বাঁধের ৩০ ফুট অংশ নদীতে ধসে পড়ায় নদীতীরবর্তী পাঁচটি ঘর চরম ঝুঁকিপুর্ণ অবস্থায় রয়েছে। আতঙ্কিত পরিবারগুলো বাঁশের খুঁটি বসিয়ে ঘর রক্ষার চেষ্টা করছে। পানি বাড়লেই ঘরগুলো ধসে পড়বে বলে আশঙ্কা তাদের। এ নিয়ে ওই এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে নতুন করে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। 

বাঁধটি দ্রুত মেরামতের জন্য উপজেলা প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)-এর কাছে দাবি জানিয়েছে এলাকাবাসী।

শনিবার (১৮ জুলাই) সরেজমিন পৌরসভার ৬ নম্বর  ওয়ার্ডের কুমড়াকাপন গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, ধলাই নদীর তীররক্ষা বাঁধের প্রায় ৩০ ফুট অংশ নদীতে ধসে পড়েছে। বিশাল এলাকা নদীতে চলে যাওয়ায় পাঁচটি পরিবার ঝুঁকিতে পড়েছে। পরিবারগুলো তাদের বসতঘর রক্ষায় বাঁশের খুঁটি দিয়ে ঘরের পেছনের অংশ রক্ষার চেষ্টা করছেন। গত সপ্তাহে বাঁধটি রক্ষার জন্য   এলাকাবাসী মানববন্ধন করে বলে জানায় স্থানীয়রা।

গ্রামটির ক্ষতিগ্রস্ত বাসিন্দা সানু মিয়া বলেন, ধলাই নদীর পানি বাড়ার কারণে কয়েক দিন ধরে বাঁধে ফাটল সৃষ্টি হয়। পানি কমতেই গত বৃহস্পতিবার বাঁধের বিশাল এলাকা নদীতে ধসে পড়ে। আমাদের চলাচলের সড়কসহ ২৫ থেকে ৩০ ফুট পানিতে বিলীন হয়েছে। 

সানু মিয়া আরো বলেন, ‘আমার ঘরটি যেকোনো  মুহূর্তেই ধসে যাবে। এ নিয়ে আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছি। প্রশাসন থেকে বাঁধ রক্ষার উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাস দিলেও কেউ আর আসেননি। তাই আমরা নিজেরাই ঘর রক্ষার চেষ্টা করছি।’

আরেক বাসিন্দা রফিক মিয়া বলেন, ‘এখানে আমরা ৮-১০টি পরিবার বসবাস করছি। কিন্তু নদীভাঙনের আতঙ্কে এখন আমরা দিন কাটাচ্ছি। আমার ঘরটিও ঝুঁকিতে রয়েছে। আমাদের খবর কেউ নেয় না। দ্রুত বাঁধ মেরামত না করলে সবার ঘর নদীতে বিলীন হবে।’

একই দিন কমলগঞ্জ সদর ইউনিয়নের পূর্ব লঙ্গুরপার এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, আগের ভাঙন এলাকাটি পানি উন্নয়ন বোর্ড মেরামতের উদ্যোগ নিলেও কাজ বন্ধ রয়েছে। কিছু বালুর বস্তা দিয়ে বাঁধ রক্ষার চেষ্টা করা হয়েছে।

ওই এলাকার বাসিন্দা সৌরভ ভৌমিক বলেন, আগের ভাঙনের কারণে বাঁধটি নড়বড়ে রয়েছে। আবার নদীর পানি কমে যাওয়ার পর ভেজা মাটি ধসে পড়তে শুরু করেছে। নতুন করে ১০০ ফুট দূরে শুক্রবার (১৭ জুলাই) আবার নদীপারে বিশাল ফাটল দেখা দিয়েছে। 

কমলগঞ্জ সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল হান্নান বলেন, ‘ধলাই নদীর পানি কমে যাওয়ার পর লংগুরপাড় গ্রামের প্রতিরক্ষা বাঁধে যে বড় ফাটল ও ভাঙন দেখা দিয়েছে, তা অত্যন্ত আতঙ্কের। দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে উপজেলা প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)-এর কর্মকর্তাদের বিষয়টি জানিয়েছি।

কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও পৌর প্রশাসক মো. আসাদুজ্জামান কালের কণ্ঠকে বলেন, পৌরসভার কুমড়াকাপন এলাকার ভাঙনপ্রবণ অংশ  দ্রুত মেরামত করতে পাউবোকে বলা হয়েছে।  উপজেলার আরো ঝুঁকিপুর্ণ বাঁধ মেরামতের উদ্যোগ নেওয়ার জন্যও আলাপ হয়েছে। তারা খুব দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন বলে জানিয়েছেন। 

মৌলভীবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের (বাপাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী মো. খালেদ বিন অলীদ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘পৌরসভা এলাকায় বাঁধটি পরিদর্শন করা হয়েছে দ্রুত মেরামতের উদ্যোগ নেওয়া হবে। তা ছাড়া অন্য এলাকার ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলো মেরামত ও প্রকল্প গ্রহণে  ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে চিঠি পাঠিয়েছি। বরাদ্দ ও অনুমোদন পেলেই কাজ শুরু করতে পারব।’

দুমড়েমুচড়ে যাওয়া অটোরিকশার পাশেই মিলল চালকসহ দুজনের মরদেহ

শেরপুর প্রতিনিধি
দুমড়েমুচড়ে যাওয়া অটোরিকশার পাশেই মিলল চালকসহ দুজনের মরদেহ
ছবি : কালের কণ্ঠ

শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলার শেরপুর-নালিতাবাড়ী সড়কের পাশে দুমড়েমুচড়ে যাওয়া একটি অটোরিকশার পাশ থেকে চালক ও এক যাত্রীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শনিবার (১৮ জুলাই) রাত ৩টার দিকে উপজেলার সন্ন্যাসীভিটা এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন নালিতাবাড়ী উপজেলার বাঘবেড় খড়িয়াপাড়া গ্রামের একদিল হোসেনের ছেলে অটোরিকশাচালক কামরুল হোসেন (৪০) এবং সালেহাবাদ কৃষ্ণপট্টি গ্রামের আব্দুস সাত্তারের ছেলে শহিদুল ইসলাম (৪০)।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, শুক্রবার দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে ঢাকা থেকে নালিতাবাড়ী শহরে পৌঁছান শহিদুল ইসলাম। পরে তিনি কামরুল হোসেনের অটোরিকশায় করে পাঁচগাঁও এলাকার সাগরদী কৃষ্ণপট্টিতে শ্বশুরবাড়ির উদ্দেশে রওনা দেন। পথিমধ্যে সন্ন্যাসীভিটা এলাকায় বাঘবেড় ইউনিয়ন পরিষদের সামনে অটোরিকশাটি দুর্ঘটনার কবলে পড়ে।

শনিবার সকালে স্থানীয়রা সড়কের পাশে রাখা বালুর স্তূপের কাছে দুমড়েমুচড়ে যাওয়া অটোরিকশার পাশেই চালক ও এক যাত্রীর মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে পুলিশকে খবর দেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ দুটি উদ্ধার করে নালিতাবাড়ী থানায় নিয়ে যায় এবং দুর্ঘটনাকবলিত অটোরিকশাটি জব্দ করে।

পুলিশ ও স্থানীয়দের প্রাথমিক ধারণা, সড়কের পাশে রাখা বালুর স্তূপে অটোরিকশাটি সজোরে ধাক্কা লেগে অথবা কোনো অজ্ঞাত ভারী যানবাহনের ধাক্কায় এ দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। তবে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত চলছে।

বিষয়টি নিশ্চিত করে নালিতাবাড়ী থানার সেকেন্ড অফিসার উপপরিদর্শক (এসআই) আব্দুল হান্নান বলেন, ‘কিভাবে দুর্ঘটনাটি ঘটেছে তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। বিপরীত দিক থেকে আসা কোনো ট্রাক বা বাসের ধাক্কায় অটোরিকশাটি দুর্ঘটনার শিকার হয়ে থাকতে পারে।’

তিনি আরো জানান, নিহতদের মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হয়েছে। স্বজনদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ময়নাতদন্ত ছাড়াই শনিবার দুপুরে মরদেহ দুটি তাদের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।