প্রায় ১১ বছর আগে যাত্রা শুরু ময়মনসিংহ বিভাগের। এর দুই বছর পর প্রতিষ্ঠিত হয় বিভাগীয় শিক্ষা বোর্ড। প্রতিষ্ঠার পর থেকেই ভাড়া করা পৃথক দুই ভবনে চলছে বোর্ডের কার্যক্রম। এখন পর্যন্ত নিজস্ব ভবন পায়নি শিক্ষা বোর্ডটি।
শিক্ষা বোর্ডের কর্মকর্তাদের দাবি, ভাড়া করা ভবনে চলার কারণে এখানে সৃষ্টি হয়েছে নানা সংকট। তাই এখনো স্বনির্ভর হতে পারেনি বোর্ড। ধার করা সার্ভারে প্রস্তুত করতে হচ্ছে এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার ফল। গাদাগাদি করে অফিস করছেন কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা।
শিক্ষা বোর্ড সূত্রে আরো জানা যায়, ময়মনসিংহ বিভাগ প্রতিষ্ঠার পর থেকেই ব্রহ্মপুত্র নদের বর্তমান শহরের বিপরীত পাশে আধুনিক বিভাগীয় নগর গড়ে তোলার পরিকল্পনা করে সরকার। আধুনিক নগরের পরিকল্পনায় রয়েছে শিক্ষা বোর্ডের জন্য নির্ধারিত ভবন। তবে ১০ বছর পরও সে পরিকল্পনার অগ্রগতি নামমাত্রই। এ কারণে শিক্ষা বোর্ডের নিজস্ব ভবন অনিশ্চয়তার মধ্যেই রয়ে গেছে।
আধুনিক বিভাগীয় নগরের পরিকল্পনায় থাকলেও প্রতিষ্ঠার পর থেকে শিক্ষা বোর্ড নিজেও জমি কিনে নিজস্ব ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে। তবে কাজে আসেনি সেসব উদ্যোগ।
জানা গেছে, ২০১৭ সালে ময়মনসিংহ শিক্ষা বোর্ড প্রতিষ্ঠিত হয়। ময়মনসিংহ বিভাগের ময়মনসিংহ, শেরপুর, জামালপুর ও নেত্রকোনা জেলা নিয়ে এ বোর্ডের কার্যক্রম। প্রতিষ্ঠার পর ময়মনসিংহ শহরতলীর কাঠগোলা এলাকায় পৃথক দুটি ছয়তলা ভবন ভাড়া নেওয়া হয়। এখনো ওই দুটি ভবনেই চলছে কার্যক্রম।
ভবন দুটির একটি থেকে অন্যটির দূরত্ব অন্তত ৫০০ মিটার।
এ কারণে দুটি ভবনে দায়িত্ব পালনকারী কর্মকর্তাদের মধ্যে সমন্বয় করা কঠিন হয়ে পড়ে। পরে একটি ভবনকে পরীক্ষা শাখা হিসেবে বিশেষায়িত করা হয়। অপর ভবনে চলে বোর্ডের অন্যান্য কার্যক্রম।
শিক্ষা বোর্ডের বর্তমান ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. এনামুল হক বলেন, ভাড়া করা দুটি ভবনে শিক্ষা বোর্ডের কার্যক্রম পরিচালনা করা খুবই কঠিন। কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা গাদাগাদি বসে কাজ করেন। এমনকি অন্যান্য বোর্ডের সঙ্গে তুলনা করলে ময়মনসিংহ শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানের কক্ষটি অনেক ছোট। এসব প্রতিবন্ধকতা নিয়েই এখানে কাজ চলছে।
শিক্ষা বোর্ড সূত্রে যায়, দুটি ভবনের দূরত্বের কারণে এ বোর্ড এখনো নিজস্ব সার্ভার চালু করতে পারেনি। এ কারণে যশোর শিক্ষা বোর্ড ও বুয়েটের সার্ভার ব্যবহার করে এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষা নেওয়া হচ্ছে।
ময়মনসিংহ শিক্ষা বোর্ডের নিজস্ব ভবনের বিষয়ে জানা যায়, বোর্ড প্রতিষ্ঠার পর জমি কিনে নিজস্ব ভবন নির্মাণে একাধিকবার পরিকল্পনা করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠাকালীন চেয়ারম্যান ড. গাজী হাসান কামাল জমি অধিগ্রহণের জন্য চেষ্টা করেছেন। তবে সে চেষ্টা বাস্তবায়িত হয়নি। ওই সময় সরকারের সংশ্লিষ্ট উধ্বর্তন কর্তৃক্ষের দাবি ছিল নতুন বিভাগীয় নগরের পরিকল্পনায় যেহেতু শিক্ষা বোর্ডের আধুনিক ভবন থাকবে, কাজেই জমি কিনে ভবন নির্মাণের প্রয়োজন নেই।
তবে আধুনিক বিভাগীয় নগরের পরিকল্পনা দিনে দিনে অনিশ্চয়তার মুখে পড়ায় পরে শিক্ষা বোর্ড নিজের উদ্যোগে ভবন নির্মাণের জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে অনুরোধ করে। এ পরিকল্পনায় শহরের রহমতপুর এলাকায় জমি কেনার পরিকল্পনা ছাড়াও নগরের পাটগুদাম এলাকায় পাট মন্ত্রণালয়ের অধীনে সরকারি জমিও রয়েছে। তবে পাট মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত জানায়নি।
শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান মো. এনামুল হক বিষয়ে বলেন, ‘পাট মন্ত্রণালয়ের জমি নেওয়ার পরিকল্পনা অতি সাম্প্রতিক সময়ের। এটি নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না হওয়ার পর্যন্ত অন্য পরিকল্পনা নিয়ে ভাবা যাচ্ছে না।’
ময়মনসিংহ বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, বিভাগ প্রতিষ্ঠার পর ব্রহ্মপুত্র নদের চরে প্রায় সাড়ে চার হাজার একর জমি অধিগ্রহণের পরিকল্পনা করে সরকার। তবে গ্রামবাসীর আন্দোলনের কারণে সে পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হয়নি। পরে নতুন করে ৯৫০ একর জমি অধিগ্রহণের পরিকল্পনা করা হয়। এ জমি নিয়ে গ্রামবাসীর বাধা না থাকায় সেটি চূড়ান্ত হয় এবং অধিগ্রহণ শেষ পর্যায়ে।
পরিকল্পিত এলাকাটি অনেক নিচু হওয়ায় সেখানে মাটি ভরাটই বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে। সড়ক ও প্রয়োজনীয় সেতু নির্মাণ করে সেখানে নগর গড়ে তোলার কাজ কবে নাগাদ শুরু হবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।
ময়মনসিংহের বিভাগীয় কমিশনার এস এম হুমায়ুন কবির সরকার বলেন, আধুনিক বিভাগীয় নগরে সুন্দর সুন্দর ভবন হবে। শিক্ষা বোর্ড চাইলে সেখানে ভবন নিতে পারবে। আবার জরুরি প্রয়োজন হলে শিক্ষা বোর্ড নিজেরাও ভবন নির্মাণ করতে পারে।