• ই-পেপার

এসএসসির ফল চলতি মাসেই

জাকসুর উদ্যোগে জাবির বাসে ‘আইট্র্যাকার’ উদ্বোধন

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি
জাকসুর উদ্যোগে জাবির বাসে ‘আইট্র্যাকার’ উদ্বোধন
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসে ‘আইট্র্যাকার’ উদ্ধোধন করছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কামরুল আহসান।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) পরিবহন ব্যবস্থাকে আরো আধুনিক, সহজ ও শিক্ষার্থীবান্ধব করতে লাইভ বাস ট্র্যাকিং সিস্টেম ‘আইট্র্যাকার (iTracker)’ চালু করেছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জাকসু)। ‘স্মার্ট পরিবহন, স্মার্ট ক্যাম্পাস’ স্লোগানে চালু হওয়া এ উদ্যোগের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে ক্যাম্পাসে চলাচলকারী বাসগুলোর রিয়েল-টাইম অবস্থান জানতে পারবেন। ফলে বাসের জন্য দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা, অবস্থান নিয়ে অনিশ্চয়তা এবং যাতায়াতে ভোগান্তি অনেকাংশে কমবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।

রবিবার (১৯ জুলাই) বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্ট্রাল ফিল্ডে দুপুর ২ টায় আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এ সেবার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কামরুল আহসান।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কামরুল আহসান ট্র্যাকিং সিস্টেম বাস্তবায়নে সহযোগিতার জন্য ইফাদ গ্রুপকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, ‘প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার মানুষের জীবনকে সহজ, নিরাপদ ও কার্যকর করে।’

তিনি বলেন, ‘লাইভ ট্র্যাকিং সিস্টেম চালুর ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা বাসের রিয়েল-টাইম অবস্থান জানতে পারবেন। এতে যাতায়াতে সময় সাশ্রয় হবে, ভোগান্তি কমবে এবং পরিবহনসেবা আরো কার্যকর হবে। পাশাপাশি বাসের চলাচলে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি জরুরি পরিস্থিতিতেও দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া সহজ হবে।

উপাচার্য আরো বলেন, ‘এই উদ্যোগের সফলতা নির্ভর করবে এর নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ ও কার্যকর বাস্তবায়নের ওপর। তিনি সেবাটির ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে সংশ্লিষ্টদের আন্তরিকভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।’

অনুষ্ঠানে জাকসুর ভিপি আব্দুর রশিদ জিতু বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন ব্যবস্থায় আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার ছিল না। জাকসু দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই পরিবহন খাতকে আধুনিক ও শিক্ষার্থীবান্ধব করতে কাজ করছে। এরই ধারাবাহিকতায় ইলেকট্রিক কার্ট ও অটোরিকশা চালুর পর এবার লাইভ বাস ট্র্যাকিং সিস্টেম চালু করা হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘এই সিস্টেমের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা মোবাইল ফোনে বাসের রিয়েল-টাইম অবস্থান ও নির্দিষ্ট স্থানে পৌঁছাতে সম্ভাব্য সময় জানতে পারবেন। এতে যাতায়াত আরো সহজ ও সময়সাশ্রয়ী হবে। পাশাপাশি সেবাটি ভবিষ্যতেও কার্যকর রাখতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তিনি।

এসময় উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. মো. শামছুল আলম, উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম, পরিবহন অফিসের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক, জাকসুর নেতৃবৃন্দ, ইফাদ গ্রুপের প্রতিনিধিসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন কর্মকর্তা ও কর্মচারী।

ময়মনসিংহ শিক্ষা বোর্ড

৯ বছর ধরে কার্যক্রম চলছে ভাড়া ভবনে

নিজস্ব ভবন নিয়ে অনিশ্চয়তা

কামরান পারভেজ, ময়মনসিংহ
৯ বছর ধরে কার্যক্রম চলছে ভাড়া ভবনে
মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, ময়মনসিংহ। ছবি: সংগৃহীত

প্রায় ১১ বছর আগে যাত্রা শুরু ময়মনসিংহ বিভাগের। এর দুই বছর পর প্রতিষ্ঠিত হয় বিভাগীয় শিক্ষা বোর্ড। প্রতিষ্ঠার পর থেকেই ভাড়া করা পৃথক দুই ভবনে চলছে বোর্ডের কার্যক্রম। এখন পর্যন্ত নিজস্ব ভবন পায়নি শিক্ষা বোর্ডটি।

শিক্ষা বোর্ডের কর্মকর্তাদের দাবি, ভাড়া করা ভবনে চলার কারণে এখানে সৃষ্টি হয়েছে নানা সংকট। তাই এখনো স্বনির্ভর হতে পারেনি বোর্ড। ধার করা সার্ভারে প্রস্তুত করতে হচ্ছে এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার ফল। গাদাগাদি করে অফিস করছেন কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা।

শিক্ষা বোর্ড সূত্রে আরো জানা যায়, ময়মনসিংহ বিভাগ প্রতিষ্ঠার পর থেকেই ব্রহ্মপুত্র নদের বর্তমান শহরের বিপরীত পাশে আধুনিক বিভাগীয় নগর গড়ে তোলার পরিকল্পনা করে সরকার। আধুনিক নগরের পরিকল্পনায় রয়েছে শিক্ষা বোর্ডের জন্য নির্ধারিত ভবন। তবে ১০ বছর পরও সে পরিকল্পনার অগ্রগতি নামমাত্রই। এ কারণে শিক্ষা বোর্ডের নিজস্ব ভবন অনিশ্চয়তার মধ্যেই রয়ে গেছে।

আধুনিক বিভাগীয় নগরের পরিকল্পনায় থাকলেও প্রতিষ্ঠার পর থেকে শিক্ষা বোর্ড নিজেও জমি কিনে নিজস্ব ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে। তবে কাজে আসেনি সেসব উদ্যোগ।

জানা গেছে, ২০১৭ সালে ময়মনসিংহ শিক্ষা বোর্ড প্রতিষ্ঠিত হয়। ময়মনসিংহ বিভাগের ময়মনসিংহ, শেরপুর, জামালপুর ও নেত্রকোনা জেলা নিয়ে এ বোর্ডের কার্যক্রম। প্রতিষ্ঠার পর ময়মনসিংহ শহরতলীর কাঠগোলা এলাকায় পৃথক দুটি ছয়তলা ভবন ভাড়া নেওয়া হয়। এখনো ওই দুটি ভবনেই চলছে কার্যক্রম। 

ভবন দুটির একটি থেকে অন্যটির দূরত্ব অন্তত ৫০০ মিটার। 
এ কারণে দুটি ভবনে দায়িত্ব পালনকারী কর্মকর্তাদের মধ্যে সমন্বয় করা কঠিন হয়ে পড়ে। পরে একটি ভবনকে পরীক্ষা শাখা হিসেবে বিশেষায়িত করা হয়। অপর ভবনে চলে বোর্ডের অন্যান্য কার্যক্রম।

শিক্ষা বোর্ডের বর্তমান ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. এনামুল হক বলেন, ভাড়া করা দুটি ভবনে শিক্ষা বোর্ডের কার্যক্রম পরিচালনা করা খুবই কঠিন। কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা গাদাগাদি বসে কাজ করেন। এমনকি অন্যান্য বোর্ডের সঙ্গে তুলনা করলে ময়মনসিংহ শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানের কক্ষটি অনেক ছোট। এসব প্রতিবন্ধকতা নিয়েই এখানে কাজ চলছে।

শিক্ষা বোর্ড সূত্রে যায়, দুটি ভবনের দূরত্বের কারণে এ বোর্ড এখনো নিজস্ব সার্ভার চালু করতে পারেনি। এ কারণে যশোর শিক্ষা বোর্ড ও বুয়েটের সার্ভার ব্যবহার করে এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষা নেওয়া হচ্ছে।

ময়মনসিংহ শিক্ষা বোর্ডের নিজস্ব ভবনের বিষয়ে জানা যায়, বোর্ড প্রতিষ্ঠার পর জমি কিনে নিজস্ব ভবন নির্মাণে  একাধিকবার পরিকল্পনা করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠাকালীন চেয়ারম্যান ড. গাজী হাসান কামাল জমি অধিগ্রহণের জন্য চেষ্টা করেছেন। তবে সে চেষ্টা বাস্তবায়িত হয়নি। ওই সময় সরকারের সংশ্লিষ্ট উধ্বর্তন কর্তৃক্ষের দাবি ছিল নতুন বিভাগীয় নগরের পরিকল্পনায় যেহেতু শিক্ষা বোর্ডের আধুনিক ভবন থাকবে, কাজেই জমি কিনে ভবন নির্মাণের প্রয়োজন নেই। 

তবে আধুনিক বিভাগীয় নগরের পরিকল্পনা দিনে দিনে অনিশ্চয়তার মুখে পড়ায় পরে শিক্ষা বোর্ড নিজের উদ্যোগে ভবন নির্মাণের জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে অনুরোধ করে। এ পরিকল্পনায় শহরের রহমতপুর এলাকায় জমি কেনার পরিকল্পনা ছাড়াও নগরের পাটগুদাম এলাকায় পাট মন্ত্রণালয়ের অধীনে সরকারি জমিও রয়েছে। তবে পাট মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত জানায়নি।

শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান মো. এনামুল হক বিষয়ে বলেন, ‘পাট মন্ত্রণালয়ের জমি নেওয়ার পরিকল্পনা অতি সাম্প্রতিক সময়ের। এটি নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না হওয়ার পর্যন্ত অন্য পরিকল্পনা নিয়ে ভাবা যাচ্ছে না।’

ময়মনসিংহ বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, বিভাগ প্রতিষ্ঠার পর ব্রহ্মপুত্র নদের চরে প্রায় সাড়ে চার হাজার একর জমি অধিগ্রহণের পরিকল্পনা করে সরকার। তবে গ্রামবাসীর আন্দোলনের কারণে সে পরিকল্পনা বাস্তবায়িত  হয়নি। পরে নতুন করে ৯৫০ একর জমি অধিগ্রহণের পরিকল্পনা করা হয়। এ জমি নিয়ে গ্রামবাসীর বাধা না থাকায় সেটি চূড়ান্ত হয় এবং অধিগ্রহণ শেষ পর্যায়ে। 

পরিকল্পিত এলাকাটি অনেক নিচু হওয়ায় সেখানে মাটি ভরাটই বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে। সড়ক ও প্রয়োজনীয় সেতু নির্মাণ করে সেখানে নগর গড়ে তোলার কাজ কবে নাগাদ শুরু হবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।

ময়মনসিংহের বিভাগীয় কমিশনার এস এম হুমায়ুন কবির সরকার বলেন, আধুনিক বিভাগীয় নগরে সুন্দর সুন্দর ভবন হবে। শিক্ষা বোর্ড চাইলে সেখানে ভবন নিতে পারবে। আবার জরুরি প্রয়োজন হলে শিক্ষা বোর্ড নিজেরাও ভবন নির্মাণ করতে পারে।

শাবিপ্রবিতে শিক্ষার্থীকে মারধর, ২ ছাত্রদল নেতা বহিষ্কার

নিজস্ব প্রতিবেদক, সিলেট
শাবিপ্রবিতে শিক্ষার্থীকে মারধর, ২ ছাত্রদল নেতা বহিষ্কার
সংগৃহীত ছবি

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলের ক্যান্টিনের খাবারের মান নিয়ে অভিযোগ করায় এক শিক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের ২ নেতাকে সাংগঠনিক পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

বহিষ্কৃতরা হলেন বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের যোগাযোগবিষয়ক সম্পাদক হাসিবুর রহমান এবং সহ-দপ্তর সম্পাদক তারেক রহমান। সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে তাদের বিরুদ্ধে এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

রবিবার (১৯ জুলাই) বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদের এক বিজ্ঞপ্তিতে এ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।

সংগঠনের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির এ সিদ্ধান্ত অনুমোদন করেছেন। বিজ্ঞপ্তিতে দপ্তর সম্পাদক (সহসভাপতির পদমর্যাদা) মো. জাহাঙ্গীর আলম স্বাক্ষর করেন।

এর আগে শনিবার রাত পৌনে ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে মারধরের এ ঘটনা ঘটে। আহত খাইরুল খন্দকার সমাজবিজ্ঞান বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। ঘটনার পর তিনি সিলেট নগরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নেন বলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক মোখলেসুর রহমান জানিয়েছেন।

ভুক্তভোগী খাইরুল খন্দকার অভিযোগ করে বলেন, ‘শাহপরান হলের ক্যান্টিনে নিম্নমানের খাবার, এমনকি পচা মাছ পরিবেশনের অভিযোগ তুলে তিনি হলের ফেসবুক গ্রুপে একটি পোস্ট করেছিলেন। পরে তাকে পোস্টটি নিয়ে কথা বলতে ডাকা হয়। একই রাতে আবারও খাবারের মান নিয়ে অভিযোগ করার পর শনিবার রাতে প্রধান ফটকের সামনে হাসিবুর রহমান ও তারেক রহমান তার সঙ্গে কথা বলেন। একপর্যায়ে তাকে বুকে লাথি ও মাথা-মুখে আঘাত করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি। পরে অন্য শিক্ষার্থীরা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান।

তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত তারেক রহমান। তার দাবি, হলের খাবার নিয়ে দেওয়া ফেসবুক পোস্টকে কেন্দ্র করে খাইরুলের সঙ্গে কথা বলতে গেলে তিনি অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন। এতে উভয় পক্ষের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনায় হাসিবুর রহমানও আহত হয়েছেন এবং তার চশমা ও মোবাইল ফোন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানান তারেক।

এ ঘটনার সঙ্গে নিজের কোনো সম্পৃক্ততা নেই বলে জানিয়েছেন শাহপরান হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. ইফতেখার আহমদ। তিনি বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের যেকোনো অভিযোগ আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা করা হয়। কাউকে মারধরের নির্দেশ দেওয়া বা এমন ঘটনার প্রশ্রয় দেওয়ার প্রশ্নই ওঠে না।’

এ ঘটনার প্রতিবাদে শনিবার রাতে উপাচার্যের বাসভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন শিক্ষার্থীরা। পরে উপাচার্য অধ্যাপক ড. খায়রুল ইসলাম তাদের সঙ্গে কথা বলে ৩ কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত শেষ করে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন।
 

বাকৃবিতে সহশিক্ষা কার্যক্রমের গুরুত্ব নিয়ে সেমিনার

বাকৃবি প্রতিনিধি
বাকৃবিতে সহশিক্ষা কার্যক্রমের গুরুত্ব নিয়ে সেমিনার
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে সহশিক্ষা কার্যক্রমের গুরুত্ব নিয়ে সেমিনার।

বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের দক্ষ, নেতৃত্বগুণসম্পন্ন ও আন্তর্জাতিক মানসম্মত গ্রাজুয়েট হিসেবে গড়ে তুলতে সহশিক্ষা কার্যক্রমের গুরুত্ব তুলে ধরে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বাকৃবি)  সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। টিএসসিকেন্দ্রিক বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের সদস্যদের অংশগ্রহণে ‘এক্সট্রা কারিকুলার অ্যাক্টিভিটিজ ফর প্রোডিউসিং কোয়ালিটি গ্র্যাজুয়েটস’ শীর্ষক সেমিনার আয়োজন করা হয়।

রবিবার (১৯ জুলাই) বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সম্মেলন কক্ষে ইনস্টিটিউশনাল কোয়ালিটি অ্যাসুরেন্স সেলের (আইকিউএসি) উদ্যোগে সেমিনারটি অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদের স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ের ৪০ জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেন।

আইকিউএসির পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. আসাদুজ্জামান সরকারের সভাপতিত্বে এবং সহযোগী পরিচালক অধ্যাপক ড. মুরাদ আহমেদ ফারুকের সঞ্চালনায় আয়োজিত সেমিনারে প্রধান পৃষ্ঠপোষক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাকৃবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে ফজলুল হক ভূঁইয়া। বিশেষ অতিথি ছিলেন ডিন কাউন্সিলের আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মো. বাহানুর রহমান এবং কৃষি অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. জি. এম. মুজিবর রহমান।

মুখ্য আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন, বাকৃবি রিসার্চ সিস্টেমের (বাউরেস) পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. হাম্মাদুর রহমান। এ ছাড়া আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন কৃষি সম্প্রসারণ শিক্ষা বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. গোলাম ফারুক, বাকৃবি ডিবেটিং সংঘের সভাপতি অধ্যাপক ড. আহমদ খায়রুল হাসান এবং সহযোগী ছাত্রবিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সাইফুল্লাহ। এ ছাড়া সেমিনারের শেষে বিভিন্ন সংগঠনের সদস্যদের অংশগ্রহণে মুক্ত আলোচনার আয়োজন করা হয়।

প্রধান পৃষ্ঠপোষকের বক্তব্যে বাকৃবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে ফজলুল হক ভূঁইয়া বলেন, ‘বর্তমান প্রতিযোগিতাপূর্ণ বিশ্বে দক্ষ, নেতৃত্বগুণসম্পন্ন ও আন্তর্জাতিক মানের ‘কোয়ালিটি গ্রাজুয়েট’ গড়ে তুলতে সহশিক্ষা কার্যক্রমের কোনো বিকল্প নেই। এ ধরনের সেমিনার শিক্ষার্থীদের দক্ষতা ও সচেতনতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।’

তিনি আরো বলেন, ‘সহশিক্ষা কার্যক্রম শিক্ষার্থীদের মন-মানসিকতার ইতিবাচক পরিবর্তন ঘটায় এবং পরবর্তী জীবনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে। আমি আশা করি শিক্ষার্থীদের আরো দক্ষ ও যোগ্য করে তোলার মাধ্যমে বাকৃবি ভবিষ্যতে আরো এগিয়ে যাবে।’