• ই-পেপার

এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের জন্য বড় সুখবর

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের প্রত্যাশা বাস্তবায়নে বহুমাত্রিক প্রচেষ্টা চালানোর আহ্বান

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের প্রত্যাশা বাস্তবায়নে বহুমাত্রিক প্রচেষ্টা চালানোর আহ্বান
ছবি : কালের কণ্ঠ

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের প্রত্যাশা বাস্তবায়নে বহুমাত্রিক ও বহুরৈখিক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বিভিন্ন ছাত্রসংগঠন ও জাতীয় নেতারা। শনিবার (১৮ জুলাই) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র (টিএসসি) প্রাঙ্গণে ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার উদ্যোগে আয়োজিত দিনব্যাপী ‘জুলাই জাগরণ ও স্বৈরাচার প্রতিরোধ দিবস’ উদযাপনের অনুষ্ঠানে এই আহ্বান জানান তারা।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় ছাত্রশক্তির সভাপতি জাহিদ আহসান, জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার ১ নম্বর সহসভাপতি আনিসুর রহমান অনিক, ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশের সিনিয়র সহসভাপতি খায়রুল আহসান মারজান, ইসলামী ছাত্রশিবিরের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সেক্রেটারি কাজী আশিক, ছাত্র অধিকার পরিষদের ঢাবি শাখার সভাপতি সাদমান আব্দুল্লাহ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আব্দুল কাদের।

বাদ আসর ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান : অর্জন-অপূর্ণতা ও রাজনৈতিক বিভাজন’ শীর্ষক প্যানেল আলোচনায় অংশ নেন জাতীয় পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ ও বিশিষ্টজনেরা। আলোচনায় অংশ নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শান্তি ও সংঘর্ষ অধ্যয়ন বিভাগের অধ্যাপক ও সাবেক প্রক্টর সাইফুদ্দিন আহমেদ বলেন, জুলাইয়ের প্রধান অর্জন হলো ভয়মুক্ত পরিবেশ অর্জন। আর কষ্টের বিষয় হলো, রেফারেন্ডাম বাস্তবায়িত না হওয়ার একমাত্র দৃষ্টান্ত হতে যাচ্ছে জুলাই রেফারেন্ডাম।

লেখক, গবেষক ও রাষ্ট্র চিন্তক শায়খ মুসা আল হাফিজ বলেন, জুলাইকে থামতে দেওয়া যাবে না, বরং বহু প্রচেষ্টার মাধ্যমে জুলাইকে নিরন্তন জারি রাখতে হবে।

প্যানেল আলোচনায় আরো অংশ নেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের অধ্যাপক ড. কামরুল ইসলাম, গণভোট বাস্তবায়ন নাগরিক ফোরামের আহ্বায়ক ফাহিম মাশরুর, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সহকারী মহাসচিব শেখ ফজলুল করীম মারুফ এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির সেক্রেটারি মাহাদী হাসান। 

দিনব্যাপী এই আয়োজনে সভাপতিত্ব করেন ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি সাইফ মুহাম্মাদ আলাউদ্দিন।

পাবিপ্রবিতে প্লাস্টিক জমা দিলেই মিলছে গাছের চারা

পাবিপ্রবি প্রতিনিধি
পাবিপ্রবিতে প্লাস্টিক জমা দিলেই মিলছে গাছের চারা
ছবি : কালের কণ্ঠ

পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (পাবিপ্রবি) প্লাস্টিক বর্জ্য সংগ্রহে উৎসাহিত করতে এবং পরিবেশ সংরক্ষণে শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ত করতে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছে পরিবেশভিত্তিক সংগঠন ‘গ্রীন ভয়েস’। ‘প্লাস্টিকের বিনিময়ে গাছ বিতরণ’ কর্মসূচির মাধ্যমে ব্যবহৃত প্লাস্টিক জমা দিলেই দেওয়া হচ্ছে বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা।

শনিবার (১৮ জুলাই) বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে এ কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়।

কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা ব্যবহৃত প্লাস্টিকের বোতল ও অন্যান্য প্লাস্টিক বর্জ্যের বিনিময়ে জাম, কাঁঠাল, নিম, বিভিন্ন প্রজাতির ফুলগাছ এবং ইনডোর প্ল্যান্টের চারা সংগ্রহ করেন।

আয়োজকরা জানান, প্লাস্টিক দূষণ কমানো এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে পরিবেশ সংরক্ষণে সচেতনতা সৃষ্টি করাই এ কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য। একই সঙ্গে বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে ক্যাম্পাস ও আশপাশের পরিবেশকে আরো সবুজ করে তোলার বার্তা দেওয়া হচ্ছে।

সংগঠনের পক্ষ থেকে আরো জানানো হয়, কর্মসূচিতে সংগ্রহ করা সব প্লাস্টিক আলাদাভাবে সংরক্ষণ করা হবে। পরে সেগুলো পৌরসভার প্লাস্টিক সংগ্রহকারীদের কাছে হস্তান্তর করা হবে, যাতে পুনঃপ্রক্রিয়াজাত (রিসাইক্লিং) করা সম্ভব হয়। এর মাধ্যমে প্লাস্টিক বর্জ্য পরিবেশ দূষণের কারণ না হয়ে পুনর্ব্যবহারের সুযোগ পাবে।

গ্রীন ভয়েসের সভাপতি মো. মুহুস্তাসিন নাদির বলেন, ‘এই কর্মসূচির মূল লক্ষ্য প্লাস্টিক দূষণ কমানো এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে পরিবেশ সংরক্ষণ বিষয়ে সচেতনতা সৃষ্টি করা। আমরা চাই, মানুষ প্লাস্টিককে আবর্জনা হিসেবে না ফেলে সঠিকভাবে সংগ্রহ করুক এবং এর বিনিময়ে একটি গাছ গ্রহণের মাধ্যমে পরিবেশ রক্ষায় অংশগ্রহণ করুক।’

সংগঠনটির উপদেষ্টা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ নাজমুল ইসলাম বলেন, ‘প্লাস্টিক পরিবেশের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। তাই এটিকে প্রকৃতিতে ফেলে না দিয়ে সঠিকভাবে ব্যবস্থাপনা করতে হবে। প্লাস্টিকের পরিবর্তে একটি গাছ গ্রহণের মাধ্যমে চারপাশকে সবুজ করে তোলাই এ উদ্যোগের লক্ষ্য।’

কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা দপ্তরের পরিচালক ড. মো. রাশেদুল হক, গ্রীন ভয়েসের সাধারণ সম্পাদক সামিয়া তাবাসসুম জিমি এবং সংগঠনের অন্যান্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা দিল বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ পাবলিক কলেজ

অনলাইন ডেস্ক
বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা দিল বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ পাবলিক কলেজ
সংগৃহীত ছবি

রাজধানীর পিলখানায় অবস্থিত বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ পাবলিক কলেজে ২০২৫ সালের প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষায় কৃতিত্ব অর্জনকারী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছে। শনিবার (১৮ জুলাই) সকাল ১০টায় কলেজ প্রাঙ্গণে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও বিপুলসংখ্যক অভিভাবক অংশ নেন।

কলেজ সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালের প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষায় প্রতিষ্ঠানটি থেকে মোট ৩৮ জন শিক্ষার্থী বৃত্তি অর্জন করেছে। এর মধ্যে ১৪ জন মেধাবৃত্তি এবং ২৪ জন সাধারণ বৃত্তি লাভ করেছে। এ ফলাফলের মাধ্যমে লালবাগ থানার মধ্যে প্রথম স্থান অর্জন করেছে বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ পাবলিক কলেজ।

সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কলেজের অধ্যক্ষ লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম। তিনি বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, ‘এই অর্জনের ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে হবে। ভবিষ্যতে আরো ভালো ফলাফল অর্জনের জন্য এখন থেকেই আন্তরিকভাবে প্রস্তুতি নিতে হবে।’

অনুষ্ঠানে শিক্ষক ও অভিভাবকরাও শিক্ষার্থীদের এই সাফল্যে আনন্দ প্রকাশ করেন। তারা শিক্ষার্থীদের অধ্যবসায়, অভিভাবকদের সহযোগিতা এবং প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার মানের প্রশংসা করেন। একই সঙ্গে ভবিষ্যতেও এ ধরনের সাফল্যের ধারা অব্যাহত থাকবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে অংশ নেওয়া ঢাবি শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের স্বীকৃতি দেওয়া হবে

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে অংশ নেওয়া ঢাবি শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের স্বীকৃতি দেওয়া হবে
সংগৃহীত ছবি

ঐতিহাসিক জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে সম্পৃক্ত থাকা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ছাত্র-শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের উপযুক্ত প্রমাণ সাপেক্ষে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি প্রদানের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। গণ-অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকী উপলক্ষে গৃহীত মাসব্যাপী কর্মসূচির অংশ হিসেবে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলামের সভাপতিত্বে অধ্যাপক আব্দুল মতিন চৌধুরী ভার্চুয়াল ক্লাসরুমে অনুষ্ঠিত এক সভায় এসব কর্মসূচি চূড়ান্ত করা হয়।

সভায় সিদ্ধান্ত হয়, আন্দোলনে অংশগ্রহণকারীদের অভিজ্ঞতা নিয়ে একটি বিশেষ স্মরণিকা প্রকাশ করা হবে। অন্যদিকে যারা জুলাই আন্দোলনে ছাত্র-জনতার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছিল এবং বিগত ১৭ বছর ধরে পতিত সরকারের দোসর হিসেবে কাজ করেছে, উপযুক্ত প্রমাণ সাপেক্ষে তাদের বিচার নিশ্চিত করা হবে। এই দোসরদের জুলাই বিপ্লবের কোনো কর্মসূচিতে সম্পৃক্ত না করারও সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে।

সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের শহীদদের স্মরণে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ‘জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ’ নির্মাণ করা হবে। আগামী ৫ আগস্ট এই স্মৃতিস্তম্ভের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হবে।

এ ছাড়া কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারে শহীদদের ব্যবহৃত সামগ্রী, স্থিরচিত্র ও ভিডিও সংরক্ষণের জন্য একটি ‘জুলাই কর্নার’ স্থাপন করা হবে। পাশাপাশি, প্রতিবছর ১৪ জুলাইকে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ‘জুলাই উইমেন্স ডে’ হিসেবে পালনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যা বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ক্যালেন্ডারেও অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন দেয়ালে অঙ্কিত জুলাই গ্রাফিতিগুলো পুনরায় রং করে সংরক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে এবং ৫ আগস্ট পর্যন্ত ক্যাম্পাসের বিভিন্ন পয়েন্টে জুলাই আন্দোলনের ডকুমেন্টারি প্রদর্শন করা হবে।

আগামী ৫ আগস্ট ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র (টিএসসি) মিলনায়তনে একটি আলোচনাসভা এবং আসরের পর কেন্দ্রীয় মসজিদে বিশেষ দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে। এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি অনুষদ, হল, বিভাগ ও ইনস্টিটিউট মাসব্যাপী নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় স্মৃতিচারণামূলক কর্মসূচি পালন করবে।

ইতোমধ্যে এই মাসব্যাপী কর্মসূচির অংশ হিসেবে ১৭ জুলাই শুক্রবার রাত ৮টায় বাংলাদেশ-কুয়েত মৈত্রী হলে মোমবাতি প্রজ্বালন ও দেশাত্মবোধক সংগীত পরিবেশনের আয়োজন করা হয়।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ১৭ জুলাই এই হলের শিক্ষার্থীরা মোমবাতি প্রজ্বালনের মাধ্যমেই তৎকালীন ফ্যাসিস্ট সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন।