• ই-পেপার

বাকৃবিতে সহশিক্ষা কার্যক্রমের গুরুত্ব নিয়ে সেমিনার

পাকুন্দিয়ায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৭ শিক্ষার্থীর জন্য ৬ শিক্ষক

পরিদর্শনে গিয়ে এমপির ক্ষোভ

পাকুন্দিয়া (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি
পাকুন্দিয়ায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৭ শিক্ষার্থীর জন্য ৬ শিক্ষক
পাকুন্দিয়ার শ্রীরামদী পূর্বপাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পরিদর্শনে গেছেন কিশোরগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মো. জালাল উদ্দীন।

কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া পৌরসভার ১৭২নং শ্রীরামদী পূর্বপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। প্রতিষ্ঠানটিতে শিক্ষার্থীর সংখ্যা মাত্র ৭ জন। অথচ তার বিপরীতে পাঠদানের জন্য শিক্ষক রয়েছেন ৬ জন। আজ রবিবার সকালে সরেজমিন পরিদর্শনে গিয়ে বিদ্যালয়টিতে এমন চিত্র দেখতে পান কিশোরগঞ্জ-২ (পাকুন্দিয়া-কটিয়াদী) আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মো. জালাল উদ্দীন। এ সময় বিদ্যালয়ের এমন দৃশ্য দেখে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তিনি।

রবিবার (১৯ জুলাই) সকাল ১১টার দিকে বিদ্যালয়টি পরিদর্শন করেন তিনি। এ সময় তিনি বিদ্যালয়ের তৃতীয়, চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণির কক্ষগুলো ঘুরে দেখেন। পঞ্চম শ্রেণির কক্ষে মাত্র ৭ জন শিক্ষার্থীর উপস্থিতি পেলেও তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণীর কক্ষ পুরোটাই ফাঁকা দেখতে পান। এদিন মোট ৬ জন শিক্ষকের মধ্যে ৪ জন শিক্ষক উপস্থিত ছিলেন।

এদিকে প্রতিষ্ঠানে কাগজে-কলমে শিক্ষার্থীর সংখ্যা দেখানো হয়েছে ৭১ জন। অপরদিকে নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষকের সংখ্যা দেখানো হয়েছে ৬ জন। এ বিষয়ে প্রশ্ন করলে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সঠিক উত্তর দিতে পারেননি।

পরিদর্শনকালে এমপির সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুপম দাস, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আবেদ হোসেন এবং উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার মো. শারফুল ইসলাম।

এ বিষয়ে সংসদ সদস্য জালাল উদ্দীন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘বিদ্যালয়টির দুরবস্থার খবর পেয়ে আকস্মিক পরিদর্শনে যাই। পরিদর্শনে গিয়ে ছাত্র-শিক্ষকের যে উপস্থিতি দেখতে পেলাম তা অত্যন্ত হতাশাজনক। বিদ্যালয়টিতে ৬ জন শিক্ষকের বিপরীতে মাত্র ৭ জন শিক্ষার্থী উপস্থিত। এটা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। এখন থেকে নিয়মিত বিদ্যালয়গুলো পরিদর্শন করা হবে এবং অবহেলাকারীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যাবস্থা গ্রহণের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে সুপারিশ করা হবে।’
 

জুলাই গণ-অভ্যুত্থান এই প্রজন্মের শ্রেষ্ঠ অর্জন : ছাত্রদল সভাপতি

জবি প্রতিনিধি
জুলাই গণ-অভ্যুত্থান এই প্রজন্মের শ্রেষ্ঠ অর্জন : ছাত্রদল সভাপতি
ছবি: কালের কণ্ঠ

জুলাই গণ-অভ্যুত্থান এই প্রজন্মের শ্রেষ্ঠ অর্জন বলে মন্তব্য করেছেন ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব। তিনি বলেন, জুলাই শত বছরে একবার আসে। ১৯৭১ সালের স্বাধীনতার মতো জুলাই গণ-অভ্যুত্থানও জাতির ইতিহাসে একটি অনন্য অধ্যায়। তাই জুলাইয়ের চেতনাকে ধরে রাখতে হবে। 

রবিবার (১৯ জুলাই) বিকেলে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে ‘স্মরণে জুলাই, ছাত্রদল ও অন্যান্য’ শীর্ষক স্মরণসভায় এসব কথা বলেন তিনি। 

ছাত্রদল সভাপতি বলেন, জুলাইয়ের স্মৃতি সবার কাছে একেক রকম। কিন্তু এই আন্দোলনের চেতনা নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতে আরো বেশি আলোচনা ও স্মরণমূলক কর্মসূচি প্রয়োজন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ঢাকা-৭ আসনের সংসদ সদস্য হামিদুর রহমান হামিদ বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দেশের গণতন্ত্র ও মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। এ আন্দোলনে যারা জীবন দিয়েছেন এবং আহত হয়েছেন, তাদের আত্মত্যাগ জাতি চিরদিন স্মরণ করবে। জুলাইয়ের চেতনাকে ধারণ করে একটি বৈষম্যহীন, গণতান্ত্রিক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।

স্মরণসভায় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সদস্যসচিব শামসুল আরেফিন বলেন, জুলাই আন্দোলন শুধু ৩৬ দিনের নয়, এটি দীর্ঘ ১৬-১৭ বছরের গণতান্ত্রিক আন্দোলনের ধারাবাহিকতা। দীর্ঘ সংগ্রামের মধ্য দিয়েই স্বৈরাচারী শক্তির পতন সম্ভব হয়েছে।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মেহেদী হাসান হিমেল বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থান কেবল একটি আন্দোলন নয়, এটি দেশের মানুষের অধিকার ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রামের প্রতীক। শহীদদের আত্মত্যাগকে ধারণ করে একটি বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ে তুলতে শিক্ষার্থীদের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

হিমেল আরো বলেন, জুলাইয়ের ইতিহাস বিকৃত করার কোনো সুযোগ নেই। এর প্রকৃত ইতিহাস সংরক্ষণ ও নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে নিয়মিত আলোচনা, গবেষণা ও স্মরণমূলক আয়োজন অব্যাহত রাখতে হবে।

স্মরণসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রইছ উদ্দিন ও কোষাধ্যক্ষ ড. সাবিনা শারমিন। এ ছাড়া ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সহসভাপতি কাজী জিয়া উদ্দীন বাসিত, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র অধিকারের সাবেক সভাপতি এ কে এম রাকিব, ছাত্রশক্তির মুখ্য সংগঠক ফেরদৌস শেখ, জকসুর প্রতিনিধি মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক সম্পাদক নুর নবী, শাখা ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সুজন মোল্লাসহ কেন্দ্রীয় ও বিশ্ববিদ্যালয় শাখার নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

কুমিল্লা বোর্ডে রবিবারের এইচএসসি পরীক্ষায় অনুপস্থিত ১৭১২, বহিষ্কার ১

কুমিল্লা প্রতিনিধি
কুমিল্লা বোর্ডে রবিবারের এইচএসসি পরীক্ষায় অনুপস্থিত ১৭১২, বহিষ্কার ১
সংগৃহীত ছবি

কুমিল্লা মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের অধীনে রবিবারের এইচএসসি পরীক্ষার রসায়ন (তত্ত্বীয়) ১ম পত্র, ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি ১ম পত্র, ইতিহাস ১ম পত্র, গৃহ ব্যবস্থাপনা ও পারিবারিক জীবন ১ম পত্র ও উৎপাদন ব্যবস্থাপনা ও বিপণন ১ম পত্র বিষয়ে ১ হাজার ৭১২ জন পরীক্ষার্থী অনুপস্থিত ছিল। এ ছাড়া অসদুপায় অবলম্বনের দায়ে ১ পরীক্ষার্থীকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

রবিবার (১৯ জুলাই) সন্ধ্যায় কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের উপ-পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক সালাহ্উদ্দিন কালের কণ্ঠকে এই তথ্য নিশ্চিত করেন।

তিনি জানান, কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের অধীন কুমিল্লা, ফেনী, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, চাঁদপুর ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার মোট ৫৯ হাজার ৭২৯ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৫৮ হাজার ১৭ জন ছাত্র-ছাত্রী পরীক্ষায় অংশ নেয়। অবশিষ্ট ১ হাজার ৭১২ জন পরীক্ষার্থী অনুপস্থিত ছিল। অনুপস্থিতির হার ২ দশমিক ৮৭ শতাংশ।

অনুপস্থিত পরীক্ষার্থীদের মধ্যে কুমিল্লা জেলায় ৫৮৩ জন, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ২৪০ জন, চাঁদপুরে ১২৪ জন, ফেনীতে ১৪৯ জন, নোয়াখালীতে ৪৩৮ জন এবং লক্ষ্মীপুর জেলায় ১৭৮ জন অনুপস্থিত ছিল। এ ছাড়া অসদুপায় অবলম্বনের দায়ে নোয়াখালী জেলায় ১ পরীক্ষার্থীকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

উপ-পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক সালাহ্উদ্দিন আরো বলেন, ‘রবিবার অনুষ্ঠিত পরীক্ষায় কুমিল্লা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, চাঁদপুর, ফেনী, নোয়াখালী ও লক্ষ্মীপুর জেলায় মোট ১ হাজার ৭১২ জন পরীক্ষার্থী অনুপস্থিত ছিল। এ ছাড়া অসদুপায় অবলম্বনের দায়ে নোয়াখালী জেলায় ১ শিক্ষার্থীকে বহিষ্কার করা হয়েছে।’

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়

পদত্যাগ করলেন আইনুল ইসলাম, দায়িত্বে শাওলী মাহবুব

অনলাইন ডেস্ক
পদত্যাগ করলেন আইনুল ইসলাম, দায়িত্বে শাওলী মাহবুব

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিনের দায়িত্ব থেকে পদত্যাগ করেছেন অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক আইনুল ইসলাম। ছাত্রসংগঠনগুলোর নেতারা ডিন কার্যালয় ঘেরাও করে পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভ এবং চাপ সৃষ্টির তিনদিন পর তিনি পদত্যাগ করলেন। নতুন ডিন হিসেবে নৃবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক শাওলী মাহবুবকে নিয়োগ দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

রবিবার (১৯ জুলাই) বিশ্ববিদ্যালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় আইন মোতাবেক সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদভুক্ত নৃবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক শাওলী মাহবুবকে পরবর্তী দুই বছরের জন্য ওই অনুষদের ডিন হিসেবে নিযুক্ত করা হলো। ২০ জুলাই থেকে এই আদেশ কার্যকর হবে। তিনি বিধিমোতাবেক ভাতা ও অন্যান্য সুবিধা পাবেন।

জানা গেছে, অধ্যাপক আইনুল ইসলাম ডিনের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি চেয়ে আবেদন করলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তার আবেদন গ্রহণ করে নতুন ডিন নিয়োগ দেয়।

গত ১২ জুলাই জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে সমাজবিজ্ঞান অনুষদের ডিন হিসেবে অধ্যাপক ড. মো. আইনুল ইসলামকে নিয়োগ দেওয়া হয়। তবে নিয়োগের পর থেকেই জুলাই গণ-অভ্যুত্থান চলাকালে তার ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে ছাত্রদল, ছাত্রশক্তি, জাকসু ও ছাত্র অধিকার পরিষদের নেতারা তার অপসারণের দাবিতে আন্দোলন শুরু করেন।

গত ১৬ জুলাই সমাজবিজ্ঞান অনুষদের ডিন কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন এসব ছাত্রসংগঠনের নেতাকর্মীরা। এ সময় সংগঠনের নেতাকর্মীরা কার্যালয় ঘেরাও করে ভেতরে প্রবেশ করেন এবং অধ্যাপক ড. মো. আইনুল ইসলামের পদত্যাগ দাবি জানান। তাকে ‘ফ্যাসিবাদের দোসর’ আখ্যা দিয়ে বিভিন্ন স্লোগান দেন তারা। আন্দোলনরত নেতাদের তীব্র চাপের মুখে তিনি ডিন কার্যালয় ত্যাগ করেন। ওই ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও ছড়িয়ে পড়ে।