• ই-পেপার

‘মেসিকে আটকানো অসম্ভব’—উত্তরসূরিদের স্পেন কিংবদন্তি

স্পেন বধের লক্ষ্যে ৩ পরিবর্তন নিয়ে আর্জেন্টিনার একাদশে চমক

ক্রীড়া ডেস্ক
স্পেন বধের লক্ষ্যে ৩ পরিবর্তন নিয়ে আর্জেন্টিনার একাদশে চমক

টানা দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের সোনালী ট্রফিটা ঘরে তুলতে মরিয়া আর্জেন্টিনা। শিরোপা নির্ধারণী মহাযুদ্ধে আলবিসেলেস্তেদের প্রতিপক্ষ স্পেন। ফাইনালের এই হাইভোল্টেজ ম্যাচে স্প্যানিশদের রুখে দিতে নিজেদের রণকৌশল বদলে ফেলেছেন আর্জেন্টাইন মাস্টারমাইন্ড লিওনেল স্কালোনি। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ২-১ ব্যবধানে জেতা সেমিফাইনালের স্কোয়াড থেকে ফাইনালে একাদশে তিনটি বড় পরিবর্তন এনেছে বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। তবে মহাগুরুত্বপূর্ণ এই ম্যাচে শুরু থেকেই মাঠে থাকছেন অধিনায়ক লিওনেল মেসি।

সেমিফাইনালে রাইটব্যাক পজিশনে নাহুয়েল মলিনার পারফরম্যান্স মোটেও সন্তোষজনক ছিল না। ইংলিশদের গোলটি এসেছিল তার প্রান্ত ব্যবহার করেই। তাই ফাইনালে মলিনার ওপর আর ভরসা রাখতে পারেননি স্কালোনি; তার জায়গায় মূল একাদশে সুযোগ পেয়েছেন গঞ্জালো মন্তিয়েল। সেমিতে বদলি হিসেবে নেমে বাজিমাত করা রিভার প্লেটের এই ডিফেন্ডারকে সেরা উপহারটাই দিলেন কোচ।

মিডফিল্ডে দ্বিতীয় পরিবর্তনটি এসেছে রদ্রিগো ডি পলের হাত ধরে। সেমিফাইনালের শুরুর একাদশ থেকে বাদ পড়া এই মিডফিল্ডার ফাইনালে নিজের জায়গা পুনরুদ্ধার করেছেন। তার জন্য বেঞ্চে ফিরে যেতে হয়েছে জিউলিয়ানো সিমিওনেকে।

তবে সবচেয়ে বড় চমকটি এসেছে শেষ পরিবর্তনে। শতভাগ ফিট না থাকায় ফাইনালের দল থেকে ছিটকে গেছেন অভিজ্ঞ লিয়ান্দ্রো পারেদেস। তার জায়গায় আক্রমণাত্মক ফুটবল উপহার দিতে দলে ডাক পেয়েছেন নিকোলাস গঞ্জালেজ। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে বদলি নেমে প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগে বেশ কাঁপন ধরিয়েছিলেন তিনি, যার পুরস্কার মিলল ফাইনালের মঞ্চে।

আর্জেন্টিনার শুরুর একাদশ:

এমিলিয়ানো মার্টিনেজ (গোলকিপার), গঞ্জালো মন্তিয়েল, ক্রিশ্চিয়ান রোমেরো, লিসান্দ্রো মার্টিনেজ, নিকোলাস তাগলিয়াফিকো, রদ্রিগো ডি পল, এনজো ফার্নান্দেজ, অ্যালেক্সিস মাক অ্যালিস্টার, নিকোলাস গঞ্জালেজ, লিওনেল মেসি ও হুলিয়ান আলভারেজ।  

আর্জেন্টিনাকে ‘প্রকৃত বন্ধু’ জানিয়ে ফাইনালে জয় চাইলেন নেতানিয়াহু

ক্রীড়া ডেস্ক
আর্জেন্টিনাকে ‘প্রকৃত বন্ধু’ জানিয়ে ফাইনালে জয় চাইলেন নেতানিয়াহু
ছবি : রয়টার্স

ফুটবলের বিশ্বমঞ্চের মহাযুদ্ধের আগমুহূর্তে রাজনৈতিক সম্পর্কের গণ্ডি পেরিয়ে ক্রীড়া কূটনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করল ইসরায়েল ও আর্জেন্টিনা। ফিফা বিশ্বকাপের ফাইনাল ম্যাচের ঠিক আগের দিন আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলেইয়ের কাছে বিশেষ সমর্থন ও শুভেচ্ছাবার্তা পাঠিয়েছেন ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু।

গতকাল শনিবার ইসরায়েলে নিযুক্ত আর্জেন্টিনার রাষ্ট্রদূত রাব্বি শিমন অ্যাক্সেল ওয়াজনিসের সঙ্গে এক দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে এই সংহতি প্রকাশ করেন তিনি। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ‘তুর্কি টুডে’-র এক প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে।

রাষ্ট্রদূতের মাধ্যমে মিলেইকে পাঠানো এক বিশেষ বার্তায় ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘হাভিয়ের, আপনি একজন প্রকৃত বন্ধু। আমরা আপনাকে এবং আর্জেন্টিনাকে সবক্ষেত্রেই সমর্থন করি, যার মধ্যে আগামীকালের ফাইনাল ম্যাচটিও অন্তর্ভুক্ত। দলের জন্য শুভকামনা!’

নেতানিয়াহুর এমন বার্তার জবাবে রাষ্ট্রদূত ওয়াজনিস আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্টের পক্ষ থেকে ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান। মিলেইর উদ্ধৃতি দিয়ে রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘আপনি আমার পরম বন্ধু এবং সব সময় আমাদের পাশে দাঁড়িয়েছেন। এটা জেনে সত্যিই খুব ভালো লাগছে যে আমার কারণে আপনি ফাইনালে স্পেনের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার জয় চাচ্ছেন।’

২০২৩ সালের ডিসেম্বরে ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকেই ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্ককে নিজের পররাষ্ট্রনীতির অন্যতম প্রধান ভিত্তি হিসেবে দাঁড় করিয়েছেন কট্টর ডানপন্থী নেতা হাভিয়ের মিলেই। তেল আবিবকে আর্জেন্টিনার ‘কৌশলগত মিত্র’ ও ‘অভিন্ন মূল্যবোধের’ অংশীদার মনে করা মিলেই ক্ষমতা নেওয়ার পর এ পর্যন্ত তিনবার ইসরাইল সফর করেছেন। সর্বশেষ ২০২৬ সালের এপ্রিলে রাষ্ট্রীয় সফরে গিয়ে নেতানিয়াহু ও প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজোগের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করেন তিনি।

বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুও মিলেইর প্রতি বরাবরই বেশ উচ্ছ্বসিত। মিলেইকে ‘ইসরাইলের মহান বন্ধু’ হিসেবে আখ্যা দেওয়ার পাশাপাশি মিলেইর মুক্তবাজার অর্থনীতি নীতির প্রশংসায় পঞ্চমুখ তিনি। ইতিমধ্যে দুই দেশের মধ্যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে একাধিক সহযোগিতা চুক্তিও সই হয়েছে। উল্লেখ্য, ক্যাথলিক হিসেবে বেড়ে উঠলেও মিলেইর ইহুদি ধর্মের প্রতি গভীর অনুরাগ রয়েছে এবং আন্তর্জাতিক ফোরামে তিনি নিয়মিত ইসরাইলের সামরিক অভিযানের পক্ষে অবস্থান নিয়ে থাকেন।

নেতানিয়াহু এর আগেও সংবাদমাধ্যমে জানিয়েছিলেন যে তিনি আর্জেন্টিনার খেলা অনুসরণ করছেন এবং মিলেইর সঙ্গে সুসম্পর্কের কারণেই আলবিসেলেস্তেদের সমর্থন দিচ্ছেন।

ব্লকবাস্টার ফাইনালে রাতে মুখোমুখি আর্জেন্টিনা-স্পেন

ক্রীড়া ডেস্ক
ব্লকবাস্টার ফাইনালে রাতে মুখোমুখি আর্জেন্টিনা-স্পেন

আর্জেন্টিনার চতুর্থ নাকি স্পেনের দ্বিতীয়, ইয়ামাল নাকি মেসি—কে উঁচিয়ে ধরবেন এবারের বিশ্বকাপ শিরোপা? যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সি স্টেডিয়ামে ব্লকবাস্টার ফাইনালে রাতে মুখোমুখি ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা এবং ইউরোর সেরা স্পেন। নতুন চ্যাম্পিয়নকে বরণ করে নেওয়ার মধ্য দিয়েই আজ পর্দা নামবে গ্রেটেস্ট শো অন আর্থের। বাংলাদেশ সময় রাত ১টায় শুরু হবে ম্যাচ।

তিন আয়োজক দেশ, ১৬ ভেন্যু, ৪৮ দেশ ও ১০৪ ম্যাচের মহারণ শেষে রবিবার পর্দা নামবে দ্য গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ ফুটবল বিশ্বকাপের।

দুই দলের মুখোমুখি ১৪ দেখায় সমান ৬টি করে জয় আর্জেন্টিনা ও স্পেনের। বিশ্বকাপে একবারের দেখায় অবশ্য হারতে হয়েছিল স্পেনকে।

আলবিসেলেস্তেদের টানা দুই, নাকি ১৬ বছর পর স্প্যানিশ রূপকথার পুনর্জন্ম—উত্তর জানা যাবে আজ রাতেই।

রদ্রিতে ভর করে দ্বিতীয়বার শিরোপা উঁচিয়ে ধরতে পারবে স্পেন?

ক্রীড়া ডেস্ক
রদ্রিতে ভর করে দ্বিতীয়বার শিরোপা উঁচিয়ে ধরতে পারবে স্পেন?
ছবি : বয়টার্স

তিন বছর ধরে রদ্রিগো হার্নান্দেজ ক্যাসকান্তের (রদ্রি) জীবনটা যেন কেটেছে রোলার কোস্টারের মতো। ২০২৩ সালের চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ফাইনালে ম্যানচেস্টার সিটির হয়ে জয়সূচক গোল। ২০২৪ স্পেনের হয়ে ইউরো জেতা এবং একই বছর বিশ্বের সেরা ফুটবলার হিসেবে ‘ব্যালন ডি’অর’ জয়ের মতো ক্যারিয়ারের সর্বোচ্চ চূড়া তিনি দেখেছেন। আবার একই সাথে ক্যারিয়ার ধ্বংসকারী হাঁটুর লিগামেন্ট ইনজুরি এবং তা থেকে সেরে ওঠার লড়াইয়ে বারবার ছিটকে যাওয়ার মতো যন্ত্রণাদায়ক অধ্যায়ও তাকে পার করতে হয়েছে। এত কম সময়ে একজন ফুটবলার সাধারণত যা দেখেন না, রদ্রি তার চেয়েও বেশি কিছু দেখে ফেলেছেন।

তবে এই গ্রীষ্মে নিজের চেনা ফর্ম ও পুরোপুরি ফিটনেস ফিরে পায়। এরপর আর পিছে ফিরে তাকাতে হয়নি তাকে। দুর্দান্ত খেলে বিশ্বকাপে স্পেনকে নিয়ে গেছে ফাইনালে। রবিবার আর্জেন্টিনার বিপক্ষে বিশ্বকাপের ফাইনাল মহারণের আগে এই স্প্যানিশ মিডফিল্ডার রয়েছেন তার ক্যারিয়ারের সেরা আত্মবিশ্বাসের তুঙ্গে। তাকে নিয়ে থাকা সব সংশয় এখন দূর, চারপাশে আবার ফিরে এসেছে শুধু রদ্রি-বন্দনা।

যুক্তরাষ্ট্রের সেই দুঃস্বপ্ন ও সিটির ক্লাব বিশ্বকাপ থেকে বিদায়

ঠিক এক বছর আগে এই যুক্তরাষ্ট্রেই রদ্রি তার ক্যারিয়ারের অন্যতম এক কঠিন সময় পার করেছিলেন। হাঁটুর গুরুতর ইনজুরিতে পড়ার ৯ মাস পর ম্যানচেস্টার সিটির হয়ে ফিফা ক্লাব বিশ্বকাপে জুভেন্টাসের বিপক্ষে ৫-২ ব্যবধানের জয়ে তার ফেরাটা আশা জাগানিয়া ছিল। কিন্তু পরের রাউন্ডেই আল হিলালের মুখোমুখি হয় সিটি। দ্বিতীয়ার্ধে মাঠে নামার পর অতিরিক্ত সময়ের শুরুতে চোটের কারণে রদ্রি মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন । সিটিও টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে যায়। 

স্পেনের ফাইনালে ওঠার মূল চাবিকাঠি ও কোচের আস্থা

ঠিক ১২ মাস পর, সেই আমেরিকাতেই স্পেনের বিশ্বকাপ ফাইনালে ওঠার প্রধান রূপকার এই রদ্রি। সেমিফাইনালে টুর্নামেন্টের অন্যতম ফেবারিট ফ্রান্সকে হারানোর পর স্প্যানিশ কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল—বিশ্বের অন্যতম সেরা আক্রমণভাগের বিরুদ্ধে স্পেন কীভাবে এতটা আধিপত্য বিস্তার করল? 

জবাবে কোচ আলাদাভাবে একজনের নাম উল্লেখ করে হাসিমুখে বলেন,‘রদ্রি হলো মাঝমাঠের সেই মেরুদণ্ড, যে সবকিছু নিখুঁতভাবে নিয়ন্ত্রণ করে।’

ব্যক্তিনির্ভর ফুটবলের চেয়ে দলীয় শক্তিতে বিশ্বাসী দে লা ফুয়েন্তের মুখে রদ্রির এই প্রশংসা ছিল বিশেষ কিছু। বর্তমান বিশ্বকাপের গোল্ডেন বুটের দৌড়ে যখন লিওনেল মেসি, কিলিয়ান এমবাপ্পে, আর্লিং হালান্ড, জুড বেলিংহাম বা হ্যারি কেনদের মতো তারকারা আলো ছড়াচ্ছেন। তখন স্পেন ফাইনালে উঠেছে দলীয় শক্তির জোরে, যার মূল চালিকাশক্তি হলেন রদ্রি।

ফ্রান্সের বিপক্ষে প্রচারবিমুখ ও শান্ত এক শ্রেষ্ঠত্বে লড়াই

বিশ্বকাপের মঞ্চে মেসি, এমবাপ্পে বা বেলিংহামরা যেভাবে হ্যাটট্রিক বা গোল করে লাইমলাইট কেড়ে নেন। রদ্রি সেভাবে আলো কাড়েন না। তার পারফরম্যান্স থাকে শান্ত, প্রচারবিমুখ ও অসাধারণ কার্যকারিতায় ঘেরা। সেমিফাইনালে তিনি একাই ফ্রান্সের পুরো মাঝমাঠের চেয়ে বেশি ডুয়েল (১১টি) জিতেছেন, যেখানে ফ্রান্সের পুরো মিডফিল্ড মিলে জিতেছিল মাত্র ৭টি। এর পাশাপাশি তিনি ৮৭% সঠিক পাস দিয়েছেন, চারটি ট্যাকল করেছেন এবং দুবার বল পুনরুদ্ধার করেছেন। ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ এতটাই তার হাতে ছিল যে গোলরক্ষক উনাই সিমনকে পুরো ম্যাচে তেমন কোনো সেভই করতে হয়নি।

এমনকি পেদ্রো পোরোর করা দ্বিতীয় গোলটির নেপথ্যেও ছিল রদ্রির নীরব অবদান। ফ্রান্সের পেনাল্টি বক্স থেকে বলটি যখন বাউন্স করে বাইরে চলে আসছিল, রদ্রি অত্যন্ত সুনিপুণভাবে তা নিজের নিয়ন্ত্রণে নেন এবং কোনো তাড়াহুড়ো ছাড়াই তা সতীর্থদের কাছে পাস দিয়ে আক্রমণটি ধরে রাখেন। এর ঠিক কয়েক সেকেন্ড পরেই বলটি ফ্রান্সের জালে জড়ায়।

পরিসংখ্যানে বিশ্বকাপের সেরা

পুরো বিশ্বকাপ জুড়ে রদ্রির চেয়ে বেশি বল টাচ (৭৯৪ বার), নিখুঁত পাস (৬৫৫টি) কিংবা প্রতিপক্ষের রক্ষণচেরা পাস (১০৬টি) আর কোনো খেলোয়াড় দিতে পারেননি। ঠিক এই দুর্দান্ত ফর্মের কারণেই ২০২৪ সালে তিনি ব্যালন ডি’অর জিতেছিলেন।

গত মৌসুমে দুটি দীর্ঘ মেয়াদে মাঠের বাইরে থাকার কারণে (অক্টোবর-জানুয়ারি এবং এপ্রিল-মে) তিনি কি আবার আগের স্তরে ফিরতে পারবেন কি না? তা নিয়ে ফুটবল বিশ্বে অনেক প্রশ্ন উঠেছিল। 

তবে তার ক্লাব কোচ পেপ গার্দিওলা এবং জাতীয় দল কোচ দে লা ফুয়েন্তে—দুজনের ভবিষ্যদ্বাণীই সত্যি প্রমাণিত হয়েছে। 

ফ্রান্সের বিপক্ষে জয়ের পর দে লা ফুয়েন্তে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন,‘রদ্রিকে নিয়ে প্রশ্ন তোলা মানে নিজের বুদ্ধিমত্তাকে অপমান করা। সময় প্রমাণ করেছে আমরাই সঠিক ছিলাম। সে খুব কম টাচে খেলে দলে ভারসাম্য আনে এবং প্রতিপক্ষের কাছ থেকে অজস্র বল কেড়ে নেয়। আমাদের খেলার ধরনের জন্য সে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’

গ্রুপ পর্বে কেপ ভার্দের সাথে আচমকা গোলে ড্র করার পর স্প্যানিশ সমর্থকরা যখন তীব্র সমালোচনা হচ্ছিল। ঠিক তখনই সৌদি আরবকে ৪-০ গোলে উড়িয়ে দিয়ে ঘুরে দাঁড়ায় স্পেন। 

ম্যাচ শেষে দে লা ফুয়েন্তে স্প্যানিশ ভক্তদের উদ্দেশে বলেছিলেন, আমরা সত্যিই ভাগ্যবান যে রদ্রির মতো একজন খেলোয়াড় আমাদের দলে আছে। নিজের পজিশনে সেই বর্তমান বিশ্বের সেরা।

ফেরার পথটা দীর্ঘ এবং অত্যন্ত কঠিন ছিল। তবে আজ রবিবার আর্জেন্টিনার বিপক্ষে বিশ্বকাপের সোনালী ট্রফিটি উঁচিয়ে ধরতে পারলে রদ্রির তিন বছরের এই রোলার কোস্টার সফরটি এক পরম পূর্ণতা পাবে।