• ই-পেপার

স্পেন বধের লক্ষ্যে ৩ পরিবর্তন নিয়ে আর্জেন্টিনার একাদশে চমক

শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সর্বস্ব দিয়ে খেলার জন্য—আর্জেন্টিনাকে ধন্যবাদ এএফএ সভাপতির

ক্রীড়া ডেস্ক
শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সর্বস্ব দিয়ে খেলার জন্য—আর্জেন্টিনাকে ধন্যবাদ এএফএ সভাপতির
ছবি : রয়টার্স

টানা দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ জয়ের কাছে গিয়েও সোনালি ট্রফিটি উঁচিয়ে ধরা হলো না আর্জেন্টিনার। স্পেনের কাছে হেরে যায় আলবেসিলেস্তরা। ১০ জনের দল নিয়ে স্পেনকে অতিরিক্ত সময়ের খেলায় নিয়ে যাওয়ার কৃতিত্ব পুরো দলের লড়াকু মানসিকতারই প্রকাশ। দলের এমন মানসিকতার ভূয়সী প্রশংসা করে দলের খেলোয়াড় ও কোচিং স্টাফদের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের (এএফএ) সভাপতি ক্লাউদিও তাপিয়া। 

মেটলাইফ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত এই শ্বাসরুদ্ধকর ফাইনালে অতিরিক্ত সময়ের ১০৬ মিনিটে স্পেনের ফেরান তোরেসের করা একমাত্র গোলে আর্জেন্টিনার টানা দ্বিতীয়বার বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার স্বপ্ন ভঙ্গ হয়। খেলার পর এক আবেগঘন বার্তায় তাপিয়া পুরো স্কোয়াড এবং বিশেষ করে অধিনায়ক লিওনেল মেসির নেতৃত্বের ভূয়সী প্রশংসা করেন।

স্যোশাল প্ল্যাটফর্ম এক্সে দেওয়া বার্তায় এএফএ সভাপতি লেখেন, ‘আমরা এই দল, কোচিং স্টাফ এবং প্রতিটি সদস্যের জন্য অত্যন্ত গর্বিত।’ 

অধিনায়ক মেসির উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আমাদেরকে স্বপ্ন দেখতে এবং শেষ সেকেন্ড পর্যন্ত হৃদয় দিয়ে লড়াই করতে শেখানোর জন্য পুরো জাতি আপনার প্রতি চিরকৃতজ্ঞ।’ 

ফাইনাল ম্যাচের পর স্কালোনিকে জড়িয়ে ধরে রাখার একটি ছবি তাপিয়া ইনস্টাগ্রামে শেয়ার করেন এবং লেখেন, ‘আপনি অসাধারণ। আমরা আপনার কাজ, আপনার উৎসর্গ এবং এই জাতীয় দলের প্রতি আপনার ভালোবাসার জন্য অত্যন্ত গর্বিত।’

স্পেনের কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে এবং আর্জেন্টিনার কোচ লিওনেল স্কালোনি দুজনেই স্বীকার করেছেন এই ম্যাচে স্পেনই তুলনামূলক ভালো ফুটবল খেলেছে। এই জয়ের মাধ্যমে স্পেন দীর্ঘ ১৬ বছর পর তাদের দ্বিতীয় বিশ্বকাপ ট্রফি ঘরে তুলল।

দেশ এক, স্পেন খেলোয়াড়দের হাতে কেন ভিন্ন ভিন্ন ‘পতাকা’

অনলাইন ডেস্ক
দেশ এক, স্পেন খেলোয়াড়দের হাতে কেন ভিন্ন ভিন্ন ‘পতাকা’
ছবি : রয়টার্স

দীর্ঘ ১৬ বছর পর আবারও বিশ্বচ্যাম্পিয়ন স্পেন। আমেরিকার মেটলাইফ স্টেডিয়ামে আর্জেন্টিনাকে ১-০ গোলে হারিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো সোনালি ট্রফিটা জিতেছে তারা। ১৬ বছর পর বিশ্বকাপ জিতেছে স্পেন। এরপর নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হাত থেকে সোনালি ট্রফিটা বুঝে নিলেন স্প্যানিশ অধিনায়ক রদ্রি।

তবে ট্রফি জয়ের উচ্ছ্বাসের পাশাপাশি পুরস্কার বিতরণী মঞ্চে স্পেনের ফুটবলারদের একটি ভিন্ন দৃশ্যও নজর কাড়ে বিশ্বজুড়ে। সাধারণত বিশ্বচ্যাম্পিয়ন দলের খেলোয়াড়দের হাতে নিজ দেশের জাতীয় পতাকা দেখা গেলেও এবার স্পেনের বেশির ভাগ ফুটবলারের হাতে ছিল বিভিন্ন রঙের আলাদা পতাকা।

ব্রাজিলের সংবাদমাধ্যম গ্লোবোয়ের তথ্য মতে, বিশ্বকাপ জয়ের আনন্দ উদযাপনের সময় স্প্যানিশ ফুটবলাররা জাতীয় পতাকার পরিবর্তে নিজেদের জন্মস্থান বা অঞ্চলের পতাকা বহন করেন। এর মাধ্যমে তারা নিজ নিজ এলাকার ইতিহাস, সংস্কৃতি ও পরিচয়ের প্রতি সম্মান জানিয়েছেন।

মিডফিল্ডার পেদ্রির হাতে ছিল কানারি দ্বীপপুঞ্জের পতাকা। ম্যাচের একমাত্র গোলদাতা ফেরান তোরেস উদযাপন করেন ভ্যালেন্সিয়া অঞ্চলের পতাকা নিয়ে। বোর্হা ইগলেসিয়াস বহন করেন গালিসিয়ার পতাকা। অন্যদিকে ডানি ওলমো ও অ্যালেক্স বায়েনা যথাক্রমে তেরাসা এবং রোকেতাস দে মারের পতাকা হাতে নিয়ে ট্রফি উৎসবে অংশ নেন।

লাল, নীল, সবুজ কিংবা হলুদ রঙের এসব পতাকা ছিল তাদের নিজ নিজ স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল বা শহরের প্রতীক।

বিশ্বকাপ হাতছাড়া, তবু আর্জেন্টিনায় এক দিনের জাতীয় ছুটি ঘোষণা

ক্রীড়া ডেস্ক
বিশ্বকাপ হাতছাড়া, তবু আর্জেন্টিনায় এক দিনের জাতীয় ছুটি ঘোষণা
ছবি : রয়টার্স

২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনালে স্পেনের কাছে হেরে টানা দ্বিতীয়বার শিরোপা জয়ের সুযোগ হাতছাড়া আর্জেন্টিনার। পুরো টুর্নামেন্টে দুর্দান্ত খেলে দলকে আবারও ফাইনালে নিয়ে যায় মহাতারকা লিওনেল মেসি। নকআউট ম্যাচগুলোতে দেখিয়েছেন লড়াকু মানসিকতার এক অনন্য দৃষ্টান্ত। হেরেও ভক্ত সমর্থকদের কাছে হিরো বনে গেছে আলবেসিলেস্তরা। তাই ফাইনালে পরাজয় সত্ত্বেও দলের লড়াকু পারফরম্যান্সকে সম্মান জানাতে এক দিনের জাতীয় ছুটি ঘোষণা করেছেন আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলেই।

ক্রীড়া সংবাদমাধ্যম গোলডটকমের প্রতিবেদনে বলা হয়, লিওনেল মেসি, এমি মার্তিনেজদের এই অর্জন উদযাপন এবং দেশে ফেরার পর তাদের বরণ করে নিতেই এক দিনের সাধারণ ছুটির ঘোষণা দেওয়া হয়। 

লিওনেল মেসি, এমি মার্তিনেজদের এই অর্জন উদযাপন এবং দেশে ফেরার পর তাদের বরণ করে নিতেই একদিনের সাধারণ ছুটির ঘোষণা দেওয়া হয়। স্যোশাল প্ল্যাটফর্মে এক্সে দেওয়া এক বার্তায় প্রেসিডেন্ট জানান, ছুটির দিনটি কবে হবে তা সম্পূর্ণ লিওনেল মেসি এবং কোচিং স্টাফসহ খেলোয়াড়দের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে। 
 
খেলোয়াড়দের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন প্রেসিডেন্ট মিলেই লেখেন, ‘খেলোয়াড়দের অসংখ্য ধন্যবাদ। আমরা শেষ পর্যন্ত বুক চিতিয়ে লড়াই করেছি। আর্জেন্টিনা সবসময় সবার ওপরে।’ 

শিরোপা জয় না হলেও জাতীয় দল যে লড়াই, ঐক্য ও আত্মবিশ্বাসের পরিচয় দিয়েছে, সেটিই দেশের মানুষের জন্য বড় গর্বের বিষয় বলে যোগ করেন তিনি।

জাতীয় দল দেশে ফেরার পর সমর্থকদের উদযাপনের সুযোগ করে দিতেই ছুটির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। 

২০৩০ বিশ্বকাপ সম্পর্কে কতটুকু জানেন আপনি

ক্রীড়া ডেস্ক
২০৩০ বিশ্বকাপ সম্পর্কে কতটুকু জানেন আপনি
প্রতীকী ছবি

স্পেনের শিরোপা জয়ের মধ্যে দিয়ে বিদায়ঘণ্টা বাজল ২৩তম বিশ্বকাপের। এতে আরেকটি বিশ্বকাপের ক্ষণগণনা হলো শুরু। ২৪তম বিশ্বকাপ আবার ফুটবলের জন্য বিশেষ। শতবর্ষী বিশ্বকাপ বলে কথা। চলুন জেনে নিই ২০৩০ বিশ্বকাপের আয়োজকসহ আরো কিছু তথ্য—

২০৩০ বিশ্বকাপ কোথায়

২০৩০ বিশ্বকাপ হবে ৬ দেশে। মূলত টুর্নামেন্টের আয়োজক মরক্কো, পর্তুগাল ও স্পেন। তাদের সঙ্গে একটি করে ম্যাচ আয়োজন করবে উরুগুয়ে, আর্জেন্টিনা ও প্যারাগুয়ে। তাই ৪ বছর পর হতে যাওয়া বিশ্বকাপটি ৩ মহাদেশে হচ্ছে। ১৯৩০ সালের প্রথম বিশ্বকাপের আয়োজক হওয়ায় পরবর্তী আসরে ম্যাচ পাচ্ছে উরুগুয়ে। অন্যদিকে উরুগুয়ের বিপক্ষে প্রথম বিশ্বকাপের ফাইনালে খেলে আর্জেন্টিনা। আর কনমেবলের সদর দপ্তর প্যারাগুয়েতে হওয়ায় ম্যাচ পাচ্ছে লাতিন আমেরিকার দেশটিও।

কখন শুরু হবে

ফিফার প্রস্তাবিত সূচি অনুযায়ী, বিশ্বকাপে শতবর্ষ উপলক্ষে উদ্বোধনী ম্যাচ হবে ২০৩০ সালে ৮ ও ৯ জুন উরুগুয়ে, আর্জেন্টিনা ও প্যারাগুয়েতে। অন্যদিকে ১৩ ও ১৪ জুন মূল উদ্বোধনী অনুষ্ঠান এবং প্রথম ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে মরক্কো, পর্তুগাল ও স্পেনে। আর ২১ জুলাই বিশ্বকাপের ফাইনাল অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। অবশ্য পূর্ণাঙ্গ সূচি এখনো প্রকাশ করেনি ফিফা।

ইতিমধ্যে বিশ্বকাপের টিকিট পেয়েছে যেসব দল

আয়োজক হওয়ায় বিশ্বকাপে জায়গা নিশ্চিত ৬ দলের। তারা হচ্ছে—স্পেন, পর্তুগাল, মরক্কো, উরুগুয়ে, আর্জেন্টিনা ও প্যারাগুয়ে। বাকি ৪২ দল আসবে বাছাইপর্ব পেরিয়ে।

২০৩০ বিশ্বকাপের পর আবার কবে, কোথায়

২০৩০ শেষে পরের বিশ্বকাপ হবে ২০৩৪ সালে। আয়োজক সৌদি আরব। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে সৌদি আরবকে আয়োজক হিসেবে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয় ফিফা। এর আগে বিডে অংশ নেওয়া একমাত্র আয়োজক দেশ ছিল সৌদি আরব।
 
তবে ২০৩০ বিশ্বকাপ ৬৪ দলেরও হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বর্তমান পরিকল্পনা অনুযায়ী ৪৮ দলের হওয়ার কথা থাকলেও ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো জানিয়েছেন, ৬৪ দলের প্রস্তাব পর্যালোচনায় আছে।