• ই-পেপার

জোড়া গোলে মেসিকে ছাড়িয়ে গেলেন এমবাপ্পে

পেলের ৫৬ বছরের রেকর্ড ভাঙলেন ওলিসে

ক্রীড়া ডেস্ক
পেলের ৫৬ বছরের রেকর্ড ভাঙলেন ওলিসে
এক বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ অ্যাসিস্টের মালিক এখন ওলিসে। ছবি : রয়টার্স

দুর্দান্ত পারফরম্যান্সকে সঙ্গী করেই বিশ্বকাপে খেলতে নেমেছিলেন মাইকেল ওলিসে। কিন্তু মন্দভাগ্য তার। সর্বশেষ মৌসুমে বায়ার্ন মিউনিখের হয়ে ২২ গোল ও ২৬ অ্যাসিস্টের নায়ক বিশ্বকাপে একবারও জালের দেখাই পাননি।

‘সোনার হরিণ’ খ্যাত গোলের দেখা না পেলেও ঠিক সতীর্থদের দিয়ে দারুণ সব গোল করিয়েছেন ওলিসে। গতকাল রাতে মায়ামি যেমন দুই গোল অ্যাসিস্ট করলেন। তার অ্যাসিস্টে কিলিয়ান এমবাপ্পে জোড়া গোল করতেই রেকর্ড বইয়ের পাতা নতুন করে লিখেছেন ‍ওলিসে। 

 

এক বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ অ্যাসিস্ট করার মালিক এখন ওলিসে। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে করা গতকালের জোড়া অ্যাসিস্টসহ এবারের বিশ্বকাপে সবমিলিয়ে ৭ সহায়তা করেছেন ২৪ বছর বয়সী ফরোয়ার্ড। তার এমন পারফরম্যান্সে ভেঙে গেছে ৫৬ বছরের পুরনো এক রেকর্ড। 

যে রেকর্ডটি মালিক ছিলেন পেলে। ফুটবলের ‘কালো মানিক’ সর্বোচ্চ ৬ অ্যাসিস্ট করেছিলেন। ১৯৭০ বিশ্বকাপে এই কীর্তি গড়েছিলেন প্রয়াত ব্রাজিল কিংবদন্তি। ওলিসে-পেলের পরেই আছেন ৫ গোলে সহায়তাকারী পোল্যান্ডের রবার্ট গ্যাদোচা, পশ্চিম জার্মানির পিয়েরে লিটবার্স্কি, আর্জেন্টিনার ডিয়েগো ম্যারাডোনা এবং জার্মানির থমাস হাসলার।

দেশম অধ্যায়ের সমাপ্তি, জিদান যুগের অপেক্ষায় ফ্রান্স

ক্রীড়া ডেস্ক
দেশম অধ্যায়ের সমাপ্তি, জিদান যুগের অপেক্ষায় ফ্রান্স
মায়ামিতে ম্যাচ শেষে মাঠ ছাড়ার মুহূর্তে দেশম। ছবি : রয়টার্স

বিদায়ী মঞ্চটা প্রস্তুতই ছিল। বিশ্বকাপ শুরুর আগেই ঘোষণা দিয়েছিলেন ফিফার টুর্নামেন্ট শেষেই ফ্রান্সের ডাগআউট ছাড়বেন দিদিয়ের দেশম। ঘোষণা অনুযায়ী তাই বিশ্বকাপের তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচটাই তার কোচিং ক্যারিয়ারের শেষ।

ক্যারিয়ারের শেষটা তাই জয়ে রাঙাতে চেয়েছিলেন দেশম। তবে কপালে জুটেনি তার। গুরুকে জয় উপহার দিতে পারেননি শিষ্যরা। গতকাল মায়ামিতে গোলবন্যার ম্যাচে ইংল্যান্ডের কাছে ৪-৬ ব্যবধানে হেরেছে ফ্রান্স। ম্যাচ হারতেই ফ্রান্সের জাতীয় দলের সঙ্গে ১৪ বছরের সম্পর্কের ইতি ঘটেছে। কোচ হিসেবে দীর্ঘ দিনের সম্পর্ক বলেই ম্যাচ শেষে হতেই বিদায়বেলা আর চোখের পানি ধরে রাখতে পারেননি দেশম।

 

বিদায় বেলা দেশমকে ধন্যবাদ জানাতে ভুলেনি ফ্রান্স ফুটবল ফেডারেশন (এফএফএফ)। এক বিবৃতি দিয়ে তার অবদানকেই স্মরণ করেছে এফএফএফ। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘২০১২ সাল থেকে ফ্রান্স জাতীয় দলের প্রধান কোচ হিসেবে অসাধারণ সব সাফল্যের জন্য কোচ দিদিয়ের দেশমকে আন্তরিক অভিনন্দন ও ধন্যবাদ জানাচ্ছে এফএফএফ। ১৪ বছর ধরে তার দূরদর্শী নেতৃত্বে বিশ্বমঞ্চে তাদের হারানো মর্যাদা, সম্মান এবং কোটি ভক্তের ভালোবাসা ফিরে পেয়েছে ফ্রান্স। শুধু তাই নয়, বিশ্ব ফুটবলের শীর্ষস্থান ধরে রেখে ২০১৮ সালের বিশ্বকাপ জয়, ২০২১ সালের নেশনস লিগ জয় এবং বেশ কয়েকটি বড় টুর্নামেন্টের ফাইনালে খেলার মাধ্যমে ধারাবাহিকতার এক অনন্য নজির স্থাপন করেছে। ফরাসি ফুটবল ফেডারেশন তার প্রতি অসীম কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছে। ধন্যবাদ, দিদিয়ে!’

 

দীর্ঘ ক্যারিয়ারে ১৮৭ ম্যাচ ফ্রান্সের ডাগআউটে দাঁড়িয়েছেন দেশম। এর মধ্যে ১২২ জয়ের বিপরীতে ৩৩ ম্যাচে হার দেখেছেন। বাকি ৩২ ম্যাচ ড্র হয়েছে। কোচ হিসেবে ফ্রান্স বিশ্বকাপ জয়ের আগে অধিনায়ক হিসেবে সোনালি ট্রফিটা জিতিয়েছেন তিনি, ১৯৯৮ বিশ্বকাপে।

দেশমের বিদায়ে একটা অধ্যায়েরই অবসান হলো। ৫৭ বছর বয়সী কোচের স্থলাভিষিক্ত ঠিক করেছে ফ্রান্স। দেশটির আরেক কিংবদন্তি জিনেদিন জিদান হবেন তার উত্তরসূরি। খুব শিগগিরই আনুষ্ঠানিকভাবে রিয়াল মাদ্রিদের সাবেক মিডফিল্ডারের নাম ঘোষণা করবে ফ্রান্স।

১০ গোলের অবিশ্বাস্য এক থ্রিলার, ফ্রান্সকে হারিয়ে তৃতীয় ইংল্যান্ড

ক্রীড়া ডেস্ক
১০ গোলের অবিশ্বাস্য এক থ্রিলার, ফ্রান্সকে হারিয়ে তৃতীয় ইংল্যান্ড
গোল বন্যার এক ম্যাচ দেখল ফুটবল বিশ্ব। ছবি: ফিফা

ফ্রান্স ৪-৬ ইংল্যান্ড 

তৃতীয় স্থান নির্ধারণী এই ম্যাচকে খোদ ফ্রান্স ও ইংল্যান্ড অর্থহীন মনে করছিল। সেই দুই দলই এমন এক থ্রিলার উপহার দিল, যেটিকে বিশ্বকাপ ইতিহাসের সেরা ম্যাচগুলোর সংক্ষিপ্ত তালিকায় না রেখে এখন আর উপায় নেই! 

মায়ামির হার্ড রক স্টেডিয়াম সাক্ষী হয়ে রইল ১০ গোলের। এবারের বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ গোলের এই ম্যাচে ফ্রান্সকে ৬-৪ ব্যবধানে হারিয়ে প্রথমবারের মতো তৃতীয় হলো ইংল্যান্ড। 

বিশ্বকাপে এর আগে সর্বোচ্চ গোলের তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচেও জড়িয়ে ফ্রান্সের নাম। ১৯৫৮ আসরে পশ্চিম জার্মানিকে ৬-৩ গোলে হারিয়ে তৃতীয় হয়েছিল ফরাসিরা। ৬৮ বছর পর এবার তারাই হজম করল ৬ গোল!

১৯৬৬ সালে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর এটিই বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের সর্বোচ্চ সাফল্য। তৃতীয় হয়ে ইংলিশরা ব্রোঞ্জ পদকের সঙ্গে পেল প্রায় ৩৫৫ কোটি টাকা। চতুর্থ হয়ে ফ্রান্স পেল প্রায় ৩৩০ কোটি টাকা। 

saka
হ্যাটট্রিক করেছেন বুকায়ো সাকা। ছবি: ফিফা

সেমিফাইনালে হেরে বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন শেষ হয়ে যাওয়ায় দুই দলই এই ম্যাচকে গুরুত্বহীন মনে করেছিল। তাই দুই দলই প্রায় দ্বিতীয় সারির দল নিয়ে খেলতে নামে। ফ্রান্সের কোচ হিসেবে শেষবারের মতো ডাগআউটে দাঁড়ানো দিদিয়ের দেশম একাদশে আনেন সাত পরিবর্তন। ইংল্যান্ড কোচ টমাস টুখেলের একাদশে আট পরিবর্তন। 

নিখাদ আনন্দ দিতে ও উপভোগের মন্ত্র নিয়ে খেলতে নামাতেই বোধ হয় রক্ষণভাগ পুরোপুরি অরক্ষিত রয়ে গেল। অবিশ্বাস্যের ঘোর লাগিয়ে ইংল্যান্ড প্রথমার্ধেই এগিয়ে গেল ৪-০ গোলে!

ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে খেলা ইংল্যান্ডের কোনো ফুটবলারের এবারের বিশ্বকাপে গোল করতে না পারার যে আক্ষেপ ছিল, তা অবশেষে উবে গেল। প্রথমার্ধের সব গোলই করলেন নিজেদের লিগে খেলা তিন ফুটবলার। শুরুটা করলেন ডেকলান রাইস, এরপর এজরি কনসা। আর বিরতিতে যাওয়ার আগে জোড়া গোল করলেন বুকায়ো সাকা। 

অফসাইডের ফাঁদে না পড়লে প্রথমার্ধে হ্যাটট্রিকও পেয়ে যেতে পারতেন সাকা। অবশ্য হ্যাটট্রিক পূরণ করেছেন দ্বিতীয়ার্ধে। পরে যোগ করা সময়ে ইংল্যান্ডের ষষ্ঠ ও ম্যাচের শেষ গোল করেন বদলি নামা জুড বেলিংহাম। 

প্রথমার্ধে ৪ গোল খেয়েও অবশ্য মনোবল ভাঙেনি ফ্রান্সের। বিরতির পর মাত্র ২১ মিনিটের মধ্যে ৩ গোল শোধ করে খেলা জমিয়ে তোলার আভাস দেয় দেশমের দল। 

৪৮ মিনিটে অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপ্পের গোলে ব্যবধান কমাতে শুরু করে ফ্রান্স। ৫৪ মিনিটে ব্র্যাডলি বারকোলার পর ৬৬ মিনিটে আবার এমবাপ্পের গোল। এর মধ্য দিয়ে লিওনেল মেসিকে (২১) ছাড়িয়ে বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতা বনে যান এমবাপ্পে (২২)। এবারের আসরে ১০ গোল নিয়ে গোল্ডেন বুটের লড়াইয়েও এগিয়ে গেছেন তিনি।

Didier
ফ্রান্সের কোচ হিসেবে নিজের শেষ ম্যাচে ৬ গোল হজমের তিক্ত অভিজ্ঞতা হয়েছে দেশমের। ছবি: ফিফা

এরপর মাইকেল ওলিসে ও উসমান দেম্বেলে একের পর এক সহজ সুযোগ হাতছাড়া করেন। নয়তো ঘুরে দাঁড়ানোর অভাবনীয় এক গল্প লিখতে পারত ফ্রান্স। যোগ করা সময়ে দেম্বেলে ইংল্যান্ডের জাল কাঁপালেও ফ্রান্সের কোচ হিসেবে নিজের শেষ ম্যাচে সবচেয়ে বেশি গোল খেয়ে হারের ‘লজ্জা’ এড়াতে পারেননি দেশম।

৩য় স্থান নির্ধারণী ম্যাচ

বিস্ময়ের জন্ম দিয়ে প্রথমার্ধেই ফ্রান্সের জালে ৪ গোল ইংল্যান্ডের

ক্রীড়া ডেস্ক
বিস্ময়ের জন্ম দিয়ে প্রথমার্ধেই ফ্রান্সের জালে ৪ গোল ইংল্যান্ডের
দুর্দান্ত এই হেডে গোল করেছেন কনসা। ছবি: ফিফা

ফ্রান্স ০-৪ ইংল্যান্ড (প্রথমার্ধ শেষে)

অবিশ্বাস্যই বটে!

খেলতে নামার আগে বিশ্বকাপের এই তৃতীয় স্থান নির্ধারিত ম্যাচকে ফ্রান্স-ইংল্যান্ড দুই দলের কাছেই অর্থহীন মনে হচ্ছিল। 

কিন্তু বিরতির আগেই ৪ গোল দিয়ে ফ্রান্সকে প্রবল চাপে ফেলে ম্যাচটাকে যেন অর্থবহ করে তুলল ইংল্যান্ড। মায়ামির হার্ড রক স্টেডিয়ামে হাইড্রেশন ব্রেকের আগে ও পরে দুটি করে গোল দিয়ে প্রথমার্ধ শেষ করেছে ইংলিশরা।

এবারের বিশ্বকাপে এর আগে সাত ম্যাচ খেলেও কোনো গোল পাননি ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে খেলা ইংল্যান্ডের ফুটবলার। অবশেষে তৃতীয় হওয়ার লড়াইয়ে এসে সেই অপেক্ষা ফুরাল। প্রথমার্ধে ৪ গোলই করলেন নিজেদের লিগের ফুটবলার। 

Rice
ডেকলান রাইসের গোল উদযাপন। ছবি: ফিফা

আর্সেনালের তারকা মিডফিল্ডার ডেকলান রাইস যখন ইংল্যান্ডকে প্রথমবার এগিয়ে দিলেন, ম্যাচের বয়স তখন মাত্র ২ মিনিট ১৬ সেকেন্ড। মাঝমাঠ থেকে বল কেড়ে বেশ খানিকটা দৌড়ে বক্সের বাইরে থেকে নেওয়া দারুণ শটে গোল করেন রাইস। নিয়মিত অধিনায়ক হ্যারি কেইন শুরুর একাদশে না থাকায় এই ম্যাচে রাইসই দলকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। 

১৮ মিনিটে দ্বিতীয় গোলেও বলের জোগান দিয়েছেন রাইস। তার ক্রস থেকে লাফিয়ে উঠে হেডে ব্যবধান ২-০ করেন ইংলিশ ক্লাব অ্যাস্টন ভিলার ডিফেন্ডার এজরি কনসা। 

৩৭ মিনিটে নিজের প্রথম গোল করেন আর্সেনালের আরেক তারকা বুকায়ো সাকা। বিরতির আগ মুহূর্তে করেন নিজের দ্বিতীয় ও দলের চতুর্থ গোল। 

প্রথমার্ধে হ্যাটট্রিক পেয়ে যেতে পারতেন সাকা। কিন্তু ১২ মিনিটে তিনি ফ্রান্সের জাল কাঁপালেও অফসাইডের কারণে তা বাতিল হয়। 

ফ্রান্সের যে করুণ দশা, তাতে মনে হচ্ছে বড় পরাজয়ের তিক্ত স্বাদ নিয়েই বিদায় নিবেন কোচ দিদিয়ের দেশম।