• ই-পেপার

ফের বাড়ল গুচ্ছের ভর্তির সময়

আন্দোলনের ১২ দিনের পর শেকৃবির ১৩ শিক্ষার্থীর ক্যাডারে সুপারিশ

শেকৃবি প্রতিনিধি
আন্দোলনের ১২ দিনের পর শেকৃবির ১৩ শিক্ষার্থীর ক্যাডারে সুপারিশ

৪৭তম বিসিএসের চূড়ান্ত ফলে শূন্য সুপারিশ থেকে পুনর্মূল্যায়নের পর ক্যাডারে স্থান পেয়েছেন শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শেকৃবি) অ্যানিম্যাল সায়েন্স অ্যান্ড ভেটেরিনারি মেডিসিন (এএসভিএম) অনুষদের ১৩ শিক্ষার্থী। টানা ১২ দিনের আন্দোলন, প্রশাসনের উদ্যোগ এবং বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) পুনর্মূল্যায়নের পর এ সাফল্য এসেছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীরা।

বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) পিএসসির প্রকাশিত সংশোধিত বিজ্ঞপ্তিতে লাইভস্টক ক্যাডারে নতুন করে ১৪ জনকে সুপারিশ করা হয়। এর মধ্যে ১৩ জনই শেকৃবির এএসভিএম অনুষদের শিক্ষার্থী।

এর আগে ৪৭তম বিসিএসের চূড়ান্ত ফলে এ অনুষদের ১৮ জন শিক্ষার্থী লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পরও লাইভস্টক ক্যাডারের ৭১টি পদের একটিতেও সুপারিশ পাননি। বিষয়টিকে অস্বাভাবিক উল্লেখ করে শিক্ষার্থীরা আবেদন কোড ও কারিগরি জটিলতার অভিযোগ তুলে পুনর্মূল্যায়নের দাবি জানান।

১২ দিনের আন্দোলনের সূচনা

ফল প্রকাশের পর গত ৫ জুলাই থেকে এএসভিএম অনুষদের শিক্ষার্থীরা ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করে আন্দোলনে নামেন। টানা ১২ দিন তারা লাল ফিতা ধারণ, প্রতিবাদ মিছিল, মানববন্ধন, ক্যাম্পাস প্রদক্ষিণ, হিউম্যান চেইন ও গ্রাফিতি অঙ্কনসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেন।

শিক্ষার্থীদের দাবি ছিল, শুধু ৪৭তম বিসিএস নয়, কম্বাইন্ড ডিগ্রি চালুর পর দীর্ঘদিন ধরে সরকারি নিয়োগ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানে তারা বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন। বিশেষ করে প্রাণিসম্পদ খাতের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ ও আবেদনের সুযোগ নিয়ে জটিলতা রয়েছে বলে তারা অভিযোগ করেন।

সংহতি জানায় বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়

শেকৃবির শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করে খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, হবিগঞ্জ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ভেটেরিনারি মেডিসিন ও অ্যানিম্যাল সায়েন্স বিভাগের শিক্ষার্থীরা।

বিভিন্ন ক্যাম্পাসে মানববন্ধন ও বিবৃতির মাধ্যমে তারা এ আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানান।

প্রশাসনের উদ্যোগ ও পিএসসির পুনর্মূল্যায়ন

শিক্ষার্থীদের দাবির বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন একাধিক বৈঠক করে। উপাচার্যের তত্ত্বাবধানে গঠিত কমিটি পিএসসির সঙ্গে যোগাযোগ করে বিষয়টি পুনর্বিবেচনার অনুরোধ জানায়।

শেকৃবির উপাচার্য অধ্যাপক ড. আব্দুল লতিফ জানান, শিক্ষার্থীদের অভিযোগ পিএসসির কাছে তুলে ধরা হয়েছে। পাশাপাশি ডিগ্রির কোড-সংক্রান্ত সম্ভাব্য সমস্যা পর্যালোচনার অনুরোধ জানানো হয়।

ফল পরিবর্তনের পর উচ্ছ্বাস

পিএসসির পুনর্মূল্যায়নের পর লাইভস্টক ক্যাডারে নতুন করে ১৪ জন সুপারিশপ্রাপ্ত হন। তাদের মধ্যে ১৩ জন শেকৃবির এএসভিএম অনুষদের শিক্ষার্থী।

নতুন সুপারিশপ্রাপ্তদের মধ্যে মেধাতালিকার প্রথম দশজনের মধ্যে শেকৃবির তিনজন শিক্ষার্থী রয়েছেন। তারা যথাক্রমে প্রথম, চতুর্থ ও দশম স্থান অর্জন করেছেন। এ ছাড়া ১৫তম স্থানেও রয়েছেন শেকৃবির একজন শিক্ষার্থী।

রবিবার (১৯ জুলাই) সুপারিশপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের ফুল দিয়ে বরণ করে নেন আন্দোলনরত সহপাঠীরা। শিক্ষার্থীরা এ অর্জনকে তাদের ঐক্য, গণমাধ্যমের সহযোগিতা ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের ভূমিকার ফল হিসেবে উল্লেখ করেন।

তবে আন্দোলনকারীরা জানিয়েছেন, তাদের চার দফা দাবির মধ্যে একটি দাবি—৪৭তম বিসিএসের ফল পুনর্মূল্যায়ন—বাস্তবায়ন হয়েছে। বাকি দাবিগুলোর মধ্যে কম্বাইন্ড ডিগ্রিধারীদের নিয়োগ-সংক্রান্ত বৈষম্যের স্থায়ী সমাধান, গবেষণা ও সরকারি প্রতিষ্ঠানে সমান সুযোগ নিশ্চিত করা এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের জটিলতা নিরসনে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি রয়েছে।

এক শিক্ষার্থী বলেন, এটি আমাদের আন্দোলনের প্রথম সাফল্য। তবে আমাদের লড়াই শুধু একটি বিসিএসের ফলাফলের জন্য নয়; কম্বাইন্ড ডিগ্রিধারীদের দীর্ঘদিনের বৈষম্যের স্থায়ী সমাধানের জন্য।

মতবিনিময় সভায় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, উপ-উপাচার্যসহ শিক্ষকরা উপস্থিত ছিলেন। তারা শিক্ষার্থীদের দাবির সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে দ্রুত সমাধানের আশ্বাস দেন।

ইবতেদায়ি মাদরাসা শিক্ষকদের দুই মাসের এমপিওর চেক ছাড়

অনলাইন ডেস্ক
ইবতেদায়ি মাদরাসা শিক্ষকদের দুই মাসের এমপিওর চেক ছাড়
সংগৃহীত ছবি

মাদরাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের আওতাধীন স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদরাসার শিক্ষকদের ২০২৬ সালের মে ও জুন মাসের এমপিওর চেক ছাড় হয়েছে। আর্থিক অনুদানের সরকারি অংশের ৪টি চেক অনুদান বণ্টনকারী অগ্রণী ও রূপালী ব্যাংক লিমিটেড, প্রধান কার্যালয় এবং জনতা ও সোনালী ব্যাংক লিমিটেড, স্থানীয় কার্যালয়ে এসব চেক ছাড় হয়।

রবিবার (১৬ জুলাই ) মাদরাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের এক বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানা যায়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, মাদরাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের ১৯/০৭/২০২৬ খ্রি. তারিখে স্মারক নং- ৫৭.২৫.০০০০.০১১.০৬,০০২.২৪-১৪৫, স্মারক নং-৫৭.২৫.০০০০.০১১.০৬.০০২.২৪-১৪৬, তারিখ : ১৬/০৭/২০২৬ খ্রি. অনুযায়ী হস্তান্তর করা হয়েছে। শিক্ষকগণ আগামী ১৯/০৭/২০২৬ খ্রি. তারিখের পর সংশ্লিষ্ট ব্যাংক থেকে মে ও জুন মাসের আর্থিক অনুদানের সরকারি অংশ উত্তোলন করতে পারবেন।

এসএসসির ফল চলতি মাসেই

অনলাইন ডেস্ক
এসএসসির ফল চলতি মাসেই

চলতি বছরের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল ২০ জুলাই প্রকাশের কথা থাকলেও তা হচ্ছে না। প্রশাসনিক ব্যস্ততা ও এইচএসসি পরীক্ষাকে ঘিরে নানা জটিলতার কারণে ফল প্রকাশে কয়েক দিন দেরি হচ্ছে। তবে চলতি জুলাই মাসের শেষের দিকে ফল প্রকাশের প্রস্তুতি নিচ্ছে শিক্ষা বোর্ডগুলো। 

গতকাল শনিবার আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান এ তথ্য জানিয়েছেন।

তিনি জানান, ২০ জুলাই ফল প্রকাশ সম্ভব হচ্ছে না। এইচএসসি নিয়ে নানা জটিলতার কারণে আমরা ফলাফল প্রস্তুত করতে পারিনি। আমরা মাসের শেষের দিকে ফলাফল প্রকাশের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছি।

অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান বলেন, ২০ জুলাইয়ের মধ্যে সব প্রস্তুতি শেষ করার নির্দেশনা ছিল। কিন্তু পরিস্থিতি অনুকূলে না থাকায় তা সম্ভব হয়নি। তবে ফল প্রকাশের কাজ এগিয়ে চলছে। চলতি মাসেই ফল প্রকাশ করা হবে।

এর আগে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহসানুল হক মিলন একাধিকবার ২০ জুলাইয়ের মধ্যে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশের কথা জানিয়েছিলেন। সম্প্রতি বিভিন্ন অনুষ্ঠানে তিনি এ তথ্য জানান। ফল প্রকাশের প্রস্তুতি শেষ করতে আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটিকে নির্দেশনাও দেয় শিক্ষা মন্ত্রণালয়। সে অনুযায়ী কাজ চলছিল, তবে নির্ধারিত সময়ে ফল প্রকাশ হচ্ছে না।

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের প্রত্যাশা বাস্তবায়নে বহুমাত্রিক প্রচেষ্টা চালানোর আহ্বান

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের প্রত্যাশা বাস্তবায়নে বহুমাত্রিক প্রচেষ্টা চালানোর আহ্বান
ছবি : কালের কণ্ঠ

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের প্রত্যাশা বাস্তবায়নে বহুমাত্রিক ও বহুরৈখিক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বিভিন্ন ছাত্রসংগঠন ও জাতীয় নেতারা। শনিবার (১৮ জুলাই) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র (টিএসসি) প্রাঙ্গণে ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার উদ্যোগে আয়োজিত দিনব্যাপী ‘জুলাই জাগরণ ও স্বৈরাচার প্রতিরোধ দিবস’ উদযাপনের অনুষ্ঠানে এই আহ্বান জানান তারা।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় ছাত্রশক্তির সভাপতি জাহিদ আহসান, জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার ১ নম্বর সহসভাপতি আনিসুর রহমান অনিক, ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশের সিনিয়র সহসভাপতি খায়রুল আহসান মারজান, ইসলামী ছাত্রশিবিরের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সেক্রেটারি কাজী আশিক, ছাত্র অধিকার পরিষদের ঢাবি শাখার সভাপতি সাদমান আব্দুল্লাহ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আব্দুল কাদের।

বাদ আসর ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান : অর্জন-অপূর্ণতা ও রাজনৈতিক বিভাজন’ শীর্ষক প্যানেল আলোচনায় অংশ নেন জাতীয় পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ ও বিশিষ্টজনেরা। আলোচনায় অংশ নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শান্তি ও সংঘর্ষ অধ্যয়ন বিভাগের অধ্যাপক ও সাবেক প্রক্টর সাইফুদ্দিন আহমেদ বলেন, জুলাইয়ের প্রধান অর্জন হলো ভয়মুক্ত পরিবেশ অর্জন। আর কষ্টের বিষয় হলো, রেফারেন্ডাম বাস্তবায়িত না হওয়ার একমাত্র দৃষ্টান্ত হতে যাচ্ছে জুলাই রেফারেন্ডাম।

লেখক, গবেষক ও রাষ্ট্র চিন্তক শায়খ মুসা আল হাফিজ বলেন, জুলাইকে থামতে দেওয়া যাবে না, বরং বহু প্রচেষ্টার মাধ্যমে জুলাইকে নিরন্তন জারি রাখতে হবে।

প্যানেল আলোচনায় আরো অংশ নেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের অধ্যাপক ড. কামরুল ইসলাম, গণভোট বাস্তবায়ন নাগরিক ফোরামের আহ্বায়ক ফাহিম মাশরুর, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সহকারী মহাসচিব শেখ ফজলুল করীম মারুফ এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির সেক্রেটারি মাহাদী হাসান। 

দিনব্যাপী এই আয়োজনে সভাপতিত্ব করেন ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি সাইফ মুহাম্মাদ আলাউদ্দিন।