• ই-পেপার

বসুন্ধরায় ৫৬০ ইঞ্চির মেগা স্ক্রিনে বিশ্বকাপ ফাইনাল দেখার সুযোগ

স্পেনের দাপট সামলে প্রথমার্ধে ‘ধুঁকতে ধুঁকতে’ সমতা আর্জেন্টিনার

ক্রীড়া ডেস্ক
স্পেনের দাপট সামলে প্রথমার্ধে ‘ধুঁকতে ধুঁকতে’ সমতা আর্জেন্টিনার

মাঠজুড়ে স্প্যানিশ আর্মাডাদের একের পর এক আক্রমণ। বলের দখল থেকে শুরু করে গোলমুখে শট নেওয়া, সবখানেই স্পেনের একচ্ছত্র আধিপত্য। পুরো প্রথমার্ধজুড়ে আর্জেন্টিনাকে বোতলবন্দি করে রাখল লা রোজারা। গোল না পেলেও বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলে গোলশূন্য সমতায় প্রথমার্ধ শেষ করেছে স্পেন।

বিশ্বকাপ ফাইনালের মহারণে ম্যাচের শুরু থেকেই দেখা মেলে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতার আভাস। ম্যাচের মাত্র ৫ মিনিটেই লিড পেয়ে যেতে পারত স্পেন। লামিনে ইয়ামাল বক্সে ক্রস বাড়াতে গেলে বল ডিফ্লেক্ট হয়ে চলে যায় দানি ওলমোর পায়ে। ওলমোর পাস থেকে ফিরতি বলে ইয়ামাল শট নিলেও লিসান্দ্রো মার্টিনেজ ও গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্টিনেজের যৌথ দেওয়ালে তা আটকে যায়। অল্পের জন্য রক্ষা পায় আলবিসেলেস্তেরা।

শুরুটা স্পেন দুর্দান্ত করলেও মাঝে মধ্যে ভীতি ছড়িয়েছে আর্জেন্টিনাও। ম্যাচের ৭ মিনিটে উনাই সিমন নিজের লাইন ছেড়ে সামনে এগিয়ে না এলে নিশ্চিত গোলের খাতা খুলতে পারতেন লিওনেল মেসি। সিমন দুর্দান্তভাবে রুখে দেন সেই সুযোগ।

ম্যাচের প্রথম ২৩ মিনিটে আর্জেন্টিনার বিবর্ণ রূপ ফুটে ওঠে পরিসংখ্যানেই। মাত্র ৩২ শতাংশ বল দখলে রাখতে পেরেছিল তারা। আর্জেন্টিনার তিন ফরোয়ার্ড লিওনেল মেসি, নিকো গঞ্জালেজ ও হুলিয়ান আলভারেজ প্রথমার্ধের একটা বড় সময় ছিলেন অদৃশ্য। তিনজন মিলে বল ছুঁতে পেরেছেন মাত্র ১৭ বার!

অন্যদিকে স্প্যানিশ অধিনায়ক রদ্রি যেন পুরো মাঠ একা হাতে সামলেছেন। প্রয়োজনে নিচে নেমে খেলছেন তৃতীয় সেন্টার ব্যাক হিসেবে, আবার আক্রমণে উঠে আর্জেন্টিনার রক্ষণভাগে কাঁপুনি ধরাচ্ছেন। ৩৯ মিনিটে লাপোর্তে, রদ্রি ও বায়েলার পাসিং ফুটবলের পর ফাবিয়ানের পাস থেকে মিকারেল ওয়ারজাবাল বক্সের প্রান্ত থেকে বাম পায়ের জোরালো শট নেন। তবে এবারও আর্জেন্টিনার ত্রাতা হয়ে দাঁড়ান ‘দিবু’ মার্টিনেজ।

৪১ মিনিটে সেই ওয়ারজাবালকে ফাউল করে ফাইনালের প্রথম হলুদ কার্ড দেখেন লিসান্দ্রো মার্টিনেজ। এর দুই মিনিট পরই ইনজুরির কারণে মাঠ ছাড়তে হয় তাকে, মাঠে নামেন নিকোলাস ওতামেন্দি। বিরতির ঠিক আগে মার্ক কুকুরেয়ার একটি বিপজ্জনক প্রচেষ্টা পোস্টের পাশ দিয়ে বাইরে চলে গেলে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে বিরতিতে যায় আর্জেন্টিনা। 

সমতায় প্রথমার্ধের পানি বিরতিতে স্পেন-আর্জেন্টিনা

ক্রীড়া ডেস্ক
সমতায় প্রথমার্ধের পানি বিরতিতে স্পেন-আর্জেন্টিনা

ফুটবল বিশ্বের দুই মহাদেশের সেরা দুই সিংহাসনের অধিপতি শিরোফার লড়াই শুরু হয়েছে। সমতায় থেকে প্রথমার্ধের পানি বিরতিতে গিয়েছে দুই দল।

প্রথমার্ধের পানি বিরতি পর্যন্ত ম্যাচে সমতা থাকলেও আধিপত্য ছিল স্পেনের। ইয়ামালদের ৬২ শতাংশ বলের দখলের বিপরীতে মেসিদের আছে ৩৮ শতাংশ।

ইউরোপের রাজত্ব জয় করা স্পেনের গতি ও কৌশলের বিপরীতে কোপা আমেরিকার মুকুট ধরে রাখা আর্জেন্টিনার চিরচেনা ছন্দ আর অভিজ্ঞতার এক মহাকাব্যিক লড়াই বিশ্বকাপ ফাইনালে দেখছে বিশ্বের কোটি কোটি ফুটবলপ্রেমীরা।

 

বাংলাদেশের তৈয়ব হাসানের সহকারি ছিলেন বিশ্বকাপ ফাইনালে রেফারি

ক্রীড়া ডেস্ক
বাংলাদেশের তৈয়ব হাসানের সহকারি ছিলেন বিশ্বকাপ ফাইনালে রেফারি
সংগৃহীত ছবি

ফুটবল বিশ্বকাপের ফাইনালে আর্জেন্টিনা ও স্পেনের মহারণ দেখতে যখন বুঁদ গোটা দুনিয়া, ঠিক তখনই বাংলাদেশের ক্রীড়াপ্রেমীদের জন্য এলো এক গর্বের উপলক্ষ। বিশ্বমঞ্চের এই পরম আরাধ্য ফাইনালে চতুর্থ রেফারি হিসেবে মাঠে থাকবেন জর্ডানের আদহাম মাখাদমেহ। আর জর্ডানের এই রেফারির চূড়ায় ওঠার গল্পের সঙ্গে মিশে আছে দেশের রেফারিং ইতিহাসের গর্ব তৈয়ব হাসানের নাম।

এই দুই রেফারির মেলবন্ধনের সূত্র খুঁজতে ফিরে যেতে হবে ১৩ বছর পেছনে। ২০১৩ সালে নেপালের কাঠমান্ডুতে বসেছিল সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনাল। সেই ম্যাচে দক্ষিণ এশিয়ার রেফারি হিসেবে বাঁশি হাতে ম্যাচ পরিচালনার ঐতিহাসিক গৌরব অর্জন করেন বাংলাদেশের ফিফা এলিট রেফারি তৈয়ব হাসান শামসুজ্জামান। আর সেই স্মরণীয় ফাইনালে ডাগআউটে তৈয়ব হাসানের সহকারী অর্থাৎ চতুর্থ রেফারি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন আজকের এই মাখাদমেহ। সাফের মাঠে বাংলাদেশের তৈয়বের হাত ধরে কাজ করা সেই তরুণই আজ দক্ষতা ও যোগ্যতার প্রমাণ দিয়ে পা রাখলেন বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে বড় মঞ্চে।

সাবেক সহকর্মীর এমন বিশ্বজয়ে আপ্লুত তৈয়ব হাসান তার অনুভূতি প্রকাশ করে বলেন, ‘আদহামের এই অর্জন গোটা এশিয়ার রেফারিংয়ের জন্যই এক বড় সাফল্য। খবরটি পাওয়ার পর থেকেই আমার ২০১৩ সালের সাফ ফাইনালের স্মৃতিগুলো মনে পড়ছিল। তখন ও বেশ তরুণ হলেও কাজ শেখার প্রতি ওর প্রবল আগ্রহ ছিল। আমার অধীনে সহকারী হিসেবে কাজ করা ছেলেটি আজ বিশ্বকাপের ফাইনালে ম্যাচ সামলাবেএকজন অগ্রজ হিসেবে এর চেয়ে আনন্দের আর কিছু হতে পারে না। আমি মনে করি, আদহামের এই গল্প আমাদের এই অঞ্চলের তরুণদের পথ দেখাবে। সততা আর পরিশ্রম থাকলে সাফের আঙিনা থেকে এসেও যে বিশ্বকাপের ফাইনালে রাজত্ব করা যায়, ও সেটাই প্রমাণ করল।’

তৃণমূল থেকে উঠে এসে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের নাম উজ্জ্বল করা এই রেফারিং কিংবদন্তি তৈয়ব হাসান পেশায় একজন শিক্ষক। বিশ্বমঞ্চে সুনামের সঙ্গে কাজ করলেও নাড়ির টানে উপকূলীয় জেলা সাতক্ষীরাতেই কাটে তার প্রাত্যহিক জীবন।

এখন পর্যন্ত দক্ষিণ এশিয়ার কোনো রেফারির বিশ্বকাপের মূল পর্বে ম্যাচ পরিচালনার সৌভাগ্য না হলেও, তৈয়ব হাসান দীর্ঘদিন ধরে এশিয়ার বড় বড় টুর্নামেন্টে বিশ্বমানের রেফারিদের সঙ্গে সমান তালে ম্যাচ নিয়ন্ত্রণ করেছেন। বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি আন্তর্জাতিক ম্যাচ পরিচালনার রেকর্ডটি তার দখলেই। টানা ১৮ বছর ফিফা রেফারি এবং ১০ বছর এএফসি এলিট প্যানেলে সুনামের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি।

বিশ্বকাপ জিতলে দাড়ি কাটবেন না ইয়ামাল

ক্রীড়া ডেস্ক
বিশ্বকাপ জিতলে দাড়ি কাটবেন না ইয়ামাল

ক্যারিয়ারের প্রথম বিশ্বকাপেই খেলছেন ফাইনাল। আর সেই ফাইনাল খেলতে নামার আগে ভক্তদের এক ব্যতিক্রমী ও মজার প্রতিশ্রুতি দিলেন স্পেনের তরুণ ফরোয়ার্ড লামিন ইয়ামাল। বার্সেলোনার এই ১৮ বছর বয়সী উইঙ্গার জানিয়েছেন, স্পেন যদি এবারের বিশ্বকাপ ট্রফি উঁচিয়ে ধরতে পারে, তবে টানা তিন সপ্তাহ তিনি দাড়ি-গোঁফ কাটবেন না। শুধু তা-ই নয়, এই শিরোপা জয়ের উদ্‌যাপনকে স্মরণীয় করে রাখতে ভক্তদের ১০০টি প্রিমিয়াম বিটস হেডফোন উপহার দেওয়ার ঘোষণাও দিয়েছেন তিনি।

নিজের অফিশিয়াল ইউটিউব চ্যানেলে প্রকাশিত একটি ভিডিওতে বিশ্বকাপ নিয়ে নিজের নানা পরিকল্পনা ও ভাবনার কথা বলতে গিয়ে এসব কথা জানান ইয়ামাল। স্পেনের জার্সিতে এটিই হতে যাচ্ছে এই তরুণ তারকার প্রথম বিশ্বকাপ অভিযান।

মেগা টুর্নামেন্টে খেলার অভিজ্ঞতা ও মানসিক চাপ সামলানোর বিষয়ে কথা বলতে গিয়ে ২০২৪ সালের ইউরো জয়ের স্মৃতি রোমন্থন করেন ইয়ামাল।

তিনি বলেন, ‘বিশ্বকাপের মতো বড় মঞ্চে প্রথম ম্যাচে মাঠে নামার আগে কিছুটা স্নায়ুচাপ বা বাড়তি চাপ থাকাটা খুবই স্বাভাবিক। তবে ইউরো থেকে আমি একটা বড় শিক্ষা পেয়েছি-শুরুটা যদি মনের মতো নাও হয়, তবুও ধৈর্য হারাতে নেই। নিজের সহজাত খেলায় মনোযোগ ধরে রাখাটাই আসল, কারণ বড় টুর্নামেন্ট মানেই দীর্ঘ পথ পাড়ি দেওয়ার লড়াই।’

ব্যালন ডি’অর জয়ের স্বপ্ন এবং তার সাবেক বার্সা সতীর্থ উসমান দেম্বেলের এই পুরস্কার জেতা নিয়েও খোলামেলা কথা বলেন ইয়ামাল। তিনি অকপটে স্বীকার করেন, ‘একটা সময় আমার মনে হয়েছিল পুরস্কারটি হয়তো আমিই পেতে যাচ্ছি। কিন্তু পরে বুঝতে পেরেছি, ওই মর্যাদাপূর্ণ ট্রফিটি পাওয়ার মতো পরিপক্বতা তখনো আমার আসেনি। এর ভেতরের গভীরতা অনুধাবন করার বয়সও আমার ছিল না। তাই দেম্বেলের হাতে ব্যালন ডি’অর ওঠাটা একদম সঠিক ছিল এবং আমি তার জন্য দারুণ খুশি।’

ফরাসি তারকা দেম্বেলের সঙ্গে নিজের দারুণ সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে ইয়ামাল আরো বলেন, ‘দেম্বেলে মাঠের ভেতরে ও বাইরে আমাকে সবসময় আগলে রেখেছেন। কঠিন সময়ে মানসিকভাবে চাঙ্গা রাখতে নিয়মিত নানা পরামর্শ দিয়েছেন। আমার আজকের এই অবস্থানে আসার পেছনে তার অবদান অনেক।’