• ই-পেপার

পেলের ৫৬ বছরের রেকর্ড ভাঙলেন ওলিসে

গোলবন্যার ম্যাচে হারের দায় নিজের কাঁধে নিলেন ফরাসি কোচ

ক্রীড়া ডেস্ক
গোলবন্যার ম্যাচে হারের দায় নিজের কাঁধে নিলেন ফরাসি কোচ
ছবি : রয়টার্স

বিশ্বকাপের শেষটা রাঙাতে পারল না ফ্রান্স। তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ৬-৪ গোলে হেরে বিশ্বকাপ মিশন শেষ করল গেলবারের রানারআপরা। হারের দায় নিজের কাঁধে নিয়েছেন ফ্রান্সের কোচ দিদিয়ের দেশম।  

ম্যাচর পরবর্তী সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে দেশম বলেন, ‘এটি একটি হার। আমরা ৪-০ গোলে পিছিয়ে ছিলাম। প্রথমার্ধে আমরা ভীষণ বাজে খেলেছি। তবে এরপর আমরা লড়াই করার মানসিকতা দেখিয়েছি এবং কিছু বিষয় ভালোও করেছি।’

বিরতির পর তার খেলোয়াড়রা ইতিবাচকভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছিল এবং অবিশ্বাস্য এক প্রত্যাবর্তনের খুব কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিল, কিন্তু শেষ পর্যন্ত ইংল্যান্ড আবারও ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয় বলে যোগ করেন তিনি।

তিনি আরো বলেন, ‘৪-৪ সমতা ফেরানোর জন্য আমাদের দুটি সুযোগ ছিল। এরপর আমরা আরও আক্রমণাত্মক হয়ে উঠেছিলাম। আমরা আমাদের স্বাভাবিক খেলাটাই খেলার চেষ্টা করেছি।’

৫৭ বছর বয়সী এই কোচ ধীরগতির শুরুর দায়ও নিজের ওপর নেন। তার মতে, ম্যাচের জন্য দলকে আরো ভালোভাবে প্রস্তুত নেওয়ার দরকার ছিল।

‘মেসিকে আটকানো অসম্ভব’—উত্তরসূরিদের স্পেন কিংবদন্তি

ক্রীড়া ডেস্ক
‘মেসিকে আটকানো অসম্ভব’—উত্তরসূরিদের স্পেন কিংবদন্তি
বার্সেলোনায় খেলার সময় মেসি-ইনিয়েস্তা। ছবি : সংগৃহীত

লিওনেল মেসি কী করতে পারেন তা কারো অজানা নয়। কোচদের তো অবশ্যই নয়। আর্জেন্টিনার অধিনায়ককে আটকানোর পরিকল্পনা তাই সব কোচই করেন। কিন্তু পারেন না। ঠিকই প্রতিপক্ষের হিসাব-নিকাশ উল্টিয়ে দেন তিনি। 

ক্যারিয়ারের গোধূলিলগ্নেও তাই করছেন মেসি। তা না হলে ৩৯ বছর বয়সী প্লে মেকারের কাছে পরাস্ত হয়ে এমন কথা বলতেন না ইংল্যান্ডের কোচ টমাস টুখেল। সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনার কাছে হারার পর তিনি বলেছেন, ‘আপনি হয়তো তাকে ৮৫ মিনিট আটকে রাখতে পারবেন, কিন্তু সব কিছু গুঁড়িয়ে দেওয়ার জন্য মেসির ৫ সেকেন্ডই যথেষ্ট। আমরা এমন একজন ফুটবলারের কাছে হেরেছি, যে ৩৯ বছর বয়সেও ফুটবল খেলাটাকে নতুন করে সংজ্ঞায়িত করে চলেছে। এর অর্থ—নিজের চোখের সামনেই ইতিহাস তৈরি হতে দেখা।’

বিশ্বকাপে দুর্দান্ত ছন্দে আছেন মেসি। ৮ গোলের বিপরীতে করেছেন ৪ অ্যাসিস্ট। আজ ফাইনাল ম্যাচ হওয়ায় আরো ভয়ংকর হবেন এটাই স্বাভাবিক। তাকে থামানোর বিষয়ে স্প্যানিশ কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে বলেছেন, ‘মেসি এমন এক খেলোয়াড় যাকে একজন দিয়ে থামানো সম্ভব নয়। তাকে থামাতে দল হয়ে কাজ করতে হবে।’

তবে ফুয়েন্তের কথার সঙ্গে দ্বিমত করছেন আন্দ্রেয়েস ইনিয়েস্তা। স্পেনের সাবেক মিডফিল্ডারের মতে, মেসিকে থামানো অসম্ভব। তাই উত্তরসূরিদের পরামর্শ দিয়েছেন, নিজের খেলা দিয়েই আর্জেন্টিনাকে চাপে ফেলতে। নিউ ইয়র্কে স্পেনের এক রেডিওকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বার্সেলোনার কিংবদন্তি বলেছেন, ‘তাকে পুরোপুরি আটকিয়ে রাখা অসম্ভব। বরং, স্পেন নিজেদের স্বাভাবিক খেলা দিয়ে আর্জেন্টিনাকে চাপে ফেলুক। আর সুযোগ তৈরি করে তা নিখুঁতভাবে কতটা কাজে লাগাতে পারে সেটাই আসল।’

মেসিকে বর্ণনা করার কোনো ভাষা জানা নেই ইনিয়েস্তার। টুপি খোলা শ্রদ্ধা জানিয়ে সাবেক বার্সেলোনা সতীর্থকে নিয়ে তিনি বলেছেন, ‘কোনো শব্দ নেই, কিংবা আমি ঠিক জানি না কীভাবে বর্ণনা করব। প্রতি ম্যাচে তার যে সংকল্প, আত্মবিশ্বাস এবং সে যা কিছু করে—তাকে শুধু টুপি খোলা অভিবাদন জানাতে পারি।’

কেমন হতে পারে আর্জেন্টিনার ফাইনাল একাদশ

ক্রীড়া ডেস্ক
কেমন হতে পারে আর্জেন্টিনার ফাইনাল একাদশ
শেষ মুহূর্তের অনুশীলনে পারেদেস-মেসি-ডি পল। ছবি : রয়টার্স

স্বপ্নের ম্যাচের সামনে দাঁড়িয়ে স্পেন-আর্জেন্টিনা। আজ রাতেই মেটলাইফ স্টেডিয়ামে চূড়ান্ত হবে সোনালি ট্রফিটা কার হাতে উঠবে। অবশ্য দুই দলেরই অভিজ্ঞতা রয়েছে বিশ্বকাপের স্বাদ আস্বাদনের। স্পেনের একবারের বিপরীতে ৩ বার জিতেছে আর্জেন্টিনা।

আলবিসেলেস্তারা বর্তমান চ্যাম্পিয়নও। অর্থাৎ টানা দ্বিতীয় শিরোপা জয়ের লক্ষ্য নামবেন লিওনেল মেসিরা। শিরোপা ধরে রাখার অভিযানে একাদশে কাদের নামাবেন কোচ লিওনেল স্কালোনি? আর্জেন্টিনার ক্রীড়া সংবাদ মাধ্যম টিওয়াইসি স্পোর্টসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ফাইনালের একাদশে খুব একটা পরিবর্তন আনবেন না স্কালোনি। 

একাদশের দুটি পজিশন নিয়ে শুধু মাথা ঘামাতে হবে স্কালোনিকে। দুটির একটি হচ্ছে রক্ষণভাগে। রাইটব্যাক নাহুয়েল মলিনার জায়গা গঞ্জালো মন্তিয়েলকে নামাতে পারেন আর্জেন্টিনার কোচ। সেমিফাইনালে মলিনার দিক থেকেই লিড নিয়েছিল ইংল্যান্ড। পরে তার বদলি নেমে দারুণ খেলেছেন মন্তিয়েল।

অন্যদিকে মিডফিল্ডে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে একাদশে জায়গা হারান রদ্রিগো ডি পল। তার পজিশনে খেলেন জুলিয়ানো সিমিওনে। বেঞ্চ থেকে পরে মাঠে নেমে অবশ্য দারুণ খেলেছেন ডি পলও। এর বাইরে আজ দেখা যেতে পারে জিওভান্নি লো সেলসোকেও। কেননা অনুশীলনের সময় যে ১৩ জনকে ‘বিব’ (বিশেষ জার্সি) দিয়েছিলেন তাদের একজন ছিলেন রিয়াল বেতিসের এই মিডফিল্ডার। স্কালোনি যদি তাকে সুযোগ দেন, তাহলে বেঞ্চ গরম করতে হতে পারে লিয়ান্দ্রো পারেদেসকে।

আর্জেন্টিনার সম্ভাব্য একাদশ-

এমিলিয়ানো মার্তিনেজ (গোলরক্ষক), গঞ্জালো মন্তিয়েল, ক্রিস্টিয়ান রোমেরো, লিসান্দ্রো মার্তিনেজ, নিকোলাস তাগলিয়াফিকো, জুলিয়ানো সিমিওনে, এনজো ফার্নান্দেজ, লিয়ান্দ্রো পারেদেস, অ্যালেক্সিস ম্যাক আলিস্টার, লিওনেল মেসি ও হুলিয়ান আলভারেজ। 

যে ৫ কারণে আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হতে পারে স্পেন

ক্রীড়া ডেস্ক
যে ৫ কারণে আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হতে পারে স্পেন
ফ্রান্সের বিপক্ষে পেদ্রো পোরো গোলের পর সতীর্থ লামিনে ইয়ামালের ব্যতিক্রম উদযাপন। ছবি : রয়টার্স

দীর্ঘ ১৬ বছর বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠেছে স্পেন। শেষবার যখন ফাইনাল খেলে সেবার চ্যাম্পিয়নও হয় তারা। ২০১০ বিশ্বকাপের ট্রফিই তাদের ফুটবল ইতিহাসের প্রথম শিরোপা। এবার দ্বিতীয়বার সোনালি ট্রফি ঘরে তোলার সুযোগ তাদের সামনে। দুর্দান্ত ছন্দে থাকা স্পেন ৫ কারণে বিশ্বকাপ উঁচিয়ে ধরার সুযোগ পেতে পারেন।

চলুন দেখে নেওয়া যাক সেই ৫ কারণ—

অপরাজেয় যন্ত্র

যন্ত্র যেমন নিরবচ্ছিন্ন কাজ করতে সক্ষম, তেমনি কয়েক বছর ধরে দুর্দান্ত ছন্দে আছে স্পেনও। এতটাই যে টানা সর্বোচ্চ ৩৭ ম্যাচ অপরাজিত তারা। তাদের মতো ইতালিও সমান ৩৭ ম্যাচ অপরাজিত ছিল। আজ সেই রেকর্ড নিজেদের করে নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছে তারা। এর জন্য মেটলাইফ স্টেডিয়ামে আজ রাতে আর্জেন্টিনাকে হারাতে হবে। তাহলেই এক ঢিলে দুই পাখি মারতে পারবে। বিশ্বকাপ জয়ের সঙ্গে অপরাজিত থাকার রেকর্ডও গড়বে।

২০১০ বিশ্বকাপ জয়ের মতোই সাদৃশ্য

ফুটবল অনেক সময় কাকতালীয় ঘটনাকে সামনে আনে। এবার তেমনি স্পেনের ক্ষেত্রে ঘটার পথে। ২০১০ দক্ষিণ আফ্রিকা বিশ্বকাপের সঙ্গে এবারের বিশ্বকাপের এই অবিশ্বাস্য মিলগুলো স্পেনের ফুটবল ভক্তদের মনে আবার বিশ্বকাপ জয়ের আশা জাগিয়ে তুলছে।

দুই বিশ্বকাপের প্রধান মিলগুলো তুলে ধরা হলো—

উদ্বোধনী ম্যাচ ও থিম সং : ২০১০ সালের মতো এবারও উদ্বোধনী ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছিল মেক্সিকো ও দক্ষিণ আফ্রিকা। দুই বিশ্বকাপের অফিশিয়াল থিম সং গেয়েছেন শাকিরা।

ইউরোপীয় চ্যাম্পিয়ন ও বার্সেলোনা সংযোগ : ২০১০ বিশ্বকাপে স্পেন পা রেখেছিল ইউরোপীয় চ্যাম্পিয়ন হয়ে। সেবার বার্সেলোনার ৮ জন খেলোয়াড় ছিলেন। এবারও ঠিক একই পটভূমি। 

গ্রুপ পর্ব ও মার্সেলো বিয়েলসা : ২০১০ সালে স্পেন ছিল ‘এইচ গ্রুপে’ এবং গ্রুপ পর্বের তৃতীয় ম্যাচে তাদের মুখোমুখি হতে হয়েছিল মার্সেলো বিয়েলসার কোচিংয়ে থাকা একটি লাতিন আমেরিকান দলের। ২০২৬ সালেও এর ব্যতিক্রম হয়নি। এবার উরুগুয়ের ডাগআউটে ছিলেন বিয়েলসা। 

ঘরোয়া ফুটবল ও মরিনহো ফ্যাক্টর : মাঠের বাইরের কাকতালীয় ঘটনাও হুবহু মিলে যাচ্ছে। বার্সেলোনা বর্তমান লা লিগা ও স্প্যানিশ সুপার কাপ চ্যাম্পিয়ন, আতলেতিকো মাদ্রিদ কোপা দেল রে-তে রানার্স-আপ হয়েছে এবং হোসে মরিনহো রিয়াল মাদ্রিদের দায়িত্ব নিয়েছেন।

নতুন সোনালি প্রজন্ম

২০১০ বিশ্বকাপ ও ইউরোজয়ী আন্দ্রেস ইনিয়েস্তা-জাভি হার্নান্দেজ-ইকার ক্যাসিয়াসরা নিশ্চিতভাবেই স্পেনের এখন পর্যন্ত সেরা ও সোনালি প্রজন্ম। তাদের মতোই এবার নতুন সোনালি প্রজন্ম পেয়েছে স্পেন। লামিনে ইয়ামাল, পাউ ‍কুবারসি, রদ্রি, পেদ্রিদের। যারা দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করে ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ করছেন।

তারা প্রমাণ করেছে বিশ্বসেরাদের হারাতে পারে

ফাইনালের টিকিট পাওয়ার পথে বিশ্বের সেরা দলদের হারিয়েছে স্পেন। পর্তুগাল, বেলজিয়ামের পর দুইবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ফ্রান্সকে সেমিফাইনালে হারিয়েছে তারা। অতিরিক্ত সময় কিংবা পেনাল্টিতে নয়, নির্ধারিত সময়েই প্রতিপক্ষদের ধরাশায়ী করেছে স্পেন।

ব্যক্তিগত নৈপুণ্যের চেয়ে দলীয় পারফরম্যান্সে বিশ্বাসী

স্পেনের বরাবরই শক্তির জায়গা দলীয় পারফরম্যান্স। এবারের দলটিও সেই সামর্থেরই প্রদর্শন করেছে বিশ্বকাপে। শুধু একজন নয়, ম্যাচ বাই ম্যাচ জয়ের নায়ক ভিন্ন হচ্ছেন। আর একসঙ্গে পজেশনাল, প্রেসিং ও গোলের সুযোগ তৈরি করছেন।