• ই-পেপার

গোলবন্যার ম্যাচে হারের দায় নিজের কাঁধে নিলেন ফরাসি কোচ

সমতায় প্রথমার্ধের পানি বিরতিতে স্পেন-আর্জেন্টিনা

ক্রীড়া ডেস্ক
সমতায় প্রথমার্ধের পানি বিরতিতে স্পেন-আর্জেন্টিনা

ফুটবল বিশ্বের দুই মহাদেশের সেরা দুই সিংহাসনের অধিপতি শিরোফার লড়াই শুরু হয়েছে। সমতায় থেকে প্রথমার্ধের পানি বিরতিতে গিয়েছে দুই দল।

প্রথমার্ধের পানি বিরতি পর্যন্ত ম্যাচে সমতা থাকলেও আধিপত্য ছিল স্পেনের। ইয়ামালদের ৬২ শতাংশ বলের দখলের বিপরীতে মেসিদের আছে ৩৮ শতাংশ।

ইউরোপের রাজত্ব জয় করা স্পেনের গতি ও কৌশলের বিপরীতে কোপা আমেরিকার মুকুট ধরে রাখা আর্জেন্টিনার চিরচেনা ছন্দ আর অভিজ্ঞতার এক মহাকাব্যিক লড়াই বিশ্বকাপ ফাইনালে দেখছে বিশ্বের কোটি কোটি ফুটবলপ্রেমীরা।

 

বাংলাদেশের তৈয়ব হাসানের সহকারি ছিলেন বিশ্বকাপ ফাইনালে রেফারি

ক্রীড়া ডেস্ক
বাংলাদেশের তৈয়ব হাসানের সহকারি ছিলেন বিশ্বকাপ ফাইনালে রেফারি
সংগৃহীত ছবি

ফুটবল বিশ্বকাপের ফাইনালে আর্জেন্টিনা ও স্পেনের মহারণ দেখতে যখন বুঁদ গোটা দুনিয়া, ঠিক তখনই বাংলাদেশের ক্রীড়াপ্রেমীদের জন্য এলো এক গর্বের উপলক্ষ। বিশ্বমঞ্চের এই পরম আরাধ্য ফাইনালে চতুর্থ রেফারি হিসেবে মাঠে থাকবেন জর্ডানের আদহাম মাখাদমেহ। আর জর্ডানের এই রেফারির চূড়ায় ওঠার গল্পের সঙ্গে মিশে আছে দেশের রেফারিং ইতিহাসের গর্ব তৈয়ব হাসানের নাম।

এই দুই রেফারির মেলবন্ধনের সূত্র খুঁজতে ফিরে যেতে হবে ১৩ বছর পেছনে। ২০১৩ সালে নেপালের কাঠমান্ডুতে বসেছিল সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনাল। সেই ম্যাচে দক্ষিণ এশিয়ার রেফারি হিসেবে বাঁশি হাতে ম্যাচ পরিচালনার ঐতিহাসিক গৌরব অর্জন করেন বাংলাদেশের ফিফা এলিট রেফারি তৈয়ব হাসান শামসুজ্জামান। আর সেই স্মরণীয় ফাইনালে ডাগআউটে তৈয়ব হাসানের সহকারী অর্থাৎ চতুর্থ রেফারি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন আজকের এই মাখাদমেহ। সাফের মাঠে বাংলাদেশের তৈয়বের হাত ধরে কাজ করা সেই তরুণই আজ দক্ষতা ও যোগ্যতার প্রমাণ দিয়ে পা রাখলেন বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে বড় মঞ্চে।

সাবেক সহকর্মীর এমন বিশ্বজয়ে আপ্লুত তৈয়ব হাসান তার অনুভূতি প্রকাশ করে বলেন, ‘আদহামের এই অর্জন গোটা এশিয়ার রেফারিংয়ের জন্যই এক বড় সাফল্য। খবরটি পাওয়ার পর থেকেই আমার ২০১৩ সালের সাফ ফাইনালের স্মৃতিগুলো মনে পড়ছিল। তখন ও বেশ তরুণ হলেও কাজ শেখার প্রতি ওর প্রবল আগ্রহ ছিল। আমার অধীনে সহকারী হিসেবে কাজ করা ছেলেটি আজ বিশ্বকাপের ফাইনালে ম্যাচ সামলাবেএকজন অগ্রজ হিসেবে এর চেয়ে আনন্দের আর কিছু হতে পারে না। আমি মনে করি, আদহামের এই গল্প আমাদের এই অঞ্চলের তরুণদের পথ দেখাবে। সততা আর পরিশ্রম থাকলে সাফের আঙিনা থেকে এসেও যে বিশ্বকাপের ফাইনালে রাজত্ব করা যায়, ও সেটাই প্রমাণ করল।’

তৃণমূল থেকে উঠে এসে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের নাম উজ্জ্বল করা এই রেফারিং কিংবদন্তি তৈয়ব হাসান পেশায় একজন শিক্ষক। বিশ্বমঞ্চে সুনামের সঙ্গে কাজ করলেও নাড়ির টানে উপকূলীয় জেলা সাতক্ষীরাতেই কাটে তার প্রাত্যহিক জীবন।

এখন পর্যন্ত দক্ষিণ এশিয়ার কোনো রেফারির বিশ্বকাপের মূল পর্বে ম্যাচ পরিচালনার সৌভাগ্য না হলেও, তৈয়ব হাসান দীর্ঘদিন ধরে এশিয়ার বড় বড় টুর্নামেন্টে বিশ্বমানের রেফারিদের সঙ্গে সমান তালে ম্যাচ নিয়ন্ত্রণ করেছেন। বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি আন্তর্জাতিক ম্যাচ পরিচালনার রেকর্ডটি তার দখলেই। টানা ১৮ বছর ফিফা রেফারি এবং ১০ বছর এএফসি এলিট প্যানেলে সুনামের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি।

বিশ্বকাপ জিতলে দাড়ি কাটবেন না ইয়ামাল

ক্রীড়া ডেস্ক
বিশ্বকাপ জিতলে দাড়ি কাটবেন না ইয়ামাল

ক্যারিয়ারের প্রথম বিশ্বকাপেই খেলছেন ফাইনাল। আর সেই ফাইনাল খেলতে নামার আগে ভক্তদের এক ব্যতিক্রমী ও মজার প্রতিশ্রুতি দিলেন স্পেনের তরুণ ফরোয়ার্ড লামিন ইয়ামাল। বার্সেলোনার এই ১৮ বছর বয়সী উইঙ্গার জানিয়েছেন, স্পেন যদি এবারের বিশ্বকাপ ট্রফি উঁচিয়ে ধরতে পারে, তবে টানা তিন সপ্তাহ তিনি দাড়ি-গোঁফ কাটবেন না। শুধু তা-ই নয়, এই শিরোপা জয়ের উদ্‌যাপনকে স্মরণীয় করে রাখতে ভক্তদের ১০০টি প্রিমিয়াম বিটস হেডফোন উপহার দেওয়ার ঘোষণাও দিয়েছেন তিনি।

নিজের অফিশিয়াল ইউটিউব চ্যানেলে প্রকাশিত একটি ভিডিওতে বিশ্বকাপ নিয়ে নিজের নানা পরিকল্পনা ও ভাবনার কথা বলতে গিয়ে এসব কথা জানান ইয়ামাল। স্পেনের জার্সিতে এটিই হতে যাচ্ছে এই তরুণ তারকার প্রথম বিশ্বকাপ অভিযান।

মেগা টুর্নামেন্টে খেলার অভিজ্ঞতা ও মানসিক চাপ সামলানোর বিষয়ে কথা বলতে গিয়ে ২০২৪ সালের ইউরো জয়ের স্মৃতি রোমন্থন করেন ইয়ামাল।

তিনি বলেন, ‘বিশ্বকাপের মতো বড় মঞ্চে প্রথম ম্যাচে মাঠে নামার আগে কিছুটা স্নায়ুচাপ বা বাড়তি চাপ থাকাটা খুবই স্বাভাবিক। তবে ইউরো থেকে আমি একটা বড় শিক্ষা পেয়েছি-শুরুটা যদি মনের মতো নাও হয়, তবুও ধৈর্য হারাতে নেই। নিজের সহজাত খেলায় মনোযোগ ধরে রাখাটাই আসল, কারণ বড় টুর্নামেন্ট মানেই দীর্ঘ পথ পাড়ি দেওয়ার লড়াই।’

ব্যালন ডি’অর জয়ের স্বপ্ন এবং তার সাবেক বার্সা সতীর্থ উসমান দেম্বেলের এই পুরস্কার জেতা নিয়েও খোলামেলা কথা বলেন ইয়ামাল। তিনি অকপটে স্বীকার করেন, ‘একটা সময় আমার মনে হয়েছিল পুরস্কারটি হয়তো আমিই পেতে যাচ্ছি। কিন্তু পরে বুঝতে পেরেছি, ওই মর্যাদাপূর্ণ ট্রফিটি পাওয়ার মতো পরিপক্বতা তখনো আমার আসেনি। এর ভেতরের গভীরতা অনুধাবন করার বয়সও আমার ছিল না। তাই দেম্বেলের হাতে ব্যালন ডি’অর ওঠাটা একদম সঠিক ছিল এবং আমি তার জন্য দারুণ খুশি।’

ফরাসি তারকা দেম্বেলের সঙ্গে নিজের দারুণ সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে ইয়ামাল আরো বলেন, ‘দেম্বেলে মাঠের ভেতরে ও বাইরে আমাকে সবসময় আগলে রেখেছেন। কঠিন সময়ে মানসিকভাবে চাঙ্গা রাখতে নিয়মিত নানা পরামর্শ দিয়েছেন। আমার আজকের এই অবস্থানে আসার পেছনে তার অবদান অনেক।’

স্পেন বধের লক্ষ্যে ৩ পরিবর্তন নিয়ে আর্জেন্টিনার একাদশে চমক

ক্রীড়া ডেস্ক
স্পেন বধের লক্ষ্যে ৩ পরিবর্তন নিয়ে আর্জেন্টিনার একাদশে চমক

টানা দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের সোনালী ট্রফিটা ঘরে তুলতে মরিয়া আর্জেন্টিনা। শিরোপা নির্ধারণী মহাযুদ্ধে আলবিসেলেস্তেদের প্রতিপক্ষ স্পেন। ফাইনালের এই হাইভোল্টেজ ম্যাচে স্প্যানিশদের রুখে দিতে নিজেদের রণকৌশল বদলে ফেলেছেন আর্জেন্টাইন মাস্টারমাইন্ড লিওনেল স্কালোনি। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ২-১ ব্যবধানে জেতা সেমিফাইনালের স্কোয়াড থেকে ফাইনালে একাদশে তিনটি বড় পরিবর্তন এনেছে বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। তবে মহাগুরুত্বপূর্ণ এই ম্যাচে শুরু থেকেই মাঠে থাকছেন অধিনায়ক লিওনেল মেসি।

সেমিফাইনালে রাইটব্যাক পজিশনে নাহুয়েল মলিনার পারফরম্যান্স মোটেও সন্তোষজনক ছিল না। ইংলিশদের গোলটি এসেছিল তার প্রান্ত ব্যবহার করেই। তাই ফাইনালে মলিনার ওপর আর ভরসা রাখতে পারেননি স্কালোনি; তার জায়গায় মূল একাদশে সুযোগ পেয়েছেন গঞ্জালো মন্তিয়েল। সেমিতে বদলি হিসেবে নেমে বাজিমাত করা রিভার প্লেটের এই ডিফেন্ডারকে সেরা উপহারটাই দিলেন কোচ।

মিডফিল্ডে দ্বিতীয় পরিবর্তনটি এসেছে রদ্রিগো ডি পলের হাত ধরে। সেমিফাইনালের শুরুর একাদশ থেকে বাদ পড়া এই মিডফিল্ডার ফাইনালে নিজের জায়গা পুনরুদ্ধার করেছেন। তার জন্য বেঞ্চে ফিরে যেতে হয়েছে জিউলিয়ানো সিমিওনেকে।

তবে সবচেয়ে বড় চমকটি এসেছে শেষ পরিবর্তনে। শতভাগ ফিট না থাকায় ফাইনালের দল থেকে ছিটকে গেছেন অভিজ্ঞ লিয়ান্দ্রো পারেদেস। তার জায়গায় আক্রমণাত্মক ফুটবল উপহার দিতে দলে ডাক পেয়েছেন নিকোলাস গঞ্জালেজ। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে বদলি নেমে প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগে বেশ কাঁপন ধরিয়েছিলেন তিনি, যার পুরস্কার মিলল ফাইনালের মঞ্চে।

আর্জেন্টিনার শুরুর একাদশ:

এমিলিয়ানো মার্টিনেজ (গোলকিপার), গঞ্জালো মন্তিয়েল, ক্রিশ্চিয়ান রোমেরো, লিসান্দ্রো মার্টিনেজ, নিকোলাস তাগলিয়াফিকো, রদ্রিগো ডি পল, এনজো ফার্নান্দেজ, অ্যালেক্সিস মাক অ্যালিস্টার, নিকোলাস গঞ্জালেজ, লিওনেল মেসি ও হুলিয়ান আলভারেজ।