পাবনার সাঁথিয়া উপজেলায় ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে সালিশি বৈঠকে এক ব্যক্তিকে জুতা পেটার ঘটনায় ইউপি চেয়ারম্যানসহ ১২ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলায় অজ্ঞাতনামা আরো ১০ থেকে ১৫ জনকে আসামি করা হয়েছে।
ভুক্তভোগী মো. মহব্বৎ আলী খাঁর স্ত্রী মোছা. রোজিনা খাতুন সাঁথিয়া থানায় বাদী হয়ে মামলা করেছেন। পরে মামলাটি রুজ করা হয়।
এজাহার সূত্রে জানা যায়, প্রতিবেশী মো. এরশাদ আলীর প্রতিবন্ধী বোনকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট বিরোধের জেরে গত ১২ জুলাই সন্ধ্যায় গ্রামে একটি সালিশ বৈঠকের আয়োজন করা হয়। সেখানে বিপুলসংখ্যক স্থানীয় লোকজন উপস্থিত ছিলেন।
আরো পড়ুন
জিহাদ হত্যার বিচার দাবিতে ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক অবরোধ
মামলার বাদীর অভিযোগ, সালিশে তার স্বামী মহব্বৎ আলী খাঁকে প্রকাশ্যে ২০টি জুতার আঘাত করার সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়। তিনি উপস্থিত সবার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করলেও সালিশকারীরা সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসেননি। এক পর্যায়ে সালিশস্থল ত্যাগ করতে চাইলে তাকে বাধা দেওয়া হয় এবং ভয়ভীতি দেখানো হয়।
অভিযোগে আরো বলা হয়, সালিশকারীদের নির্দেশে দুই ব্যক্তি মহব্বৎ আলী খাঁকে প্রকাশ্যে ২০টি জুতার আঘাত করেন। পরে তিনি বাড়ি ফিরে অসুস্থ হয়ে পড়লে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা নেন। পরবর্তীতে আত্মীয়-স্বজনের সঙ্গে আলোচনা করে থানায় মামলা দায়ের করা হয়।
মামলায় গৌরিগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল ওহাব মাষ্টার, সাবেক ইউপি সদস্য আব্দুল মালেক, বর্তমান ইউপি সদস্য আরশেদ আলী ও সালিশকারীদেরসহ ১২ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি অজ্ঞাতনামা আরো ১০ থেকে ১৫ জনকে আসামি করা হয়েছে।
এদিকে একই ঘটনায় ওই প্রতিবন্ধী কিশোরীর ভাই মো. এরশাদ আলী বাদী হয়ে ধর্ষণ চেষ্টায় অভিযুক্ত মহব্বৎ আলী খাঁর বিরুদ্ধে পৃথক একটি মামলা দায়ের করেছেন।
মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও মামলার আসামিদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
সাঁথিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনিসুর রহমান বলেন, ‘অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা রুজু করা হয়েছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
প্রসঙ্গত, গত ১২ জুলাই দুপুর ১২টার দিকে অভিযুক্ত মহব্বত খাঁ কাঠাল কাটার অজুহাতে ভুক্তভোগীর বাড়ি থেকে একটি কাচি নিয়ে যান। পরে বাড়িতে বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী কিশোরী একা থাকার সুযোগে তিনি ঘরে প্রবেশ করে তাকে জাপটে ধরে মাটিতে ফেলে ধর্ষণের চেষ্টা করেন। এর পর এলাকায় চাঞ্চল্যকর পরিস্থিতি তৈরি হয়। পরে সালিশের মাধ্যমে ২০টি জুতা পেটা করা হয়।