• ই-পেপার

সালিশে ২০ জুতা পেটার ঘটনায় মামলা দায়ের

সড়ক সংস্কারে অনিয়মের অভিযোগ, ৪ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে শোকজ

লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি
সড়ক সংস্কারে অনিয়মের অভিযোগ, ৪ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে শোকজ
ছবি: কালের কণ্ঠ

লক্ষ্মীপুর পৌরসভায় প্রায় ৭ কোটি ৩৭ লাখ টাকার সড়ক সংস্কার ও ড্রেন নির্মাণ কাজে ঠিকাদারের বিরুদ্ধে নিম্নমানের মালামাল ব্যবহারের অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। এতে কাজটির তদারকির দায়িত্ব অবহেলা করায় উপ-সহকারী প্রকৌশলীসহ ৪ কর্মকর্তাকে শোকজ করেছে পৌর প্রশাসন। এ ছাড়া ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে প্রকল্প পরিচালকের দপ্তরে লিখিত অভিযোগও করা হয়।

রবিবার (১৯ জুলাই) রাতে লক্ষ্মীপুর পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী জুলফিকার হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। 

নির্বাহী প্রকৌশলী জুলফিকার হোসেন বলেন, সড়ক সংস্কার কাজে তদারকিতে দায়িত্ব অবহেলায় উপ-সহকারী প্রকৌশলী সোহাগ আলী ও কার্য সহকারী ফাহাদ হোসেনকে লিখিতভাবে শোকজ করেছে পৌর প্রশাসক। এ ছাড়া উপ সহকারী প্রকৌশলী মোহাম্মদ ইসহাক ও এবিএম আশরাফ উদ্দিনকে শোকজ করার জন্য নির্দেশনা দিয়েছেন প্রশাসক। তবে এখনো তাদেরকে চিঠি দেওয়া হয়নি।

তিনি আরো বলেন, সড়ক সংস্কার কাজে ব্যাপক অনিয়ম হয়েছে। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ঘটনার সত্যতা পাওয়া যায়। এতে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে প্রকল্প পরিচালকের কাছে লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে। কাজের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স  মোস্তফা এন্ড সন্স’র স্বত্ত্বাধিকারী শহিদুল ইসলামকেও বিষয়টি জানানো হয়েছে। তিন দিনের মধ্যে নিম্নমানের মালামাল সাইট থেকে অপসারণের জন্য বলা হয়েছে। 

প্রকল্প পরিচালককে দেওয়া চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, লক্ষ্মীপুর পৌরসভায় বিশ্ব ব্যাংকের আর্থিক সহায়তাপুষ্ট ‘রিজিলিয়েন্ট আরবান এ্যান্ড টেরিটরিয়‍্যাল ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট (আরইউটিডিপি) প্রকল্পের কাজ (Package No: RUTDP/LAX/2024-25/W-01) চলমান রয়েছে। প্যাকেজটি হল ত্রিমোহনী হয়ে এএনএম ফজলুল করিম রোড থেকে পলিটেকনিকেল রোড পর্যন্ত বিসি সড়ক, ড্রেন, স্ট্রিট লাইট ও ফুটপাতের উন্নয়ন এবং মাওলানা রেহান উদ্দিন রোড ও রামগতি রোড থেকে ঢাকা-রায়পুর রোড পর্যন্ত বিসি সড়ক, ড্রেন, স্ট্রিট লাইট ও ফুটপাতের উন্নয়ন। কিন্তু সড়কের ম্যাকাডমের জন্য অতি নিম্নমানের খোয়া এবং ড্রেনের কাজে নিম্নমানের পাথর ব্যবহার করছেন। ইতোপূর্বে ঠিকাদারকে মৌখিক এবং লিখিত সতর্কতামূলক চিঠি দেওয়া হয়েছে। কিন্তু ঠিকাদার কর্ণপাত না করে অতি নিম্নমানের মালামাল ব্যবহার করে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। এ অবস্থায় সকল প্রকার কাজ বন্ধ রেখে অতি নিম্নমানের মালামাল সাইট থেকে ৩ দিনের মধ্যে অপসারণ করে কর্তৃপক্ষকে অবহিত করতে বলা হয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, ফিরোজ আলম নামে স্থানীয় ঠিকাদার কাজটি কিনে নিয়েছেন। তিনি লক্ষ্মীপুরের ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান অঙ্গশোভার মালিক। শুরু থেকেই তিনি কাজে ব্যাপক অনিয়ম করে আসছেন। খোয়ার বদলে রাবিশ এবং ড্রেন নির্মাণ কাজে নিন্মমানের পাথর ব্যবহার করেছেন। রবিবার নির্বাহী প্রকৌশলী জুলফিকার হোসেন ঘটনাস্থল গিয়ে অভিযোগের সত্যতা পেয়েছেন।

আবেগঘন ফেসবুক পোস্টে ব্রাহ্মণপাড়াকে বিদায় জানালেন ইউএনও মাহমুদা

বুড়িচং-ব্রাহ্মণপাড়া (কুমিল্লা) প্রতিনিধি
আবেগঘন ফেসবুক পোস্টে ব্রাহ্মণপাড়াকে বিদায় জানালেন ইউএনও মাহমুদা
ইউএনও মাহমুদা জাহান

কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহমুদা জাহান ফেসবুকে বিদায় বার্তা দিয়ে বিদায় নিয়েছেন।

রবিবার (১৯ জুলাই) রাত ১১টার উপজেলা ব্রাহ্মণপাড়া ইউএনও ফেসবুক আইডিতে বিদায় উপলক্ষে দেওয়া এক আবেগঘন বার্তা দেন। দায়িত্ব শেষে উপজেলার সর্বস্তরের মানুষের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা ও ভালোবাসা প্রকাশ করেছেন। তিনি কর্মজীবনের প্রায় দেড় বছরের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন এবং দায়িত্ব পালনের সময় সহযোগিতা করা সকলের প্রতি ধন্যবাদ জানান।

বিদায়ী বার্তায় মাহমুদা জাহান বলেন, ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলায় ইউএনও হিসেবে প্রায় দেড় বছর কাজ করার সুযোগ পেয়ে তিনি নিজেকে সৌভাগ্যবান মনে করেন। এই সময়ে উপজেলার সংসদ সদস্য, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের স্থানীয় নেতৃবৃন্দ, শিক্ষক, প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সদস্যসহ সর্বস্তরের জনগণের আন্তরিক সহযোগিতা ও ভালোবাসা পেয়েছেন।

তিনি আরো বলেন, দায়িত্ব পালনকালে তার কোনো আচরণে কেউ কষ্ট পেয়ে থাকলে তিনি ক্ষমাপ্রার্থী। একই সঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার সার্বিক উন্নয়নে সর্বোচ্চ আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করার চেষ্টা করেছেন, যদিও প্রত্যাশা অনুযায়ী সবকিছু করা সম্ভব হয়নি।

মাহমুদা জাহান তার বার্তায় বলেন, ‘আমার কর্মজীবনের সব কৃতিত্বের দাবিদার ব্রাহ্মণপাড়ার মানুষ, আর ব্যর্থতার সম্পূর্ণ দায়ভার আমার নিজের। বিদায় বেলায় আপনারা যে সম্মান ও ভালোবাসা দেখিয়েছেন, তা আমি আজীবন মনে রাখব।

বার্তার শেষাংশে তিনি ব্রাহ্মণপাড়া ও উপজেলার মানুষের সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করে বলেন, ভালো থাকুক প্রিয় ব্রাহ্মণপাড়া, ভালো থাকুক ব্রাহ্মণপাড়ার মানুষগুলো।

উল্লেখ্য, সম্প্রতি বদলিজনিত কারণে ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদা জাহানের কর্মস্থল পরিবর্তন হয়েছে। তার বিদায় উপলক্ষে উপজেলা প্রশাসন ও বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক এবং পেশাজীবী সংগঠনের উদ্যোগে সংবর্ধনা ও বিদায় অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।

মাগুরায় ইঁদুরনাশক গ্যাস ট্যাবলেট সেবনে মাদরাসাছাত্রের মৃত্যু

মাগুরা প্রতিনিধি
মাগুরায় ইঁদুরনাশক গ্যাস ট্যাবলেট সেবনে মাদরাসাছাত্রের মৃত্যু
প্রতীকী ছবি

মাগুরা সদর উপজেলা জগদল ইউনিয়ন মাধবপুর হযরত জয়নাব নূরানী হাফিজিয়া মাদরাসার ছাত্র আসমাউল (১৩) নামে এক ছাত্র ইঁদুর মারার গ্যাস ট্যাবলেট খেয়ে মৃত্যুবরণ করেছে।

রবিবার (১৯ জুলাই) রাত ১০টার দিকে সদরের রুপাটি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয়রা জানান, সকালে মাদরাসার হুজুরের কাছে অনুমতি নিয়ে বাড়িতে গিয়ে আর মাদরাসায় না যেতে চাইলে বড় ভাই আল মামুন ছোট ভাই আসমাউলের মুখে থাপ্পড় মেরে হাতে ১০০ টাকা দিয়ে মাদরাসায় পাঠিয়ে দেন। আসমাউল ওই ১০০ টাকা দিয়ে কীটনাশকের দোকান থেকে ইঁদুর মারা গ্যাস ট্যাবলেট কিনে খায়।

বিষয়টা জানতে পেরে আসমাউলের পরিবারের লোকজন তাকে দ্রুত মাগুরা ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

মাগুরা সদর থানার অফিসার্স ইনচার্জ (ওসি) আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, মাদরাসার এক ছাত্র অসুস্থ হয়ে মাগুরা ২৫০ আজ রাতে মারা গেছে। বিষয়টির তদন্ত চলছে। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে ইঁদুর মারার ওষুধ খেয়ে সে মারা যায়। এ ঘটনায় মাগুরা সদর থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা হয়েছে।

মোংলায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে শিশুর মৃত্যু

মোংলা প্রতিনিধি
মোংলায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে শিশুর মৃত্যু
সংগৃহীত ছবি

মোংলায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ইফা আক্তার নামের দুই বছর বয়সের এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। প্রচণ্ড জ্বর ও ডেঙ্গু উপসর্গ নিয়ে শনিবার দুপুরে তাকে মোংলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।

প্রাথমিক পরীক্ষায় শিশুটির ডেঙ্গু ধরা পড়ে। এদিন সন্ধ্যায় উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রবিবার ভোর রাতে শিশু ইফা আক্তার মারা যায়।

ইফা আক্তার মোংলা পৌর শহরের ৯ ওয়ার্ডের সিগনাল টাওয়ার এলাকার শাকিল তালুকদারের কন্যা।

মোংলা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. শাহিন বলেন, রবিবার সকালে নতুন করে ৩ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। এ নিয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় ৭ জন রোগী চিকিৎসা নিচ্ছেন। তিনি আরো বলেন, গড়ে প্রতিদিন ৩ থেকে ৫ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে আসছে।