• ই-পেপার

মোংলায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে শিশুর মৃত্যু

লক্ষ্মীপুরে শিক্ষার্থীকে বলাৎকারের অভিযোগে মাদরাসা অধ্যক্ষ গ্রেপ্তার

লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি
লক্ষ্মীপুরে শিক্ষার্থীকে বলাৎকারের অভিযোগে মাদরাসা অধ্যক্ষ গ্রেপ্তার
সংগৃহীত ছবি

লক্ষ্মীপুরের চন্দ্রগঞ্জে এক ১২ বছর বয়সী এক শিক্ষার্থীকে বলাৎকারের অভিযোগে মাদরাসার অধ্যক্ষ আব্দুল আহাদকে আটক করেছে পুলিশ। সোমবার (২০ জুলাই) সকালে চন্দ্রগঞ্জ থানার ওসি আব্দুর রব বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। ভুক্তভোগী পরিবারের দায়ের করা মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।

এরআগে রবিবার (১৯ জুলাই) রাতে উপজেলার মান্দারী ইউনিয়নের দিঘলী রাস্তার মাথা এলাকার পপুলার আইডিয়াল হিফজ মাদরাসা থেকে তাকে আটক করা হয়। আটক আহাদ একই মাদরাসার অধ্যক্ষ।

পুলিশ ও অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, শনিবার (১৮ জুলাই) রাত ওই শিক্ষার্থীকে অধ্যক্ষ তার কক্ষে ডেকে নেন। সেখানেই তাকে বলাৎকারের অভিযোগ করা হয়েছে। পরদিন দুপুরে ওই শিক্ষার্থী মাদরাসা থেকে পালিয়ে বাড়িতে চলে যায়। বাড়ি ফিরে কান্নাজড়িত কণ্ঠে তার মাকে বিষয়টি জানায়। পরে তার অভিভাবক ও স্থানীয় লোকজন মাদরাসায় গিয়ে অভিযুক্তকে আটক করেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।

চন্দ্রগঞ্জ থানার ওসি আব্দুর রব বলেন, ‘ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা করা হয়েছে। অভিযুক্তকে ওই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। তাকে আদালতে সোপর্দের প্রস্তুতি চলছে। এ ছাড়া ঘটনাটি তদন্ত চলছে। শিশুটিকে উদ্ধার করে পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।’

সাপের কামড়ের পরও দেখছিলেন খেলা, প্রাণ গেল আর্জেন্টিনা সমর্থকের

অনলাইন ডেস্ক
সাপের কামড়ের পরও দেখছিলেন খেলা, প্রাণ গেল আর্জেন্টিনা সমর্থকের
প্রতীকী ছবি

সাপের কামড়ের পরও চিকিৎসা নিতে না গিয়ে ফুটবল খেলা দেখতে থাকায় রংপুরে এক আর্জেন্টিনা সমর্থকের মৃত্যু হয়েছে। রবিবার (১৯ জুলাই) রাতে মিঠাপুকুর উপজেলার আব্দুল্লাহপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত হাবিবুর রহমান (৬০) উপজেলার আব্দুল্লাহপুর গ্রামের মৃত আব্দুর রহমানের ছেলে।

স্থানীয়রা জানায়, বড় পর্দায় বিশ্বকাপ ফুটবলের ফাইনাল খেলা দেখতে মেঠোপথ দিয়ে যাওয়ার সময় হাবিবুর রহমানকে সাপে কামড় দেয়। কিন্তু তাৎক্ষণিকভাবে চিকিৎসা না নিয়ে তিনি খেলা দেখায় ব্যস্ত হয়ে পড়েন। প্রায় এক ঘণ্টা পর অসুস্থতা অনুভব করলে স্বানীয়দের তিনি জানান, তাকে সাপে কামড় দিয়েছে। পরে দ্রুত রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাকে অ্যান্টিভেনমসহ প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেন। তবে তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।

হাবিবুর রহমানের ভাগনে জিল্লুর রহমান জানান, সাপে কামড়ানোর পর চিকিৎসা নিতে দেরি হওয়ায় মামা হাবিবুর রহমানের মৃত্যু হয়েছে। তিনি আর্জেন্টিনা ফুটবল দলের সমর্থক ছিলেন।

ছাগলনাইয়ায় ২ শতাধিক অবৈধ দোকান উচ্ছেদ, নোটিশ না দেওয়ার অভিযোগ

ফেনী প্রতিনিধি
ছাগলনাইয়ায় ২ শতাধিক অবৈধ দোকান উচ্ছেদ, নোটিশ না দেওয়ার অভিযোগ
ছবি : কালের কণ্ঠ

ফেনীর ছাগলনাইয়ায় পুরাতন ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের দুই পাশে অবৈধভাবে গড়ে ওঠা অন্তত দুই শতাধিক দোকান উচ্ছেদ করেছে উপজেলা প্রশাসন ও ফেনী সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ। তবে অভিযানের আগে নোটিশ না দেওয়ার অভিযোগ করেছে দোকানিরা। 

সোমবার (২০ জুলাই) দুপুরে ছাগলনাইয়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ওমর ফারুকের নেতৃত্বে এসব স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়। 

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, পুরাতন ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের রাস্তা প্রশস্তকরণ কাজ চলমান রয়েছে। ফলে রাস্তা প্রশস্তকরণের জন্য রাস্তার পাশে অবৈধভাবে গড়ে ওঠা দোকানগুলোর কারণে কাজে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এ ছাড়া দোকানগুলোর কারণে রাস্তায় যানজট লেগেই থাকে। ফলে মানুষের নানা ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে।

ছাগলনাইয়া পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা তাজেল হোসেন হালদার কালের কণ্ঠকে জানান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশে রবিবার সন্ধ্যায় উচ্ছেদ অভিযানের বিষয়ে মাইকিং করা হয়েছে।

এদিকে ফল ব্যবসায়ী আবদু সালাম জানান, আমরা দীর্ঘদিন ধরে রাস্তার পাশে অস্থায়ী দোকান বসিয়ে ব্যবসা করে কোনোরকমে পরিবার নিয়ে বেঁচে আছি। দোকানের নামে পৌরসভা লাইসেন্স নিয়ে বাজার কমিটিকে ট্যাক্স দিয়ে ব্যবসা করছি। কিন্তু কোনো নোটিশ ছাড়া মালপত্রসহ দোকান ঘর ভেঙে দিয়েছে প্রশাসন।

কাঁচামাল ব্যবসায়ী আবু তাহের জানান, আমাদের কোনো নোটিশ করেনি। হঠাৎ করে এসে মালপত্রসহ দোকান ভেঙে উচ্ছেদ করা হয়েছে।

এ ব্যাপারে ছাগলনাইয়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ওমর ফারুক কালের কণ্ঠকে জানান, দীর্ঘদিন ধরে পৌর এলাকার রাস্তার দুই পাশে কিছু ব‍্যবসায়ী রাস্তা, ড্রেন ও ফুটপাত দখল করে ব্যবসা চালিয়ে আসছিলেন। এসব স্থাপনার কারণে মানুষের চলাচল ও সড়কের যানচলাচল বাধাগ্রস্ত হয়। তাই জনস্বার্থে এ উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।

জামালপুরে পৃথক দুই মামলায় ১ জনের মৃত্যুদণ্ড ও ৩ জনের যাবজ্জীবন

জামালপুর প্রতিনিধি
জামালপুরে পৃথক দুই মামলায় ১ জনের মৃত্যুদণ্ড ও ৩ জনের যাবজ্জীবন
ছবি : কালের কণ্ঠ

জামালপুরে যৌতুকের দাবিতে স্ত্রী হত্যা মামলায় স্বামীর মৃত্যুদণ্ড এবং এক কিশোরীকে অপহরণের দায়ে তিনজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে হত্যা মামলায় দণ্ডিত আসামিকে পাঁচ লাখ টাকা এবং অপহরণ মামলায় এক আসামিকে এক লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

সোমবার (২০ জুলাই) দুপুরে জামালপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১-এর বিচারক মুহাম্মদ আবদুর রহিম পৃথক দুটি মামলার এ রায় ঘোষণা করেন।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত হাফিজুল হক (৪৫) বকশীগঞ্জ উপজেলার মেরুরচর এলাকার মৃত প্রধানের ছেলে। যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন- জামালপুর সদর উপজেলার ভারুয়াখালী এলাকার শামীম (৩০), সাদেক মিয়া (২৫) ও জালাল মিয়া (২৮)। রায় ঘোষণার সময় তারা আদালতে উপস্থিত ছিলেন।

আদালত ও মামলা সূত্রে জানা যায়, ২০১২ সালের ৪ সেপ্টেম্বর সকালে বকশীগঞ্জ উপজেলার মেরুরচর গ্রামে যৌতুকের দাবিতে স্ত্রী হনুফা বেগমকে মারধর করে হত্যা করেন তার স্বামী হাফিজুল হক। এ ঘটনায় নিহতের মা আমেনা বেগম বকশীগঞ্জ থানায় পাঁচজনকে আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার সাক্ষ্য-প্রমাণ শেষে আদালত হাফিজুলকে মৃত্যুদণ্ড ও পাঁচ লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেন। অপর চার আসামিকে খালাস দেওয়া হয়।

অপরদিকে, ২০২৪ সালের ২২ ডিসেম্বর সকালে এসএসসি পরীক্ষার্থী এক কিশোরী প্রাইভেট পড়তে যাওয়ার পথে সদর উপজেলার হরিপুর এলাকা থেকে অপহৃত হন। পরে তার বাবা সদর থানায় মামলা করেন। পুলিশ গাজীপুর থেকে কিশোরীকে উদ্ধার করে। মামলার সাক্ষ্য-প্রমাণ শেষে আদালত তিন আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন। পাশাপাশি আসামি জালাল মিয়াকে এক লাখ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়।

নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১-এর সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) অ্যাডভোকেট ফজলুল হক বলেন, ‘পৃথক দুটি মামলার রায় ঘোষণা করেছেন আদালত। এর মধ্যে হত্যা মামলায় এক আসামিকে মৃত্যুদণ্ড এবং কিশোরী অপহরণ মামলায় তিনজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।’