• ই-পেপার

নীরবে শরীরে বাসা বেঁধেছে হেপাটাইটিস, যেসব লক্ষণ দেখা দিলেই বিপদ

বিশ্বকাপ শেষ, কিন্তু জীবনের মাঠে ঘুরে দাঁড়ানোর খেলা এখনো বাকি

জীবনযাপন ডেস্ক
বিশ্বকাপ শেষ, কিন্তু জীবনের মাঠে ঘুরে দাঁড়ানোর খেলা এখনো বাকি
এআই জেনারেটেড

বিশ্বকাপ শেষ। মাঠের আলো নিভেছে, গ্যালারির গর্জন থেমেছে। কিন্তু এক মাস ধরে চলা ফুটবলের এই মহাযজ্ঞের রেশ এখনো কাটেনি। কারণ বিশ্বকাপ শুধু স্রেফ কোনো খেলা নয়—এখানে থাকে মানুষের আবেগ, স্বপ্ন, দীর্ঘ অপেক্ষা, হতাশা আর সেখান থেকে আবার ঘুরে দাড়ানোর গল্প।

৯০ মিনিটের একটি ম্যাচে কখনো কোনো দল এগিয়ে থাকে, কখনো পিছিয়ে পড়ে। কখনো শেষ মুহূর্তের গোলে জয় আসে, আবার কখনো সব চেষ্টা ব্যর্থ করে পরাজয় মেনে মাঠ ছাড়তে হয়।

আমাদের জীবনটাও কি ঠিক এমন নয়?

আমাদের প্রত্যেকের জীবনেই এমন কিছু মুহূর্ত আসে, যখন মনে হয়—‘আর পারছি না।’ কোনো পরীক্ষায় ব্যর্থতা, কাঙ্ক্ষিত চাকরি না পাওয়া, প্রিয় সম্পর্ক ভেঙে যাওয়া কিংবা দীর্ঘদিনের স্বপ্ন পূরণ না হওয়া—সবকিছু মিলিয়ে মানুষ নিজেই নিজেকে প্রশ্ন করে, ‘আমার কি সত্যিই আর ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ আছে?’

বিশ্বকাপের মাঠ যেন বারবার সেই প্রশ্নেরই উত্তর দিয়ে যায়—আছে। অবশ্যই আছে।

শেষ বাঁশি বাজার আগে কিছুই শেষ নয়

ফুটবলের সবচেয়ে বড় শিক্ষা হয়তো এটাই—রেফারি শেষ বাঁশি না বাজানো পর্যন্ত কোনো ম্যাচই শেষ নয়। এক দল পিছিয়ে থেকেও শেষ মিনিটে ঘুরে দাঁড়াতে পারে, বদলে যেতে পারে পুরো ম্যাচের ইতিহাস।

আমাদের জীবনেও এই বিষয়টি প্রযোজ্য। আজ যে মানুষটি কোনো কারণে ব্যর্থ, সে আজীবন ব্যর্থ থাকবে—এমন কোনো নিয়ম নেই। আজ যে তরুণ চাকরি পাচ্ছেন না, কাল হয়তো তিনিই উদ্যোক্তা হয়ে নতুন কর্মসংস্থান তৈরি করবেন।

এ বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এডুকেশনাল অ্যান্ড কাউন্সেলিং সাইকোলজি বিভাগের শিক্ষক ও মনোবিদদের মতে,

"মানুষের জীবনের কোনো একটি খারাপ দিন বা সাময়িক ব্যর্থতা দিয়ে পুরো জীবনকে মূল্যায়ন করা ভুল। মনস্তাত্ত্বিক পরিভাষায় একে বলা হয় 'রেজিলিয়েন্স' বা ধকল সামলে ওঠার ক্ষমতা। খেলোয়াড়রা যেমন প্রতিদিন অনুশীলন করে নিজেদের মানসিকভাবে প্রস্তুত করেন, সাধারণ মানুষেরও উচিত জীবনের প্রতিকূলতাকে সাময়িক হিসেবে দেখা।"

তাই আপনি এখন কোথায় আছেন, সেটির চেয়েও বেশি গুরুত্বপূর্ণ—আপনি ভবিষ্যতে কোথায় যেতে চান এবং তার জন্য কীভাবে চেষ্টা করছেন।

হেরে যাওয়াকে শক্তিতে রূপান্তর

ব্যর্থতার পর আমরা সাধারণত নিজেদের দুর্বল ভাবতে শুরু করি। মনে হয়, ‘আমার দ্বারা আর কিছুই হবে না।’ কিন্তু পরাজয় সবসময় দুর্বলতার প্রমাণ নয়; কখনো কখনো তা মানুষকে নিজের আসল শক্তি চিনতে শেখায়।

একজন অ্যাথলেট ম্যাচে ভুল করলে পরের ম্যাচে তা বিশ্লেষণ করে মাঠে নামেন। জীবনেও ব্যর্থতার মুখোমুখি হলে নিজেকে দোষারোপ না করে প্রশ্ন করা উচিত—কোথায় ভুল হলো? কী শেখা গেল? এবার কীভাবে নতুন করে শুরু করব? কারণ, একটি হার যদি আপনাকে আরও সচেতন ও পরিশ্রমী করে তোলে, তবে তা আর পরাজয় থাকে না, বরং অভিজ্ঞতায় পরিণত হয়।

হেরে যাওয়া একটি ঘটনা, কিন্তু হাল ছেড়ে দেওয়া একটি সিদ্ধান্ত।

মেসি : অপেক্ষা আর ফিরে আসার এক জীবন্ত গল্প

এই মনস্তাত্ত্বিক লড়াইয়ের সবচেয়ে বড় উদাহরণ লিওনেল মেসি। মেসিকে আমরা ফুটবল জাদুকর হিসেবে চিনি, কিন্তু তাঁর জীবনের সবচেয়ে বড় গল্প তাঁর প্রতিভা নয়—বরং বারবার পড়ে গিয়েও ফিরে আসার অদম্য মানসিকতা।

জাতীয় দলের হয়ে একের পর এক ফাইনালে হেরে গিয়ে তিনি সমালোচনা ও চরম চাপের মুখে পড়েছিলেন। তবু তিনি থমকে যাননি। দীর্ঘ অপেক্ষার পর অবশেষে তিনি ট্রফি ছুঁয়েছেন।

সমসাময়িক জীবনধারা গবেষকদের মতে, আজকের তরুণ প্রজন্মের একটি বড় সমস্যা হলো ‘ইনস্ট্যান্ট সাকসেস’ বা দ্রুত ফল পাওয়ার প্রবণতা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অন্যের সাফল্য দেখে নিজের জীবনকে ব্যর্থ মনে করার এই প্রবণতা তরুণদের মানসিকভাবে হতাশ করে তুলছে। মেসির গল্প আমাদের শেখায়—সবার সময় এক নয়। কারও সাফল্য আগে আসে, কারও একটু পরে। কিন্তু ধৈর্য ধরে চেষ্টা চালিয়ে যাওয়াটাই আসল।

ভেঙে পড়ার পর নিজেকে নতুন করে গড়ে তোলা

ঘুরে দাঁড়ানো মানে এই নয় যে আপনি আর কখনো কষ্ট পাবেন না। বরং ঘুরে দাঁড়ানো মানে হলো—কষ্টের মধ্যেও নিজেকে শেষ মনে না করা।

যে মানুষটি আজ ভেঙে পড়েছেন, তার হয়তো এখনই সব প্রশ্নের উত্তর জানা নেই। কিন্তু একটি ছোট্ট ইতিবাচক সিদ্ধান্ত দিয়েই শুরু হতে পারে নতুন পথচলা। জীবনের মাঠে আপনি কতবার আছাড় খেয়ে পড়লেন তা বিষয় নয়, রেফারি শেষ বাঁশি বাজানোর আগে আপনি আবার উঠে দাঁড়িয়েছেন কি না—দিনশেষে সেটাই আসল।

আজ আইসক্রিম খাওয়ার দিন

জীবনযাপন ডেস্ক
আজ আইসক্রিম খাওয়ার দিন
সংগৃহীত ছবি

গরমের দিনে এক স্কুপ ঠাণ্ডা আইসক্রিম যেন মুহূর্তেই এনে দেয় স্বস্তি। শিশু থেকে শুরু করে বড়দের কাছেও সমান জনপ্রিয় এই খাবারটি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি বছর পালিত হয় ন্যাশনাল আইসক্রিম ডে। শুধু একটি দিন নয়, আইসক্রিমের জনপ্রিয়তাকে উদযাপন করতে পুরো একটি মাসকেও উৎসর্গ করা হয়েছে এই ঠাণ্ডা মিষ্টান্নের নামে।

ভ্যানিলা, চকোলেট, স্ট্রবেরি, পেস্তা—আইসক্রিমের স্বাদের তালিকা যেন শেষ হওয়ার নয়। সাধারণ কাপ বা কোণ ছাড়াও এখন আইসক্রিম দিয়ে তৈরি হচ্ছে নানা ধরনের ডেজার্ট। আইসক্রিম কেক, মিল্কশেক, স্যান্ডউইচ কিংবা জনপ্রিয় বানানা স্প্লিটের মতো খাবারও তৈরি হচ্ছে এই প্রিয় উপাদান দিয়ে।

আইসক্রিম দিবস উদযাপনের ধরনও বেশ সহজ। পরিবার ও বন্ধুদের সঙ্গে প্রিয় স্বাদের আইসক্রিম খাওয়া, নতুন কোনো ফ্লেভার চেখে দেখা কিংবা ঘরেই নিজের পছন্দের উপকরণ দিয়ে আইসক্রিম তৈরি করা—সবই হতে পারে উদযাপনের অংশ।

 

 

kk
ছবি: সৈয়দা আশাপূর্ণা

তবে আজকের আধুনিক আইসক্রিমের পেছনে রয়েছে দীর্ঘ ইতিহাস। ধারণা করা হয়, এই খাবারের শিকড় প্রায় আড়াই হাজার বছরের পুরোনো। খ্রিষ্টপূর্ব প্রায় ৫০০ সালের দিকে ইরানের আচেমেনিড সাম্রাজ্যে বরফের সঙ্গে বিভিন্ন স্বাদ ও উপকরণ মিশিয়ে ঠাণ্ডা খাবার তৈরি করা হতো। গরমের সময় রাজপরিবারের জন্য এমন খাবার বিশেষ জনপ্রিয় ছিল।

পরবর্তীতে পারস্যে তৈরি হয় আরও উন্নত ধরনের ঠাণ্ডা খাবার, যেখানে বরফের সঙ্গে সেমাই, গোলাপজল, ফল, জাফরানসহ বিভিন্ন উপকরণ ব্যবহার করা হতো। এই ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতায় ইরানের জনপ্রিয় ‘বাসতানি সোনাতি’ আজও বিশেষ পরিচিত। পেস্তা, জাফরান, গোলাপজল, ভ্যানিলা, দুধ ও ডিমের মিশ্রণে তৈরি এই আইসক্রিমের স্বাদ আলাদা বৈশিষ্ট্যের জন্য বিখ্যাত।

াা

একসময় আইসক্রিম ছিল বিলাসী খাবার। কারণ গরমের দেশে বরফ সংরক্ষণ ও সংগ্রহ করা ছিল কঠিন কাজ। ফলে সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে ছিল এটি। তবে হিমায়ন প্রযুক্তির উন্নতির পর বদলে যায় চিত্র। এখন বছরের যেকোনো সময় বিশ্বের প্রায় সব দেশেই পাওয়া যায় আইসক্রিম।

রেরর

যুক্তরাষ্ট্রে ন্যাশনাল আইসক্রিম ডে চালু হয় ১৯৮৪ সালে। দেশটির তৎকালীন প্রেসিডেন্ট Ronald Reagan এই দিবসের ঘোষণা দেন। আইসক্রিমের ব্যাপক জনপ্রিয়তার কথা বিবেচনা করে তিনি জুলাই মাসকে ‘ন্যাশনাল আইসক্রিম মাস’ হিসেবেও ঘোষণা করেছিলেন।

বর্তমানে আইসক্রিম শুধু কোনো নির্দিষ্ট দেশের খাবার নয়। বিশ্বের নানা প্রান্তে মানুষের পছন্দ ও সংস্কৃতির সঙ্গে মিশে তৈরি হয়েছে অসংখ্য নতুন স্বাদ। তাই একটি সাধারণ ঠান্ডা মিষ্টান্ন থেকে আইসক্রিম এখন পরিণত হয়েছে আনন্দ, উৎসব ও স্মৃতির অংশে।

সারাক্ষণ ঘুম ঘুম ভাব কেন হয়?

জীবনযাপন ডেস্ক
সারাক্ষণ ঘুম ঘুম ভাব কেন হয়?
ছবি : কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা

পর্যাপ্ত ঘুমানোর পরও যদি দিনের বেশির ভাগ সময় ঘুম ঘুম লাগে, তাহলে বিষয়টিকে অবহেলা করা উচিত নয়। অনেকেই এটিকে অলসতার লক্ষণ মনে করলেও চিকিৎসকদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে অতিরিক্ত তন্দ্রা ভাবের পেছনে জীবনযাপনের অভ্যাসের পাশাপাশি বিভিন্ন শারীরিক ও মানসিক সমস্যাও দায়ী থাকতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ঘুম শুধু শারীরিক পরিশ্রমের ফল নয়। দীর্ঘ সময় একটানা বসে কাজ করা, একই ধরনের একঘেয়ে কাজে ব্যস্ত থাকা, নিয়মিত শরীরচর্চা না করা কিংবা রাতের শিফটে কাজ করার কারণে শরীরের স্বাভাবিক ঘুমের ছন্দ নষ্ট হতে পারে। এর প্রভাব পড়ে দিনের বেলায়, ফলে বারবার ঘুম ঘুম ভাব দেখা দেয়।

শরীরের হরমোনের পরিবর্তনও এ সমস্যার একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ। বিশেষ করে থাইরয়েড হরমোনের ঘাটতি হলে শরীরের বিপাকক্রিয়া ধীর হয়ে যায়। এতে ক্লান্তি, অবসাদ এবং অতিরিক্ত ঘুমের প্রবণতা বাড়তে পারে।

ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রেও একই ধরনের সমস্যা দেখা দিতে পারে। রক্তে শর্করার মাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক বেশি বা কমে গেলে শরীরে দুর্বলতা তৈরি হয়, যার সঙ্গে তন্দ্রাভাবও যুক্ত হতে পারে।

চিকিৎসকদের মতে, কিডনি বা লিভারের কার্যকারিতা কমে গেলে শরীরে বর্জ্য পদার্থ জমে মস্তিষ্কের স্বাভাবিক কাজ ব্যাহত হতে পারে। এর ফলেও সারাক্ষণ ঘুম ঘুম ভাব অনুভূত হতে পারে।

ডায়রিয়া, বমি বা অতিরিক্ত ঘামের কারণে শরীর থেকে পানি ও প্রয়োজনীয় লবণ বেরিয়ে গেলে দুর্বলতার পাশাপাশি ঘুম পেতে পারে। একইভাবে পর্যাপ্ত পানি পান না করলে পানিশূন্যতার কারণে ক্লান্তি, মাথা ঝিমঝিম এবং তন্দ্রা ভাব দেখা দিতে পারে।

রক্তশূন্যতাও এ সমস্যার একটি পরিচিত কারণ। শরীরে হিমোগ্লোবিন কমে গেলে বিভিন্ন অঙ্গে পর্যাপ্ত অক্সিজেন পৌঁছায় না। ফলে সারাক্ষণ ক্লান্তি ও ঘুমের অনুভূতি তৈরি হতে পারে।

ভাইরাসজনিত সংক্রমণের সময় এবং অনেক ক্ষেত্রে সুস্থ হওয়ার পরও কয়েক সপ্তাহ পর্যন্ত অবসাদ ও ঘুম ঘুম ভাব থাকতে পারে। আবার রাতে ভালোভাবে ঘুম না হওয়া বা স্লিপ অ্যাপনিয়ার মতো সমস্যায় ঘুমের সময় বারবার শ্বাসপ্রশ্বাসে বাধা সৃষ্টি হলে দিনের বেলায় অতিরিক্ত তন্দ্রা দেখা দিতে পারে।

এ ছাড়া অতিরিক্ত ওজন, মানসিক চাপ, উদ্বেগ, বিষণ্নতা এবং কিছু ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার কারণেও এমন হতে পারে। বিশেষ করে অ্যালার্জি, ঠান্ডা, ব্যথানাশক বা উদ্বেগ কমানোর কিছু ওষুধ ঘুমের প্রবণতা বাড়িয়ে দিতে পারে।

যেসব লক্ষণ দেখা দিতে পারে

অতিরিক্ত ঘুম ঘুম ভাবের সঙ্গে আরও কিছু উপসর্গ দেখা দিতে পারে। যেমন, সবসময় ক্লান্ত লাগা, মাথাব্যথা বা মাথা ঝিমঝিম করা, খিটখিটে মেজাজ, মনোযোগ ও স্মৃতিশক্তি কমে যাওয়া এবং কর্মক্ষমতা হ্রাস পাওয়া।

সমস্যা কমাতে যা করবেন

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমাতে যাওয়া ও ঘুম থেকে ওঠার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। পর্যাপ্ত সময় ঘুমানো, নিয়মিত হাঁটা বা ব্যায়াম করা, দীর্ঘক্ষণ একটানা বসে না থাকা, স্ক্রিনের সামনে কম সময় কাটানো, পর্যাপ্ত পানি পান এবং সুষম খাদ্য গ্রহণের অভ্যাস গড়ে তুললে অনেক ক্ষেত্রেই উপকার পাওয়া যায়। পাশাপাশি ডায়াবেটিস, থাইরয়েড, কিডনি বা লিভারের রোগ থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী চিকিৎসা চালিয়ে যেতে হবে। কোনো ওষুধ খাওয়ার পর অতিরিক্ত ঘুম পেলে সেটিও চিকিৎসককে জানানো উচিত।

কখন চিকিৎসকের শরণাপন্ন হবেন?

বিশেষজ্ঞদের মতে, মানসিক চাপ, ভাইরাসজনিত অসুস্থতা বা কিছু ওষুধের কারণে কয়েক দিন বা কয়েক সপ্তাহ ঘুম ঘুম ভাব থাকতে পারে। তবে যদি দুই থেকে চার সপ্তাহের বেশি সময় ধরে এ সমস্যা স্থায়ী হয়, স্বাভাবিক কাজকর্মে ব্যাঘাত ঘটায় বা এর সঙ্গে অন্য শারীরিক উপসর্গ যুক্ত হয়, তাহলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন। কারণ নির্ণয় করে সময়মতো চিকিৎসা শুরু করলে জটিলতা এড়ানো সম্ভব।

পেটের মেদ কমাতে গ্রিন টির পাশাপাশি যেসব খাবেন

অনলাইন ডেস্ক
পেটের মেদ কমাতে গ্রিন টির পাশাপাশি যেসব খাবেন
ফাইল ছবি

পেটের মেদ নিয়ে অনেকেই নাজেহাল থাকেন। তারা বিভিন্ন উপাদান খেয়ে থাকেন যার মধ্যে গ্রিন টি অন্যতম। তবে শুধু গ্রিন টি নয়, পেটের মেদ কমাতে প্রতিদিনের খাবারে এই ৭ উপাদান রাখার পরামর্শ দিয়েছেন ভারতের পুষ্টিবিদ লাভনীত বাত্রা। এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এই বিষয়টি উঠে এসেছে।

অনেকেই মনে করেন, পেটের মেদ কমাতে গ্রিন টি-ই সবচেয়ে কার্যকর পানীয়। কিন্তু শুধুমাত্র একটি পানীয়ের ওপর নির্ভর করে দ্রুত ওজন বা পেটের চর্বি কমানো সম্ভব নয়। পুষ্টিবিদ লাভনীত বাত্রা জানিয়েছেন, স্বাস্থ্যকর উপায়ে ওজন কমাতে হলে সুষম খাদ্যাভ্যাস, নিয়মিত শরীরচর্চা এবং সঠিক খাবার নির্বাচন এই তিনটির সমন্বয় জরুরি। তাই শুধু গ্রিন টি নয়, দৈনন্দিন খাদ্যতালিকায় কয়েকটি প্রাকৃতিক উপাদান রাখলে মেটাবলিজম ও হজমশক্তি ভালো হয়। এবং এই উপাদানগুলো ওজন নিয়ন্ত্রণে সহায়ক ভূমিকা রাখতে পারে। যে ৭টি উপাদান খাদ্যতালিকায় রাখবেন- 

  • জিরা

লাভনীত বাত্রার মতে, জিরা শরীরের বিপাকক্রিয়া বাড়াতে এবং পেটের মেদ কমানোর প্রচেষ্টায় সহায়ক হতে পারে। এক চা-চামচ জিরা রাতে পানিতে ভিজিয়ে রেখে সকালে খালি পেটে সেই পানি পান করতে পারেন। চাইলে পাঁচ মিনিট ফুটিয়ে হালকা গরম অবস্থায়ও খাওয়া যেতে পারে।

  • মেথি দানা

মেথি রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করতে পারে। এক চা-চামচ মেথি রাতে ভিজিয়ে রেখে সকালে সেই পানি পান করার পাশাপাশি ভেজানো দানাগুলোও চিবিয়ে খাওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।

  • জোয়ান

জোয়ান হজমে সহায়তা করে এবং পেট ফাঁপার সমস্যা কমাতে ভূমিকা রাখে। খাবারের পর জোয়ান চিবিয়ে খাওয়া বা জোয়ান ফুটিয়ে গরম পানি পান করা উপকার পাবেন।

  • দারুচিনি

দারুচিনি রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সহায়ক করে। আধা চা-চামচ দারুচিনি গরম পানি, চা অথবা পোরিজের সঙ্গে মিশিয়ে খেতে পারেন।

  • হলুদ

হলুদ শরীরের প্রদাহ কমাতে সাহায্য করতে পারে। লাভনীত বাত্রা বলেন, সকালে কুসুম গরম পানির সঙ্গে তাজা হলুদ, সামান্য গোলমরিচ ও অল্প ঘি মিশিয়ে খেলে শরীরে হলুদের কার্যকর উপাদান ভালোভাবে শোষিত হতে পারে।

  • মৌরি

মৌরি হজমশক্তি উন্নত করতে এবং হরমোনের ভারসাম্য বজায় রাখতে সহায়ক হতে পারে। খাবারের পর এক চা-চামচ মৌরি চিবিয়ে খাওয়া বা সারাদিন মৌরির পানি পান করা যেতে পারে।

  • ত্রিফলা

ত্রিফলা লিভার সুস্থ রাখতে এবং চর্বির বিপাকে সহায়ক হতে পারে। শুরুতে আধা চা-চামচ ত্রিফলা গুঁড়ো কুসুম গরম পানিতে মিশিয়ে রাতে ঘুমানোর আগে খাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন লাভনীত বাত্রা। পরে ধীরে ধীরে এর পরিমাণ বাড়ানো যেতে পারে।

এই উপাদানগুলো স্বাস্থ্যকর জীবনযাত্রার অংশ হিসেবে উপকারী হতে পারে। তবে এগুলোর কোনোটি খেলেই যে পেটের মেদ কমে যাবে এমন নয়। সুষম খাবার, নিয়মিত ব্যায়াম, পর্যাপ্ত ঘুম এবং স্বাস্থ্যকর জীবনধারাই ওজন নিয়ন্ত্রণের সবচেয়ে ভালো উপায়। একই সঙ্গে সবার শরীর এক নয় তাই চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের সঙ্গে আলাপ করে কোন উপাদান আপনার জন্য ভালো বা আপনি খেতে পারেন সেটা জেনে নেয়াই ভালো।