রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) এক শিক্ষার্থীকে মারধর ও হেনস্তার অভিযোগে দায়িত্বরত ট্রেনের টিটিইকে সাময়িক বরখাস্তের সিদ্ধান্ত এবং শিক্ষার্থীদের দাবিগুলো বাস্তবায়নের আশ্বাসের পর অবরোধ প্রত্যাহার করেছেন শিক্ষার্থীরা। মঙ্গলবার (২১ জুলাই) দুপুর ৩টা ২০ মিনিটে অবরোধ তুলে নেওয়ার পর রাজশাহীর সঙ্গে সারা দেশের রেল যোগাযোগ স্বাভাবিক হয়।
তবে দীর্ঘ সময় অবরোধ চলায় পদ্মা, বনলতা, সিল্কসিটি, মহানন্দা, বরেন্দ্র, কপোতাক্ষ, ঢালারচর, ধূমকেতু ও সাগরদাঁড়ি এক্সপ্রেসসহ অন্তত ৮-১০টি ট্রেনের সূচি বিপর্যস্ত হয়। মধুমতী, তিতুমীর ও টুঙ্গিপাড়া এক্সপ্রেসের চলাচলেও বিলম্বের আশঙ্কার কথা জানিয়েছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ।
বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে বিভাগীয় প্রশাসন, রেলওয়ে, পুলিশ, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও শিক্ষার্থী প্রতিনিধিদের মধ্যে দীর্ঘ বৈঠক শেষে কয়েকটি সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এর মধ্যে রয়েছেন অভিযুক্ত টিটিই সুমন আলীকে সাময়িক বরখাস্ত, রেলওয়ের পক্ষ থেকে তিন সদস্যের এবং বিভাগীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে পাঁচ সদস্যের পৃথক দুটি তদন্ত কমিটি গঠন, গভীর রাতে রাজশাহীতে প্রবেশকারী তিনটি আন্তঃনগর ট্রেনের রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় স্টেশনে যাত্রাবিরতির ব্যবস্থা, ট্রেনের সময়সূচির সঙ্গে সমন্বয় করে বিশ্ববিদ্যালয়ের শাটল বাস চালু, আহত শিক্ষার্থীর চিকিৎসা ও ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা এবং আগামী ৬ আগস্ট অগ্রগতি পর্যালোচনায় পুনরায় সভা আয়োজন।
এর আগে গত ২০ জুলাই (সোমবার) দিবাগত রাত তিনটার দিকে ঢাকা থেকে রাজশাহীগামী পদ্মা এক্সপ্রেসে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীকে মারধর ও হেনস্তার অভিযোগ ওঠে দায়িত্বরত টিটিই সুমন আলীর বিরুদ্ধে। এর প্রতিবাদে মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সকাল ৭টা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের সামনে রেললাইন অবরোধ করেন শিক্ষার্থীরা। এতে রাজশাহীর সঙ্গে সারা দেশের রেল যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়।
পরে সকাল সাড়ে ১১টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে অভিযুক্ত টিটিই শিক্ষার্থী ও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে দুঃখ প্রকাশ করেন। এরপর তাকে সাময়িক বরখাস্তের পাশাপাশি ঘটনার তদন্তে রেলওয়ের তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়। একই সঙ্গে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট, রেলওয়ে নিরাপত্তা বিভাগ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে পৃথক আরেকটি তদন্ত কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত হয়।
বৈঠকে শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাকসুর সাধারণ সম্পাদক সালাহউদ্দিন আম্মার। কর্মসূচি প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়ে তিনি বলেন, ‘কর্তৃপক্ষ আমাদের দাবিগুলো মেনে নেওয়ার সিদ্ধান্ত জানিয়েছে। আমরা এ বিষয়ে সন্তুষ্ট। সাময়িক ভোগান্তির জন্য অপেক্ষমাণ যাত্রীদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করছি। আশা করছি, এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে দীর্ঘদিনের সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে।’
বিভাগীয় কমিশনার আ ন ম বজলুর রশীদ বলেন, ঘটনাটি নিয়ে শিক্ষার্থী ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধিদের সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের দাবিগুলো বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আহত শিক্ষার্থীর চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হবে এবং গভীর রাতে রাজশাহীতে পৌঁছানো ট্রেনগুলোর বিশ্ববিদ্যালয় স্টেশনে যাত্রাবিরতির নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা যাতে না ঘটে, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক আব্দুল আলীম বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ঘটে যাওয়া অনভিপ্রেত ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইতিবাচক সিদ্ধান্ত হয়েছে। রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ অভিযুক্ত টিটিইকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে এবং দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। দ্রুত সমস্যার সমাধান হবে বলে আমরা আশা করছি।’





