• ই-পেপার

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অনার্স ১ম বর্ষের পরীক্ষার তারিখ পরিবর্তন

টিটিইকে বরখাস্তের সিদ্ধান্ত, ৮ ঘণ্টা পর রাবি শিক্ষার্থীদের অবরোধ প্রত্যাহার

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি
টিটিইকে বরখাস্তের সিদ্ধান্ত, ৮ ঘণ্টা পর রাবি শিক্ষার্থীদের অবরোধ প্রত্যাহার
ছবি : কালের কণ্ঠ

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) এক শিক্ষার্থীকে মারধর ও হেনস্তার অভিযোগে দায়িত্বরত ট্রেনের টিটিইকে সাময়িক বরখাস্তের সিদ্ধান্ত এবং শিক্ষার্থীদের দাবিগুলো বাস্তবায়নের আশ্বাসের পর অবরোধ প্রত্যাহার করেছেন শিক্ষার্থীরা। মঙ্গলবার (২১ জুলাই) দুপুর ৩টা ২০ মিনিটে অবরোধ তুলে নেওয়ার পর রাজশাহীর সঙ্গে সারা দেশের রেল যোগাযোগ স্বাভাবিক হয়।

তবে দীর্ঘ সময় অবরোধ চলায় পদ্মা, বনলতা, সিল্কসিটি, মহানন্দা, বরেন্দ্র, কপোতাক্ষ, ঢালারচর, ধূমকেতু ও সাগরদাঁড়ি এক্সপ্রেসসহ অন্তত ৮-১০টি ট্রেনের সূচি বিপর্যস্ত হয়। মধুমতী, তিতুমীর ও টুঙ্গিপাড়া এক্সপ্রেসের চলাচলেও বিলম্বের আশঙ্কার কথা জানিয়েছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ।

বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে বিভাগীয় প্রশাসন, রেলওয়ে, পুলিশ, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও শিক্ষার্থী প্রতিনিধিদের মধ্যে দীর্ঘ বৈঠক শেষে কয়েকটি সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এর মধ্যে রয়েছেন অভিযুক্ত টিটিই সুমন আলীকে সাময়িক বরখাস্ত, রেলওয়ের পক্ষ থেকে তিন সদস্যের এবং বিভাগীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে পাঁচ সদস্যের পৃথক দুটি তদন্ত কমিটি গঠন, গভীর রাতে রাজশাহীতে প্রবেশকারী তিনটি আন্তঃনগর ট্রেনের রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় স্টেশনে যাত্রাবিরতির ব্যবস্থা, ট্রেনের সময়সূচির সঙ্গে সমন্বয় করে বিশ্ববিদ্যালয়ের শাটল বাস চালু, আহত শিক্ষার্থীর চিকিৎসা ও ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা এবং আগামী ৬ আগস্ট অগ্রগতি পর্যালোচনায় পুনরায় সভা আয়োজন।

এর আগে গত ২০ জুলাই (সোমবার) দিবাগত রাত তিনটার দিকে ঢাকা থেকে রাজশাহীগামী পদ্মা এক্সপ্রেসে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীকে মারধর ও হেনস্তার অভিযোগ ওঠে দায়িত্বরত টিটিই সুমন আলীর বিরুদ্ধে। এর প্রতিবাদে মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সকাল ৭টা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের সামনে রেললাইন অবরোধ করেন শিক্ষার্থীরা। এতে রাজশাহীর সঙ্গে সারা দেশের রেল যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়।

পরে সকাল সাড়ে ১১টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে অভিযুক্ত টিটিই শিক্ষার্থী ও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে দুঃখ প্রকাশ করেন। এরপর তাকে সাময়িক বরখাস্তের পাশাপাশি ঘটনার তদন্তে রেলওয়ের তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়। একই সঙ্গে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট, রেলওয়ে নিরাপত্তা বিভাগ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে পৃথক আরেকটি তদন্ত কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত হয়।

বৈঠকে শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাকসুর সাধারণ সম্পাদক সালাহউদ্দিন আম্মার। কর্মসূচি প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়ে তিনি বলেন, ‘কর্তৃপক্ষ আমাদের দাবিগুলো মেনে নেওয়ার সিদ্ধান্ত জানিয়েছে। আমরা এ বিষয়ে সন্তুষ্ট। সাময়িক ভোগান্তির জন্য অপেক্ষমাণ যাত্রীদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করছি। আশা করছি, এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে দীর্ঘদিনের সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে।’

বিভাগীয় কমিশনার আ ন ম বজলুর রশীদ বলেন, ঘটনাটি নিয়ে শিক্ষার্থী ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধিদের সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের দাবিগুলো বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আহত শিক্ষার্থীর চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হবে এবং গভীর রাতে রাজশাহীতে পৌঁছানো ট্রেনগুলোর বিশ্ববিদ্যালয় স্টেশনে যাত্রাবিরতির নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা যাতে না ঘটে, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক আব্দুল আলীম বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ঘটে যাওয়া অনভিপ্রেত ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইতিবাচক সিদ্ধান্ত হয়েছে। রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ অভিযুক্ত টিটিইকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে এবং দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। দ্রুত সমস্যার সমাধান হবে বলে আমরা আশা করছি।’

প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহারের মাধ্যমেই নতুন প্রজন্মকে গড়ার আহ্বান প্রতিমন্ত্রীর

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহারের মাধ্যমেই নতুন প্রজন্মকে গড়ার আহ্বান প্রতিমন্ত্রীর
ছবি: কালের কণ্ঠ

ডিজিটাল প্রযুক্তিকে ভয় না পেয়ে এর নিরাপদ, দায়িত্বশীল ও ইতিবাচক ব্যবহারের মাধ্যমে নতুন প্রজন্মকে গড়ে তুলতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ।

তিনি বলেছেন, ‘প্রযুক্তির অগ্রযাত্রা থামিয়ে রাখা সম্ভব নয়। তাই শিশু-কিশোরদের প্রযুক্তি থেকে দূরে না রেখে, সঠিক ব্যবহার শেখানোর মাধ্যমেই তাদের ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত করতে হবে।’

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) রাজধানীর গুলশানে হোটেল লেকশোরে বিবিসি মিডিয়া অ্যাকশন আয়োজিত ‘ডিজিটাল জেন্ডার নরমস : জাতীয় শিখন-অভিজ্ঞতা বিনিময়’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী।

অনুষ্ঠানে গণ-অভ্যুত্থানের স্মৃতি উল্লেখ করে ববি হাজ্জাজ বলেন, ‘২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় ইন্টারনেট বন্ধ করে জনগণের কণ্ঠ রোধ করার চেষ্টা করা হয়েছিল, কিন্তু তা সফল হয়নি। সেই অভিজ্ঞতা প্রমাণ করেছে ডিজিটাল মাধ্যম আজ সমাজ, রাষ্ট্র ও নাগরিক জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। প্রযুক্তিকে অস্বীকার না করে সঠিকভাবে ব্যবহারের সক্ষমতা গড়ে তোলাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।’

বর্তমানে প্রযুক্তির বিকাশের সঙ্গে সামাজিক ও সাংস্কৃতিক মূল্যবোধের অসামঞ্জস্য তৈরি হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভুয়া ছবি, ভুয়া ভিডিও, চরিত্রহনন ও ডিজিটাল হয়রানি উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। বিশেষ করে নারী, কিশোরী ও নারী রাজনীতিবিদরা এর সবচেয়ে বড় শিকার।’ এ পরিস্থিতি মোকাবেলায় ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা এবং কার্যকর আইন ও নীতিমালা বাস্তবায়নের ওপর জোর দেন তিনি।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘সরকারের লক্ষ্য প্রযুক্তিতে অযৌক্তিক বাধা তৈরি করা নয়, বরং স্বাধীনতা ও নিরাপত্তার মধ্যে একটি ভারসাম্য প্রতিষ্ঠা করা। এই লক্ষ্যেই নতুন কারিকুলামে ভ্যালু-বেইজড এডুকেশন, ডিজিটাল সেফটি, লাইফ স্কিল, জেন্ডার সংবেদনশীলতা এবং নাগরিক মূল্যবোধকে অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে। এ কাজে ইউনেস্কোসহ বিভিন্ন উন্নয়ন সহযোগী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমন্বিতভাবে কাজ চলছে।’

পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে ববি হাজ্জাজ বলেন, ‘নতুন শিক্ষাব্যবস্থায় শ্রেণিকক্ষে ধাপে ধাপে ইন্টারঅ্যাকটিভ ডিজিটাল ব্যবস্থা চালু করা হবে। শিক্ষকদের ট্যাব দেওয়া হচ্ছে এবং ভবিষ্যতে শিক্ষার্থীদেরও শিক্ষাবান্ধব ডিজিটাল ডিভাইস প্রদানের পরিকল্পনা রয়েছে।’

শিশুদের নিরাপদ বিকাশকে পুরো সমাজের দায়িত্ব উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে কমিউনিটি সম্পৃক্ততা বাড়ানো হচ্ছে। ইতিমধ্যেই স্কুল মিল কার্যক্রম তদারকিতে অভিভাবক কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং শিক্ষা ব্যবস্থার অন্যান্য ক্ষেত্রগুলোতেও স্থানীয় জনগণকে সম্পৃক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।’

উন্নয়ন সহযোগী ও এনজিওগুলোর উদ্দেশে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘সরকারের মন্ত্রণালয় এখন ওপেন-ডোর নীতিতে কাজ করছে। শিক্ষার্থীদের জন্য কার্যকর প্রমাণিত যেকোনো ইতিবাচক উদ্যোগ গ্রহণ ও মূল্যায়ন করতে সরকার প্রস্তুত।’

নারীর ক্ষমতায়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘কেবল স্লোগান নয়, শৈশব থেকেই সমান সুযোগ, অধিকার, নিরাপদ পরিবেশ ও আত্মবিশ্বাস নিশ্চিত করার মাধ্যমে নারী নেতৃত্বের ভিত্তি তৈরি করতে হবে।’

অনুষ্ঠানে বিবিসি মিডিয়া অ্যাকশনের প্রতিনিধি, খুলনা ও সাভার অঞ্চলের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং ইউএন উইমেন, প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল, জাগো ফাউন্ডেশনসহ বিভিন্ন এনজিওর প্রতিনিধি ও সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।

দুর্ঘটনায় নিহত শিক্ষার্থীদের স্মরণ করল মাইলস্টোন স্কুল

অনলাইন ডেস্ক
দুর্ঘটনায় নিহত শিক্ষার্থীদের স্মরণ করল মাইলস্টোন স্কুল
ছবি : কালের কণ্ঠ

মাইলস্টোন স্কুল ও কলেজের দিয়াবাড়ি ক্যাম্পাসে বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর প্রশিক্ষণ যুদ্ধবিমান দুর্ঘটনায় নিহত শিক্ষার্থীদের স্মরণে শোক ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত বছরের ২১ জুলাই সংঘটিত মর্মান্তিক ওই দুর্ঘটনায় নিহতদের রুহের মাগফিরাত এবং আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনায় মাইলস্টোন কলেজের উদ্যোগে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মাইলস্টোন কলেজের সর্বমান্য উপদেষ্টা কর্নেল নূরন নবী (অব.)। বিশেষ অতিথি ছিলেন কলেজের অধ্যক্ষ মো. জিয়াউল আলম। সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন উপাধ্যক্ষ (প্রশাসন) মো. মাসুদ আলম।

এ সময় মাইলস্টোন স্কুল ও কলেজের শিক্ষক-শিক্ষিকা, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা দুর্ঘটনায় নিহতদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন এবং আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন।

7458
২০২৫ সালের ২১ জুলাই ঢাকার উত্তরার দিয়াবাড়ীতে মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় নিহতদের স্মরণে দোয়া মাহফিলে অংশ নিয়ে অভিভাবকদের পাশাপাশি শিক্ষকরাও কাঁদলেন। ছবি : লুৎফর রহমান

দোয়া মাহফিলে নিহতদের রুহের মাগফিরাত ও শান্তি কামনা করে বিশেষ মোনাজাত পরিচালনা করা হয়। পাশাপাশি দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর প্রতি গভীর সমবেদনা জানায় মাইলস্টোন পরিবার।

আয়োজকরা বলেন, এই শোক ও দোয়া অনুষ্ঠানের মাধ্যমে নিহতদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা, আহতদের দ্রুত আরোগ্য এবং তাদের পরিবারের প্রতি আন্তরিক সহমর্মিতা প্রকাশ করা হয়েছে।

আইইউবিএটিতে নবীন নার্সিং শিক্ষার্থীদের দীক্ষা ও শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠিত

অনলাইন ডেস্ক
আইইউবিএটিতে নবীন নার্সিং শিক্ষার্থীদের দীক্ষা ও শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠিত
সংগৃহীত ছবি

ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস এগ্রিকালচার অ্যান্ড টেকনোলজি-আইইউবিএটির কলেজ অব নার্সিংয়ের নবীন শিক্ষার্থীদের দীক্ষা, প্রদীপ প্রজ্জ্বলন ও পেশাগত শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান-২০২৬ অনুষ্ঠিত হয়েছে। রবিবার (১৯ জুলাই)  বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্মুক্ত মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত এ আয়োজনের মাধ্যমে নবীন শিক্ষার্থীরা আনুষ্ঠানিকভাবে সেবাধর্মী নার্সিং পেশায় তাদের যাত্রা শুরু করে।

অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন কলেজ অব নার্সিংয়ের চেয়ার ও সহযোগী অধ্যাপক ড. স্যান্ড্রা রুমি মধু। তিনি বলেন, নার্সিং শুধু একটি পেশা নয়, এটি মানবসেবার এক মহান অঙ্গীকার। শিক্ষার্থীদের জ্ঞান, দক্ষতা, সহমর্মিতা ও পেশাগত নৈতিকতার সমন্বয়ে নিজেদের যোগ্য নার্স হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ইউনাইটেড হেলথকেয়ার সার্ভিসেস লিমিটেডের নার্সিং সেবা বিভাগের প্রধান নান্টি গৌথামি সানি বলেন, একজন দক্ষ নার্স রোগীর চিকিৎসা ও সুস্থতার ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তাই প্রতিটি শিক্ষার্থীকে আন্তরিকতা, মানবিকতা এবং দায়িত্ববোধ নিয়ে নিজেদের প্রস্তুত করতে হবে।

আইইউবিএটির কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক সেলিনা নার্গিস বলেন, একটি দেশের স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার উন্নয়নে দক্ষ ও মানবিক নার্সের ভূমিকা অপরিসীম। শিক্ষার্থীদের শৃঙ্খলা, সততা ও পেশাগত দায়িত্ববোধ ধারণ করে দেশ ও বিদেশে সুনামের সঙ্গে কাজ করতে।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে আইইউবিএটির উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবদুর রব বলেন, নার্সিং এমন একটি মহৎ পেশা, যেখানে জ্ঞান, দক্ষতা ও মানবিকতার সমন্বয়ে মানুষের জীবন রক্ষা করা হয়। একজন নার্সের সহমর্মী সেবা একজন রোগীর সুস্থতায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। শিক্ষার্থীদের মানবিক মূল্যবোধ, পেশাগত নৈতিকতা ও আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন দক্ষতা অর্জনের মাধ্যমে দেশের স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়নে অবদান রাখা উচিত।

অনুষ্ঠানে ইউনাইটেড হেলথকেয়ার সার্ভিসেস লিমিটেড, ইউনিকো হাসপাতালস লিমিটেড, ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন হাসপাতাল ও গবেষণা ইনস্টিটিউট, ড্যাফোডিল নার্সিং কলেজ, এনাম নার্সিং কলেজ, গ্রামীণ ক্যালেডোনিয়ান কলেজ অব নার্সিং, জাপান-বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ নার্সিং কলেজ, স্টেট নার্সিং কলেজ, বাংলাদেশ নার্সিং কলেজ, ইস্ট ওয়েস্ট মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল, বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব হেলথ সায়েন্সেস জেনারেল হাসপাতাল ও নার্সিং কলেজ, আহ্ছানিয়া ক্যান্সার মিশন হাসপাতাল, সাজেদা ফাউন্ডেশন, গণস্বাস্থ্য মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টার জেনারেল হাসপাতাল, শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, সেন্ট্রাল পুলিশ হাসপাতাল এবং ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ দেশের বিভিন্ন স্বনামধন্য হাসপাতাল ও নার্সিং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। তাদের উপস্থিতি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের পারস্পরিক সহযোগিতার সম্পর্ককে আরো সুদৃঢ় করেছে।

অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিল ফ্লোরেন্স নাইটিঙ্গেলের উত্তরাধিকার শীর্ষক প্রতীকী ছায়ানাট্য। এতে আধুনিক নার্সিংয়ের পথিকৃৎ ফ্লোরেন্স নাইটিঙ্গেলের মানবসেবা, আত্মত্যাগ ও পেশাগত আদর্শ তুলে ধরা হয়। এরপর নবীন শিক্ষার্থীরা প্রদীপ প্রজ্জ্বলন অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন এবং পেশাগত শপথ গ্রহণের মাধ্যমে মানবিকতা, সহমর্মিতা, সততা, নৈতিকতা ও সর্বোচ্চ পেশাগত মান বজায় রেখে রোগীর সেবায় আত্মনিয়োগের অঙ্গীকার করেন।

অনুষ্ঠানে নবীন শিক্ষার্থীদের পরিবেশনায় মনোজ্ঞ সংগীত পরিবেশিত হয়। সমাপনী বক্তব্যে কলেজ অব নার্সিংয়ের কো-অর্ডিনেটর ও সহযোগী অধ্যাপক শুভাশীষ দাস বালা অনুষ্ঠানে উপস্থিত অতিথিবৃন্দ, বিভিন্ন হাসপাতাল ও নার্সিং প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিগণ, অভিভাবক, শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং আয়োজক কমিটির সকল সদস্যের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

আইইউবিএটি নবীন নার্সিং শিক্ষার্থীদের আন্তরিক অভিনন্দন জানিয়ে তাদের ভবিষ্যৎ জীবনের সর্বাঙ্গীণ সাফল্য কামনা করে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আশা প্রকাশ করে, সহমর্মিতা, জ্ঞান, নৈতিকতা ও পেশাগত উৎকর্ষের আলোকবর্তিকা ধারণ করে এই শিক্ষার্থীরা ভবিষ্যতে দেশের স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে এবং মানবসেবায় নিজেদের নিবেদিত রাখবে।