• ই-পেপার

জামায়াত এমপির অন্তরঙ্গ ভিডিও ভাইরাল, নারীকে ‘দ্বিতীয় স্ত্রী’ দাবি

বিজিবির উদ্যোগ

চাঁপাইনবাবগঞ্জে পদ্মার চরের ১২০০ মানুষকে বিনামূল্যে চিকিৎসা প্রদান

চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি
চাঁপাইনবাবগঞ্জে পদ্মার চরের ১২০০ মানুষকে বিনামূল্যে চিকিৎসা প্রদান
চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলায় সীমান্তবর্তী পদ্মা নদীর দূর্গম চরে বিজিবি উদ্যেগে পরিচালিত মেডিক্যাল ক্যাম্প।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলায় সীমান্তবর্তী পদ্মা নদীর দূর্গম চরে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) উদ্যেগে পরিচালিত মেডিক্যাল ক্যাম্পে ১২ শতাধিক সুবিধাবঞ্চিত মানুষ এবং ২ শতাধিক গবাদিপশুকে বিনামূল্যে বিশেষজ্ঞ  চিকিৎসা সেবা দেওয়া হয়েছে। এ সময় বিনামূল্যে ওষুধও প্রদান করা হয়।

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সকাল থেকে দিনব্যাপী নারায়নপুর ইউনিয়নের মাহমুদা মতিউল্লাহ উচ্চ বিদ্যালয়ে ভেটেরিনারী চিকিৎসকসহ ৮ জন বিজিবি ও বেসমারিক বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের একটি দল এই চিকিৎসা সেবা প্রদান করেন। মূল ভূখণ্ড থেকে পদ্মায় বিচ্ছিন্ন জোহরপুর বিওপির আওতাধীন এই চরের চিকিৎসা ক্যাম্পে বিভিন্ন চর থেকে অসহায় ও দু:স্থ রোগিরা উপস্থিত হন।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ ব্যাটালিয়নের (৫৩বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘এ ধরণের উদ্যোগ স্বাভাবিক  নাগরিক সুবিধাবঞ্চিত সীমান্তবাসীদের মাঝে বিজিবির প্রতি বিশ্বাস ও আস্থা বৃদ্ধি করবে। দূর্গম চরাঞ্চলের মানুষের বাড়ির দোরগোড়ায়  বড় আকারের এরকম চিকিৎসা সেবা  সীমান্তবাসীদের মাঝে ব্যাপক সাড়া ফেলবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন। তিনি আরো বলেন, ‘দেশ রক্ষার পাশাপাশি বিজিবি সর্বদা সর্বাবস্থায় সীমান্তবাসীদের পাশে রয়েছে।’

ব্যাটালিয়নের নিজস্ব অর্থায়নে ক্যাম্পে চিকিৎসা সেবা প্রদান করেন বিজিবি রাজশাহী সেক্টরের নিজস্ব চিকিৎসক, ৫৩ বিজিবি এবং চাঁপাইনবাবগঞ্জ মহানন্দা ব্যাটালিয়নে (৫৯বিজিবি) নিয়োজিত ২ জন বেসামরিক চিকিৎসক, চাঁপাইনবাবগঞ্জ চক্ষু হাসপাতালের একজন চক্ষু বিশেষজ্ঞ, জেলা হাসপাতলের একজন করে গাইনি ও শিশু বিশেষজ্ঞ, জেলা পশু হাসপাতালের একজন ভেটেরিনারী চিকিৎসক। এসময় ক্যাম্পে ৫৩ বিজিবি উপ-অধিনায়ক মেজর সাজ্জাদুর রহমানসহ বিভিন্ন পদমর্যাদার বিজিবি সদস্য এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যাক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

কেরানীগঞ্জে অনুমোদন না নিয়ে চলছিল এনআইসিইউ

ইএনওর অভিযানে সিলগালা

কেরানীগঞ্জ (ঢাকা) প্রতিনিধি
কেরানীগঞ্জে অনুমোদন না নিয়ে চলছিল এনআইসিইউ
ঢাকার কেরানীগঞ্জের বাংলাদেশ লাইফ কেয়ার হাসপাতালে অভিযান।

ঢাকার কেরানীগঞ্জের কদমকলী এলাকায় বাংলাদেশ লাইফ কেয়ার হাসপাতাল নামে একটি প্রতিষ্ঠানে অনুমোদন না নিয়েই চালাচ্ছিল নিওনেটাল ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিট (এনআইসিইউ)। সদ্য জন্ম নেওয়া শিশুদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রেখে চিকিৎসা প্রদানের মতো এই অতি গুরুত্বপূর্ণ সেবাটি অনুমোদন না নিয়ে পরিচালনার অভিযোগে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে হাসপাতালটির এই সেবাটির কার্যক্রমটি বন্ধ করে দেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) উমর ফারুক।  এ সময় তাকে সহযোগিতা করেন কেরানীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোকাদ্দেস হোসেন ও থানা পুলিশ।

এ ছাড়া হাসপাতালটির বিরুদ্ধে আরো অনিয়ম থাকার অপরাধে আরো ১ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। অন্যদিকে ডায়াগনস্টিক সেন্টারের লাইসেন্স নবায়ন ও মূল্য তালিকা না থাকায় কদমতলী ডায়াগনস্টিক অ্যান্ড কনসালটেন্ট সেন্টারকে ২৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

আজ মঙ্গলবার (২১ জুলাই)  দুপুরে কেরানীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোকাদ্দেস হোসেন বলেন, ‘বিভিন্ন অভিযোগের প্রেক্ষিতে আজকের এই অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। অভিযানে ২টি প্রতিষ্ঠানকে ১ লাখ ২৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। আমাদের এ ধরনের অভিযান অব্যাহাত থাকবে।

ইউএনও উমর ফারুক বলেন, অনুমোদন না নিয়ে এনআইসিইউর মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ সেবা পরিচালনা করার অভিযোগে একটি প্রতিষ্ঠানকে ১ লাখ টাকা জরিমানা করার পাশাপাশি সেবা কার্যক্রম বন্ধ করা হয়েছে। এ ছাড়া অন্য একটি প্রতিষ্ঠানে লাইসেন্স নবায়ন ও মূল্য তালিকা না থাকায় ২৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। দুটি প্রতিষ্ঠানকে আগামী ১৫ দিনের মধ্যে সব কাগজপত্র নবায়ন করে জমা দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। 

মুন্সীগঞ্জে স্থানীয় সালিসকারীর মাথায় হাতুড়িপেটা, গ্রেপ্তার ১

মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি
মুন্সীগঞ্জে স্থানীয় সালিসকারীর মাথায় হাতুড়িপেটা, গ্রেপ্তার ১
সংগৃহীত ছবি

মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার রামপাল ইউনিয়নের বল্লালবাড়ী এলাকায় পারিবারিক বিরোধের জেরে আবুল কালাম বেপারী (৫৫) নামের স্থানীয় এক সালিসকারীকে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত একজনকে ঢাকার মুগদা এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ।

 সোমবার (২০ জুলাই) দুপুর ২টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

আহত আবুল কালাম বেপারী স্থানীয়ভাবে সালিসকারী বা মাদবর হিসেবে দায়িত্ব পালন করতেন। ঘটনার পর তাকে উদ্ধার করে প্রথমে মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে দায়িত্বরত চিকিৎসক তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠান।

পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্ত সেলিম বেপারী (৪০) দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক কলহে জড়িত ছিলেন। প্রায় আট মাস আগে তার মেয়ে পরিবারের অজান্তে বিয়ে করে চলে যাওয়ার পর থেকে স্ত্রীকে দায়ী করে বিভিন্ন সময় নির্যাতন করতেন তিনি। বিষয়টি নিয়ে পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে একাধিকবার সালিস হলেও বিরোধের নিষ্পত্তি হয়নি।

তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, বারবার সালিসের ঘটনায় সালিসে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের প্রতি ক্ষুব্ধ ছিলেন সেলিম। এরই ধারাবাহিকতায় সোমবার দুপুরে তিনি তার চাচাতো ভাই ও সালিসকারী আবুল কালাম বেপারীর মাথায় হাতুড়ি দিয়ে আঘাত করেন। এ ঘটনায় আহতের বোন সেলিনা বেগম মুন্সীগঞ্জ সদর থানায় হত্যাচেষ্টা মামলা করেন।

এ বিষয়ে মুন্সীগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. কামরান হোসেন জানান, মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে ঢাকার মুগদা থানার জান্নাতবাগ এলাকা থেকে সেলিম বেপারীকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বনিক্যপাড়া ব্রিজের ঢাল এলাকা থেকে হত্যাচেষ্টায় ব্যবহৃত হাতুড়িটি উদ্ধার করা হয়েছে।

লক্ষ্মীপুরে গ্রাহকদের ৫ কোটি টাকা নিয়ে উধাও ভুয়া এনজিও

রামগতি-কমলনগর (লক্ষ্মীপুর) প্রতিনিধি
লক্ষ্মীপুরে গ্রাহকদের ৫ কোটি টাকা নিয়ে উধাও ভুয়া এনজিও
সংগৃহীত ছবি

লক্ষ্মীপুরের রামগতিতে ‘ব্যাটার লাইফ অর্গানাইজেশন’ নামের একটি এনজিও গ্রাহকের কাছ থেকে অন্তত ৫ কোটি টাকা নিয়ে উধাও হয়ে গেছে। ‘আজকের উদ্যোগ, আগামীকালের নিশ্চয়তা।’ এই স্লোগানকে সামনে রেখে কার্যক্রম শুরু করা এনজিওটি উপজেলার অন্তত ৭ হাজার গ্রাহকের সঞ্চয়ের টাকা নিয়ে রাতারাতি কার্যালয় গুটিয়ে পালিয়ে যায়। 

সোমবার (২০ জুলাই) সকাল ১১টার দিকে সিরাজ উদ্দিন নামের এক গ্রাহক এনজিওটির কার্যালয়ে গিয়ে তালাবদ্ধ দেখতে পান। পরে ওই এনজিওর কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মুঠোফোনে কল দিলেও বন্ধ পান। পরে মুহূর্তের মধ্যে খবর ছড়িয়ে পড়লে হাজারো গ্রাহক অফিসের সামনে এসে জড়ো হয়। নিজেদের কষ্টার্জিত অর্থ হারিয়ে অনেকেই কান্নায় ভেঙে পড়েন।

ভুক্তভোগী গ্রাহক ও স্থানীয়রা জানান, ২০২৫ সালের জানুয়ারি মাসের শুরুতে উপজেলার আলেকজান্ডার-রামদয়াল সড়কের পাশে মেজর আবদুল মান্নানের গার্মেন্টস ফ্যাক্টরি নামক এলাকায় রাজিয়া ভিলা নামের এক বাড়িতে অফিস ভাড়া নিয়ে জমকালো প্রচারণার মাধ্যমে কার্যক্রম শুরু করে এনজিওটি। শুরুতে তারা সাধারণ মানুষকে সেলাই প্রশিক্ষণ, শিশু শিক্ষা ও বিভিন্ন লোভনীয় স্বপ্ন দেখান। অতি অল্প সময়ে, অধিক মুনাফা এবং সহজ শর্তে মোটা অঙ্কের ঋণের প্রলোভন দিয়ে স্থানীয় মধ্যবিত্ত ও নদীভাঙা উপকূলের নিম্ন আয়ের মানুষের কাছ থেকে হাজার হাজার টাকার সঞ্চয় সংগ্রহ করে। এর মধ্যে তাদের এনজিওর বয়স প্রায় ১ বছরের বেশি অতিবাহিত হয়। কোনো বৈধ অনুমোদন ছাড়াই সম্পূর্ণ ভুয়া নথিপত্র তৈরি করে চক্রটি সাধারণ মানুষের সরলতার সুযোগ নিয়ে অন্তত ৫ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে বলে জানান স্থানীয়রা।

গ্রাহকরা জানান, ১ লাখ টাকা জামানত রাখলে মাসে লাভ দেওয়া হবে ২০০০ টাকা। যখন ইচ্ছা তখনই টাকা ফেরত পাওয়া যাবে। সাত বছর মেয়াদে টাকা রাখলে পাওয়া যাবে জামানতের দ্বিগুণ। এমন লোভনীয় প্রতিশ্রুতি দিয়ে রামগতি উপজেলার অন্তত ৭ হাজার গ্রাহক থেকে প্রায় ৫ কোটি টাকা নিয়ে পালিয়ে যায় ওই ভুয়া এনজিও।

আব্দুল হক ও শাহিনুর বেগম নামের দুই গ্রাহক বলেন, এক বছরে অন্তত ৭ হাজারের মতো গ্রাহক তৈরি করেছে এনজিওটি। এসব গ্রাহকদের ঋণের প্রলোভন দেখিয়ে টাকা সঞ্চয় করানো হয়। একেকজন গ্রাহকের থেকে ১০ থেকে ২০ হাজার করে টাকা জমা নিয়েছে তারা। আবার কেউ কেউ লাভের আশায় লাখ টাকা পর্যন্ত জমা রেখেছে।

ভুক্তভোগী গ্রাহক বিলকিস বেগম বলেন, স্বামীকে না জানিয়ে ঋণের আশায় কষ্টার্জিত টাকা সঞ্চয় করেছিলেন তিনি। তারা এখন পালিয়েছে।

গ্রাহক শারমিন আক্তার জানান, তার স্বামী কাতার থাকেন। ওই এনজিওকে বিশ্বাস করে ১ লাখ ২৫ হাজার টাকা জমা রেখেছেন তিনি। চলতি মাসে তাকে ৫ লাখ টাকার ঋণ দেওয়ার কথা ছিল। এখন তার সব শেষ হয়ে গেছে বলে কান্নায় ভেঙে পড়েন।

এ বিষয়ে রামগতি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শেখ এহসান উদদীন বলেন, ঘটনাটি তিনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেখে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছেন। তবে এখন পর্যন্ত কেউ আনুষ্ঠানিকভাবে লিখিত অভিযোগ করেনি।