দেশের অর্থনীতি গত দুই দশকে উল্লেখযোগ্যভাবে সম্প্রসারিত হয়েছে। মাথাপিছু আয় বেড়েছে, মধ্যবিত্ত শ্রেণির পরিধি বিস্তৃত ও নগরায়ণ ত্বরান্বিত হয়েছে। মানুষের গড় আয়ুও বৃদ্ধি পেয়েছে। অর্থনীতির পরিবর্তনের সঙ্গে সাধারণত বীমা শিল্পেরও বিকাশ ঘটে। কিন্তু বাংলাদেশে সে চিত্র স্পষ্ট নয়। অর্থনীতির আকার বাড়লেও বীমা খাতের বিস্তার সে হারে বাড়েনি। বরং জিডিপির তুলনায় বীমার অংশগ্রহণ দক্ষিণ এশিয়ার সর্বনিম্ন পর্যায়ে রয়ে গেছে। এ খাতে সম্ভাবনার অভাব নেই; বরং ঘাটতি রয়েছে আস্থা, পণ্যের বৈচিত্র্য, কার্যকর বিতরণব্যবস্থা এবং দীর্ঘমেয়াদি নীতিগত সংস্কারের। ফলে যে খাতটি আর্থিক নিরাপত্তা, দীর্ঘমেয়াদি সঞ্চয় ও বিনিয়োগের অন্যতম ভিত্তি হওয়ার কথা, সেটিই এখনো সম্ভাবনার পর্যায়ে আটকে আছে।
অর্থনীতি বাড়ছে, কিন্তু বীমার প্রসার নয় : দেশের বীমাবাজার ধারাবাহিকভাবে বাড়লেও সেই প্রবৃদ্ধি অর্থনীতির সম্প্রসারণের তুলনায় ধীর। ২০২৩ সালে জীবন ও সাধারণ বীমা মিলিয়ে মোট গ্রস প্রিমিয়াম আয় দাঁড়ায় প্রায় ১৭ হাজার ৪৮৪ কোটি টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় ৯ দশমিক ১৬ শতাংশ বেশি। এর মধ্যে জীবন প্রিমিয়াম ছিল ১২ হাজার ২৮০ কোটি টাকা।
২০২৪ সালে মোট প্রিমিয়াম আয় বেড়ে প্রায় ১৮ হাজার ৮০০ কোটি টাকায় পৌঁছালেও প্রবৃদ্ধির হার নেমে আসে প্রায় ৭ শতাংশে, যা সাম্প্রতিক বছরগুলোর মধ্যে সর্বনিম্ন।
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে মোট প্রিমিয়াম আয় ছিল ১৮ হাজার ৫৩৪ কোটি টাকা, যা দেশের নামমাত্র জিডিপির ০.৩৩ শতাংশ। অর্থাৎ অর্থনীতি যত বড় হচ্ছে, বীমা খাত তার সঙ্গে তাল মিলিয়ে বাড়তে পারছে না।
দক্ষিণ এশিয়ায় সবচেয়ে কম অনুপ্রবেশ : বীমা শিল্পের উন্নয়ন পরিমাপের অন্যতম সূচক ইনস্যুরেন্স পেনিট্রেশন বা জিডিপির তুলনায় মোট বীমা প্রিমিয়ামের অনুপাত। এই সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান উদ্বেগজনক। সুইস রি ইনস্টিটিউটের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালে বাংলাদেশের বীমা অনুপ্রবেশ হার ছিল মাত্র ০.৫০ শতাংশ। আর বিবিএসের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে তা নেমে এসেছে ০.৩৩ শতাংশে। তুলনামূলকভাবে ভারতে এই হার প্রায় ৪ শতাংশ। ভিয়েতনামে ২ শতাংশের বেশি। পাকিস্তানে প্রায় ১ শতাংশ। নেপাল ও শ্রীলঙ্কায় ১ শতাংশের বেশি। থাইল্যান্ড ও মালয়েশিয়ার মতো অর্থনীতিতে এটি ৪ থেকে ৫ শতাংশেরও বেশি। অর্থাৎ দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যেও বাংলাদেশ সবচেয়ে পিছিয়ে রয়েছে।
আরো তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হলো, ২০০৩ সালে বাংলাদেশের বীমা অনুপ্রবেশ ছিল প্রায় ০.৫৭ শতাংশ। দুই দশক পরও সেই অবস্থার খুব বেশি উন্নতি হয়নি; বরং কিছু সূচকে অবনতি হয়েছে। একই সময়ে ভারত, পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কা তাদের বীমা বাজার উল্লেখযোগ্যভাবে সম্প্রসারণ করেছে। বাজারের বড় অংশ জীবন বীমার কিন্তু সুরক্ষামূলক বীমা এখনো দুর্বল। বাংলাদেশে বর্তমানে ৩৫টি জীবন বীমা এবং ৪৬টি সাধারণ বীমা কোম্পানি কার্যক্রম পরিচালনা করছে। মোট প্রিমিয়ামের প্রায় ৭০ শতাংশ আসে জীবন বীমা থেকে এবং ৩০ শতাংশ সাধারণ বীমা থেকে। তবে এখানেও বৈপরীত্য রয়েছে। জীবনের বড় অংশই আসে সঞ্চয়ভিত্তিক পণ্য থেকে। প্রকৃত ঝুঁকি সুরক্ষা বা প্রটেকশন প্রডাক্টস যেমন টার্ম লাইফ, স্বাস্থ্য বীমা কিংবা আয় সুরক্ষাবাজার এখনো সীমিত। অন্যদিকে সাধারণ বীমা খাত মূলত মোটর, মেরিন ও করপোরেট ব্যবসার ওপর নির্ভরশীল। খুচরা স্বাস্থ্য বীমা, ব্যক্তিগত সম্পত্তি বীমা কিংবা পরিবারভিত্তিক সুরক্ষা পণ্যের বিস্তার খুবই কম। ফলে বীমা এখনো সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন আর্থিক পরিকল্পনার অংশ হয়ে উঠতে পারেনি।
কারণ বাংলাদেশে বেশির ভাগ জীবন বীমা পলিসি খুব সাধারণ ও গতানুগতিক। উন্নত দেশগুলোর মতো স্বাস্থ্যবীমা, জটিল রোগ, কিংবা পেনশন প্ল্যানের মতো আধুনিক ও দরকারি পলিসি বাড়াতে হবে। এই খাতে ঝুঁকি মূল্যায়ন ও সঠিক প্রিমিয়াম নির্ধারণের জন্য পর্যাপ্ত ও যোগ্য অ্যাকচুয়ারি তৈরি এবং বীমা কোম্পানিগুলোর মার্কেটিং বা মাঠপর্যায়ের কর্মীদের পেশাদারি বাড়াতে হবে।
সম্ভাবনার ভিত্তি তৈরি করছে জনমিতিক পরিবর্তন : যেখানে বর্তমান চিত্র হতাশাজনক, সেখানেই ভবিষ্যতের সম্ভাবনা দেখছেন দেশি বিদেশি বিশেষজ্ঞরা। বাংলাদেশের জনসংখ্যার বড় অংশই তরুণ ও কর্মক্ষম। প্রতিবছর নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হচ্ছে, বাড়ছে মধ্যবিত্ত শ্রেণি, মানুষের গড় আয়ুও বৃদ্ধি পাচ্ছে। এই পরিবর্তনের অর্থ হলো আগামী বছরগুলোতে অবসর পরিকল্পনা, স্বাস্থ্য ব্যয়, সম্পদ সুরক্ষা, শিক্ষা তহবিল এবং দীর্ঘমেয়াদি সঞ্চয়ের চাহিদা আরো বাড়বে।
আস্থার সংকটই সবচেয়ে বড় বাধা : বীমা খাতের সবচেয়ে বড় সংকটকে বিশেষজ্ঞরা দেখছেন বিশ্বাসের ঘাটতি হিসেবে। অনেক গ্রাহকের অভিযোগ, দাবি নিষ্পত্তিতে দীর্ঘসূত্রতা, জটিল প্রক্রিয়া এবং কিছু প্রতিষ্ঠানের আর্থিক দুর্বলতা বীমা সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণা তৈরি করেছে। এ ছাড়া বিপুলসংখ্যক কোম্পানির মধ্যে তীব্র প্রতিযোগিতা অনেক ক্ষেত্রে অস্বাস্থ্যকর মূল্য প্রতিযোগিতা সৃষ্টি করেছে। সীমিত প্রিমিয়াম আয়ের বাজারে এত বেশি প্রতিষ্ঠানের উপস্থিতি দীর্ঘ মেয়াদে আর্থিক সক্ষমতা ও সেবার মানের ওপরও চাপ সৃষ্টি করছে। বাজার সম্প্রসারণের আগে বিদ্যমান গ্রাহকদের আস্থা ফিরিয়ে আনাই এখন সবচেয়ে বড় কাজ।
নিয়ন্ত্রকের সামনে সংস্কারের বড় চ্যালেঞ্জ : সাম্প্রতিক সময়ে বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ) খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে একাধিক পদক্ষেপ নিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে অনাদায়ী দাবি নিষ্পত্তির উদ্যোগ, আর্থিকভাবে দুর্বল প্রতিষ্ঠানের পুনর্গঠন, ঝুঁকিভিত্তিক তদারকি, করপোরেট গভর্ন্যান্স শক্তিশালী করা এবং ডিজিটাল সেবা সম্প্রসারণ। নতুন নেতৃত্বও গ্রাহকের আস্থা পুনরুদ্ধারকে অগ্রাধিকার দিয়েছে। বিশেষ করে দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা হাজার হাজার কোটি টাকার বীমা দাবি নিষ্পত্তিকে খাত পুনরুদ্ধারের পূর্বশর্ত হিসেবে দেখা হচ্ছে।
নতুন সম্ভাবনার নাম ব্যাংকাস্যুরেন্স : বাংলাদেশে বীমা বিক্রির সবচেয়ে বড় পরিবর্তনগুলোর একটি হতে পারে ব্যাংকাস্যুরেন্স। ২০২৪ সালের শেষ পর্যন্ত ব্যাংকের মাধ্যমে ৫ হাজার ৫০৭টি বীমা পলিসি বিক্রি হয়েছে। এসব পলিসির আওতায় বীমাকৃত অর্থের পরিমাণ ১৪৬ কোটি ৮৭ লাখ টাকা এবং সংগৃহীত প্রিমিয়াম ৫৪ কোটি ২০ লাখ টাকা। এর বিপরীতে ব্যাংকগুলো কমিশন আয় করেছে প্রায় ১ কোটি টাকা। পরিমাণ এখনো খুব বড় না হলেও বিশেষজ্ঞদের মতে, ব্যাংকিংব্যবস্থার বিস্তৃত নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে বীমাকে নতুন গ্রাহকের কাছে পৌঁছে দেওয়ার এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ।
প্রযুক্তি বদলে দিচ্ছে বীমা ব্যবসা : বিশ্বব্যাপী বীমা শিল্পে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), ডেটা অ্যানালিটিক্স ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম দ্রুত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। বাংলাদেশেও ধীরে ধীরে অনলাইন পলিসি, ডিজিটাল প্রিমিয়াম পরিশোধ, মোবাইলভিত্তিক সেবা এবং স্বয়ংক্রিয় দাবি নিষ্পত্তির ব্যবহার বাড়ছে। এআই ভবিষ্যতে ঝুঁকি মূল্যায়ন, জালিয়াতি শনাক্তকরণ, ব্যক্তিকেন্দ্রিক পণ্য নকশা এবং দ্রুত গ্রাহকসেবায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তবে প্রযুক্তির পাশাপাশি গ্রাহকের বিশ্বাস অর্জনই শেষ পর্যন্ত সাফল্য নির্ধারণ করবে।
সামনে কোন পথ? বাংলাদেশের বীমা খাত এমন এক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে, যেখানে সম্ভাবনা ও বাস্তবতার মধ্যে ব্যবধান এখনো অনেক বড়। একদিকে দ্রুত বাড়তে থাকা অর্থনীতি, তরুণ জনগোষ্ঠী, মধ্যবিত্তের বিস্তার এবং আর্থিক অন্তর্ভুক্তি খাতটিকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার সুযোগ তৈরি করছে। অন্যদিকে অনুপ্রবেশ হার, গ্রাহক আস্থা, পণ্যের সীমাবদ্ধতা এবং সুশাসনের ঘাটতি সেই সম্ভাবনা আটকে রেখেছে। আগামী দশকে দেশের বীমা শিল্পের সাফল্য নির্ভর করবে শুধু নতুন পলিসি বিক্রির ওপর নয়; বরং দাবি নিষ্পত্তিতে স্বচ্ছতা, শক্তিশালী নিয়ন্ত্রণ, উদ্ভাবনী পণ্য, প্রযুক্তির কার্যকর ব্যবহার এবং সর্বোপরি মানুষের বিশ্বাস অর্জনের ওপর। কারণ বীমা শিল্পের সবচেয়ে বড় মূলধন প্রিমিয়াম নয়, আস্থা।
অর্থনীতির আকার যত দ্রুত বেড়েছে, বীমা খাতের বিস্তার ততটা হয়নি। জিডিপির তুলনায় বীমা অনুপ্রবেশ এখনো বিশ্বের নিম্নতম পর্যায়ের একটি। ফলে ব্যক্তি, পরিবার ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোর আর্থিক ঝুঁকি ব্যবস্থাপনায় যে ভূমিকা থাকার কথা, তা এখনো সীমিত।
কেন পিছিয়ে আছে বীমা খাত? : বাংলাদেশে বীমা খাতের সবচেয়ে বড় সমস্যা মূলধনের অভাব নয়, বরং আস্থার সংকট। অনেক গ্রাহক দাবি নিষ্পত্তিতে দীর্ঘসূত্রতা, জটিল প্রশাসনিক প্রক্রিয়া এবং কিছু প্রতিষ্ঠানের আর্থিক দুর্বলতার কারণে অনীহা তৈরি করেছেন। একটি শিল্পের প্রতি জন-আস্থা একবার ক্ষতিগ্রস্ত হলে তা পুনর্গঠন করতে অনেক সময় লাগে।
পণ্যে বৈচিত্র্যের ঘাটতি : বাংলাদেশের জীবন বীমা বাজার এখনো প্রধানত সঞ্চয়ভিত্তিক পণ্যের ওপর নির্ভরশীল। অথচ আধুনিক বিশ্বে মূল উদ্দেশ্য হলো ঝুঁকি সুরক্ষা। স্বাস্থ্য বীমা, ক্যানসার ও জটিল রোগের কভারেজ, আয় সুরক্ষা, অবসরভাতা (পেনশন) পরিকল্পনা, দীর্ঘমেয়াদি কেয়ার এবং পরিবারভিত্তিক সুরক্ষা পণ্যের চাহিদা আগামী দশকে দ্রুত বাড়বে। জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি, ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা, কৃষি ও ডিজিটাল অর্থনীতির জন্যও নতুন ধরনের বীমা পণ্য প্রয়োজন।
দেশের সবচেয়ে বড় সম্পদ তার কর্মক্ষম তরুণ জনগোষ্ঠী। প্রতিবছর লাখ লাখ নতুন মানুষ শ্রমবাজারে প্রবেশ করছে। আয় বৃদ্ধি, নগরায়ণ এবং আর্থিক অন্তর্ভুক্তি বীমা শিল্পের জন্য দীর্ঘমেয়াদি সুযোগ তৈরি করছে। আজকের তরুণ পেশাজীবীরা ভবিষ্যতে বাড়ি কিনবেন, পরিবার গড়বেন, সন্তানদের শিক্ষা নিশ্চিত করবেন এবং অবসর পরিকল্পনা করবেন। এই প্রতিটি পর্যায়ে প্রয়োজন রয়েছে বীমার। ফলে সঠিক পণ্য ও কার্যকর বিপণন কৌশল থাকলে বাংলাদেশের বীমা বাজার আগামী এক দশকে উল্লেখযোগ্যভাবে সম্প্রসারিত হতে পারে।
প্রযুক্তি হবে পরিবর্তনের চালিকাশক্তি : বিশ্বজুড়ে বীমা শিল্প দ্রুত ডিজিটাল রূপান্তরের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ডেটা অ্যানালিটিক্স, ডিজিটাল আন্ডাররাইটিং এবং স্বয়ংক্রিয় দাবি নিষ্পত্তি গ্রাহকসেবার মান পরিবর্তন করছে। বাংলাদেশেও অনলাইন পলিসি, ডিজিটাল প্রিমিয়াম সংগ্রহ, মোবাইলভিত্তিক সেবা এবং ই-কেয়াইসি ব্যবস্থার ব্যবহার বাড়ছে। ভবিষ্যতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ঝুঁকি মূল্যায়ন, জালিয়াতি শনাক্তকরণ এবং ব্যক্তিকেন্দ্রিক বীমা পণ্য তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
ব্যাংকাস্যুরেন্সও দেশের বীমা শিল্পের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ। দেশের ব্যাংকিং নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে তুলনামূলক কম খরচে লাখো নতুন গ্রাহকের কাছে বীমা পৌঁছে দেওয়া সম্ভব।
তবে এই ব্যবস্থার সফলতা নির্ভর করবে গ্রাহকের প্রয়োজনভিত্তিক পরামর্শ, স্বচ্ছ বিক্রয় প্রক্রিয়া এবং বিক্রয়ের পর মানসম্মত সেবার ওপর।
নিয়ন্ত্রকের করণীয় : শিল্পের দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নের জন্য কার্যকর ও শক্তিশালী নিয়ন্ত্রণ অপরিহার্য।
প্রাধান্য পাওয়া উচিত-
১. অনাদায়ী দাবি দ্রুত নিষ্পত্তি; ২. ঝুঁকিভিত্তিক তদারকি বাস্তবায়ন; ৩. করপোরেট গভর্ন্যান্স আরও শক্তিশালী করা; ৪. আর্থিকভাবে দুর্বল প্রতিষ্ঠানের পুনর্গঠন; ৫. অ্যাকচুয়ারিয়াল দক্ষতা ও মানবসম্পদ উন্নয়ন; ৬. গ্রাহক অভিযোগ নিষ্পত্তির স্বচ্ছ ও সময়সীমাবদ্ধ ব্যবস্থা চালু করা; ৭. ডিজিটাল রূপান্তরকে উৎসাহ দেওয়া।
লেখক : এমডি জেসিএক্স গ্রুপ ও উদ্যোক্তা বেঙ্গল ইসলামী লাইফ ইনস্যুরেন্স









