• ই-পেপার

বেলুচিস্তানে ১৯ পাকিস্তানি সেনাকে হত্যার দাবি বিএলএর

গুহার অন্ধকারে লুকিয়ে ছিল ৩,৫০০ বছরের ইতিহাস, নাগাল্যান্ডে মিলল বিস্ময়কর নিদর্শন

অনলাইন ডেস্ক
গুহার অন্ধকারে লুকিয়ে ছিল ৩,৫০০ বছরের ইতিহাস, নাগাল্যান্ডে মিলল বিস্ময়কর নিদর্শন

ভারতের নাগাল্যান্ডের নকলাক (Noklak) জেলার নাগা হিলস ওফিওলাইট বেল্ট অঞ্চলে পরিচালিত প্রত্নতাত্ত্বিক অনুসন্ধানে প্রায় ৩,৫০০ বছর আগের মানব বসতির গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ মিলেছে। গুহা ও পাথরের আশ্রয়স্থল (রকশেল্টার) থেকে উদ্ধার হওয়া বিভিন্ন নিদর্শন উত্তর-পূর্ব ভারতের প্রাগৈতিহাসিক ইতিহাস সম্পর্কে নতুন তথ্য সামনে এনেছে।

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) এই সময়ের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা গেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, সম্প্রতি চলতি বছরের মার্চ মাসে নাগাল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস ও প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ এবং নাগাল্যান্ড সরকারের শিল্প ও সংস্কৃতি দপ্তরের যৌথ উদ্যোগে এই অনুসন্ধান পরিচালিত হয়। অভিযানের নেতৃত্ব দেন নাগাল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক তিয়াতোশি জামির। তাঁর সঙ্গে ছিলেন গবেষক ড. হেমে লামথাইউ, ড. লিমাসানেন লংকুমের, খুমেং টি, রবিনসন হুইদ্রোম এবং দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক ভিক্টোরিয়া লেইরি।

গবেষক দল নকলাক জেলার চিফুর (Chiphur) গ্রামের চুনাপাথরের পাহাড়ি এলাকায় অনুসন্ধান চালিয়ে পাঁচটি গুহা এবং চারটি রকশেল্টারের সন্ধান পান। পরে খননকার্যে উদ্ধার করা হয় দড়ির ছাপযুক্ত প্রাচীন মাটির পাত্র, পাথরের তৈরি হাতিয়ার, আগুন জ্বালানোর চুল্লির অবশিষ্টাংশ, পোড়া শস্যের নমুনা।

উদ্ধার হওয়া শস্যের মধ্যে ফক্সটেল মিলেট (Foxtail Millet) এবং জবস টিয়ার্স (Job's Tears)-এর কার্বনাইজড নমুনাও রয়েছে। গবেষকদের মতে, এসব নিদর্শন থেকে বোঝা যায়, সে সময়ের মানুষ কৃষিকাজের পাশাপাশি শিকারও করতেন।

নমুনাগুলোর বয়স নির্ধারণে যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার মিয়ামিতে অবস্থিত বেটা অ্যানালিটিক ল্যাবরেটরিতে অ্যাক্সিলারেটর মাস স্পেকট্রোমেট্রি (AMS) প্রযুক্তির মাধ্যমে বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা চালানো হয়। পরীক্ষায় দেখা যায়, লেইলো কা (Leilo Kaa) রকশেল্টারের বয়স প্রায় ৩,৫০০ বছর এবং কাথসো কা (Kathso Kaa) গুহার বয়স প্রায় ১,০০০ বছর।

গবেষকদের দাবি, এই আবিষ্কার শুধু নাগাল্যান্ড নয়, পুরো উত্তর-পূর্ব ভারতের প্রাচীন মানব বসতি, কৃষি, মৃৎশিল্প, প্রাচীন প্রযুক্তি এবং তৎকালীন জীবনযাত্রা সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ নতুন তথ্য প্রদান করবে।

উদ্ধার হওয়া প্রত্নবস্তুগুলো নাগাল্যান্ড স্টেট মিউজিয়াম এবং নাগাল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌথ উদ্যোগে চলতি বছরের অক্টোবর মাসে একটি বিশেষ প্রদর্শনীতে জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করা হবে। বিজ্ঞানীদের আশা, এই প্রদর্শনী ভারতের হাজার হাজার বছরের প্রাচীন ইতিহাসের এক নতুন অধ্যায় উন্মোচন করবে।

শিক্ষার্থীদের রাজনৈতিক হাতিয়ার বানিয়েছে কংগ্রেস : ধর্মেন্দ্র প্রধান

অনলাইন ডেস্ক
শিক্ষার্থীদের রাজনৈতিক হাতিয়ার বানিয়েছে কংগ্রেস : ধর্মেন্দ্র প্রধান

ভারতের লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী ও কংগ্রেসের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহারের অভিযোগ তুলেছেন দেশটির কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান। মঙ্গলবার (২১ জুলাই) ‘চলো সংসদ’ পদযাত্রার সময় ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) বিক্ষোভকারীদের ওপর পুলিশের দমনপীড়নের পর প্রথম প্রতিক্রিয়ায় এ অভিযোগ করেন তিনি। ইন্ডিয়া টুডের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা যায়।

ধর্মেন্দ্র প্রধান বলেন, নিট-ইউজি প্রশ্নপত্র ফাঁস বিতর্ক সংক্রান্ত উদ্বেগ নিরসনের জন্য কাজ করার পরিবর্তে কংগ্রেস সংসদের বর্ষাকালীন অধিবেশনে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করছে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী দাবি করেন, সংসদে নিট ইস্যু নিয়ে বিস্তারিত আলোচনার জন্য সরকারের আগ্রহ প্রকাশ করা সত্ত্বেও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাসভবনের বাইরে বিক্ষোভ করেন রাহুল গান্ধী ও কংগ্রেস।

প্রধান বলেন, বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী ও কংগ্রেস সংসদের অধিবেশনে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির জন্য নির্লজ্জভাবে শিক্ষার্থীদের রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে চলেছে।

সোমবারের সিজেপি বিক্ষোভ চলাকালে ছাত্রদের বিরুদ্ধে পুলিশের দমনপীড়নের প্রতিবাদে রাহুল গান্ধী ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধীসহ কংগ্রেস নেতারা প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের বাইরে বিক্ষোভ করার কয়েক ঘণ্টা পরেই প্রধানের এ মন্তব্য আসল। এ বিক্ষোভের শেষে দিল্লি পুলিশ বেশ কয়েকজন বিরোধী নেতাকে আটক করে, যদিও পরে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়।

প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার কথিত অনিয়ম নিয়ে জবাবদিহি, শিক্ষা ব্যবস্থার সংস্কার এবং কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে গত ২০ জুন থেকে এ আন্দোলন শুরু হয়। সোমবার আন্দোলনকারীরা সংসদের দিকে পদযাত্রা করার চেষ্টা করলে পুলিশ তাদের ওপর লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাস প্রয়োগ করে। এ সহিংসতার জন্য আন্দোলনকারী ও পুলিশ একে অপরকে দোষারোপ করছে। গত ১৮ জুলাই দিল্লি পুলিশ সোনম ওয়াংচুককে সফদারজং হাসপাতালে স্থানান্তর করে এবং তিনি হাসপাতাল থেকেই তার অনশন কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছেন।

আটকের কয়েক ঘণ্টা পর মুক্ত রাহুল-প্রিয়াঙ্কা

অনলাইন ডেস্ক
আটকের কয়েক ঘণ্টা পর মুক্ত রাহুল-প্রিয়াঙ্কা
ছবি : রয়টার্স

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকারি বাসভবনের সামনে থেকে আটক দেশটির লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী এবং কংগ্রেস নেত্রী প্রিয়াঙ্কা গান্ধী মুক্তি পেয়েছেন।

সংবাদ প্রতিদিনের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সকালে ‘আরশোলা’দের সমর্থনে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের সামনে ধরনায় বসেন রাহুল গান্ধী। গোটা রাত সেখানে অবস্থান বিক্ষোভ চালানো হবে বলে জানিয়ে ছিলেন তিনি। এরপরই দিল্লি পুলিশ আটক করে কংগ্রেস নেতাকে। বেশ কয়েক ঘণ্টা পর ছত্রসাল স্টেডিয়াম থেকে ছেড়ে দেওয়া হয় তাঁকে। অন্যদিকে প্রিয়াঙ্কাকে আটক করে মন্দির মার্গ থানায় রাখা হয়েছিল। তাকেও মুক্তি দেওয়া হয়েছে। সেখানে রাতেই হাজির হন সোনিয়া গান্ধী। তিনিও মন্দির মার্গ থানা থেকে ফিরে গিয়েছেন।

এছাড়াও সোমবার পুলিশ-সিজেপি সমর্থকদের খণ্ডযুদ্ধের পর আটক করা আরো ৭০ জনকে মঙ্গলবার ছেড়ে দিয়েছে দিল্লি পুলিশ। পাশাপাশি সরকারি সম্পদ নষ্টের অভিযোগ ছয়টি এফআইআর দায়ের করা হয়েছে।

এদিকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাসভবনের সামনে রাহুল গান্ধী-সহ কংগ্রেসের ধরনার বিষয়টির তীব্র নিন্দা করেছেন বিজেপি সভাপতি নিতিন নবীন। তিনি মন্তব্য করেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের বাইরে রাহুল গান্ধীর আচরণ নিঃসন্দেহে দুর্ভাগ্যজনক। এটি ভারতীয় রাজনীতির ইতিহাসে একটি কালো দিন।’ এদিকে বেশি রাতে জন্তর মন্তর চত্বরে পৌঁছেছেন মহারাষ্ট্রের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী উদ্ধব ঠাকরে। তিনি সেজেপির বিক্ষোভে যোগ দিয়েছেন। 

এর আগে, মঙ্গলবার দুপুরে কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গের বাসভবনের সামনে উপস্থিত হন কংগ্রেস নেতা-কর্মীরা। তারপর সেখান থেকে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন অর্থাৎ ৭, লোক কল্যাণ মার্গের উদ্দেশে শুরু হয় মিছিল। সেখানে যোগ দেন অখিলেশও। এরপরই মোদির বাসভবনের বাইরে আঁটসাঁট করা হয় নিরাপত্তা। মোতায়েন করা হয় প্রচুর পুলিশ। নামানো হয় র‍্যাপিড অ্যাকশন ফোর্স।

বিক্ষোভকারীরা দাবি করেন, প্রধানমন্ত্রী এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে অবিলম্বে ইস্তফা দিতে হবে। তোলেন স্লোগানও। ঘটনাস্থলে যান কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী জিতেন্দ্র সিং। দেখা করেন রাহুলের সঙ্গে। কিন্তু তাঁর আশ্বাসের পরও সারারাত মোদির বাসভবনের বাইরে ধরনা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় কংগ্রেস। 

বিজেপির একটি সূত্রের দাবি, ‘ককরোচ’দের নিয়ে আসলে রাহুলের কোনো উদ্বেগ নেই। পুরোটাই তাঁর রাজনৈতিক কৌশল। সেই কারণেই তিনি বারবার তাঁর দাবিদাওয়া বদলাচ্ছেন। এর আগে আমেরিকায় গিয়ে তিনি ভারতের গণতন্ত্রের সমালোচনা করেছিলেন। অভিযোগ করেন, ভারতে গণতন্ত্র চাপের মুখে পড়েছে। সংসদ, বিচারব্যবস্থা ও সংবাদমাধ্যমের মতো গুরুত্বপূর্ণ গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলি শাসকদল ও আরএসএসের নিয়ন্ত্রণে চলে গিয়েছে।

অন্যদিকে, আপ নেতা সোমনাথ ভারতী বলেন, ‘রাহুল গোটা বিষয়টিকে দুর্বল করার চেষ্টা করছেন। তিনি আসলে বিজেপির চাপে রয়েছেন। তিনি যদি ছাত্র-যুবদের সমর্থন করতে চান, তাহলে তাঁর যন্তর মন্তরে যাওয়া উচিত।’

যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানে হামলা না করত, আজ ইসরায়েলের অস্তিত্ব থাকত না : ট্রাম্প

অনলাইন ডেস্ক
যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানে হামলা না করত, আজ ইসরায়েলের অস্তিত্ব থাকত না : ট্রাম্প
সংগৃহীত ছবি

যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে হামলা না চালাত, তাহলে আজ ইসরায়েলের অস্তিত্বই থাকত না বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মঙ্গলবার (২১ জুলাই) আল জাজিরার লাইভ আপডেট থেকে এ তথ্য জানা যায়।

সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, ‘সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার আমলে হওয়া ইরানের পারমাণবিক চুক্তি (নিউক্লিয়ার ডিল) যদি বাতিল না করা হতো, তবে ইরান অনেক আগেই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে সক্ষম হতো। আমরা যদি সেই চুক্তি বাতিল না করতাম, তাহলে আজ ইসরায়েল থাকত না। কারণ ইরান বহু বছর আগেই পারমাণবিক অস্ত্র পেয়ে যেত।’

ট্রাম্প আরও দাবি করেন, তার প্রশাসনের শুরুতেই অর্থাৎ ২০২৫ সালের মাঝামাঝিতে যুক্তরাষ্ট্রের বি-২ স্টেলথ বোমারু বিমান দিয়ে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে হামলা চালানো হয়েছিল। সেই হামলার কারণেই ইরান পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে পারেনি।

তিনি বলেন, ‘আমরা যদি এক বছর আগে বি-২ বোমারু বিমান দিয়ে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলো ধ্বংস না করতাম, তাহলে আজ তাদের হাতে পারমাণবিক অস্ত্র থাকত।’ আর এর ফলে শুধু ইসরায়েলই নয়, মধ্যপ্রাচ্যের আরও কয়েকটি দেশও তখন গুরুতর হুমকির মুখে পড়ত বলে জানান তিনি।