• ই-পেপার

জামায়াতের এমপির ভাইরাল ভিডিও নিয়ে যা জানা যাচ্ছে

সিরাজগঞ্জে সাপের কামড়ে প্রাণ গেল ২ জনের

সিরাজগঞ্জ ও কাজিপুর প্রতিনিধি
সিরাজগঞ্জে সাপের কামড়ে প্রাণ গেল ২ জনের

সিরাজগঞ্জের কাজিপুর উপজেলায় বিষধর সাপের কামড়ে পৃথক স্থানে দুজনের মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার (২১ জুলাই) বিকেলে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. রাসেল এ তথ্য জানান।

নিহতরা হলেন- উপজেলার নাটুয়ারপাড়া ইউনিয়নের পানাগাড়ি বাঘগাড়িপাড়ার নুর হোসেনের ছেলে হযরত আলী (৪৫) ও খাসরাজবাড়ি ইউনিয়নের রাজবাড়ি গ্রামের মৃত আবু সাঈদের স্ত্রী মমতা বেওয়া।

স্থানীয়রা জানান, সোমবার (২০ জুলাই) সকাল ৬টার দিকে হযরত আলী বাড়ির সামনে বন্যার পানিতে অবৈধ চায়না দুয়ারী জাল দিয়ে মাছ ধরতে যান। এসময় জালের ভেতর একটি বিষধর সাপ আটকে যায়। অসাবধানতাবশত জাল থেকে মাছ ছাড়ানোর সময় বিষধর সাপটি তাকে কামড়ে দেয়। প্রথমে হয়রত আলীকে স্থানীয় ওঝার কাছে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে কাজিপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও পরে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীণ অবস্থায় দুপুর ২টার দিকে হযরত আলী মারা যায়।

অপরদিকে, সোমবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে নিজবাড়ির গোয়ালঘরে বিদ্যুতের সুইচ দিতে গেলে বিষধর সাপ মমতা বেওয়ার পায়ে কামড় দেয়। এরপর পরিবারের সদস্যরা তাকে প্রথমে স্থানীয় এক কবিরাজের কাছে নিয়ে যান। অবস্থার অবনতি হলে রাত ৮টার দিকে তাকে কাজিপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। কিছুক্ষণ পর চিকিৎসকরা তাকে বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়। বগুড়ায় যাওয়ার পথে রাত ১২টার দিকে মমতা বেওয়ার মৃত্যু হয়।

কাজিপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. রাসেল বলেন, ‘সাপের কামড়ে অসুস্থ রোগীদের অনেকটা দেরিতে হাসপাতালে আনা হয়েছিল। ততক্ষণে বিষক্রিয়া তাদের সারা শরীরে ছড়িয়ে পড়েছিল। আমরা এন্টিভেনম দিয়েছিলাম। রোগীর স্বজনরা উন্নত চিকিৎসার জন্যে অন্যত্র নিতে চাইলে আমরা রেফার্ড করেছিলাম।’ 

তিনি আরো জানান, সাপে কাটলে দেরি না করে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে আসলে চিকিৎসায় রোগীর সুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি।

বাঘায় শয়নকক্ষ থেকে স্বামী-স্ত্রীর মরদেহ উদ্ধার

বাঘা (রাজশাহী) প্রতিনিধি
বাঘায় শয়নকক্ষ থেকে স্বামী-স্ত্রীর মরদেহ উদ্ধার
সংগৃহীত ছবি

রাজশাহীর বাঘায় নিজ শয়নকক্ষ থেকে স্বামী মনিরুল ইসলাম (৪৫) ও স্ত্রী স্বপ্না বেগমের (৩৮) মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সকাল ১১টার দিকে উপজেলার বাজুবাঘা ইউনিয়নের আরিফপুর গ্রামে নিজ বাড়ি থেকে মরদেহ দুটি উদ্ধার করে পুলিশ।

জানা গেছে, মনিরুল ইসলাম একজন ভ্যানচালক। তারা নিঃসন্তান দম্পতি। প্রতিদিনের ন্যায় সোমবার (২০ জুলাই) সারা দিন ভ্যান চালিয়ে সন্ধ্যার বাড়ি আসেন। স্বামী-স্ত্রী ছাড়া এই বাড়িতে কেউ আর থাকে না। তাদের মরদেহের পাশে বিষের বোতল পাওয়া গেছে। পুলিশ ধারণা করছেন, তারা উভয়ে এই ঘাষ মারা বিষ খেয়ে আত্মহত্যা করতে পারেন। তবে কী কারণে আত্নহত্যা করতে পারেন, এ বিষয়ে কিছুই জানাতে পারেননি। মনিরুল ইসলাম আরিফপুর গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা মরহুম জামাল উদ্দিনের সন্তান। 

বাঘা থানার ওসি সেরাজুল হক বলেন, ‘এ ব্যাপারে একটি অপমৃত্যুর ডায়েরি করে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে দুপুরে প্রেরণ করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোট পেলে তাদের মৃত্যুর কারণ জানা যাবে।’

সাঁথিয়া

প্রবাসীর স্ত্রীর ঘরে মিলল যুবকের মরদেহ

স্ত্রী আটক

পাবনা প্রতিনিধি
প্রবাসীর স্ত্রীর ঘরে মিলল যুবকের মরদেহ
সংগৃহীত ছবি

পাবনার সাঁথিয়া উপজেলার আতাইকুলা থানার রঘুনাথপুর গ্রামে এক লিবিয়াপ্রবাসীর স্ত্রীর ঘর থেকে আলিফ হোসেন (২০) নামের এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ওই প্রবাসীর স্ত্রীকে আটক করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সকালে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। মৃত রঘুনাথপুর গ্রামের মৃত রইচ শেখের ছেলে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রঘুনাথপুর গ্রামের লিবিয়াপ্রবাসী বাদশা প্রামাণিকের স্ত্রী আসমানী আক্তারের সঙ্গে একই এলাকার আলিফ নামের এক যুবকের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। সোমবার (২০ জুলাই) রাতে দুজনের মধ্যে বিয়ে করা, না করা দিয়ে নিয়ে কথা-কাটাকাটি হয়। মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সকালে স্থানীয় বাসিন্দারা আসমানী আক্তারের ঘরের ভেতরে আলিফের মরদেহ দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দেয়। খবর পেয়ে আতাইকুলা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাবনা জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।

আতাইকুলা থানার ওসি মজিবর রহমান বলেন, ‘যুবকের মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ এখনো জানা যায়নি। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।’

তিনি আরো জানান, ঘটনার বিষয়ে জানতে প্রবাসীর স্ত্রী আসমানী আক্তারকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে। ঘটনাটি তদন্তাধীন। প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

কেরানীগঞ্জে অপহৃত অটোরিকশাচালক উদ্ধার, গ্রেপ্তার ৪

কেরানীগঞ্জ (ঢাকা) প্রতিনিধি
কেরানীগঞ্জে অপহৃত অটোরিকশাচালক উদ্ধার, গ্রেপ্তার ৪
সংগৃহীত ছবি

ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জে অটোরিকশাচালক মো. সুন্দর আলীকে (৪৬) অপহরণ করে তার পরিবারের কাছে দুই লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবির অভিযোগে অপহরণ চক্রের চার সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাব-১০। একই অভিযানে শুভাঢ্যা এলাকার একটি তালাবদ্ধ বাসা থেকে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় সুন্দর আলীকে উদ্ধার করা হয়।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন মো. কুদ্দুস মিয়া (৩৮), মো. জুয়েল রানা (৪০), মো. রাকিব হাওলাদার (২৬) এবং মো. অপু মীর ওরফে বায়জিদ (৩৫)।

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সকালে কেরানীগঞ্জের রাজেন্দ্রপুরে র‍্যাব-১০ সদর দপ্তরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান র‍্যাব-১০-এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ল’ অফিসার) সোনালী সেন।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, রবিবার (১৯ জুলাই) বিকেলে দ্বিতীয় বিয়ের উদ্দেশ্যে মেয়ে দেখতে যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হন সুন্দর আলী। গোলামবাজার থেকে রামেরকান্দা যাওয়ার পথে ধর্মশুর এলাকায় পৌঁছালে অপহরণকারীরা তার অটোরিকশার গতিরোধ করে। পরে তাকে মারধর করে জোরপূর্বক অন্য একটি অটোরিকশায় তুলে রামেরকান্দা বালুর মাঠ এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাকে চেতনানাশক ওষুধ খাইয়ে ভয়ভীতি দেখিয়ে পরিবারের কাছে দুই লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। পরে রাতে তাকে আসামি রাকিব হাওলাদারের শুভাঢ্যা এলাকার ভাড়া বাসায় নিয়ে একটি কক্ষে তালাবদ্ধ করে রাখা হয়। এ সময় পরিবারের সদস্যদের কাছ থেকে দুই দফায় নগদের মাধ্যমে ৪৪ হাজার টাকা আদায় করা হলেও তাকে মুক্তি দেওয়া হয়নি। বরং প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে আরো টাকা দাবি করা হয়।

র‍্যাব জানায়, গ্রেপ্তার কুদ্দুস মিয়ার বিরুদ্ধে ডাকাতির প্রস্তুতি ও অস্ত্র আইনের মামলাসহ চারটি, জুয়েল রানার বিরুদ্ধে পাঁচটি মাদক মামলা, রাকিব হাওলাদারের বিরুদ্ধে ডাকাতির প্রস্তুতির একটি এবং অপু মীরের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ডাকাতির প্রস্তুতি ও নারী ও শিশু নির্যাতন আইনের চারটি মামলা রয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সোনালী সেন বলেন, ‘ভুক্তভোগীর স্বজনেরা দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ করার পর তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা নজরদারির মাধ্যমে অভিযান চালায় র‍্যাব-১০। সোমবার দুপুরে শুভাঢ্যা এলাকার একটি ভাড়া বাসা থেকে সুন্দর আলীকে উদ্ধার করা হয়। একই সময় অপহরণে জড়িত চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।’