• ই-পেপার

এমপি নজরুলের বিয়ের কাবিননামা নিয়ে মুখ খুললেন কাজী, সামনে এলো নতুন তথ্য

এনসিপি নেতা কাফির বিরুদ্ধে জমি দখল ও চাঁদাবাজির মামলা

পটুয়াখালী প্রতিনিধি
এনসিপি নেতা কাফির বিরুদ্ধে জমি দখল ও চাঁদাবাজির মামলা
নুরুজ্জামান কাফি। সংগৃহীত ছবি

পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় আলোচিত কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা নুরুজ্জামান কাফি, তার বাবা ও বড় ভাইয়ের বিরুদ্ধে জমি দখল ও চাঁদাবাজির মামলা হয়েছে।

সোমবার (২০ জুলাই) কলাপাড়ার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এ মামলা করেন খেপুপাড়া সরকারি মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক (ভারপ্রাপ্ত) আব্দুর রহিম । মঙ্গলবার এ মামলাটি আমলে নিয়ে তদন্তের জন্য কলাপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

মামলার অন্য আসামিরা হলেন কাফির বাবা এবিএম হাবিবুর রহমান এবং তার বড় ভাই মো. মামুন।

মামলা সূত্রে জানা গেছে, গত ১১ জুলাই সকাল সোয়া ১০টার দিকে রজাপাড়া গ্রামের নুরুজ্জামান কাফি, তার বাবা এবিএম হাবিবুর রহমান ও বড় ভাই মামুন মাটি কাটার ভেকু মেশিন, ভ্যান, কোদাল এবং খোয়া নিয়ে খেপুপাড়া সরকারি মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের রজপাড়া মৌজার সংশ্লিষ্ট জমিতে প্রবেশ করে। পরে জমির মাটি কেটে আকার-আকৃতি পরিবর্তন করে চলাচলের রাস্তা তৈরির চেষ্টা করে। খবর পেয়ে ওই বিদ্যালয়ের ৫ জন সহকারী শিক্ষক নিয়ে প্রধান শিক্ষক ঘটনাস্থলে যান এবং রাস্তা তৈরিতে বাধা দেন। এতে কাফি ক্ষিপ্ত হয়ে আবদুর রহিমের কাছে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে সে সকল শিক্ষকদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করে এবং ধাক্কাধাক্কি করে তাদের খুন-জখমের ভয়ভীতি দেখায়। পরে কাফি, তার বাবা ও বড় ভাই ১১০ ফুট দৈর্ঘ্যের ও ৩০ ফুট প্রস্থের প্রায় ৬ শতাংশ জমির অন্তত ১ লাখ টাকার মাটি কেটে ট্রলি গাড়িতে নিয়ে বাড়িসহ বিভিন্ন জায়গায় স্তূপ করে রাখে এবং ওই জমিতে ছোট ছোট কঙ্কর পাথর ফেলে রাস্তা তৈরি করে। এতে প্রায় ৫ লাখ টাকা ক্ষতি হয়েছে বলে আবদুর রহিম মামলায় উল্লেখ করেন।

আবদুর রহিম বলেন, কলাপাড়ায় মোট ২১.৭৬ একর জমির মালিক খেপুপাড়া সরকারি মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়। বিদ্যালয়টি দীর্ঘদিন যাবৎ শান্তিপূর্ণভাবে ভোগদখলে থেকে সরকারি খাসজমিসহ নির্ধারিত সীমানায় অবস্থান করে আসছে। ঘটনার পরে আমি তাদের স্থানীয়ভাবে আপস-মীমাংসার চেষ্টা করি। কিন্তু কাফিসহ তার পরিবার আপস-মীমাংসায় রাজি হননি। পরে আমি কলাপাড়া থানায় মামলা করতে গেলে থানা কর্তৃপক্ষ আমাকে আদালতে মামলা করার পরামর্শ দেন। পরে আদালতে মামলা করি। বিদ্যালয়ের জমিজমা রক্ষার্থে আমি ন্যায় বিচারের দাবি জানাচ্ছি। 

এ বিষয়ে নুরুজ্জামান কাফি বলেন, এ জমির ওয়ারিশরা দীর্ঘদিন মামলা চালিয়ে সুপ্রিম কোর্ট থেকে রায় পেয়েছে। তাদের কাছ থেকে আমি বায়না সূত্রে কিনি। মালিকপক্ষ জমি বুঝিয়ে দেওয়ার পর আমি রাস্তা নির্মাণ করি। স্কুলের প্রধান শিক্ষক রহিম স্যারের সঙ্গে আমার কোনো সামনাসামনি দেখা হয়নি এবং কথাও হয়নি। আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ এনে আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। সুষ্ঠুভাবে তদন্ত করলেই এর আসল সত্য বেরিয়ে আসবে।

কলাপাড়া সিনিয়র জুডিশিয়াল আদালতের বেঞ্চ সহকারী মো. ফেরদৌস মিয়া বলেন, মামলা হয়েছে। আদালত কলাপাড়া থানার ওসি নজরুল ইসলামকে তদন্ত সাপেক্ষে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন।

গুরুদাসপুরে বাস-ট্রাক সংঘর্ষ : নিহত ১, আহত ৮ রাশিয়ানসহ ১২

গুরুদাসপুর (নাটোর) প্রতিনিধি
গুরুদাসপুরে বাস-ট্রাক সংঘর্ষ : নিহত ১, আহত ৮ রাশিয়ানসহ ১২
ছবি : কালের কণ্ঠ

নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলার তালবাড়িয়া এলাকায় বনপাড়া-হাটিকুমরুল মহাসড়কে বাস-ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে ট্রাকের হেলপার নিহত হয়েছেন। এতে গুরুতর আহত হয়েছেন দুই গাড়ির চালক, বাসের হেলপারসহ অন্তত ১২ জন। আহতদের মধ্যে রয়েছেন ৮ রাশিয়ান নাগরিক। এদের মধ্যে ৪ জন নারী।

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) রাত সাড়ে ৯টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

আহতদের গুরুদাসপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। 

নিহত হেলপারের নাম ইমন (২২)। তার বাবার নাম জহুরুল ইসলাম। তিনি নাটোর খোলাবাড়িয়ার হযরতপুরের বাসিন্দা বলে জানা গেছে।

জানা যায়, মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে পেঁয়াজ-রসুন বোঝাই ঢাকাগামী ট্রাকের সঙ্গে ঈশ্বরদীর রূপপুরগামী বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে ওই হতাহতের ঘটনা ঘটে।

দুর্ঘটনার পর মহাসড়কের দুই পাশে যানজটের সৃষ্টি হয়।

গুরুদাসপুর ফায়ার সার্ভিসের ফাইটার ম্যান হেলাল ও বকুল হোসেন জানান, তাদের সাব অফিসার রুস্তম আলীর নেতৃত্বের দ্রুত উদ্ধার তৎপরতা চালানো হয়। দুর্ঘটনার প্রায় দুই ঘণ্টা পর মহাসড়কের এক পাশ দিয়ে যান চলাচল স্বাভাবিক করা হয়।

উপজেলা কমপ্লেক্সে আহতদের দেখতে আসেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফাহমিদা আফরোজ ও এসিল্যান্ড আসাদুল ইসলাম।

বনপাড়া হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুজ্জামান জানান, হাইওয়ে পুলিশ, গুরুদাসপুর ও বনপাড়ার ফায়ার সার্ভিস টিমের সহায়তায় উদ্ধার তৎপরতা সম্পন্ন হয় রাত ১১টার দিকে। আপাতত এক পাশ দিয়ে পরিবহনগুলোর যাতায়াতের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

নেশার টাকার জেরে কেরানীগঞ্জে হাতুড়িপেটা, গুরুতর আহত প্রতিবেশী

কেরানীগঞ্জ (ঢাকা) প্রতিনিধি
নেশার টাকার জেরে কেরানীগঞ্জে হাতুড়িপেটা, গুরুতর আহত প্রতিবেশী

ঢাকার কেরানীগঞ্জে নেশা করার টাকা চেয়ে না পেয়ে প্রতিবেশী মো. ইসতিয়াককে (৩০) হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর আহত করার অভিযোগ উঠেছে মো. সাইদুর রহমান নাঈম খানের (৩৩) বিরুদ্ধে। এলাকাবাসী ও আহতের স্বজনরা ইসতিয়াককে উদ্ধার করে প্রথমে মিটফোর্ড হাসপাতাল পরে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন।

ঘটনাটি ঘটেছে সোমবার রাতে কালিন্দী ইউনিয়নের কালিন্দী খান বাড়ি এলাকায়। এ ঘটনায় বুধবার (২১ জুলাই) বিকেলে আহতের মামা এনামুল কবির বাদী হয়ে কেরানীগঞ্জ মডেল থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেছে।

জানা যায়, বিবাদী মো. সাইদুর রহমান নাঈম খান একজন নেশাগ্রস্ত। সে প্রতিদিন নেশার টাকার জন্য নিজ পরিবারসহ এলাকাবাসীকে চাপ সৃষ্টি করে। কেউ টাকা না দিলে তার ওপর হামলা চালিয়ে মারধর করে আহত করে। তার পরিবার এলাকায় প্রভাবশালী হওয়ায় কেউ কিছু বলতে সাহস পায় না। তাই দিন দিন তার অত্যাচার বেড়েই চলছে।

অভিযোগকারী এনামুল কবির বলেন, আমার ভাগ্নে মো. ইসতিয়াককের কাছে গত ১৯ জুলাই রাতে মাদক সেবী সাইদুর রহমান নাঈম খান মাদক সেবন জন্য ৫০০০ (পাঁচ হাজার) টাকা দাবি করে। নাঈমের দাবি করা টাকা আমার ভাগ্নে দিতে অস্বীকার করে। তখন তাদের দুজনের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়।

একপর্যায়ে আমার ভাগ্নে বাসায় চলে আসে। পরদিন রাত আনুমানিক ৯টার দিকে আমার ভাগ্নে তার মোটরসাইকেল নিয়ে বাসা থেকে বের হলে নাঈম ও তার সঙ্গে থাকা আরো কয়েকজন মিলে আমার ভাগ্নেকে এলোপাতাড়িভাবে হাতুড়িপেটা করে। এতে তার চারটি দাত ভেঙে যায় ও ওপরের ঠোঁট থেতলে মারাত্মকভাবে আহত হয়। তখন আমার ভাগ্নের ডাকচিৎকারে আমিও আশপাশের লোকজন এগিয়ে আসলে নাঈম ও তারদল পালিয়ে যায়। আমার ভাগ্নে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছে।

এ ব্যাপারে কেরানীগঞ্জ মডেল থানার সেকেন্ড অফিসার মো. মামুন জানান, এ বিষয়ে আমরা একটি অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। 

বানারীপাড়ায় ইয়াবাসহ আটক ব্যক্তির ৩ মাসের জেল

বানারীপাড়া (বরিশাল) প্রতিনিধি
বানারীপাড়ায় ইয়াবাসহ আটক ব্যক্তির ৩ মাসের জেল

বরিশালের বানারীপাড়ায় ৪ পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ এক মাদকসেবীকে আটক করে মোবাইল কোর্টে তিন মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

জানা গেছে, বানারীপাড়া থানার অফিসার ইনচার্জ মো. মজিবুর রহমানের নির্দেশনায় নিয়মিত মাদক বিরোধী অভিযানে মাদকসেবী রমজান মাতুব্বর ওরফে আকিবকে আটক করে উপ-পরিদর্শক আরাফাত রহমান হাসান ও তার সঙ্গীয় ফোর্স। রমজান মাতুব্বর ওরফে আকিব বানারীপাড়া উপজেলার ইলুহার ইউনিয়নের মৃত ফজলুল হক মাতুব্বরের ছেলে।

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে বাইশারী ইউনিয়নের গরদ্দার নামক এলাকা থেকে চার পিস ইয়াবাসহ তাকে আটক করা হয়। এসময় বানারীপাড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো. বায়েজিদুর রহমান মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে তাকে তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ১০০ টাকা জরিমানা প্রদান করেন।

পরে দণ্ডপ্রাপ্ত রমজান মাতুব্বর ওরফে আকিবকে বরিশাল আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো করা হয়।