• ই-পেপার

‘আয়নাঘর’ পরিদর্শনে যাবেন ট্রাইব্যুনালের তিন বিচারক

মামলাপূর্ব মধ্যস্থতা কার্যক্রম আশাব্যঞ্জক ফল দিচ্ছে : আইনমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
মামলাপূর্ব মধ্যস্থতা কার্যক্রম আশাব্যঞ্জক ফল দিচ্ছে : আইনমন্ত্রী
আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।

প্রি-কেস মেডিয়েশন বা ‘মামলাপূর্ব মধ্যস্থতা কার্যক্রম’ নতুন মামলা করার হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে ‘আশাব্যঞ্জক ফল’ দিচ্ছে বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। একই সঙ্গে তিনি বলেছেন, ‘এই কার্যক্রম কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে দীর্ঘদিনের মামলাজট নিরসনে বড় অগ্রগতি হবে।’

গতকাল মঙ্গলবার মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষ থেকে দেশের ১০ জেলায় ‘মামলাপূর্ব মধ্যস্থতা কার্যক্রম’ উদ্বোধনের সময় তিনি এ কথা বলেন। এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছেন মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. রেজাউল করিম।

উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘দেশে বর্তমানে প্রায় ৪৫ লাখ মামলা বিচারাধীন, যা বিচারব্যবস্থার ওপর বড় চাপ সৃষ্টি করেছে। এ বাস্তবতায় আদালতে মামলা করার আগেই বিরোধ নিষ্পত্তির সুযোগ সৃষ্টি করতে পারলে বিচারপ্রার্থীর সময়, অর্থ ও ভোগান্তি কমবে এবং আদালতের ওপর চাপও উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পাবে।’

উদ্বোধনের মধ্যদিয়ে বগুড়া, ঠাকুরগাঁও, পটুয়াখালী, ভোলা, নাটোর, যশোর, শরীয়তপুর, কক্সবাজার, পঞ্চগড় ও টাঙ্গাইলে নতুন করে এই কার্যক্রম চালু হলো। আইনগত সহায়তা প্রদান (সংশোধন) আইন, ২০২৬ -এর ২১খ ধারা অনুসারে এখন থেকে এই জেলাগুলোতে নির্দিষ্ট ৭টি আইনের আওতায় আদালতে মামলা করার আগে জেলা লিগ্যাল এইড অফিসের মধ্যস্থতার মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তির উদ্যোগ নিতে হবে।

একটি পাইলট প্রকল্পের আওতায় ২০টি জেলায় প্রি-কেস মেডিয়েশন চালুর পর বিভিন্ন আইনে মামলা দায়েরের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে বলে জানান আইনমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘গত বছরের ফেব্রুয়ারি-মে মাসের তুলনায় চলতি বছরের একই সময়ে গড়ে ৬২.০২ শতাংশ মামলা দায়ের হ্রাস পেয়েছে।’ আদালতে মামলা দায়েরের প্রবাহ এভাবে কমানো গেলে বিচারাধীন মামলার সংখ্যা দ্রুত কমিয়ে আনা সম্ভব বলে মনে করেন আসাদুজ্জামান। একই সঙ্গে প্রত্যাশা ব্যক্ত করে তিনি বলেন, ‘আদালত, জেলা লিগ্যাল এইড অফিস, আইনজীবী ও সংশ্লিষ্ট সবাই সম্মিলিতভাবে কাজ করলে আগামী এক বছরের মধ্যে বিচারাধীন মামলার সংখ্যা উল্লেখযোগ্য পরিমাণ কমিয়ে আনা সম্ভব হতে পারে।’

এই কার্যক্রমে মধ্যস্থতাকারীদের দায়িত্বকে কেবল চাকরি হিসেবে না দেখে জনসেবামূলক চ্যালেঞ্জ হিসেবে গ্রহণ করার আহ্বান জানান আইনমন্ত্রী। পাশাপাশি মধ্যস্থতা কার্যক্রমে যেকোনো ধরনের দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরকারের অবস্থান ‘জিরো টলারেন্স’ বলেও স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দেন।

বাংলাদেশ আইনগত সহায়তা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. মনজুর হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন আইন সচিব লিয়াকত আলী মোল্লা।এছাড়া ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে বক্তব্য দেন যশোরের জেলা ও দায়রা জজ মাহমুদা খাতুন, কক্সবাজারের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আবু সালেহ মোহাম্মদ নোমানসহ বিভিন্ন জেলার লিগ্যাল এইড কর্মকর্তা ও জেলা আইনজীবী সমিতির নেতারা।

মোজাফফরকে ট্রাইব্যুনালে হাজিরের নির্দেশ

অনলাইন ডেস্ক
মোজাফফরকে ট্রাইব্যুনালে হাজিরের নির্দেশ
জিয়াউর রহমান হত্যা মামলার আসামি মেজর (অব.) মোজাফফর হোসেন। ছবি : সংগৃহীত

শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হত্যা মামলার আসামি মেজর (অব.) মোজাফফর হোসেনকে আগামী ২৩ জুলাই হাজিরের নির্দেশ দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। মঙ্গলবার (২১ জুলাই) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ নির্দেশ দেন।

ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানি করেন চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম।

শুনানিতে তিনি বলেন, ‘শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে মিলিটারি পুলিশের অধীনে রয়েছেন মোজাফফর হোসেন। মানবতাবিরোধী অপরাধে সম্পৃক্ত থাকায় আমরা তার বিরুদ্ধে প্রোডাকশন ওয়ারেন্ট ইস্যু চাই। শুনানি শেষে তাকে ২৩ জুলাই হাজির করার জন্য নির্দেশ দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল।’

এ সময় প্রসিকিউটর গাজী এম এইচ তামিম, ফারুক আহাম্মদ, সহিদুল ইসলাম সরদার, শাইখ মাহদী, মঈনুল করিমসহ অন্য প্রসিকিউটররা উপস্থিত ছিলেন।

এদিকে গত ২০ জুলাই মোজাফফরের বিচার সেনা আইনে জেনারেল কোর্ট মার্শালের মাধ্যমে নিশ্চিত করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। রাজধানীর পিলখানায় শহীদ ক্যাপ্টেন আশরাফ হলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা জানান।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মেজর (অব.) মোজাফফরের সহযোগীদের বিচারও সামরিক আদালতে হয়েছে। তিনি দীর্ঘদিন ভিন্ন পরিচয়ে পার্শ্ববর্তী একটি দেশে পলাতক ছিলেন। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে তাকে গ্রপ্তার করে সেনা আইনে বিচার করার জন্য সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। জেনারেল কোর্ট মার্শালের মাধ্যমে তার বিচারটা নিশ্চিত করা হবে।

প্রসঙ্গত, সাবেক রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমান হত্যার পর প্রায় ৪৫ বছর ধরে পলাতক ছিলেন মেজর (অব.) মোজাফফর। গত ১৫ জুলাই রাতে রাজধানীর বনানীর একটি বাসা থেকে তাকে গ্রপ্তার করা হয়। পরদিন ঢাকা সেনানিবাসের মিলিটারি পুলিশের কাছে তাকে হস্তান্তর করা হয়।

সব মামলায় তৌহিদ আফ্রিদির জামিন, মুক্তিতে বাধা নেই

নিজস্ব প্রতিবেদক
সব মামলায় তৌহিদ আফ্রিদির জামিন, মুক্তিতে বাধা নেই
মাইটিভির চেয়ারম্যান নাসির উদ্দিন সাথীর ছেলে ‘কনটেন্ট ক্রিয়েটর’ তৌহিদ আফ্রিদি। ছবি : সংগৃহীত

ঢাকার ওয়ারী থানায় করা প্রতারণা ও অপরাধমূলক বিশ্বাস ভঙ্গের মামলায়ও জামিন পেয়েছেন বেসরকারি টিভি চ্যানেল মাইটিভির চেয়ারম্যান নাসির উদ্দিন সাথীর ছেলে ‘কনটেন্ট ক্রিয়েটর’ তৌহিদ আফ্রিদি। সব মামলায় জামিন পাওয়ায় তার মুক্তিতে বাধা নেই বলে জানিয়েছেন আইনজীবী।

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুল ইসলামের আদালতে তৌহিদ আফ্রিদির পক্ষে আইনজীবী ইকবাল মাহমুদ শোভন জামিন চেয়ে শুনানি করেন। শুনানি নিয়ে আদালত তার জামিনের আদেশ দেন বলে জানিয়েছেন এই আইনজীবী।

তিনি বলেন, ‘তৌহিদ আফ্রিদির বিরুদ্ধে তিনটি মামলা দায়ের করা হয়। দুই মামলায় উচ্চ আদালত থেকে আগেই জামিন পেয়েছেন। আজ ওয়ারী থানার মামলায় জামিন পেলেন। তিন মামলায় জামিনের আদেশ হওয়ায় তার কারামুক্তিতে বাধা নেই।’

গত বছরের ২৪ আগস্ট রাতে বরিশাল থেকে তৌহিদ আফ্রিদিকে গ্রেপ্তার করে সিআইডি পুলিশ। এরপর তাকে একাধিক মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। গেল ১১ জুন তৌহিদ আফ্রিদিকে এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা ওয়ারী থানার এসআই মো. মাহফুজুর রহমান। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ১৫ জুন তাকে এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, সৈয়দা আশফাহ তোয়াহা দ্যুতি গেল বছরের ১৩ জানুয়ারি হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে ফ্রিল্যান্সিং কাজের অফার পান। ফাতেমা ঐশী পরিচয় দিয়ে ওই ব্যক্তি দ্যুতিকে গুগলে রিভিউ দিতে বলেন এবং কাজের জন্য টেলিগ্রাম অ্যাপ খুলতে বলেন। পরদিন কাজের জন্য দ্যুতিকে ৩০০ টাকা পাঠানো হয়। লিসা নামে এক ব্যক্তি পরদিন তাকে টেলিগ্রাম গ্রুপে যুক্ত করে। সেখানে অন্য সদস্যরা টাকা পাঠানোর পর মুনাফাসহ আসল ফেরত পেলে স্ক্রিনশর্ট দিত। তাদের দেখে আশ্বাস পেয়ে দ্যুতি লিসার বিকাশ নম্বরে দুই হাজার টাকা পাঠান। সেদিনই তিনি আসলসহ ২৮০০ টাকা ফেরত পান।

গত বছরের ১৫ জানুয়ারি তাকে ৫ হাজার ৩০০ টাকা পাঠানো হয়। আরো কাজ শেখার জন্য তাকে আরেকটি টেলিগ্রাম গ্রুপে যুক্ত হতে বলা হয়। বিশ্বস্ততা অর্জন করে তার কাছ থেকে সর্বমোট ২ লাখ ৩৫ হাজার টাকা প্রতারণা করে আত্মসাৎ করা হয়। ওই ঘটনায় সৈয়দা আশফাহ তোয়াহা দ্যুতি অজ্ঞাত নামে আসামি করে গত বছরের জানুয়ারি মাসে ওয়ারী থানায় মামলা দায়ের করেন।

দুদকের মামলায় ছাগলকাণ্ডের মতিউরের বিরুদ্ধে আদেশ পিছিয়ে ৩ আগস্ট

নিজস্ব প্রতিবেদক
দুদকের মামলায় ছাগলকাণ্ডের মতিউরের বিরুদ্ধে আদেশ পিছিয়ে ৩ আগস্ট
সংগৃহীত ছবি

জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে দুদকের করা মামলায় ‘ছাগলকাণ্ডে’ আলোচিত এনবিআরের সাবেক কর্মকর্তা মতিউর রহমানের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন পরবর্তী আদেশ পিছিয়ে আগামী ৩ আগস্ট ধার্য করা হয়েছে। আজ মঙ্গলবার (২১ জুলাই) ঢাকার বিভাগীয় স্পেশাল জজ বি এম তারিকুল কবীরের আদালতে আদেশের জন্য ধার্য ছিল। তবে এদিন বিচারক ছুটিতে থাকায় পরবর্তী আদেশের দিন ধার্য করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট আদালত সূত্রে জানা গেছে। 

এদিন মতিউর রহমানকে কারাগার থেকে মহানগর দায়রা জজ আদালতের হাজতখানায় এনে রাখা হয়। তবে তাকে আদালতে তোলা হয়নি।

এর আগে ২০২৪ সালের ১৫ ডিসেম্বর মতিউর রহমান ও তার দ্বিতীয় স্ত্রীর বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জন ও সম্পদের তথ্য গোপনের অভিযোগে দুটি মামলা হয়।

মামলায় মতিউরের বিরুদ্ধে ৫ কোটি ২৮ লাখ ৭৫ হাজার ৯৩৯ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন এবং ১ কোটি ২৭ লাখ ৬৬ হাজার ২১৬ টাকার সম্পদের তথ্য গোপনের অভিযোগ করা হয়। তদন্ত শেষে গত ৩ ফেব্রুয়ারি মতিউর রহমানের বিরুদ্ধে অভিযোগ পত্র অনুমোদন দেয় দুদক।

অভিযোগ পত্রে উল্লেখ করা হয়, মো. মতিউর রহমানের দাখিলকৃত সম্পদ বিবরণীতে মিথ্যা ও ভিত্তিহীন তথ্য প্রদান করে ১ কোটি ২৪ লাখ ২৫ হাজার ২১১ টাকার সম্পদের তথ্য গোপন করেছেন। সরকারি চাকরিজীবী হিসেবে ক্ষমতার অপব্যবহার, ঘুষ, দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত অপরাধলব্ধ আয়ে নিজ নামে গোপনসহ ৫ কোটি ৪০ লাখ ৯৭ হাজার ৬৭২ টাকার জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জন করেছেন।

তার বিরুদ্ধে দুদক আইন, ২০০৪ এর ২৬(২) ও ২৭(১) তৎসহ দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭ এর ৫(২) ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে। 

উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ১৪ জানুয়ারি মতিউরকে গ্রেপ্তার করে ডিবি পুলিশ। এরপর থেকে তিনি কারাগারে আটক রয়েছেন।