সারা দিনের কাজ শেষে অনেকেই বাড়ি ফিরে যান। আবার কেউ সময় কাটান ক্যাফে, লাইব্রেরি, পার্ক বা চায়ের দোকানে। এসব জায়গায় না থাকে অফিসের চাপ, না থাকে বাড়ির দায়িত্ব। শুধু একটু স্বস্তি, গল্প আর নিজের মতো করে সময় কাটানোর সুযোগ। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এমন জায়গাগুলোই হতে পারে একাকিত্ব কমানোর কার্যকর উপায়।
মঙ্গলবার (২১ জুলাই) দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস-এ প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।
বিশেষজ্ঞরা এই জায়গাগুলোকে ‘থার্ড স্পেস’বা ‘তৃতীয় জায়গা’বলেন। অর্থাৎ, বাড়ি ও কর্মস্থলের বাইরে এমন একটি নিরপেক্ষ জায়গা, যেখানে মানুষ কোনো চাপ ছাড়াই সময় কাটাতে পারে, নতুন মানুষের সঙ্গে পরিচিত হতে পারে বা শুধু কিছুক্ষণ নিজের মতো থাকতে পারে।
মনোবিজ্ঞানী ও স্নায়ুবিজ্ঞান গবেষক নারগিজা নইমান জান্ডার বলেন, থার্ড স্পেসের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো এখানে কাউকে কিছু প্রমাণ করতে হয় না। কেউ চাইলে একা আসতে পারেন, কিছুক্ষণ থাকতে পারেন বা নিয়মিত যাতায়াত করতে পারেন। ধীরে ধীরে সেখানকার মানুষের সঙ্গে পরিচিতিও তৈরি হয়।
এ ধরনের জায়গা নতুন কিছু নয়। আগে বাজার, চায়ের দোকান, লাইব্রেরি, পার্ক, ধর্মীয় প্রাঙ্গণ বা পাড়ার আড্ডার স্থানগুলোও মানুষের জন্য এমন সামাজিক মিলনকেন্দ্র ছিল।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এখনকার ব্যস্ত জীবন, দূর থেকে কাজের সুযোগ এবং মোবাইলনির্ভর জীবনযাত্রার কারণে মানুষ আগের তুলনায় অনেক বেশি একা হয়ে পড়ছে। অনলাইনে সংযুক্ত থাকলেও বাস্তব জীবনে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক কমে যাচ্ছে।
২০২৬ সালের এক বৈশ্বিক গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বের সবচেয়ে একাকী দেশগুলোর তালিকায় ভারতের অবস্থান দ্বিতীয়। পরিবারে একসঙ্গে থাকলেও অনেক মানুষ মানসিকভাবে নিজেকে একা অনুভব করেন।
মনোবিজ্ঞানীরা বলছেন, দীর্ঘদিনের একাকিত্ব শুধু মন খারাপের কারণ নয়। এটি উদ্বেগ, বিষণ্নতা, ঘুমের সমস্যা, আত্মবিশ্বাস কমে যাওয়া এবং শারীরিক স্বাস্থ্যের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
তাই তারা পরামর্শ দিচ্ছেন, বাস্তব জীবনে মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়াতে হবে। কাছের বন্ধুর সঙ্গে সময় কাটানো, কোনো বইপাঠের আসর, দৌড় ক্লাব বা স্থানীয় কোনো কমিউনিটির সঙ্গে যুক্ত হওয়া মানসিক সুস্থতার জন্য উপকারী হতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সুস্থ থাকার জন্য শুধু ভালো খাবার বা ব্যায়ামই যথেষ্ট নয়। প্রয়োজন এমন কিছু জায়গা, যেখানে মানুষ বিচারহীনভাবে কথা বলতে পারে, অন্যের কথা শুনতে পারে এবং নিজের মতো করে কিছুটা সময় কাটাতে পারে। অনেক সময় এমন ছোট ছোট সামাজিক যোগাযোগই একাকিত্ব দূর করার বড় শক্তি হয়ে ওঠে।





