ডেটিং অ্যাপে অসংখ্য প্রোফাইল। একের পর এক ডান-বাম সুইপ। কিন্তু এত বিকল্পের মাঝেও অনেকেই খুঁজে পাচ্ছেন না উপযুক্ত জীবনসঙ্গী। অনেকের মতে, শুধু ছবি আর ছোট্ট পরিচিতি দেখে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার এই সংস্কৃতি মানুষকে আরো একা করে দিচ্ছে। তাই আবারও জনপ্রিয় হয়ে উঠছে মানুষের মাধ্যমে পরিচালিত আধুনিক ম্যাচমেকিং সেবা।
সোমবার (২০ জুলাই) দ্য ডেইলি স্টার-এ প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, বিশেষ করে যারা বিয়ের উদ্দেশ্যে দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্ক খুঁজছেন, তাদের মধ্যে এই সেবার চাহিদা বাড়ছে। কারণ, এখানে শুধু ছবি দেখে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় না। একজন মানুষের ব্যক্তিত্ব, মূল্যবোধ, জীবনধারা, পারিবারিক পরিবেশ, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা এবং সাংস্কৃতিক দৃষ্টিভঙ্গিও বিবেচনায় নেওয়া হয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমানে কর্মব্যস্ততা, বিদেশে বসবাস, ছোট হয়ে আসা সামাজিক পরিসর এবং অনলাইননির্ভর জীবনযাত্রার কারণে নতুন মানুষের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগ আগের তুলনায় কমে গেছে। আবার প্রচলিত ঘটক ব্যবস্থায় অনেক সময় পরিবারের প্রভাব বেশি থাকে। এই দুই বাস্তবতার মাঝামাঝি সমাধান হিসেবেই আধুনিক ম্যাচমেকিং সেবার জনপ্রিয়তা বাড়ছে।
বাংলাদেশে এমনই একটি ম্যাচমেকিং প্রতিষ্ঠানের উদ্যোক্তা নেরিসা নাশিন। তিনি জানান, এক বন্ধুর জন্য উপযুক্ত জীবনসঙ্গী খুঁজে দেওয়ার অনুরোধ থেকেই এই উদ্যোগের শুরু। পরে ইনস্টাগ্রামে আগ্রহ যাচাই করতে একটি স্টোরি দিলে মাত্র এক ঘণ্টায় ৭০টি সাড়া পান। প্রতিষ্ঠান চালুর আগেই ১৫০ জন নিবন্ধন করেন। কোনো ধরনের বিজ্ঞাপন ছাড়াই মুখে মুখে ছড়িয়ে পড়ে প্রতিষ্ঠানটির পরিচিতি।
নেরিসা জানান, তাদের প্রতিষ্ঠান শুধু অ্যালগরিদমের ওপর নির্ভর করে না। প্রতিটি প্রোফাইল মানুষের মাধ্যমে যাচাই করা হয়। লিংকডইন, বায়োডাটা, ছবি, ভয়েস নোটসহ বিভিন্ন তথ্য বিশ্লেষণ করে সম্ভাব্য মিল খোঁজা হয়। একই সঙ্গে গ্রাহকদের ব্যক্তিগত তথ্যের গোপনীয়তাও নিশ্চিত করা হয়।
তার মতে, শুধু শিক্ষা, চাকরি বা পেশা মিললেই একটি সম্পর্ক সফল হয় না। জীবনযাপন, পারিবারিক মূল্যবোধ, সাংস্কৃতিক পরিবেশ এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার মিলও গুরুত্বপূর্ণ। তাই এসব বিষয় বিবেচনায় রেখেই সম্ভাব্য জীবনসঙ্গী খুঁজে দেওয়া হয়।
বর্তমানে একটি সম্ভাব্য মিল খুঁজে পেতে সাধারণত কয়েক সপ্তাহ সময় লাগে। তবে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে উপযুক্ত কাউকে খুঁজে পাওয়া সম্ভব না হলে সেটিও গ্রাহককে জানিয়ে দেওয়া হয়।
নেরিসার দাবি, শুধু বাংলাদেশ নয়, অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, যুক্তরাষ্ট্র, নরওয়ে ও চীনে বসবাসকারী বাংলাদেশিরাও তাদের এই সেবা নিচ্ছেন। বিদেশে থেকেও একই ভাষা, সংস্কৃতি ও মূল্যবোধের জীবনসঙ্গী খুঁজতে অনেকেই এমন প্রতিষ্ঠানের শরণাপন্ন হচ্ছেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ডেটিং অ্যাপে মানুষ খুব দ্রুত অন্যকে বিচার করে ফেলেন। অনেক সময় একটি ছবি বা কয়েকটি লাইনের পরিচিতি দেখেই কাউকে গ্রহণ বা প্রত্যাখ্যান করা হয়। এতে একজন মানুষকে গভীরভাবে জানার সুযোগ কমে যায়।
অন্যদিকে, আধুনিক ম্যাচমেকিং সেবায় সময় নিয়ে দুইজন মানুষের বিভিন্ন দিক যাচাই করা হয়। ফলে দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্ক গড়ে ওঠার সম্ভাবনাও বাড়তে পারে।
তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করিয়ে দেন, ডেটিং অ্যাপ বা ম্যাচমেকিং—কোনোটিই সফল সম্পর্কের নিশ্চয়তা দিতে পারে না। একটি সম্পর্ক টিকে থাকে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, বিশ্বাস, খোলামেলা যোগাযোগ এবং একে অপরকে বোঝার মানসিকতার ওপর।






