• ই-পেপার

আইইউবিএটিতে নবীন নার্সিং শিক্ষার্থীদের দীক্ষা ও শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠিত

জাবিতে র‍্যাগিংয়ের অভিযোগে পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের ৮ শিক্ষার্থী সাময়িক বহিষ্কার

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি
জাবিতে র‍্যাগিংয়ের অভিযোগে পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের ৮ শিক্ষার্থী সাময়িক বহিষ্কার
সংগৃহীত ছবি

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) নবীন শিক্ষার্থীদের মানসিক নির্যাতন, অশ্রাব্য ভাষায় গালাগাল এবং কান ধরে উঠবস করিয়ে র‍্যাগিংয়ের অভিযোগে পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের ৮ শিক্ষার্থীকে সাময়িকভাবে বহিষ্কার করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্টার ড. এ বি এম আজিজুর রহমান স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানানো হয়।

বহিষ্কৃত শিক্ষার্থীরা হলেন মো. ফজলে হাসান ফাহাদ, মো. আল-আমিন হোসাইন, মো. জাহিদ হাসান, মো. ফয়সাল আহমেদ, মো. মাহমুদুল হাসান খান আকিব, মো. মাহমুদুল আমিন সিয়াম, মো. মোস্তাফিজুর রহমান এবং সৈয়দ সাকিব আহমেদ রাতুল। তারা সবাই পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের ৫৪তম ব্যাচের (শিক্ষাবর্ষ : ২০২৪-২০২৫) শিক্ষার্থী।

অফিস আদেশে বলা হয়, গত ২০ জুলাই রাত ১০টা থেকে রাত ৩টা পর্যন্ত শের-ই-বাংলা এ কে ফজলুল হক হলের পশ্চিম পাশে (মনপুরা এলাকা) পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের ৫৫তম ব্যাচের (শিক্ষাবর্ষ: ২০২৫–২০২৬) কয়েকজন নবীন শিক্ষার্থীকে ডেকে নেওয়া হয়। সেখানে তাদের রাতভর মানসিকভাবে নির্যাতন করা হয়, অশ্রাব্য ভাষায় গালাগাল করা হয় এবং কান ধরে উঠবস করানোসহ বিভিন্নভাবে র‍্যাগিং করা হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে আরো উল্লেখ করা হয়, অভিযুক্তদের এ কর্মকাণ্ড ‘জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীদের শৃঙ্খলা সংক্রান্ত অধ্যাদেশ, ২০১৮’-এর ৫(ঙ) ধারার সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায় একই অধ্যাদেশের ৪(১)(খ) ধারা অনুযায়ী তাদের সাময়িকভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জানায়, ক্যাম্পাসে র‍্যাগিং ও শিক্ষার্থী নির্যাতনের ব্যাপারে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি বজায় রাখতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের ভূমিকাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগে ডিসিদের ক্ষমতা বাতিল

অনলাইন ডেস্ক
এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগে ডিসিদের ক্ষমতা বাতিল

বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রবেশ পর্যায়ে শিক্ষক ছাড়া অন্যান্য এমপিও পদে নিয়োগ সুপারিশের দায়িত্ব জেলা প্রশাসকদের (ডিসি) হাতে দেওয়ার সেই পরিপত্র বাতিল করা হয়েছে। ফলে ডিসিদের হাতে আর অশিক্ষক জনবল নিয়োগের ক্ষমতা থাকল না।

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ নতুন পরিপত্র জারি করে। এতে আগের পরিপত্রটি বাতিল করা হয়েছে বলে উল্লেখ রয়েছে।

আজ মঙ্গলবারের পরিপত্রে বলা হয়, এমপিওভুক্ত বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের (নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়, মাধ্যমিক বিদ্যালয়, উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়। উচ্চ মাধ্যমিক কলেজ, স্নাতক (পাস) কলেজ) শিক্ষক ছাড়া অন্যান্য এমপিও পদে নিয়োগের সুপারিশ কার্যক্রম পরিচালনার জন্য অনুসরণীয় নির্দেশমালা উল্লিখিতভাবে সংশোধন করা হলো।

এমপিওভুক্ত বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের (নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়, মাধ্যমিক বিদ্যালয়, উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়, উচ্চ মাধ্যমিক কলেজ, স্নাতক (পাস) কলেজ) প্রবেশ পর্যায়ে শিক্ষক ব্যতীত অন্যান্য এমপিও পদে নিয়োগের সুপারিশ কার্যক্রম পরিচালনার জন্য এ বিভাগ কর্তৃক গত ২০২৫ খ্রিষ্টাব্দের ২৮ সেপ্টেম্বর জারীকৃত পরিপত্র বাতিল করা হলো।

এদিকে ২০২৪ সালের ১০ জানুয়ারি জারিকৃত নির্দেশমালার ২.৪-এর ক, খ ও গ এ বর্ণিত অধ্যক্ষ, উপাধ্যক্ষ, প্রধান শিক্ষক, সহকারী প্রধান শিক্ষক পদে নিয়োগসংক্রান্ত অংশ ব্যতীত অন্যান্য পদে (ট্রেড অ্যাসিসট্যান্ট, অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর, অফিস সহকারী কাম হিসাব সহকারী, কম্পিউটার ল্যাব অপারেটর, গবেষণাগার, ল্যাব সহকারী, নিরাপত্তা কর্মী, পরিচ্ছন্নতাকর্মী, নৈশপ্রহরী, আয়া, অফিস সহায়ক) নিয়োগসংক্রান্ত সংশ্লিষ্ট অংশ বহাল করা হলো।

এদিকে গত ২৮ আগস্টের পরিপত্রে বলা হয়েছিল, শিক্ষক ছাড়া অন্যান্য এমপিওভুক্ত কর্মচারী পদে নিয়োগ সুপারিশ কমিটির সভাপতি হবেন জেলা প্রশাসক। এ কমিটিতে সদস্য হিসেবে থাকবেন সংশ্লিষ্ট জেলার সবচেয়ে পুরোনো সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ বা তার প্রতিনিধি, সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ডের একজন প্রতিনিধি (পরিদর্শকের নিচে নয়) এবং সংশ্লিষ্ট জেলার যুব উন্নয়ন অধিদফতরের উপপরিচালক বা সহকারী পরিচালক। কমিটির সদস্যসচিবের দায়িত্ব পালন করবেন সংশ্লিষ্ট জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা।

এতে আরো বলা হয়, নিয়োগ সুপারিশ কমিটি পরীক্ষা গ্রহণ, ফলাফল প্রস্তুত ও নিয়োগের সুপারিশ দেবে। নিয়োগ সুপারিশ কমিটি মৌখিক পরীক্ষার সময় প্রয়োজনে একাধিক বোর্ড গঠন করতে পারবে। জেলা প্রশাসকের প্রতিনিধির নেতৃত্বে নবম গ্রেডের নিম্নে নয় এমন ৩ সদস্যবিশিষ্ট বোর্ড গঠিত হবে।

টিটিইকে বরখাস্তের সিদ্ধান্ত, ৮ ঘণ্টা পর রাবি শিক্ষার্থীদের অবরোধ প্রত্যাহার

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি
টিটিইকে বরখাস্তের সিদ্ধান্ত, ৮ ঘণ্টা পর রাবি শিক্ষার্থীদের অবরোধ প্রত্যাহার
ছবি : কালের কণ্ঠ

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) এক শিক্ষার্থীকে মারধর ও হেনস্তার অভিযোগে দায়িত্বরত ট্রেনের টিটিইকে সাময়িক বরখাস্তের সিদ্ধান্ত এবং শিক্ষার্থীদের দাবিগুলো বাস্তবায়নের আশ্বাসের পর অবরোধ প্রত্যাহার করেছেন শিক্ষার্থীরা। মঙ্গলবার (২১ জুলাই) দুপুর ৩টা ২০ মিনিটে অবরোধ তুলে নেওয়ার পর রাজশাহীর সঙ্গে সারা দেশের রেল যোগাযোগ স্বাভাবিক হয়।

তবে দীর্ঘ সময় অবরোধ চলায় পদ্মা, বনলতা, সিল্কসিটি, মহানন্দা, বরেন্দ্র, কপোতাক্ষ, ঢালারচর, ধূমকেতু ও সাগরদাঁড়ি এক্সপ্রেসসহ অন্তত ৮-১০টি ট্রেনের সূচি বিপর্যস্ত হয়। মধুমতী, তিতুমীর ও টুঙ্গিপাড়া এক্সপ্রেসের চলাচলেও বিলম্বের আশঙ্কার কথা জানিয়েছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ।

বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে বিভাগীয় প্রশাসন, রেলওয়ে, পুলিশ, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও শিক্ষার্থী প্রতিনিধিদের মধ্যে দীর্ঘ বৈঠক শেষে কয়েকটি সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এর মধ্যে রয়েছেন অভিযুক্ত টিটিই সুমন আলীকে সাময়িক বরখাস্ত, রেলওয়ের পক্ষ থেকে তিন সদস্যের এবং বিভাগীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে পাঁচ সদস্যের পৃথক দুটি তদন্ত কমিটি গঠন, গভীর রাতে রাজশাহীতে প্রবেশকারী তিনটি আন্তঃনগর ট্রেনের রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় স্টেশনে যাত্রাবিরতির ব্যবস্থা, ট্রেনের সময়সূচির সঙ্গে সমন্বয় করে বিশ্ববিদ্যালয়ের শাটল বাস চালু, আহত শিক্ষার্থীর চিকিৎসা ও ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা এবং আগামী ৬ আগস্ট অগ্রগতি পর্যালোচনায় পুনরায় সভা আয়োজন।

এর আগে গত ২০ জুলাই (সোমবার) দিবাগত রাত তিনটার দিকে ঢাকা থেকে রাজশাহীগামী পদ্মা এক্সপ্রেসে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীকে মারধর ও হেনস্তার অভিযোগ ওঠে দায়িত্বরত টিটিই সুমন আলীর বিরুদ্ধে। এর প্রতিবাদে মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সকাল ৭টা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের সামনে রেললাইন অবরোধ করেন শিক্ষার্থীরা। এতে রাজশাহীর সঙ্গে সারা দেশের রেল যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়।

পরে সকাল সাড়ে ১১টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে অভিযুক্ত টিটিই শিক্ষার্থী ও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে দুঃখ প্রকাশ করেন। এরপর তাকে সাময়িক বরখাস্তের পাশাপাশি ঘটনার তদন্তে রেলওয়ের তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়। একই সঙ্গে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট, রেলওয়ে নিরাপত্তা বিভাগ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে পৃথক আরেকটি তদন্ত কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত হয়।

বৈঠকে শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাকসুর সাধারণ সম্পাদক সালাহউদ্দিন আম্মার। কর্মসূচি প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়ে তিনি বলেন, ‘কর্তৃপক্ষ আমাদের দাবিগুলো মেনে নেওয়ার সিদ্ধান্ত জানিয়েছে। আমরা এ বিষয়ে সন্তুষ্ট। সাময়িক ভোগান্তির জন্য অপেক্ষমাণ যাত্রীদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করছি। আশা করছি, এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে দীর্ঘদিনের সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে।’

বিভাগীয় কমিশনার আ ন ম বজলুর রশীদ বলেন, ঘটনাটি নিয়ে শিক্ষার্থী ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধিদের সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের দাবিগুলো বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আহত শিক্ষার্থীর চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হবে এবং গভীর রাতে রাজশাহীতে পৌঁছানো ট্রেনগুলোর বিশ্ববিদ্যালয় স্টেশনে যাত্রাবিরতির নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা যাতে না ঘটে, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক আব্দুল আলীম বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ঘটে যাওয়া অনভিপ্রেত ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইতিবাচক সিদ্ধান্ত হয়েছে। রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ অভিযুক্ত টিটিইকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে এবং দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। দ্রুত সমস্যার সমাধান হবে বলে আমরা আশা করছি।’

প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহারের মাধ্যমেই নতুন প্রজন্মকে গড়ার আহ্বান প্রতিমন্ত্রীর

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহারের মাধ্যমেই নতুন প্রজন্মকে গড়ার আহ্বান প্রতিমন্ত্রীর
ছবি: কালের কণ্ঠ

ডিজিটাল প্রযুক্তিকে ভয় না পেয়ে এর নিরাপদ, দায়িত্বশীল ও ইতিবাচক ব্যবহারের মাধ্যমে নতুন প্রজন্মকে গড়ে তুলতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ।

তিনি বলেছেন, ‘প্রযুক্তির অগ্রযাত্রা থামিয়ে রাখা সম্ভব নয়। তাই শিশু-কিশোরদের প্রযুক্তি থেকে দূরে না রেখে, সঠিক ব্যবহার শেখানোর মাধ্যমেই তাদের ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত করতে হবে।’

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) রাজধানীর গুলশানে হোটেল লেকশোরে বিবিসি মিডিয়া অ্যাকশন আয়োজিত ‘ডিজিটাল জেন্ডার নরমস : জাতীয় শিখন-অভিজ্ঞতা বিনিময়’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী।

অনুষ্ঠানে গণ-অভ্যুত্থানের স্মৃতি উল্লেখ করে ববি হাজ্জাজ বলেন, ‘২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় ইন্টারনেট বন্ধ করে জনগণের কণ্ঠ রোধ করার চেষ্টা করা হয়েছিল, কিন্তু তা সফল হয়নি। সেই অভিজ্ঞতা প্রমাণ করেছে ডিজিটাল মাধ্যম আজ সমাজ, রাষ্ট্র ও নাগরিক জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। প্রযুক্তিকে অস্বীকার না করে সঠিকভাবে ব্যবহারের সক্ষমতা গড়ে তোলাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।’

বর্তমানে প্রযুক্তির বিকাশের সঙ্গে সামাজিক ও সাংস্কৃতিক মূল্যবোধের অসামঞ্জস্য তৈরি হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভুয়া ছবি, ভুয়া ভিডিও, চরিত্রহনন ও ডিজিটাল হয়রানি উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। বিশেষ করে নারী, কিশোরী ও নারী রাজনীতিবিদরা এর সবচেয়ে বড় শিকার।’ এ পরিস্থিতি মোকাবেলায় ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা এবং কার্যকর আইন ও নীতিমালা বাস্তবায়নের ওপর জোর দেন তিনি।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘সরকারের লক্ষ্য প্রযুক্তিতে অযৌক্তিক বাধা তৈরি করা নয়, বরং স্বাধীনতা ও নিরাপত্তার মধ্যে একটি ভারসাম্য প্রতিষ্ঠা করা। এই লক্ষ্যেই নতুন কারিকুলামে ভ্যালু-বেইজড এডুকেশন, ডিজিটাল সেফটি, লাইফ স্কিল, জেন্ডার সংবেদনশীলতা এবং নাগরিক মূল্যবোধকে অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে। এ কাজে ইউনেস্কোসহ বিভিন্ন উন্নয়ন সহযোগী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমন্বিতভাবে কাজ চলছে।’

পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে ববি হাজ্জাজ বলেন, ‘নতুন শিক্ষাব্যবস্থায় শ্রেণিকক্ষে ধাপে ধাপে ইন্টারঅ্যাকটিভ ডিজিটাল ব্যবস্থা চালু করা হবে। শিক্ষকদের ট্যাব দেওয়া হচ্ছে এবং ভবিষ্যতে শিক্ষার্থীদেরও শিক্ষাবান্ধব ডিজিটাল ডিভাইস প্রদানের পরিকল্পনা রয়েছে।’

শিশুদের নিরাপদ বিকাশকে পুরো সমাজের দায়িত্ব উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে কমিউনিটি সম্পৃক্ততা বাড়ানো হচ্ছে। ইতিমধ্যেই স্কুল মিল কার্যক্রম তদারকিতে অভিভাবক কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং শিক্ষা ব্যবস্থার অন্যান্য ক্ষেত্রগুলোতেও স্থানীয় জনগণকে সম্পৃক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।’

উন্নয়ন সহযোগী ও এনজিওগুলোর উদ্দেশে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘সরকারের মন্ত্রণালয় এখন ওপেন-ডোর নীতিতে কাজ করছে। শিক্ষার্থীদের জন্য কার্যকর প্রমাণিত যেকোনো ইতিবাচক উদ্যোগ গ্রহণ ও মূল্যায়ন করতে সরকার প্রস্তুত।’

নারীর ক্ষমতায়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘কেবল স্লোগান নয়, শৈশব থেকেই সমান সুযোগ, অধিকার, নিরাপদ পরিবেশ ও আত্মবিশ্বাস নিশ্চিত করার মাধ্যমে নারী নেতৃত্বের ভিত্তি তৈরি করতে হবে।’

অনুষ্ঠানে বিবিসি মিডিয়া অ্যাকশনের প্রতিনিধি, খুলনা ও সাভার অঞ্চলের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং ইউএন উইমেন, প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল, জাগো ফাউন্ডেশনসহ বিভিন্ন এনজিওর প্রতিনিধি ও সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।