মাদারীপুরের ডাসার উপজেলায় যৌতুকের দাবিতে দীর্ঘদিন নির্যাতনের শিকার হয়ে বিষপান করে এক গৃহবধূর মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনার পর থেকেই শ্বশুরবাড়ির সদস্যরা বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে গেছেন বলে দাবি করেছে নিহতের পরিবার।
মঙ্গলবার (২১ জুলাই) বিকেলে উপজেলার গোপালপুর ইউনিয়নের আজালিয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত সুমি আক্তার মিম (২২) বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলার ভালুকশী গ্রামের আলিম হাওলাদারের মেয়ে এবং ডাসার উপজেলার আজালিয়া গ্রামের ফরহাদ আকনের স্ত্রী।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিয়ের পর থেকেই মিমের স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির সদস্যরা বিভিন্ন সময় তার বাবার কাছে ১০ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করতেন। অভিযোগ রয়েছে, স্বামীর বিদেশযাত্রার সময় নেওয়া ঋণ পরিশোধের জন্য ওই টাকা চাওয়া হতো। টাকা দিতে না পারায় মিমকে প্রায়ই শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করা হতো।
আজ মঙ্গলবার দুপুরে যৌতুকের টাকা নিয়ে আবারও পারিবারিক বিরোধ সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে মিম ঘরে থাকা বিষাক্ত কেমিক্যাল পান করেন বলে জানা গেছে। পরে তাকে প্রথমে কালকিনি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য মাদারীপুর ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহতের বাবা আলিম হাওলাদার বলেন, আমার মেয়েকে দীর্ঘদিন ধরে নির্যাতন করা হয়েছে। বিদেশে যাওয়ার জন্য করা ঋণের টাকা শোধ করতে আমার কাছে ১০ লাখ টাকা দাবি করা হয়েছিল। টাকা দিতে না পারায় মেয়ের ওপর অত্যাচার চালানো হতো। মঙ্গলবার অসুস্থ হওয়ার খবর পেয়ে হাসপাতালে গিয়ে দেখি আমার মেয়ে আর বেঁচে নেই। আমরা এ ঘটনার বিচার চাই।
নিহতের বড় বোন নাজনীন আক্তার বলেন, আমার বোনের ওপর দীর্ঘদিন ধরে শ্বশুরবাড়ির লোকজন অত্যাচার করত। সেই নির্যাতন সহ্য করতে না পেরেই সে এমন পথ বেছে নিয়েছে। আমরা এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।
তবে ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত শ্বশুরবাড়ির সদস্যরা বাড়ি ছেড়ে আত্মগোপনে রয়েছেন বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। ফলে এ বিষয়ে তাদের কোনো বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
মাদারীপুর ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার ডা. রিয়াজ মাহমুদ বলেন, হাসপাতালে আনার আগেই ওই নারীর মৃত্যু হয়েছে।
ডাসার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সোলায়মান মাহমুদ বলেন, ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।




