• ই-পেপার

সারাক্ষণ ঘুম ঘুম ভাব কেন হয়?

আজ আইসক্রিম খাওয়ার দিন

জীবনযাপন ডেস্ক
আজ আইসক্রিম খাওয়ার দিন
সংগৃহীত ছবি

গরমের দিনে এক স্কুপ ঠাণ্ডা আইসক্রিম যেন মুহূর্তেই এনে দেয় স্বস্তি। শিশু থেকে শুরু করে বড়দের কাছেও সমান জনপ্রিয় এই খাবারটি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি বছর পালিত হয় ন্যাশনাল আইসক্রিম ডে। শুধু একটি দিন নয়, আইসক্রিমের জনপ্রিয়তাকে উদযাপন করতে পুরো একটি মাসকেও উৎসর্গ করা হয়েছে এই ঠাণ্ডা মিষ্টান্নের নামে।

ভ্যানিলা, চকোলেট, স্ট্রবেরি, পেস্তা—আইসক্রিমের স্বাদের তালিকা যেন শেষ হওয়ার নয়। সাধারণ কাপ বা কোণ ছাড়াও এখন আইসক্রিম দিয়ে তৈরি হচ্ছে নানা ধরনের ডেজার্ট। আইসক্রিম কেক, মিল্কশেক, স্যান্ডউইচ কিংবা জনপ্রিয় বানানা স্প্লিটের মতো খাবারও তৈরি হচ্ছে এই প্রিয় উপাদান দিয়ে।

আইসক্রিম দিবস উদযাপনের ধরনও বেশ সহজ। পরিবার ও বন্ধুদের সঙ্গে প্রিয় স্বাদের আইসক্রিম খাওয়া, নতুন কোনো ফ্লেভার চেখে দেখা কিংবা ঘরেই নিজের পছন্দের উপকরণ দিয়ে আইসক্রিম তৈরি করা—সবই হতে পারে উদযাপনের অংশ।

 

 

kk
ছবি: সৈয়দা আশাপূর্ণা

তবে আজকের আধুনিক আইসক্রিমের পেছনে রয়েছে দীর্ঘ ইতিহাস। ধারণা করা হয়, এই খাবারের শিকড় প্রায় আড়াই হাজার বছরের পুরোনো। খ্রিষ্টপূর্ব প্রায় ৫০০ সালের দিকে ইরানের আচেমেনিড সাম্রাজ্যে বরফের সঙ্গে বিভিন্ন স্বাদ ও উপকরণ মিশিয়ে ঠাণ্ডা খাবার তৈরি করা হতো। গরমের সময় রাজপরিবারের জন্য এমন খাবার বিশেষ জনপ্রিয় ছিল।

পরবর্তীতে পারস্যে তৈরি হয় আরও উন্নত ধরনের ঠাণ্ডা খাবার, যেখানে বরফের সঙ্গে সেমাই, গোলাপজল, ফল, জাফরানসহ বিভিন্ন উপকরণ ব্যবহার করা হতো। এই ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতায় ইরানের জনপ্রিয় ‘বাসতানি সোনাতি’ আজও বিশেষ পরিচিত। পেস্তা, জাফরান, গোলাপজল, ভ্যানিলা, দুধ ও ডিমের মিশ্রণে তৈরি এই আইসক্রিমের স্বাদ আলাদা বৈশিষ্ট্যের জন্য বিখ্যাত।

াা

একসময় আইসক্রিম ছিল বিলাসী খাবার। কারণ গরমের দেশে বরফ সংরক্ষণ ও সংগ্রহ করা ছিল কঠিন কাজ। ফলে সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে ছিল এটি। তবে হিমায়ন প্রযুক্তির উন্নতির পর বদলে যায় চিত্র। এখন বছরের যেকোনো সময় বিশ্বের প্রায় সব দেশেই পাওয়া যায় আইসক্রিম।

রেরর

যুক্তরাষ্ট্রে ন্যাশনাল আইসক্রিম ডে চালু হয় ১৯৮৪ সালে। দেশটির তৎকালীন প্রেসিডেন্ট Ronald Reagan এই দিবসের ঘোষণা দেন। আইসক্রিমের ব্যাপক জনপ্রিয়তার কথা বিবেচনা করে তিনি জুলাই মাসকে ‘ন্যাশনাল আইসক্রিম মাস’ হিসেবেও ঘোষণা করেছিলেন।

বর্তমানে আইসক্রিম শুধু কোনো নির্দিষ্ট দেশের খাবার নয়। বিশ্বের নানা প্রান্তে মানুষের পছন্দ ও সংস্কৃতির সঙ্গে মিশে তৈরি হয়েছে অসংখ্য নতুন স্বাদ। তাই একটি সাধারণ ঠান্ডা মিষ্টান্ন থেকে আইসক্রিম এখন পরিণত হয়েছে আনন্দ, উৎসব ও স্মৃতির অংশে।

পেটের মেদ কমাতে গ্রিন টির পাশাপাশি যেসব খাবেন

অনলাইন ডেস্ক
পেটের মেদ কমাতে গ্রিন টির পাশাপাশি যেসব খাবেন
ফাইল ছবি

পেটের মেদ নিয়ে অনেকেই নাজেহাল থাকেন। তারা বিভিন্ন উপাদান খেয়ে থাকেন যার মধ্যে গ্রিন টি অন্যতম। তবে শুধু গ্রিন টি নয়, পেটের মেদ কমাতে প্রতিদিনের খাবারে এই ৭ উপাদান রাখার পরামর্শ দিয়েছেন ভারতের পুষ্টিবিদ লাভনীত বাত্রা। এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এই বিষয়টি উঠে এসেছে।

অনেকেই মনে করেন, পেটের মেদ কমাতে গ্রিন টি-ই সবচেয়ে কার্যকর পানীয়। কিন্তু শুধুমাত্র একটি পানীয়ের ওপর নির্ভর করে দ্রুত ওজন বা পেটের চর্বি কমানো সম্ভব নয়। পুষ্টিবিদ লাভনীত বাত্রা জানিয়েছেন, স্বাস্থ্যকর উপায়ে ওজন কমাতে হলে সুষম খাদ্যাভ্যাস, নিয়মিত শরীরচর্চা এবং সঠিক খাবার নির্বাচন এই তিনটির সমন্বয় জরুরি। তাই শুধু গ্রিন টি নয়, দৈনন্দিন খাদ্যতালিকায় কয়েকটি প্রাকৃতিক উপাদান রাখলে মেটাবলিজম ও হজমশক্তি ভালো হয়। এবং এই উপাদানগুলো ওজন নিয়ন্ত্রণে সহায়ক ভূমিকা রাখতে পারে। যে ৭টি উপাদান খাদ্যতালিকায় রাখবেন- 

  • জিরা

লাভনীত বাত্রার মতে, জিরা শরীরের বিপাকক্রিয়া বাড়াতে এবং পেটের মেদ কমানোর প্রচেষ্টায় সহায়ক হতে পারে। এক চা-চামচ জিরা রাতে পানিতে ভিজিয়ে রেখে সকালে খালি পেটে সেই পানি পান করতে পারেন। চাইলে পাঁচ মিনিট ফুটিয়ে হালকা গরম অবস্থায়ও খাওয়া যেতে পারে।

  • মেথি দানা

মেথি রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করতে পারে। এক চা-চামচ মেথি রাতে ভিজিয়ে রেখে সকালে সেই পানি পান করার পাশাপাশি ভেজানো দানাগুলোও চিবিয়ে খাওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।

  • জোয়ান

জোয়ান হজমে সহায়তা করে এবং পেট ফাঁপার সমস্যা কমাতে ভূমিকা রাখে। খাবারের পর জোয়ান চিবিয়ে খাওয়া বা জোয়ান ফুটিয়ে গরম পানি পান করা উপকার পাবেন।

  • দারুচিনি

দারুচিনি রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সহায়ক করে। আধা চা-চামচ দারুচিনি গরম পানি, চা অথবা পোরিজের সঙ্গে মিশিয়ে খেতে পারেন।

  • হলুদ

হলুদ শরীরের প্রদাহ কমাতে সাহায্য করতে পারে। লাভনীত বাত্রা বলেন, সকালে কুসুম গরম পানির সঙ্গে তাজা হলুদ, সামান্য গোলমরিচ ও অল্প ঘি মিশিয়ে খেলে শরীরে হলুদের কার্যকর উপাদান ভালোভাবে শোষিত হতে পারে।

  • মৌরি

মৌরি হজমশক্তি উন্নত করতে এবং হরমোনের ভারসাম্য বজায় রাখতে সহায়ক হতে পারে। খাবারের পর এক চা-চামচ মৌরি চিবিয়ে খাওয়া বা সারাদিন মৌরির পানি পান করা যেতে পারে।

  • ত্রিফলা

ত্রিফলা লিভার সুস্থ রাখতে এবং চর্বির বিপাকে সহায়ক হতে পারে। শুরুতে আধা চা-চামচ ত্রিফলা গুঁড়ো কুসুম গরম পানিতে মিশিয়ে রাতে ঘুমানোর আগে খাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন লাভনীত বাত্রা। পরে ধীরে ধীরে এর পরিমাণ বাড়ানো যেতে পারে।

এই উপাদানগুলো স্বাস্থ্যকর জীবনযাত্রার অংশ হিসেবে উপকারী হতে পারে। তবে এগুলোর কোনোটি খেলেই যে পেটের মেদ কমে যাবে এমন নয়। সুষম খাবার, নিয়মিত ব্যায়াম, পর্যাপ্ত ঘুম এবং স্বাস্থ্যকর জীবনধারাই ওজন নিয়ন্ত্রণের সবচেয়ে ভালো উপায়। একই সঙ্গে সবার শরীর এক নয় তাই চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের সঙ্গে আলাপ করে কোন উপাদান আপনার জন্য ভালো বা আপনি খেতে পারেন সেটা জেনে নেয়াই ভালো।

যে ৫টি বিষয় ‘বেস্ট ফ্রেন্ডকেও’ বলা উচিত নয়

জীবনযাপন ডেস্ক
যে ৫টি বিষয় ‘বেস্ট ফ্রেন্ডকেও’ বলা উচিত নয়
সংগৃহীত ছবি

আমাদের সবার জীবনেই এমন একজন বন্ধু থাকেন, যাকে আমরা ‘বেস্ট ফ্রেন্ড’ বা প্রিয় বন্ধু বলি। এমন একজন, যার কাছে যেন কোনো কিছুই গোপন থাকে না। স্কুলজীবনের মজার কিংবা বিব্রতকর স্মৃতি, আপনার প্রিয় খাবার, পছন্দের গান, ছোট-বড় সব অভ্যাস—সবই তার জানা। এমনকি কার প্রতি আপনার প্রথম ভালো লাগা ছিল, প্রথম প্রেম বা ‘ক্রাশ’ কে ছিল, সেটাও সে জানে। শুধু তা-ই নয়, অনেক সময় কোনো কথা না বললেও আপনার মুখের অভিব্যক্তি দেখেই বুঝে ফেলে, আপনার মন ভালো নেই বা কোনো সমস্যা চলছে।

এমন একজন বন্ধু জীবনের সবচেয়ে বড় জীবনের সবচেয়ে মূল্যবান সম্পর্কগুলোর একটি। তাই স্বাভাবিকভাবেই আমরা নিজের সুখ-দুঃখ, ভয়, স্বপ্ন, পরিকল্পনা—সবকিছুই তার সঙ্গে ভাগ করে নিতে চাই। অনেকের কাছে সবচেয়ে কাছের বন্ধুই হয়ে ওঠেন এমন একজন মানুষ, যার সঙ্গে কথা বললে মন হালকা হয়।

তবে সম্পর্ক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গভীর বন্ধুত্ব মানেই জীবনের প্রতিটি বিষয় নিঃসংকোচে বলে দেওয়া নয়। বরং একটি সুস্থ ও দীর্ঘস্থায়ী সম্পর্কের জন্য কিছু ব্যক্তিগত সীমারেখা থাকা জরুরি। কারণ সব কথা সবার সঙ্গে ভাগ করে নেওয়ার প্রয়োজন হয় না। কিছু বিষয় নিজের কাছেই রাখলে যেমন ব্যক্তিগত নিরাপত্তা বজায় থাকে, তেমনি সম্পর্কও আরো পরিণত ও সম্মানজনক হয়।

জেনে নিন এমন পাঁচটি বিষয়, যা সবচেয়ে কাছের বন্ধুকেও বলার আগে অন্তত দু’বার ভাবা উচিত।

১. পাসওয়ার্ড, পিন নম্বর ও আর্থিক তথ্য

বন্ধুত্ব যত গভীরই হোক, ব্যক্তিগত নিরাপত্তার বিষয়গুলো কখনোই হালকাভাবে নেওয়া উচিত নয়।

অনেক সময় আমরা সহজভাবে বন্ধুকে ফোনের লক খুলে দিই, এটিএম কার্ডের পিন জানিয়ে দিই, ই-মেইলের পাসওয়ার্ড কিংবা ওটিটি প্ল্যাটফর্মের লগইন শেয়ার করি। কেউ কেউ আবার মোবাইল ব্যাংকিং বা ব্যাংক অ্যাকাউন্টের তথ্যও জানিয়ে দেন।

এসব বিষয় প্রথমে খুব সাধারণ মনে হলেও ভবিষ্যতে ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। কারণ দুর্ঘটনা, ফোন হারিয়ে যাওয়া, হ্যাকিং বা অন্য কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতিতে ব্যক্তিগত তথ্য অন্যের হাতে চলে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে।

এমন নয় যে আপনার বন্ধু ইচ্ছা করে ক্ষতি করবেন। কিন্তু ব্যক্তিগত আর্থিক ও ডিজিটাল তথ্য নিজের কাছেই রাখাই সবচেয়ে নিরাপদ সিদ্ধান্ত। যেমন আমরা বাড়ির মূল চাবি সবাইকে দিই না, ঠিক তেমনি নিজের ডিজিটাল জীবনের চাবিও নিজের কাছেই রাখা উচিত।

kk

২. সঙ্গীর সঙ্গে প্রতিটি ঝগড়া বা মনোমালিন্যের গল্প

প্রেম বা দাম্পত্য সম্পর্কে ছোটখাটো ঝগড়া হওয়া খুবই স্বাভাবিক। অনেকেই রাগের মাথায় সবচেয়ে কাছের বন্ধুকে ফোন করে পুরো ঘটনার শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত বলে ফেলেন।

এতে হয়তো তখন কিছুটা স্বস্তি পাওয়া যায়। কিন্তু সমস্যা হলো, আপনার বন্ধু ঘটনাটির কেবল একটিই দিক শুনছেন—আপনার দিক।

হয়তো কয়েক ঘণ্টা বা কয়েক দিন পর আপনারা নিজেদের মধ্যে সব ভুল বোঝাবুঝি মিটিয়ে ফেললেন। কিন্তু আপনার বন্ধু সেই সময়কার কষ্ট, রাগ বা অভিযোগই মনে রাখবেন। ফলে আপনার সঙ্গী সম্পর্কে তার মনে অজান্তেই একটি নেতিবাচক ধারণা তৈরি হতে পারে।

তবে এর অর্থ এই নয় যে সবকিছু চেপে রাখতে হবে। যদি সম্পর্কে মানসিক নির্যাতন, শারীরিক সহিংসতা, প্রতারণা বা নিয়ন্ত্রণমূলক আচরণের মতো গুরুতর সমস্যা থাকে, তাহলে অবশ্যই বিশ্বস্ত মানুষ বা বিশেষজ্ঞের সহায়তা নেওয়া জরুরি। কিন্তু ছোটখাটো ভুল বোঝাবুঝির ক্ষেত্রে কিছুটা সময় নিয়ে নিজেদের মধ্যে সমাধান করার চেষ্টা করাই ভালো।

৩. অন্যের ব্যক্তিগত গোপন তথ্য

অনেক সময় পরিবারের সদস্য, আত্মীয় বা সহকর্মী এমন কিছু কথা আমাদের বলেন, যা তারা অন্য কাউকে জানাতে চান না।

তখন অনেকেরই মনে হয়, "আমার সবচেয়ে কাছের বন্ধুকে বললে সমস্যা কী?"

কিন্তু এখানেই একটু থামা প্রয়োজন।

নিজেকে প্রশ্ন করুন—যিনি আপনাকে বিষয়টি বলেছেন, তিনি কি অন্য কাউকে জানানোর অনুমতি দিয়েছেন?

যদি উত্তর ‘না’ হয়, তাহলে সেই তথ্য নিজের কাছেই রাখা উচিত।

অন্যের বিশ্বাস রক্ষা করা একজন মানুষের সততা ও দায়িত্ববোধের পরিচয়। আপনি যেমন চান আপনার ব্যক্তিগত কথা অন্য কেউ ছড়িয়ে না দিক, তেমনি অন্যের ক্ষেত্রেও একই সম্মান দেখানো উচিত।

৪. এখনো বাস্তবায়ন না হওয়া বড় পরিকল্পনা

নতুন চাকরির আবেদন করেছেন, বিদেশে পড়তে যাওয়ার পরিকল্পনা করছেন, ব্যবসা শুরু করতে চান কিংবা চাকরি বদলানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন—এসব খবর স্বাভাবিকভাবেই কাছের মানুষকে বলতে ইচ্ছা করে।

কিন্তু অনেক সময় পরিকল্পনা বাস্তবে রূপ নেওয়ার আগেই সবাইকে জানিয়ে দিলে উল্টো চাপ তৈরি হয়।

এরপর শুরু হয় একের পর এক প্রশ্ন—

‘চাকরিটা হলো?’

‘ভিসা পেয়েছ?’

‘কবে যাচ্ছ?’

‘ব্যবসা কবে শুরু করছ?’

কিন্তু বাস্তবতা হলো, সব পরিকল্পনা শেষ পর্যন্ত সফল হয় না। কখনো সিদ্ধান্ত বদলায়, কখনো পরিস্থিতি পরিবর্তন হয়।

তখন শুধু নিজের হতাশাই নয়, অন্যদের প্রশ্নের উত্তর দিতেও অস্বস্তি লাগে।

তাই বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বড় কোনো পরিকল্পনা নিশ্চিত হওয়ার পর তা জানানো অনেক বেশি স্বস্তিদায়ক।

ll

৫. নিজের সব অনিশ্চয়তা ও আত্মসংশয়

প্রত্যেক মানুষের জীবনেই এমন সময় আসে, যখন নিজের প্রতি আত্মবিশ্বাস কমে যায়।

কখনো মনে হয় নিজের চেহারা ভালো নয়, কখনো মনে হয় অন্যদের তুলনায় পিছিয়ে আছেন, আবার কখনো নিজের দক্ষতা নিয়েও সন্দেহ তৈরি হয়।

এসব অনুভূতির কথা বন্ধুর সঙ্গে ভাগ করে নেওয়া স্বাভাবিক। একজন ভালো বন্ধু এমন সময় আপনাকে সাহস দিতে পারেন, আপনার ইতিবাচক দিকগুলো মনে করিয়ে দিতে পারেন।

তবে যদি প্রতিটি কথোপকথন শুধুই নিজের ব্যর্থতা, দুর্বলতা বা আত্মসমালোচনার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে, তাহলে তা ধীরে ধীরে নিজের মনেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

তাই নিজের সংগ্রামের কথা বলুন, কিন্তু নিজের পরিচয়কে শুধুই অনিশ্চয়তা বা দুর্বলতার মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখবেন না।

ব্যক্তিগত গোপনীয়তা সম্পর্ককে আরো শক্তিশালী করে

অনেকেই মনে করেন, প্রকৃত বন্ধুত্ব মানেই একে অপরের কাছে সবকিছু খুলে বলা। কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন।

একজন মানুষকে গভীরভাবে বিশ্বাস করেও নিজের কিছু বিষয় ব্যক্তিগত রাখা যায়। এর অর্থ এই নয় যে সম্পর্কে দূরত্ব তৈরি হচ্ছে। বরং এটি পরিণত সম্পর্কের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক।

সব সিদ্ধান্তের ব্যাখ্যা সবাইকে দিতে হবে না, সব সমস্যারও সাক্ষী বানাতে হবে না। ব্যক্তিগত সীমারেখা বজায় রাখা মানে সম্পর্কের মধ্যে দেয়াল তোলা নয়; বরং সম্পর্ককে আরো সম্মানজনক ও স্বাস্থ্যকর করে তোলা।

পারস্পরিক সম্মানেই টিকে থাকে প্রকৃত বন্ধুত্ব

সবচেয়ে ভালো বন্ধুত্ব সেই সম্পর্কই, যেখানে দুজন মানুষ একে অপরকে সম্মান করেন, বিচার না করে কথা শোনেন এবং প্রয়োজনের সময় পাশে থাকেন।

বন্ধুত্বের শক্তি শুধু সব গোপন কথা জানার মধ্যে নয়; বরং একে অপরের ব্যক্তিগত পরিসরকে সম্মান করার মধ্যেও নিহিত।

তাই সবচেয়ে কাছের বন্ধুকেও সব কথা বলতেই হবে—এমন কোনো নিয়ম নেই। বরং কখন কী শেয়ার করবেন আর কী নিজের কাছেই রাখবেন, সেই ভারসাম্য বজায় রাখতে পারলেই বন্ধুত্ব আরও সুন্দর, পরিণত এবং দীর্ঘস্থায়ী হয়ে ওঠে।

রাতে স্মার্টফোন ব্যবহার না করলেও যেসব কারণে চার্জ কমে যায়

অনলাইন ডেস্ক
রাতে স্মার্টফোন ব্যবহার না করলেও যেসব কারণে চার্জ কমে যায়
মোবাইল ফোন। ছবি : রয়টার্স

দিনের শেষে স্মার্টফোনটি ১০০ শতাংশ চার্জ দিয়ে ঘুমাতে গেলেন। সকালে উঠে দেখলেন চার্জ ৮-১০ শতাংশ, কখনো তারও বেশি কমে গেছে। অথচ, রাতে ফোন ব্যবহারই করা হয়নি। অনেকেই মনে করেন এটি ব্যাটারির সমস্যা। খবর টেকঅ্যাভাইজর ডটকম 

বাস্তবে বিষয়টি সব সময় এত সহজ নয়। ফোনের বিভিন্ন ব্যাকগ্রাউন্ড কার্যক্রম, নেটওয়ার্ক সংযোগ এবং সফটওয়্যারের কিছু বৈশিষ্ট্যের কারণে ব্যবহার না করলেও ব্যাটারির চার্জ ধীরে ধীরে কমতে পারে। জেনে নেওয়া যাক এর কয়েকটি সাধারণ কারণ।

  • ব্যাকগ্রাউন্ড অ্যাপের কার্যক্রম

অনেক অ্যাপ ফোন ব্যবহার না করলেও ব্যাকগ্রাউন্ডে সক্রিয় থাকে। ই-মেইল সিঙ্ক, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের নোটিফিকেশন, ক্লাউড ব্যাকআপ কিংবা লোকেশন আপডেটের মতো কাজ চলতে থাকে। এসব প্রক্রিয়া প্রসেসর ও ইন্টারনেট ব্যবহার করায় ধীরে ধীরে ব্যাটারির চার্জ কমে যায়।

  • দুর্বল মোবাইল নেটওয়ার্ক

রাতে যদি ফোন এমন জায়গায় থাকে যেখানে মোবাইল নেটওয়ার্ক দুর্বল, তাহলে সেটি বারবার টাওয়ারের সঙ্গে সংযোগ স্থাপনের চেষ্টা করে। এই অবিরাম নেটওয়ার্ক অনুসন্ধান ব্যাটারির ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করে এবং ব্যবহার না করলেও চার্জ দ্রুত কমে যেতে পারে।

  • ওয়াই-ফাই, ব্লুটুথ ও জিপিএস চালু থাকা

অনেকেই রাতে ঘুমানোর আগে ওয়াই-ফাই, ব্লুটুথ বা লোকেশন সার্ভিস বন্ধ করেন না। এগুলো সক্রিয় থাকলে ফোন আশপাশের ডিভাইস বা নেটওয়ার্ক শনাক্ত করতে থাকে। ফলে অপ্রয়োজনীয়ভাবে বিদ্যুৎ খরচ হয় এবং সকালে চার্জ কমে যায়।

  • সফটওয়্যার বা অ্যাপের ত্রুটি

কোনো অ্যাপ ঠিকভাবে অপ্টিমাইজড না হলে বা সফটওয়্যারে বাগ থাকলে সেটি ব্যাকগ্রাউন্ডে অস্বাভাবিকভাবে প্রসেসর ব্যবহার করতে পারে। এর ফলে ফোন স্লিপ মোডে থাকলেও ব্যাটারির চার্জ স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি খরচ হয়। নিয়মিত সফটওয়্যার ও অ্যাপ আপডেট করলে অনেক সময় এ সমস্যা কমে।

  • ব্যাটারির বয়স বেড়ে যাওয়া

লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারির কার্যক্ষমতা সময়ের সঙ্গে কমতে থাকে। কয়েক বছর ব্যবহারের পর ব্যাটারি আগের মতো চার্জ ধরে রাখতে পারে না। তাই ফোন ব্যবহার না করলেও চার্জ দ্রুত কমে যেতে পারে। এ ক্ষেত্রে ব্যাটারির স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা প্রয়োজন।

  • অতিরিক্ত নোটিফিকেশন ও সিঙ্কিং

বিভিন্ন অ্যাপ থেকে সারারাত নোটিফিকেশন আসা, ছবি বা ফাইল ক্লাউডে সিঙ্ক হওয়া এবং স্বয়ংক্রিয় আপডেট চলতে থাকলে ব্যাটারির ওপর প্রভাব পড়ে। এসব কার্যক্রম একেকটি ছোট মনে হলেও সারারাতে মিলিয়ে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ চার্জ খরচ হতে পারে।

  • তাপমাত্রার প্রভাব

খুব বেশি গরম বা অতিরিক্ত ঠান্ডা পরিবেশ ব্যাটারির কর্মক্ষমতায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। অনুপযুক্ত তাপমাত্রায় রাখা হলে ব্যাটারি দ্রুত চার্জ হারাতে পারে। তাই ফোন স্বাভাবিক তাপমাত্রার ঘরে রাখা এবং সরাসরি রোদ বা অতিরিক্ত গরম জায়গা এড়িয়ে চলা ভালো।

চার্জ কমে যাওয়া কমাতে যা করাণীয়

রাতে ঘুমানোর আগে অপ্রয়োজনীয় অ্যাপ বন্ধ করুন, প্রয়োজন না হলে ব্লুটুথ ও লোকেশন সার্ভিস বন্ধ রাখুন এবং দুর্বল নেটওয়ার্ক এলাকায় থাকলে এয়ারপ্লেন মোড ব্যবহার করতে পারেন। পাশাপাশি নিয়মিত সফটওয়্যার আপডেট করা, ব্যাটারির স্বাস্থ্য পর্যবেক্ষণ করা এবং ব্যাকগ্রাউন্ডে বেশি চার্জ খরচ করা অ্যাপ শনাক্ত করে নিয়ন্ত্রণে রাখলে রাতভর অপ্রয়োজনীয় চার্জ ক্ষয় অনেকটাই কমানো সম্ভব।