• ই-পেপার

পীরগাছায় মিনি স্টেডিয়াম নির্মাণে অনিয়মের অভিযোগ তদন্তে ৩ সদস্যের কমিটি

জামালপুরে পৃথক দুই মামলায় ১ জনের মৃত্যুদণ্ড ও ৩ জনের যাবজ্জীবন

জামালপুর প্রতিনিধি
জামালপুরে পৃথক দুই মামলায় ১ জনের মৃত্যুদণ্ড ও ৩ জনের যাবজ্জীবন
ছবি : কালের কণ্ঠ

জামালপুরে যৌতুকের দাবিতে স্ত্রী হত্যা মামলায় স্বামীর মৃত্যুদণ্ড এবং এক কিশোরীকে অপহরণের দায়ে তিনজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে হত্যা মামলায় দণ্ডিত আসামিকে পাঁচ লাখ টাকা এবং অপহরণ মামলায় এক আসামিকে এক লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

সোমবার (২০ জুলাই) দুপুরে জামালপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১-এর বিচারক মুহাম্মদ আবদুর রহিম পৃথক দুটি মামলার এ রায় ঘোষণা করেন।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত হাফিজুল হক (৪৫) বকশীগঞ্জ উপজেলার মেরুরচর এলাকার মৃত প্রধানের ছেলে। যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন- জামালপুর সদর উপজেলার ভারুয়াখালী এলাকার শামীম (৩০), সাদেক মিয়া (২৫) ও জালাল মিয়া (২৮)। রায় ঘোষণার সময় তারা আদালতে উপস্থিত ছিলেন।

আদালত ও মামলা সূত্রে জানা যায়, ২০১২ সালের ৪ সেপ্টেম্বর সকালে বকশীগঞ্জ উপজেলার মেরুরচর গ্রামে যৌতুকের দাবিতে স্ত্রী হনুফা বেগমকে মারধর করে হত্যা করেন তার স্বামী হাফিজুল হক। এ ঘটনায় নিহতের মা আমেনা বেগম বকশীগঞ্জ থানায় পাঁচজনকে আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার সাক্ষ্য-প্রমাণ শেষে আদালত হাফিজুলকে মৃত্যুদণ্ড ও পাঁচ লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেন। অপর চার আসামিকে খালাস দেওয়া হয়।

অপরদিকে, ২০২৪ সালের ২২ ডিসেম্বর সকালে এসএসসি পরীক্ষার্থী এক কিশোরী প্রাইভেট পড়তে যাওয়ার পথে সদর উপজেলার হরিপুর এলাকা থেকে অপহৃত হন। পরে তার বাবা সদর থানায় মামলা করেন। পুলিশ গাজীপুর থেকে কিশোরীকে উদ্ধার করে। মামলার সাক্ষ্য-প্রমাণ শেষে আদালত তিন আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন। পাশাপাশি আসামি জালাল মিয়াকে এক লাখ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়।

নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১-এর সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) অ্যাডভোকেট ফজলুল হক বলেন, ‘পৃথক দুটি মামলার রায় ঘোষণা করেছেন আদালত। এর মধ্যে হত্যা মামলায় এক আসামিকে মৃত্যুদণ্ড এবং কিশোরী অপহরণ মামলায় তিনজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।’

দাউদকান্দিতে অটোরিকশা ছিনতাই, গ্রেপ্তার ৩

দাউদকান্দি (কুমিল্লা) প্রতিনিধি
দাউদকান্দিতে অটোরিকশা ছিনতাই, গ্রেপ্তার ৩
সংগৃহীত ছবি

কুমিল্লার দাউদকান্দিতে অটোরিকশা ছিনতাই চক্রের ৩ জনকে গ্রেপ্তার করেছে মডেল থানা পুলিশ। রবিবার (১৯ জুলাই) রাতে গৌরীপুর রামনাগর ব্রিজের কাছ থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তাররা হলেন দেবীদ্বার উপজেলার মৃত ফজলুল হক মুন্সির ছেলে শাহজালাল (৩৫), কুমিল্লা সদর উপজেলার মৃত সিরাজ মিয়ার ছেলে সুমন মিয়া (৩২) ও আবু মিয়ার ছেলে সোহেল মিয়া (৩০)। সোমবার (২০ জুলাই) তাদের কুমিল্লা জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, আন্ত জেলা ছিনতাইকারী চক্রের সদস্য গৌরীপুর থেকে একটি অটোরিকশা ছিনতাইকালে মডেল থানা পুলিশ ধাওয়া করে আটক করে। তাদের আটক করে থানায় নিয়ে গেলে পুলিশ জানতে পারে তিন মাস আগে দাউদকান্দি পৌরসভা থেকে এ বছর ২৪ এপ্রিল রিফাত (১৪) হত্যা করে তার অটোরিকশা ছিনতাই করে নিয়ে যায়। তাদের বিরুদ্ধে রিফাত এর মা সুমি আক্তার বাদী হয়ে মডেল থানায় হত্যা মামলা দায়ের করে। তাদের ধরার জন্য পুলিশ খুঁজছিল। এ মামলায় তিন ছিনতাইকারী ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি।

দাউদকান্দি মডেল ওসি সাজেদুল ইসলাম বলেন, ‘তিন ছিনতাইকারী রিফাত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি। তারা অটোরিকশা ছিনতাই করতে গেলে পুলিশ তাদেরকে গ্রেপ্তার করেছে। বিকেলে তাদেরকে কুমিল্লা জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।’

স্কুলছাত্রীকে হত্যা ও ধর্ষণ মামলায় যুবকের ফাঁসির রায়

মাগুরা প্রতিনিধি
স্কুলছাত্রীকে হত্যা ও ধর্ষণ মামলায় যুবকের ফাঁসির রায়
সংগৃহীত ছবি

মাগুরার শ্রীপুরে স্কুলছাত্রী রাজিয়া খাতুনকে হত্যা ও ধর্ষণ মামলায় আসামি হাসান শেখ (৩০) নামে এক যুবকের ফাঁসির আদেশ দিয়েছেন জেলা ও দায়রা জজ আদালত।

সোমবার সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে মাগুরা জেলা ও দায়রা জজ মোহাম্মদ মিজানুর রহমান এ ফাঁসির আদেশ দেন।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন জানান, ২০২২ সালের ১৭ মার্চ ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রী রাজিয়া খাতুনকে হাসান শেখ প্রথমে ধর্ষণের চেষ্টায় ব্যর্থ হয়ে তাকে শ্বাসরোধ করে ও ব্লেড দিয়ে গলা কেটে হত্যা করে। পরে পাশের একটি বাঁশ বাগানে ফেলে রেখে যায়। প্রথমে শ্রীপুর থানায় আসামি অজ্ঞাত পরিচয়ে মামলা হয়। 

পরবর্তী সময়ে সিআইডি তদন্তপূর্বক বিভিন্ন আলামতের ভিত্তিতে আসামি হাসান শেখের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট প্রদান করে। এরপর ১১ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আজ ফাঁসির আদেশ দিয়েছেন আদালত। 

এ রায়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করে দ্রুত কার্যকরের দাবি জানিয়েছেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী। 
 

নিখোঁজের ২ দিন পর মেঘনা নদী থেকে স্কুলছাত্র দীপুর মরদেহ উদ্ধার

রায়পুরা (নরসিংদী) প্রতিনিধি
নিখোঁজের ২ দিন পর মেঘনা নদী থেকে স্কুলছাত্র দীপুর মরদেহ উদ্ধার
সংগৃহীত ছবি

নরসিংদীর রায়পুরায় মামাবাড়িতে বেড়াতে এসে মেঘনা নদীতে গোসল করতে নেমে নিখোঁজ হওয়ার দুই দিন পর দীপু সরকার (১৬) নামে এক শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। সোমবার (২০ জুলাই) সকাল ৮টার দিকে উপজেলার মনিপুরা ঘাট সংলগ্ন একটি ইটভাটার পাশ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

নিহত দীপু উপজেলার চান্দেকান্দি ইউনিয়নের দাইরেরপাড় এলাকার হান্নান সরকারের ছেলে। সে উপজেলার জ্ঞানগৃহ আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। 

পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীপু তার মামাবাড়ি উপজেলার হাইরমারা ইউনিয়নের মামুদপুর গ্রামে বেড়াতে এসেছিল। শনিবার (১৮ জুলাই) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে তিনজন সমবয়সী কিশোরের সঙ্গে মনিপুরা ঘাটে মেঘনা নদীতে গোসল ও সাঁতার কাটতে নামে। একপর্যায়ে নদীর প্রবল স্রোতে তলিয়ে গিয়ে নিখোঁজ হয় সে। পরে সঙ্গে থাকা অন্য কিশোররা বিষয়টি স্থানীয়দের জানালে ফায়ার সার্ভিসে খবর দেওয়া হয়। খবর পেয়ে কিশোরগঞ্জের ভৈরব ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল বিকেল ৩টা থেকে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা পর্যন্ত উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করে। দীর্ঘ সময় তল্লাশি চালিয়েও দীপুর সন্ধান না পাওয়ায় অভিযান সমাপ্ত ঘোষণা করে তারা ফিরে যায়।

এরপর সোমবার সকালে স্থানীয় জেলেরা মনিপুরা ঘাট সংলগ্ন একটি ইটভাটার পাশে একটি মরদেহ ভাসতে দেখে স্বজনদের খবর দেন। খবর পেয়ে স্বজনরা ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহটি দীপু সরকারের বলে শনাক্ত করেন।

নিহত দীপু সরকারের বাবা হান্নান সরকার কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘এভাবে আমাদের ছেড়ে দীপু চলে যাবে, কখনো ভাবিনি। ছেলেকে নিয়ে আমার অনেক স্বপ্ন ছিল। কিন্তু একটি দুর্ঘটনায় আজ সব স্বপ্ন শেষ হয়ে গেল।’

রায়পুরা থানার ওসি মজিবুর রহমান জানান, দীপু সরকার নামে ওই শিক্ষার্থী তার মামার বাড়িতে বেড়াতে এসে মেঘনা নদীতে গোসল করতে নেমে নিখোঁজ হয়। নিখোঁজ হওয়ার দুদিন পর সোমবার সকালে নদীর তীরে তার মরদেহ ভেসে ওঠে। খবর পেয়ে স্বজনরা ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ শনাক্ত করেন এবং পরে মরদেহটি বাড়িতে নিয়ে যান।