জুলাই আন্দোলনে রাজধানীর মিরপুর মডেল থানা এলাকায় মো. রিফাত হোসেনকে হত্যাচেষ্টার মামলায় সাবেক সংসদ সদস্য মো. আব্দুল্লাহ আল ইসলাম জ্যাকবকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। সোমবার (২০ জুলাই) পুলিশের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুল ইসলামের আদালত এই আদেশ দেন।
এর আগে মামলাটির তদন্তকারী কর্মকর্তা মিরপুর মডেল থানার উপপরিদর্শক মো. আশরাফুৎদৌলা আসামিকে এই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো আবেদন করেন।
ওই আবেদনে বলা হয়, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনে আওয়ামীলীগের ক্যাডাররা হামলা চালিয়ে এলোপাতাড়ি গুলিবর্ষণ করে। এতে বাদী মো. রিফাত হোসেনের ডান পায়ের হাঁটুর ওপর গুলি লাগে। আসামি আব্দুল্লাহ আল ইসলাম জ্যাকব ভোলা-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও আওয়ামী লীগের সক্রিয় সদস্য। মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে তাকে এই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো একান্ত প্রয়োজন। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিচারক তাকে গ্রেপ্তার দেখায়।
মামলার অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট সকাল থেকে মো. রিফাত হোসেন মিরপুর-১০ নম্বর সেকশনে মিরপুর গার্লস আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের সামনে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে অংশ নেন। ওই দিন দুপুর আনুমানিক ২টার দিকে আসামিদের নির্দেশে ৩০ থেকে ৪০ জন ব্যক্তি অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র, দেশীয় অস্ত্র ও লাঠিসোঁটা নিয়ে আন্দোলনকারীদের ওপর হামলা চালিয়ে এলোপাতাড়ি গুলিবর্ষণ করে। এতে তিনি ডান পায়ের হাঁটুর ওপরে গুলিবিদ্ধ হন।
অভিযোগে আরো বলা হয়, গুলিবিদ্ধ হয়ে মাটিতে পড়ে গেলে হামলাকারীরা রিফাতকে লাথি, কিল-ঘুষি ও দেশীয় অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে হত্যার চেষ্টা করে। পরে আন্দোলনকারীরা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে ইসলামী ব্যাংক হাসপাতালে এবং পরে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে প্রায় এক মাস চিকিৎসাধীন থাকার পর অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে তার পা থেকে গুলি অপসারণ করা হয়।
এদিকে রাজধানীর ভাটারা থানার আরেকটি পৃথক হত্যাচেষ্টা মামলায়ও জ্যাকবকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেন পুলিশ। তবে ওই আবেদনের বিষয়ে আদেশ অপেক্ষমাণ রেখেছেন আদালত।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ১ অক্টোবর ঢাকার গুলশান এলাকা থেকে জ্যাকবকে গ্রেপ্তার করে ডিবি পুলিশ। এরপর থেকে তিনি কারাগারে রয়েছেন।




