• ই-পেপার

‘চকরিয়া সুন্দরবনের’ বনভূমি রক্ষা ও পুনরুদ্ধারে হাইকোর্টর রুল

‘চেক ডিজঅনার’ মামলায় কারাগারে রিজেন্টের সেই সাহেদ

নিজস্ব প্রতিবেদক
‘চেক ডিজঅনার’ মামলায় কারাগারে রিজেন্টের সেই সাহেদ
ছবি : কালের কণ্ঠ

করোনার নমুনা পরীক্ষা নিয়ে জালিয়াতির অভিযোগে কারাগারে যাওয়া সেই রিজেন্ট হাসপাতালের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সাহেদকে চেক ডিজঅনার মামলায় আবারও কারাগারে পাঠানো হয়েছে। মার্কেন্টাইল কো-অপারেটিভ ব্যাংকের ২ কোটি ১৬ লাখ টাকার চেক ডিজঅনার মামলায় তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। সোমবার (২০ জুলাই) বিকেলে ঢাকার যুগ্ম মহানগর দায়রা জজ কোর্ট-৫ এর বিচারক সাদিক আহম্মেদ তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে এ আদেশ দেন।

সাহেদের আইনজীবী মোহাম্মদ দবির উদ্দিন বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ‘মার্কেন্টাইল কো-অপারেটিভ ব্যাংকের মামলাটি যখন হয় তখন তিনি সাড়ে ৪ বছর জেলে ছিলেন। তখন মামলাটিতে তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়নি। গত বছরের এপ্রিলের ৫ তারিখ আদালত তাকে এ মামলায় সাজা দেয় এবং সমপরিমাণ টাকা (২ কোটি ১৬ লাখ) অর্থদণ্ডে দণ্ডিত করেন। এখন যেহেতু উনি কারাগারে গেছেন আমরা আপিল করব।’

এর আগে দুপুরে মিরপুরের ইসিবি এলাকা থেকে সাহেদকে গ্রেপ্তার করা হয়।

হত্যাচেষ্টার মামলায় সাবেক এমপি জ্যাকব গ্রেপ্তার

নিজস্ব প্রতিবেদক
হত্যাচেষ্টার মামলায় সাবেক এমপি জ্যাকব গ্রেপ্তার
সাবেক সংসদ সদস্য মো. আব্দুল্লাহ আল ইসলাম জ্যাকব। ছবি : কালের কণ্ঠ

জুলাই আন্দোলনে রাজধানীর মিরপুর মডেল থানা এলাকায় মো. রিফাত হোসেনকে হত্যাচেষ্টার মামলায় সাবেক সংসদ সদস্য মো. আব্দুল্লাহ আল ইসলাম জ্যাকবকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। সোমবার (২০ জুলাই) পুলিশের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুল ইসলামের আদালত এই আদেশ দেন।

এর আগে মামলাটির তদন্তকারী কর্মকর্তা মিরপুর মডেল থানার উপপরিদর্শক মো. আশরাফুৎদৌলা আসামিকে এই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেন।  

ওই আবেদনে বলা হয়, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনে আওয়ামী লীগের ক্যাডাররা হামলা চালিয়ে এলোপাতাড়ি গুলিবর্ষণ করে। এতে বাদী মো. রিফাত হোসেনের ডান পায়ের হাঁটুর ওপর গুলি লাগে। আসামি আব্দুল্লাহ আল ইসলাম জ্যাকব ভোলা-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও আওয়ামী লীগের সক্রিয় সদস্য। মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে তাকে এই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো একান্ত প্রয়োজন। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিচারক তাকে গ্রেপ্তার দেখান।

মামলার অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট সকাল থেকে মো. রিফাত হোসেন মিরপুর-১০ নম্বর সেকশনে মিরপুর গার্লস আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের সামনে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে অংশ নেন। ওই দিন দুপুর আনুমানিক ২টার দিকে আসামিদের নির্দেশে ৩০ থেকে ৪০ জন ব্যক্তি অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র, দেশীয় অস্ত্র ও লাঠিসোঁটা নিয়ে আন্দোলনকারীদের ওপর হামলা চালিয়ে এলোপাতাড়ি গুলিবর্ষণ করে। এতে তিনি ডান পায়ের হাঁটুর ওপরে গুলিবিদ্ধ হন।

অভিযোগে আরো বলা হয়, গুলিবিদ্ধ হয়ে মাটিতে পড়ে গেলে হামলাকারীরা রিফাতকে লাথি, কিল-ঘুষি ও দেশীয় অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে হত্যার চেষ্টা করে। পরে আন্দোলনকারীরা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে ইসলামী ব্যাংক হাসপাতালে এবং পরে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে প্রায় এক মাস চিকিৎসাধীন থাকার পর অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে তার পা থেকে গুলি অপসারণ করা হয়।

এদিকে রাজধানীর ভাটারা থানার আরেকটি পৃথক হত্যাচেষ্টা মামলায়ও জ্যাকবকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করে পুলিশ। তবে ওই আবেদনের বিষয়ে আদেশ অপেক্ষমাণ রেখেছেন আদালত।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ১ অক্টোবর ঢাকার গুলশান এলাকা থেকে জ্যাকবকে গ্রেপ্তার করে ডিবি পুলিশ। এরপর থেকে তিনি কারাগারে রয়েছেন।

স্বাক্ষর-সিল জাল

ম্যাজিস্ট্রেটের নামে মামলার চেষ্টা : ফাঁসলেন আইনজীবীসহ ৩ জন

নিজস্ব প্রতিবেদক
ম্যাজিস্ট্রেটের নামে মামলার চেষ্টা : ফাঁসলেন আইনজীবীসহ ৩ জন

ঢাকার এক মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটের স্বাক্ষর ও সিল জাল করে বিয়ের হলফনামা তৈরি করে ম্যাজিস্ট্রেটকে আসামি করে মামলা দায়েরের চেষ্টা করার অভিযোগে বরগুনার এক আইনজীবীসহ ৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

রবিবার (১৯ জুলাই) রাতে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুল ইসলামের অফিস সহকারী (কাম-কম্পিউটার অপারেটর) খালিদ হোসেন কোতোয়ালি থানায় মামলা করেন।

বিষয়টি নিশ্চিত করে খালিদ হোসেন বলেন, মামলায় বরগুনা আইনজীবী সমিতির সদস্য তরিকুল ইসলাম (তরু) ফরাজী, মো. নয়ন ও ফাহিমা ইসলাম রিয়াকে আসামি করা হয়েছে।

মামলায় অভিযোগ করা হয়, রবিবার বিকেল ৩টার দিকে মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুল ইসলামের আদালত নয়ন ও রিয়ার বিবাহের হলফনামা যাচাই করার জন্য হলফনামার ফটোকপি খালিদ হোসেনকে পাঠান। খালিদ হলফনামার স্মারক নম্বর মেলানোর জন্য রেজিস্টার খাতায় দেখতে পান, স্মারকটি জাফরুল ইসলাম নামে এন্ট্রি। খালিদ বুঝতে পারেন, মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুল ইসলামের ছদ্মনাম ধারণ করে স্বাক্ষর জাল করে প্রতারণামূলকভাবে নোটারি পাবলিকের মাধ্যমে সম্পাদিত বিবাদিত বিবাহের হলফনামায় স্বাক্ষর ও সিল জালিয়াতি করে কাউন্টার সাইনের কলামে স্বাক্ষর ও সিল অন্তর্ভুক্ত করেছে।

মুসলিম বিবাহের ক্ষেত্রে বিবাহ ও তালাক কাজীর দ্বারা নিবন্ধন করতে হয়। অথচ আইন বহির্ভূত কোনো নোটারি পাবলিকের হলফনামা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুল ইসলাম কাউন্টার সই করবে না জেনেও কোনো রকমের প্রাথমিক সত্যতা যাচাই না করে নয়ন ও অ্যাড. তরিকুল ইসলাম জালিয়াতির মাধ্যমে তৈরি নোটারি হলফনামা আরিফুল ইসলামের স্বাক্ষর ও সিল জাল দেখিয়ে অন্যান্য আসামিরা মিলে ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুল ইসলামের নামে বরগুনার চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা দায়েরের চেষ্টা করে। তবে বরগুনার ম্যাজিস্ট্রেট আরিফ হোসাইন মামলা গ্রহণ করার উপাদান না থাকায় তা খারিজ করে দেন।

আসামিরা একটি জালিয়াত চক্রের সদস্য। তারা জালিয়াতির মাধ্যমে মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুল ইসলামের স্বাক্ষর ও সিল জাল করে নোটারি হলফনামা তৈরি করে। পরবর্তীতে বিভিন্ন মামলাসহ অফিসিয়াল কাজে ব্যবহার করে। ফলে এ আসামিরাসহ অজ্ঞাতনামা আসামিরা প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে পরস্পর যোগসাজশে জাল জালিয়াতি চক্রের মাধ্যমে এ হলফনামায় কাউন্টার সাইনের কলামে স্বাক্ষর ও সিল অন্তর্ভুক্ত করে তৈরি করেছেন। এতে স্পষ্ট হয়, আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে আদালতের সিল ব্যবহার করে ম্যাজিস্ট্রেটের স্বাক্ষর জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে তৈরি করে তা খাঁটি হিসেবে ব্যবহার করে এরূপ অপরাধ সংঘটন করেছে।

আইনি কাঠামোর মধ্যেই শেখ হাসিনার ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা হবে : আইনমন্ত্রী

মাগুরা প্রতিনিধি
আইনি কাঠামোর মধ্যেই শেখ হাসিনার ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা হবে : আইনমন্ত্রী
মাগুরা জেলা আইনজীবী সমিতি আয়োজিত মতবিনিময় ও সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য দিচ্ছেন আইনমন্ত্রী অ্যাডভোকেট মো. আসাদুজ্জামান।

আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী অ্যাডভোকেট মো. আসাদুজ্জামান এমপি বলেছেন, ‘শেখ হাসিনা বলেছেন বাংলাদেশে যেকোনো সময় তিনি ঢুকতে পারেন। দিন-তারিখ দিচ্ছেন ডিসেম্বর। ভালো কথা, আমরা অপেক্ষায় আছি উনি আসবেন। কিন্তু আপনার আপিলের ডিলে কন্ডিশনের বিষয় খণ্ডাবেন কী করে একটু চিন্তা করেন।’

তিনি বলেন, ‘তার অন্যান্য মামলা আমরা বিচারের মুখোমুখি করেছি এবং তাকে আনার চেষ্টা করছি। এই বিচারকে ডিফেন্ট করার নির্দোষ প্রমাণ করার একটা অভলিগেশন তার রয়েছে আদালতের সামনে এসে। তাকে নিশ্চয়ই আইনি কাঠামোর মধ্যে যেভাবে আইনসংগতভাবে তার ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা যায় আমরা সেটাই করব। আমরা প্রতিহিংসার রাজনীতি করি না।’

আজ রবিবার বিকেলে মাগুরা জেলা আইনজীবী সমিতি আয়োজিত মতবিনিময় ও সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী আরো বলেন, ‘ন্যায়বিচারের জায়গা, আমরা ন্যায়বিচার শুধু দেখানোর জন্য করছি না। আমরা ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করতে গিয়ে আমরা কোনো শর্টকাট পথে যাইনি। আমরা তার কণ্ঠের ফরেনসিক করিয়েছি। আমরা চাই শেখ হাসিনা ফিরুক। আইনসংগতভাবে তাকে দণ্ড কার্যকর করার জন্য যে বিধান আছে আমরা সে বিধানের পথ ধরে হেঁটে যেতে চাই। এর বাইরে কোনো পথ আমাদের জানা নেই।’

তিনি বিচার বিভাগের উদ্দেশে বলেন, ‘আমার দেশের গণতন্ত্র, মানবাধিকার, ন্যায়বিচার, আইনের শাসন, মানুষের মুখে হাসি ধরে রাখা উন্নয়ন—সব কিছুর কেন্দ্র বিন্দুতে যাদের সব থেকে বেশি ভূমিকা রাখা দরকার, তাদের মধ্যে অন্যতম হলো বিচার বিভাগ। আপনারা যারা বিচার বিভাগে আছেন তারা ডিভাইন পাওয়ার এক্সাসাইজ করেন। আপনাদের ডিভাইন পাওয়ার দিয়ে বাংলাদেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাবেন।’

মাগুরার শিশু আছিয়া ধর্ষণ মামলা সম্পর্কে মন্ত্রী বলেন, ‘মাগুরা আমাদের সারা বাংলাদেশের শিশু নির্যাতনের বিরুদ্ধে একটি প্রতিবাদী মাইলফলক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে আছিয়া ধর্ষণ ও হত্যা মামলা। তার পথ ধরে রামিসার বিচার হয়েছে। আরো কিছু শিশু নির্যাতনের বিচার হয়েছে সংক্ষিপ্ত সময়ে।’ আছিয়ার মামলা খুব দ্রুত হাইকোর্টে বিচার নিষ্পত্তি হবে বলে তিনি বিশ্বাস করেন। 

তিনি বলেন, ‘অন্যান্য মামলা দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য শিশুর প্রতি সহিংসতা ট্রাইব্যুনাল দমনের জন্য যে ট্রাইব্যুনাল করা হয়েছে, সেই ট্রাইব্যুনালে বিচারপ্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করার জন্য বিশেষ জজ ও পিপি নিয়োগ প্রক্রিয়ার মধ্যে আছি।’

জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট মিজানুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন মাগুরা-১ আসনের সংসদ সদস্য মনোয়ার হোসেন খান, জেলা ও দায়রা জজ মিজানুর রহমান, জেলা প্রশাসক মোতাকাব্বির আহমেদ, চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. সাইফুল ইসলাম, পুলশ সুপার মোল্যা মহাম্মদ আজাদ হোসেন, জেলা পরিষদ প্রশাসক আলী আহমেদ, জ্যেষ্ঠ আইনজীবী আহম্মদ হোসেন, জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট শাহেদ হাসান টগর।

এর আগে জেলা আইনজীবী সমিতির পক্ষ থেকে আইনমন্ত্রীকে ফুল ও ক্রেস্ট দিয়ে সংবর্ধনা দেওয়া হয়।