• ই-পেপার

সামাজিক কর্মকাণ্ডে সবার সক্রিয় অংশগ্রহণ প্রয়োজন : তথ্যমন্ত্রী

বন্যায় ফসল হারানোর শঙ্কায় কুমিল্লার গোমতী চরের কৃষকরা

শাহীন আলম, কুমিল্লা (উত্তর)
বন্যায় ফসল হারানোর শঙ্কায় কুমিল্লার গোমতী চরের কৃষকরা
বন্যার আশঙ্কায় কুমিল্লার গোমতীর চরের ফসল তুলে নিচ্ছেন কৃষকরা। আজ শুক্রবার বেলা ১১ টার দিকে তোলা। ছবি : কালের কণ্ঠ।

গত কয়েকদিনের টানা বৃষ্টি ও ভারত থেকে নেমে আসা ঢলে গোমতী নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় কুমিল্লার গোমতী নদীর চরাঞ্চলের কৃষকদের মধ্যে ফসল হারানোর শঙ্কা দেখা দিয়েছে। নদীর পানি দ্রুত বাড়তে থাকায় নিম্নাঞ্চলের বিভিন্ন ফসলি জমিতে পানি প্রবেশ করতে শুরু করেছে। এতে সবচেয়ে বেশি দুশ্চিন্তায় পড়েছেন চরাঞ্চলের কৃষকরা।

শুক্রবার (১০ জুলাই) বেলা ১১টার দিকে কুমিল্লার সীমান্তবর্তী সদর উপজেলা, বুড়িচং, ব্রাহ্মণপাড়া ও দেবিদ্বার উপজেলার গোমতী চরের বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, গোমতী নদীর তীরবর্তী বিভিন্ন আবাদ করা করলা, মিষ্টি কুমড়া, লাউ, চিচিঙ্গাসহ বিভিন্ন ধরনের মৌসুমি সবজির আবাদ পানিতে তলিয়ে যাওয়ার উপক্রম সৃষ্টি হয়েছে। কোথাও কোথাও চরের নিচু অংশের ফসল তলিয়ে গেছে। পানি আরো বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কায় চরের উঁচু অংশের অপরিপক্ব ফসল তুলে নিচ্ছেন কৃষকরা।

কুমিল্লার সদর উপজেলার আমতলী এলাকার কৃষক মো. শহীদুল ইসলাম বলেন, ‘গত কয়েকদিনের টানা বৃষ্টিতে দু:চিন্তায় পড়েছিলাম। চরে কয়েক লাখ টাকার ফসল রেখে রাতে ঘুমাতে পারেনি। একটু পর পর চরের এসে দেখি পানির বৃদ্ধির অবস্থা দেখতে আসি। এই কয়েকদিন এভাবেই সময় পার করছি। আমার ৪০ শতাংশ জমিতে করলা ও মিষ্টি কুমড়া আছে। পাইকারদের খবর দিয়েছি, তারা এসে ফসল তুলে নিয়ে যাবে। আর দুইদিন এমন টানা বৃষ্টি হলে এ ফসল আর তোলা যাবে না। কিছু করলা এখনো অপরিপক্ক, আর কিছু করলা পরিপক্ক হয়েছে, এখন কি করব বন্যা হলে তো যা আছে সবই নষ্ট হবে। একই এলাকার আরেকটি ফসলি জমিতে গিয়ে দেখা যায়, ১৬ জন শ্রমিক মুলা তুলে আঁটি বেঁধে ট্রাকে তুলছেন। শ্রমিকদের তত্ত্বাবধান করছিলেন নিমসার বাজারের আক্তার হোসেন নামে একজন পাইকারি ব্যবসায়ী। তিনি চরের কৃষকদের কাছ থেকে বিভিন্ন ফসল কিনে নিমসার বাজারসহ দেশের বিভিন্ন বাজারে সরবরাহ করেন। তিনি বলেন, বৃষ্টিতে ফসলের মুলা নষ্ট হয়ে গেছে। দুই লক্ষ টাকার মুলা কিনে ছিলাম এখন লোকসানে পড়তে হবে। বাজারে মুলায় একটু দাগ থাকলে ক্রেতা নিতে চায় না। এখন আবার বন্যা হওয়ার আশঙ্কা, তাই তারাতারি মুলা তুলে নিচ্ছি। বৃষ্টিতে যতটুকু ক্ষতি হইছে বন্যার পানিতে ফসল ডুবলে তো আর ক্ষতির মুখে পড়তে হবে।

চরে মুলার তুলে আঁটি বাঁধছেন দিনাজপুরের শ্রমিক শফিকুর রহমান। তিনি বলেন ‘আমরা ১৬ জন শ্রমিক প্রতিদিন ১২০০ টাকা মজুরিতে চরে কাজ করি। এই কদিন টানা বৃষ্টির কারণে কাজে আসতে পারি নাই। এখন গোমতী নদীর পানি বাড়ছে। বন্যা হলে এখানকার কৃষকদের ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। এলাকার কৃষকরা ফসল তুলে দেওয়ার জন্য আমাদের কাছে আসছেন। অনেক জমির ফসল এখনো পুরোপুরি পরিপক্ব হয়নি, তবুও বন্যার আশঙ্কায় মালিকরা আগেভাগেই ফসল তুলে নিচ্ছেন।’

কুমিল্লা পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, উজানের বৃষ্টি অব্যাহত থাকায় আগামী কয়েক দিন গোমতী নদীর পানি আরও বাড়তে পারে। আজ শুক্রবার সকাল ৯টার দিকে নদীর গোমতী নদীর পানি বিপৎসীমার ৮ দশমিক ৫৯ মিটার নিচে দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। নদীর সর্বোচ্চ বিপৎসীমা ১১ দশমিক ৩ মিটার। ফলে চরাঞ্চলের বাসিন্দা ও কৃষকদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড ও জেলা প্রশাসন।

কুমিল্লা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রাশেদ শাহরিয়ার বলেন, ‘গোমতীর পানি এখনো বিপৎসীমার অনেক নিচে অবস্থান করছে। আমরা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছি। এখনো ভয়ের কিছু নেই।’

কুমিল্লা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. মিজানুর রহমান বলেন, ‘টানা কয়েকদিনের বৃষ্টিতে গোমতীর চরের প্রায় ৫ দশমিক ৬৬ হেক্টর ফসলী জমি ডুবে গেছে। আমি ক্ষতিগ্রস্ত জমিগুলো পরিদর্শন করেছি। গতকাল বিকাল ৩টায় পানির লেভেল ছিল ৮ দশমিক ৯৪ মিটার। আজকে বিকাল ৩টায় ৮ দশমিক ৪২ মিটার প্রায় অর্থাৎ প্রায় দেড় হাত পানি কমেছে। করলা, মিষ্টি কুমড়া, ডাটা শাক, দুন্দুল, চিচিঙ্গা এ জাতীয় কিছু ফসল ডুবে গেছে। তারা ডুবাইয়া কিছু ফসল তুলে নিচ্ছে। আর দুই দিনের মধ্যে যদি পানি নেমে যায় তাহলে যে ফসলগুলো ডুবে গেছে তা বেচে যাবে।’

কুমিল্লার জেলা প্রশাসক মিজ রোজী আকতার বলেন, ‘গত কয়েকদিনের চেয়ে আজকে গোমতীর পানি একটু কমছে। বন্যার মতো পরিস্থিতি এখনো সৃষ্টি হয়নি। তবুও আমাদের ব্যাপক পূর্ব প্রস্তুতি রয়েছে। পর্যাপ্ত আশ্রয়কেন্দ্র, শুকনো খাবার ও বিশুদ্ধ পানি প্রস্তুত আছে। এছাড়াও কৃষকরা যদি বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থ হয় তাহলে তাদেরকে জেলা প্রশাসন ও কৃষি বিভাগ থেকে সহযোগিতা করা হবে। প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালের ২১ আগস্ট ভারত থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল আর টানা ভারী বর্ষণে বুড়িচং উপজেলার বুড়বুড়িয়া এলাকায় গোমতীর বাঁধ ভেঙে ভয়াবহ বন্যায় কবলিত হয় কুমিল্লার ৫টি উপজেলা। এতে শতশত গ্রাম প্লাবিত হয়। হাজার হাজার ঘরবাড়ি, স্কুল-কলেজ রাস্তাঘাট, কৃষি ফসলের মারাত্মক ক্ষতি হয়। সে বন্যায় অন্তত ১৪ জন মারা গেছে। সেই ক্ষতের কথা এখনো ভুলেনি নদীর তীরবর্তী গ্রামের মানুষেরা।’

রেলস্টেশনের পরিচ্ছন্নতা কর্মী বাকপ্রতিবন্ধী ববি হত্যায় গ্রেপ্তার ৫

রায়পুরা (নরসিংদী) প্রতিনিধি
রেলস্টেশনের পরিচ্ছন্নতা কর্মী বাকপ্রতিবন্ধী ববি হত্যায় গ্রেপ্তার ৫
সংগৃহীত ছবি

নরসিংদীর রায়পুরার মেথিকান্দা রেলস্টেশনের পরিচ্ছন্নতা কর্মী ও বাকপ্রতিবন্ধী ববি বেগম (৭০) হত্যার ঘটনায় পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব ও পুলিশ। বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) সন্ধ্যা থেকে শুক্রবার (১০ জুলাই) সকাল পর্যন্ত রায়পুরা ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় যৌথ অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

ভৈরব রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাঈদ আহমেদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

গ্রেপ্তাররা হলেন— সাকিব মিয়া (২৩), ইলিয়াছ মিয়া (৩৫), দ্বীন ইসলাম (২৬), রিফাত মিয়া (২০) ও বিল্লাল মিয়া (২৫)। তাদের মধ্যে দ্বীন ইসলাম ও রিফাতকে নবীনগর থেকে এবং অন্য তিনজনকে রায়পুরার মেথিকান্দা স্টেশনসংলগ্ন এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।

রেলওয়ে পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, গত ৪ জুলাই মেথিকান্দা রেলস্টেশনের একটি কক্ষে ঘুমিয়ে থাকা অবস্থায় ববি বেগমের ওপর হামলা চালানো হয়। হামলাকারীরা তাকে মারধর করে গুরুতর আহত করার পাশাপাশি তার দীর্ঘদিনের সঞ্চিত টাকা লুট করে নিয়ে যায়।

আহত অবস্থায় চিকিৎসা নেওয়ার পর তাকে স্টেশনে ফিরিয়ে আনা হয়। পরে গত মঙ্গলবার দিবাগত রাতে অসুস্থ হয়ে পড়লে নরসিংদী সদর হাসপাতালে নেওয়ার পথে অ্যাম্বুলেন্সে তার মৃত্যু হয়। ময়নাতদন্ত শেষে বুধবার রাতে জানাজা শেষে নুরপুর কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।

এদিকে ববি বেগমের ওপর হামলা ও তার মৃত্যুর ঘটনা সারা দেশকে নাড়িয়ে দেয়। পরে এ ঘটনায় ভৈরব রেলওয়ে থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়। মামলার তদন্তে ঘটনাস্থল ও আশপাশের এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ করে র‌্যাব-১১, রেলওয়ে পুলিশ ও জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের যৌথ অভিযানে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

স্থানীয় সূত্র জানায়, প্রায় ২৫ বছর আগে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া-সংলগ্ন এলাকা থেকে রায়পুরার মেথিকান্দা স্টেশনে এসে বসবাস শুরু করেন ববি বেগম। দীর্ঘদিন ধরে তিনি স্টেশনের পরিচ্ছন্নতা কর্মী হিসেবে কাজ করতেন। কোনো স্বজন না থাকায় স্টেশনের একটি ছোট কক্ষেই তার বসবাস ছিল। নিয়মিত বেতন না পেলেও যাত্রীদের সহযোগিতায় তার জীবিকা চলত।

শুক্রবার দুপুরে নরসিংদী-৫ আসনের সংসদ সদস্য প্রকৌশলী আশরাফ উদ্দিন বকুল নুরপুর কবরস্থানে ববি বেগমের কবর জিয়ারত করেন।

তিনি বলেন, ববি হত্যার ঘটনায় ইতোমধ্যে পাঁচজন গ্রেপ্তার হয়েছে। পুলিশ প্রশাসন এ ঘটনায় তৎপর রয়েছে। অপরাধীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হবে।

মাদারীপুরে থানার গ্রিল ভেঙে পালালেন নারী আসামি

মাদারীপুর প্রতিনিধি
মাদারীপুরে থানার গ্রিল ভেঙে পালালেন নারী আসামি
সংগৃহীত ছবি

মাদারীপুর সদর মডেল থানার বারান্দার গ্রিল ভেঙে গ্রেপ্তার হওয়া এক নারী আসামি পালিয়ে গেছেন। বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) রাতে দেড়টার দিকে সদর মডেল থানায় এ ঘটনা ঘটে। ঘটনায় দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তাসহ (ডিউটি অফিসার) দুই সদস্যকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইনসে সংযুক্ত করা হয়েছে।

বিষয়টির তথ্য নিশ্চিত করেছেন মাদারীপুরের পুলিশ সুপার (এসপি) মো. হাবিবুর রহমান। পালিয়ে যাওয়া নারী আসামি হাসিনা বেগম (৩৫) মাদারীপুর পৌরসভাধীন থানতলী এলাকার হবি হাওলাদারের মেয়ে ও সদর উপজেলার ঝাউদি ইউনিয়নের কালাইমারা এলাকার আল-আমিনের স্ত্রী।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে অসামাজিক কর্মকাণ্ডের জড়িত থাকার অভিযোগ হাসিনা বেগমকে আটক করে সদর মডেল থানাধীন ইটেরপুল পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক (এসআই) মোকসেদুর রহমান। পরে তাকে মাদারীপুর সদর মডেল থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। থানার মূল ভবনটি নির্মাণাধীন থাকায় অস্থায়ীভাবে সদর থানার ওসির বাসভবনের নিচতলায় থানার কার্যক্রম চলমান রয়েছে। এখানে আসামিদের জন্য কোন হাজতখানা না থাকলেও বারান্দার একটি কক্ষে পুলিশি হেফাজতে হাসিনাকে রাখা হয়। রাত দেড়টার দিকে সুযোগ বুঝে হাসিনা ওই কক্ষের গ্রিল ভেঙে পালিয়ে যায়। প্রথমে ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেন সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম আজাদ। সকালে থানা হেফাজত থেকে আসামি পালানোর ঘটনা জানাজানি হলে সদর মডেল থানার উপপরিদর্শক রমজান আলী সজলসহ দুই পুলিশ সদস্যকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইনসে সংযুক্ত করার নির্দেশ দেন পুলিশ সুপার।

পালিয়ে যাওয়া আসামির ব্যাপারে জানতে চাইলে ইটেরপুল পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক (এসআই) মোকসেদুর রহমান বলেন, ‘আমি কথা বলতে পারি না। আলফা ফাইভের সঙ্গে কথা বলেন। আমার কথা বলা নিষেধ।’

এদিকে আসামি পালানোর ঘটনায় শুক্রবার দুপুরে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ ও সদর সর্কেল) ফারিহা রফিক ভাবনাকে প্রধান করে ৩ সদস্যের তদন্ত কমিটি ঘটন করা হয়েছে। আগামী তিন কর্মদিবসের মধ্যে এ ঘটনার পূনাঙ্গ প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।

এ বিষয়ে মাদারীপুরের পুলিশ সুপার (এসপি) মো. হাবিবুর রহমান বলেন, ‘ওসির বাসভবনটি থানার অস্থায়ী ভাবে কার্যক্রম চালু আছে। ওই ভবনের বারান্দায় আসামি রাখা হয়েছিল। ওই আসামি বারান্দার গ্রিল ভেঙে চলে গেছে। বিষয়টি তদন্ত করে দেখার জন্য এডিশনাল এসপি ক্রাইমকে প্রধান করে তিন সদস্যের কমিটি করা হয়েছে। তিন কর্মদিবসের মধ্যে তারা রিপোর্ট দিবে। এ ঘটনায় কোন দায়িত্ব অবহেলার ঘটনা থাকলে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ইতিমধ্যে ডিউটি অফিসার ও সেন্টিকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইনসে সংযুক্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে পালিয়ে যাওয়া আসামিকে ধরতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।’

সাভার-আশুলিয়ায় ডিবি ও থানা পুলিশের অভিযানে ১১ জন গ্রেপ্তার

সাভার (ঢাকা) প্রতিনিধি
সাভার-আশুলিয়ায় ডিবি ও থানা পুলিশের অভিযানে ১১ জন গ্রেপ্তার
গ্রেপ্তারদের একাংশ। সংগৃহীত ছবি

সাভার ও আশুলিয়ার পৃথক এলাকায় অভিযান চালিয়ে মাদকদ্রব্যসহ ১১ জনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা জেলা উত্তর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ ও আশুলিয়া থানা পুলিশ। শুক্রবার (১০ জুলাই) দুপুরে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ঢাকা জেলা উত্তর গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক সাইদুর ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

পুলিশ জানায়, বৃহস্পতিবার সাভারের ভরারী বটতলা, ভাকুর্তা ইউনিয়নের মোগড়াকান্দা এবং আশুলিয়ার মধ্য গাজীরচট এলাকায় পৃথক অভিযান চালিয়ে সাতজনকে গ্রেপ্তার করে ডিবি পুলিশ।

গ্রেপ্তাররা হলেন বাগেরহাট জেলার মোংলা থানার মোর্শেদ সড়ক এলাকার মো. জিন্নাত আলীর ছেলে মো. হুমায়ন কবির (৩১), সিরাজগঞ্জ জেলার শাহজাদপুর থানার বড়বাশুরিয়া গ্রামের মো. আ. মালেকের ছেলে মো. ইকরাম হোসেন (২৮), ঢাকা জেলার আশুলিয়া থানার মধ্যগাজীরচট এলাকার মায়েজ উদ্দিনের ছেলে মো. মোফাজ্জল ভূইয়া (৪৮), কক্সবাজার জেলার রামু থানার পূর্ব দেছুয়া পালং (ছাদির কাটা) এলাকার নাছির উদ্দিনের ছেলে মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন (২৫), ফরিদপুর জেলার ভাঙ্গা থানার চণ্ডীদাসদী, দারিয়া মাঠ এলাকার মো. সরোয়ার মণ্ডলের ছেলে মো. রাজু মন্ডল (২৩), ঢাকা জেলার সাভার থানার ভরারী বটতলা এলাকার মো. গোলাম হোসেনের ছেলে মো. সুজন মিয়া (৩৮) এবং রাজবাড়ী জেলার গোয়ালন্দ থানার মহারাজপুর জেলেপাড়া তেনাপচা গ্রামের সিদ্দিকের ছেলে মো. চাঁন মিয়া (২৫)।

ডিবি পুলিশের দাবি, গ্রেপ্তাররা পেশাদার মাদক কারবারের সঙ্গে জড়িত এবং তাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা রয়েছে। অভিযানকালে তাদের কাছ থেকে ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়েছে।

ঢাকা জেলা উত্তর গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক সাইদুর ইসলাম জানান, গ্রেপ্তারদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

এদিকে আশুলিয়া থানা পুলিশের পৃথক মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযানে আরো চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তারা হলেন ঢাকা জেলার আশুলিয়া থানার দোসাইদ পশ্চিমপাড়া এলাকার মৃত কালু মিয়ার ছেলে মো. জসিম উদ্দিন (৪০), ঢাকার রামপুরা থানার সিপাহীবাগ, ম্যারাদিয়া এলাকার মৃত আউলাদ হোসেন খানের ছেলে মো. মামুন খাঁন (৩২), রংপুর জেলার মিঠাপুকুর থানার বিপুর গ্রামের মিজানুর রহমানের ছেলে মো. হাসান আলী (২৬), একই জেলার বদরগঞ্জ থানার নাটারাম গ্রামের মো. আবেদ আলীর ছেলে মো. মুরাদ হোসেন (৪২)।

পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তারদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।