প্রতিশ্রুতি, প্রতিষ্ঠান, প্রজন্ম ও একটি অনন্ত শূন্যতা
একটি সপ্তাহে কখনো এমন কিছু ঘটনা পাশাপাশি এসে দাঁড়ায়, যাদের মধ্যে প্রথম দেখায় কোনো সম্পর্ক খুঁজে পাওয়া যায় না। একদিকে দেশের তরুণদের ভবিষ্যৎ নিয়ে গভীর উদ্বেগ, অন্যদিকে পাকিস্তানের তথাকথিত সেফ সিটি মডেল অনুসরণের আগ্রহ; একদিকে আড়িপাতা, বাগিং ডিভাইস এবং সেনাবাহিনীর কমান্ড কাঠামোকে ঘিরে উদ্বেগ, অন্যদিকে আমার জীবনের সবচেয়ে ব্যক্তিগত বেদনা—আমার কন্যা নাজাহ জায়ানের আঠারোতম মৃত্যুবার্ষিকী। বিষয় চারটি আলাদা। কিন্তু একটি জায়গায় এসে তারা এক হয়ে যায়। সেটি হলো নিরাপত্তা, আস্থা ও দায়িত্বের প্রশ্ন। একজন তরুণ অর্থনৈতিক নিরাপত্তা চান, একজন নাগরিক নিরাপদ নগর ও কার্যকর রাষ্ট্র চান, একটি প্রতিষ্ঠান নেতৃত্ব ও কমান্ডের নিরাপত্তা চায়, আর একজন বাবা তার হারিয়ে যাওয়া সন্তানের স্মৃতির মধ্যে জীবনের অর্থ খুঁজে ফেরেন। রাষ্ট্রও এক অর্থে একটি বড় পরিবার। আর পরিবার এক ধরনের ক্ষুদ্র রাষ্ট্র। শুধু আশ্বাসে এদের কোনোটিই টিকে থাকে না; টিকে থাকে যত্ন, বিশ্বাস এবং দায়িত্ব পালনের মধ্য দিয়ে।
১. উদ্বিগ্ন তরুণ, শূন্য হয়ে যাওয়া জনপদ
বাংলাদেশের ৬৭ দশমিক ২ শতাংশ তরুণ অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, সংঘাত ও বৈষম্য নিয়ে উদ্বিগ্ন। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে এই হার সর্বোচ্চ। এমনকি আফগানিস্তান, পাকিস্তান ও ভারতের তরুণদের তুলনায় বাংলাদেশের তরুণরা বেশি উদ্বিগ্ন। অথচ বাংলাদেশের জনসংখ্যার ৬৩ শতাংশের বেশি মানুষের বয়স ৩৫ বছরের নিচে। অর্থাৎ যাদের শক্তিতে দেশ এগিয়ে যাওয়ার কথা, তারাই নিজেদের ভবিষ্যৎ নিয়ে সবচেয়ে বেশি অনিশ্চিত। তরুণদের উদ্বেগ শুধু একটি চাকরি পাওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে মূল্যস্ফীতি, বাসাভাড়া, চিকিৎসা, পরিবার, বিয়ে, সন্তান এবং সম্মানজনক জীবনের নিশ্চয়তা। গত এক দশকে বাংলাদেশের শ্রমবাজারে প্রায় ১ কোটি ৪০ লাখ তরুণ প্রবেশ করেছেন, কিন্তু কর্মসংস্থান হয়েছে ৮৭ লাখ মানুষের। দেশের প্রায় ১ কোটি মানুষ যোগ্যতা অনুযায়ী কাজ পাচ্ছেন না। যুব বেকারদের মধ্যে প্রায় ২৯ শতাংশই স্নাতক।
আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা অনেক সময় এমন এক রেস্তোরাঁর মতো, যেখানে মেন্যুতে বিরিয়ানি লেখা থাকে, পরিবেশন করা হয় সেমাই, আর বিল নেওয়া হয় পাঁচতারকা হোটেলের। বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বেরিয়ে তরুণরা দেখছেন, তাদের শিক্ষা ও শ্রমবাজারের চাহিদার মধ্যে পরিচয়টাই ঠিকমতো হয়নি। তাই শিক্ষিত ও সক্ষম তরুণরা গ্রাম ছাড়ছেন, জেলা শহর ছাড়ছেন, দেশও ছাড়ছেন। আইসিডিডিআরবি ও যুক্তরাষ্ট্রের বিংহামটন ইউনিভার্সিটির ২১ বছরের গবেষণা বলছে, তুলনামূলকভাবে সুস্থ, শিক্ষিত ও সম্ভাবনাময় তরুণদের মধ্যেই অভিবাসনের প্রবণতা বেশি। উপযুক্ত কর্মসংস্থানের অভাব, সামাজিকভাবে এগিয়ে যাওয়ার আকাঙ্ক্ষা এবং তথ্যের সহজলভ্যতা—এই তিনটি কারণ তাদের গ্রাম ছাড়তে উৎসাহিত করছে।
তারা শহর বা বিদেশ থেকে টাকা পাঠান, পরিবারে সচ্ছলতা আসে। কিন্তু গ্রাম হারায় শিক্ষক, চিকিৎসক, উদ্যোক্তা ও ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব। গবেষকরা একে বলেছেন নীরব প্রস্থান। জনপদ থেকে মেধা চলে যায়, সঙ্গে চলে যায় পরবর্তী প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করার মানুষও। জীবনানন্দ লিখেছিলেন, ‘আবার আসিব ফিরে ধানসিঁড়িটির তীরে।’ আমাদের তরুণরাও হয়তো ফিরতে চান। কিন্তু ফিরে এসে তারা কী করবেন? ধানসিঁড়ির তীরে বসে চাকরির ওয়েবসাইটে আবেদন করবেন?
২. ডেলিভারি স্টেট এবং পাকিস্তানের সেফ সিটি
তরুণদের এই অনিশ্চয়তা রাষ্ট্রের কার্যকারিতার সংকট থেকে বিচ্ছিন্ন নয়। আমাদের নীতির অভাব নেই। কর্মসংস্থান, দক্ষতা উন্নয়ন, প্রযুক্তি, নিরাপত্তা- সব ক্ষেত্রেই বড় বড় পরিকল্পনা আছে। অভাব হচ্ছে ফলের।বাংলাদেশে কোনো সমস্যা দেখা দিলে কমিটি হয়, উপকমিটি হয়, কর্মশালা হয়, পাওয়ার পয়েন্ট উপস্থাপনা হয়। শেষে ছবিও হয়। সমস্যাটি শুধু ছবির ফ্রেমের বাইরে থেকে যায়। এই কারণেই বাংলাদেশের প্রয়োজন প্রতিশ্রুতির রাষ্ট্র নয়, একটি ডেলিভারি স্টেট। যে রাষ্ট্র পরিকল্পনাকে মানুষের জীবনে দৃশ্যমান ফলাফলে রূপ দিতে পারে। প্রকল্প কত বড়, বাজেট কত, বিদেশি প্রযুক্তি কত আধুনিক— এসব নয়; প্রশ্ন হবে মানুষ বাস্তবে কতটা উপকার পেল।
সম্প্রতি পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পাকিস্তানের সেফ সিটি উদ্যোগকে অনুসরণযোগ্য মডেল হিসেবে উল্লেখ করেছেন। পাকিস্তান বাংলাদেশকে প্রযুক্তিগত সহায়তা এবং পুলিশ কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণের প্রস্তাবও দিয়েছে। সেফ সিটি প্রকল্পে স্মার্ট ক্যামেরা, ফেসিয়াল রিকগনিশন, স্বয়ংক্রিয় নম্বরপ্লেট শনাক্তকরণ এবং কেন্দ্রীয় কমান্ড সেন্টারের মতো প্রযুক্তি থাকে। প্রযুক্তির প্রয়োজন অবশ্যই আছে। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, পাকিস্তানের মডেল কেন? যে দেশটি নিজেই সন্ত্রাসী হামলা, ধর্মীয় উগ্রবাদ, অপহরণ, রাজনৈতিক সহিংসতা ও সংগঠিত অপরাধের সংকট মোকবেলা করছে, সেই দেশের মডেলকে আমরা অনুকরণীয় বলছি কোন ফলাফলের ভিত্তিতে? পাকিস্তানের লাহোর, ইসলামাবাদ, করাচি ও মুলতানে হাজার হাজার ক্যামেরা বসানো হলেও দেশটির সামগ্রিক নিরাপত্তাসংকটের স্থায়ী সমাধান হয়নি। ক্যামেরা বসালেই শহর নিরাপদ হয় না। প্রয়োজন দক্ষ পুলিশ, কার্যকর গোয়েন্দা বিশ্লেষণ, দ্রুত বিচার, দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন এবং রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা। নইলে সেফ সিটি প্রকল্প হবে দামি ক্যামেরার প্রদর্শনী—অপরাধী ধরা পড়বে কি না জানা নেই, তবে নাগরিকের মুখটি বেশ পরিষ্কারভাবে রেকর্ড হবে।
এখানে আরো বড় প্রশ্ন নাগরিক স্বাধীনতার। শক্তিশালী তথ্য সুরক্ষা আইন, বিচারিক অনুমোদন এবং স্বাধীন তদারকি ছাড়া ফেসিয়াল রিকগনিশন ও ব্যাপক সিসিটিভি নেটওয়ার্ক রাজনৈতিক নজরদারির হাতিয়ার হয়ে উঠতে পারে। হাজার হাজার কোটি টাকা ক্যামেরার পেছনে ব্যয় করার আগে ফরেনসিক ল্যাব, পুলিশি দক্ষতা, সাইবার অপরাধ দমন, জরুরি সেবা ও কমিউনিটি পুলিশিংয়ে বিনিয়োগ করলে বেশি ফল পাওয়া যায় কি না, সেটিও বিবেচনা করা দরকার। ডেলিভারি স্টেট অন্য দেশের প্রকল্প হুবহু নকল করে না। সে নিজের সমস্যার প্রকৃতি বোঝে, ফলাফল যাচাই করে এবং নাগরিক অধিকার রক্ষা করে সমাধান তৈরি করে।
৩. আড়িপাতার সংস্কৃতি ও গণতান্ত্রিক স্থিতি
এই জায়গা থেকেই বাগিং ডিভাইসের প্রসঙ্গটি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। একটি গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় কারো ব্যক্তিগত বা প্রাতিষ্ঠানিক কথোপকথন গোপনে ধারণ করা গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। জাতীয় নিরাপত্তা, সন্ত্রাসবাদ, গুপ্তচরবৃত্তি কিংবা গুরুতর অপরাধের বিশ্বাসযোগ্য আশঙ্কা থাকলে আইন ও যথাযথ অনুমোদনের অধীনে নজরদারি হতে পারে। কিন্তু রাজনৈতিক বা ব্যক্তিগত উদ্দেশ্যে নয়। বিশেষ করে সেনাবাহিনীর নেতৃত্ব বা কমান্ড কাঠামোর মধ্যে বাগিং ডিভাইস ব্যবহারের অভিযোগ সত্য হলে সেটি অত্যন্ত গুরুতর। এতে অধস্তনদের মধ্যে দ্বিধা, সন্দেহ ও বিভক্তি তৈরি হতে পারে। একটি পেশাদার সেনাবাহিনীর সবচেয়ে বড় শক্তি অস্ত্র নয়; তার কমান্ড, শৃঙ্খলা এবং নেতৃত্বের প্রতি আস্থা। এ ধরনের কার্যক্রম গণতান্ত্রিক সরকার ও সেনাবাহিনীর মধ্যে দূরত্ব সৃষ্টি করতে পারে। একই সঙ্গে জনগণের সামনে সরকারকে দুর্বল ও নিয়ন্ত্রণহীন হিসেবে দেখানোর অপপ্রয়াস হিসেবেও ব্যবহৃত হতে পারে। রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের নেতৃত্ব যদি নিজের কার্যালয়েই নিরাপদ বোধ না করে, তাহলে সেটি শুধু গোপনীয়তার নয়, জাতীয় নিরাপত্তার সংকট।
শেখ হাসিনার দীর্ঘ শাসনামলে ফোনে আড়িপাতা, ব্যক্তিগত কথোপকথন ফাঁস এবং প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি একটি রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে পরিণত হয়েছিল। জাতীয় নিরাপত্তার নামে এই ব্যবস্থা বেশি ব্যবহৃত হয়েছে বিরোধী নেতা, সাংবাদিক, ব্যবসায়ী, নাগরিক সমাজ এবং সাধারণ নাগরিকদের ওপর। এক সময় ঢাকায় দুজন মানুষ ফোনে কথা বললে তারা সন্দেহ করতেন, তৃতীয় একজন নীরব শ্রোতা হয়তো লাইনে আছেন। সুবিধা ছিল একটাই, সেই তৃতীয় ব্যক্তি কথোপকথনে বাধা দিতেন না!
কৌতুকের আড়ালের বাস্তবতা ভয়াবহ। নাগরিক যখন মনে করেন তার প্রতিটি কথা রেকর্ড হতে পারে, তখন তিনি নিজেই নিজের কণ্ঠকে নিয়ন্ত্রণ করতে শুরু করেন। নজরদারির আসল সাফল্য সেখানেই, মানুষকে গ্রেপ্তার না করেও নীরব করে দেওয়া। গণতান্ত্রিক পরিবর্তনের পর একই সংস্কৃতি চলতে পারে না। বাগিং ডিভাইস কোথা থেকে এলো, কার নির্দেশে ব্যবহৃত হলো এবং তথ্য কার কাছে গেছে তার নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন। আড়িপাতা স্বৈরতন্ত্রের উত্তরাধিকার; গণতন্ত্রের দায়িত্ব সেই উত্তরাধিকার বহন করা নয়, তার অবসান ঘটানো।
৪. নাজাহ : চার মাস ছয় দিনের অনন্ত উপস্থিতি
এই রাষ্ট্র, নিরাপত্তা ও ভবিষ্যতের কথা লিখতে লিখতেই ১৫ জুলাইয়ের ব্যক্তিগত শোক ফিরে আসে। দিনটি ছিল আমার প্রিয় কন্যা নাজাহ জায়ানের আঠারোতম মৃত্যুবার্ষিকী। সে আমাদের ছেড়ে গিয়েছিল মাত্র চার মাস ছয় দিন বয়সে। পৃথিবীতে একটি পূর্ণ ঋতুও কাটাতে পারেনি। অথচ তার অনুপস্থিতি আঠারো বছর ধরে আমাদের প্রতিটি ঋতুর অংশ হয়ে আছে। মানুষ বলে, সময় সব ক্ষত সারিয়ে দেয়। কথাটি সম্ভবত তারা বলেছেন, যারা সন্তান হারাননি। সময় ক্ষত সারায় না। সময় শুধু ক্ষত নিয়ে বেঁচে থাকার কৌশল শেখায়। মানুষ কাজে যায়, কথা বলে, হাসে, অনুষ্ঠান করে। বাইরে থেকে জীবন স্বাভাবিক মনে হয়। কিন্তু হৃদয়ের একটি কক্ষ চিরকাল বন্ধ থাকে। সেখানে ছোট্ট হাত, নিষ্পাপ চোখ, শিশুর গন্ধ এবং একটি অপূর্ণ ভবিষ্যৎ জমা থাকে।
নাজাহ বড় হলে কেমন হতো? সে কি বই পড়তে ভালোবাসত? গান শুনত? খুব অভিমানী হতো? ভাইবোনদের সঙ্গে ঝগড়া করত? এসব প্রশ্নের কোনো উত্তর নেই। তবু প্রশ্নগুলো আঠারো বছর ধরে আমাদের সঙ্গে আছে। আমরা শুধু একটি শিশুকে হারাইনি। হারিয়েছি তার শৈশব, কৈশোর, প্রথম স্কুল, প্রথম লেখা এবং একটি সম্পূর্ণ সম্ভাব্য জীবন। রবীন্দ্রনাথ লিখেছিলেন, ‘নয়ন তোমারে পায় না দেখিতে, রয়েছ নয়নে নয়নে।’ নাজাহকে আমরা দেখি না, কিন্তু সে আমাদের দেখার ভিতরেই রয়ে গেছে। কেউ কেউ খুব অল্প সময়ের জন্য পৃথিবীতে আসে, কিন্তু হৃদয়ে স্থায়ী ঠিকানা তৈরি করে যায়।
শেষ কথা
চারটি বিষয়ের কেন্দ্রে একই প্রশ্ন—আমরা কি মানুষ, প্রতিষ্ঠান ও ভবিষ্যৎকে যথেষ্ট যত্নে ধারণ করতে পারছি? তরুণের জন্য নিরাপত্তা মানে কাজ ও মর্যাদা। নাগরিকের জন্য নিরাপত্তা মানে শুধু ক্যামেরায় ঘেরা শহর নয়, অধিকার ও স্বাধীনতার নিশ্চয়তা। প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা মানে আস্থা, শৃঙ্খলা ও গোপনীয়তা। আর একজন বাবা-মায়ের কাছে নিরাপত্তা মানে সন্তানকে বুকে ধরে রাখার অসম্ভব আকাঙ্ক্ষা। একটি দেশের সবচেয়ে বড় প্রকল্প কোনো সেতু, টানেল কিংবা সেফ সিটি নয়। সবচেয়ে বড় প্রকল্প তার মানুষ, তার তরুণ, শিশু, নাগরিক এবং প্রতিষ্ঠান। নাজাহর স্মৃতি আমাকে মনে করিয়ে দেয়, জীবন খুব ছোট। যে দায়িত্ব আজ পালন করা দরকার, তা আগামীকালের প্রতিশ্রুতি হিসেবে রেখে দেওয়া যায় না। রাষ্ট্রের ক্ষেত্রেও একই কথা সত্য। প্রতিশ্রুতি কিছু দিন আশা জাগায়, প্রযুক্তি কিছু দিন মুগ্ধ করে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত মানুষ ফল চায়। কারণ প্রতিটি পরিসংখ্যানের পেছনে একজন মানুষ আছে, প্রতিটি ব্যর্থ নীতির পেছনে একটি হারানো সম্ভাবনা আছে, আর প্রতিটি ছোট জীবনেরও অসীম মূল্য আছে।
লেখক : প্রেসিডেন্ট, সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজ

















