• ই-পেপার

সড়ক সংস্কারে অনিয়মের অভিযোগ, ৪ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে শোকজ

সিরাজগঞ্জে মাছ ধরতে গিয়ে সাপের কামড়ে প্রাণ গেল একজনের

কাজিপুর (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি
সিরাজগঞ্জে মাছ ধরতে গিয়ে সাপের কামড়ে প্রাণ গেল একজনের
সংগৃহীত ছবি

সিরাজগঞ্জের কাজিপুর উপজেলায় বন্যার পানিতে মাছ ধরতে গিয়ে সাপের কামড়ে হযরত আলী (৪৫) নামের এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। সোমবার (২০ জুলাই) দুপুরে বগুড়া শহিদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।

নিহত হযরত আলী উপজেলার ৯ নম্বর নাটুয়ারপাড়া ইউনিয়নের পানাগাড়ী বাঘগাড়ি পাড়ার নুর হোসেনের ছেলে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, সোমবার সকাল আনুমানিক ৬টার দিকে বাড়ির পাশের বন্যার পানিতে চায়না জাল দিয়ে মাছ ধরতে যান হযরত আলী। কিছুক্ষণ পর জাল তুলতে গিয়ে তিনি জালের মধ্যে একটি সাপ দেখতে পান। জাল থেকে সাপটি ছাড়ানোর সময় অসাবধানতাবশত সেটি তাকে কামড় দেয়।

প্রতিবেশী আব্দুস সালাম জানান, সাপটিকে বিষহীন সাপ মনে করে প্রথমে বিষয়টিকে গুরুত্ব দেননি হযরত আলী। পরে ব্যথা শুরু হলে তিনি স্থানীয় এক ওঝার কাছে যান। অবস্থার অবনতি হলে স্বজনরা তাকে যমুনা নদী পাড়ি দিয়ে কাজিপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে তাকে অ্যান্টিভেনম দেওয়া হয়। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য বগুড়া শহিদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে দুপুর আড়াইটার দিকে দায়িত্বরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

কাজিপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. রাসেল বলেন, ‘রোগীকে সাপ কামড়ানোর প্রায় ছয় ঘণ্টা পর হাসপাতালে আনা হয়। ততক্ষণে বিষক্রিয়া সারা শরীরে ছড়িয়ে পড়েছিল। আমরা অ্যান্টিভেনম দিয়েছি। পরে স্বজনদের অনুরোধে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে অন্য হাসপাতালে রেফার করা হয়।’

তিনি আরো বলেন, ‘সাপে কাটলে ওঝার কাছে না গিয়ে দ্রুত হাসপাতালে এলে রোগীর সুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি।’

ব্রহ্মপুত্র নদে ভেসে এলো কফিন, এলাকায় কৌতূহল

ময়মনসিংহ প্রতিনিধি
ব্রহ্মপুত্র নদে ভেসে এলো কফিন, এলাকায় কৌতূহল
ছবি: কালের কণ্ঠ

ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে ব্রহ্মপুত্র নদীতে ভেসে আসে একটি কফিন। নদীতে কফিন ভেসে আসতে দেখে এলাকাবাসীর মধ্যে কৌতূহল ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। 

সোমবার (২০ জুলাই) সকালে উপজেলার উচাখিলা ইউনিয়নের মরিচারচর (টানমলামারি) গ্রামের ব্রহ্মপুত্র নদীতে কফিনটি ভেসে ওঠে। পরে স্থানীয় যুবক আব্দুল আউয়াল (৩৫) কফিনটি নদী থেকে ডাঙায় তুলে আনেন। তবে কফিনটিতে কিছুই ছিল না। খালি কফিনটি নিজের বাড়িতেও নিয়ে গিয়েছিলেন তিনি। পরে এলাকার লোকজনের পরামর্শে কফিনটি ফের নদীতে ভাসিয়ে দেন আব্দুল আউয়াল। 

আব্দুল আউয়াল বলেন, প্রথমে না বুঝে কফিন বাড়িতে এনেছিলাম। পরে এলাকাবাসীর পরামর্শে কফিনটি ফের নদীতে ভাসিয়ে দিয়েছি।

প্রত্যক্ষদর্শী ইব্রাহীম খলিল, মোজাম্মেল হক ও ফারুক হোসেন বলেন, আমাদের ধারণা উজানের ময়মনসিংহ-জামালপুরের দিক থেকে স্রোতে কফিনটি ভেসে এসেছে। এমনও হতে পারে দেশে চলমান বন্যা পরিস্থিতিতে নিহত কোনো ব্যক্তির মরদেহ দাফন করতে না পেরে লাশ কফিনে ভরে ভাসিয়ে দিয়েছিল। পরে প্রবল স্রোতে লাশ ও কফিন ভিন্নদিকে প্রবাহিত হয়েছে। 

স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা বলেন, প্রথমে বিষয়টি দেখে আমরা কিছুটা আতঙ্কিত ছিলাম। তবে কফিনের ভেতর কিছু পাওয়া যায়নি। 

ঈশ্বরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. রবিউল আজম বলেন, এ সম্পর্কে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং বাসিন্দাদের কেউ পুলিশকে জানায়নি। শুনেছি একটি কফিন নদীতে ভেসে এসেছিল। পরে স্থানীয়রা কফিনটি আবার নদীতে ভাসিয়ে দিলে অন্যত্র চলে যায়।

কলমাকান্দায় উপদাখালীর নদীর পানি বিপৎসীমার ওপরে, নিম্নাঞ্চল প্লাবিত

নেত্রকোনা প্রতিনিধি
কলমাকান্দায় উপদাখালীর নদীর পানি বিপৎসীমার ওপরে, নিম্নাঞ্চল প্লাবিত
নেত্রকোনার কলমাকান্দা নদীভাঙনে একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবনের অর্ধাংশ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে।

উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলার উপদাখালী নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এতে সীমান্তবর্তী ৫টি ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। প্রবল স্রোতে উপজেলার প্রায় ১২ কিলোমিটার কাঁচা ও পাকা গ্রামীণ সড়ক পানির নিচে চলে গেছে। নদীভাঙনে একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবনের  অর্ধাংশ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) জানায়, সোমবার (২০ জুলাই) বিকেল ৩টায় কলমাকান্দা পয়েন্টে উপদাখালী নদীর পানি বিপৎসীমার ১৮ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। এর আগের দিন একই সময়ে নদীটির পানি বিপৎসীমা স্পর্শ করেছিল।

প্রশাসন ও স্থানীয় সূত্র জানায়, রবিবার রাতে আকস্মিক পাহাড়ি ঢল নামার পর উপজেলার সীমান্তসংলগ্ন ৫টি ইউনিয়নের নিচু এলাকা প্লাবিত হয়। এতে ঘরবাড়ি, পুকুর, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও শাকসবজির ক্ষেত পানিতে তলিয়ে যায়। বিভিন্ন এলাকায় সড়ক ডুবে যাওয়ায় যোগাযোগও ব্যাহত হচ্ছে।

খারনৈ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ওবায়দুল হক বলেন, ‘গজারমারি-খারনৈ সড়কের শ্রীপুর এলাকায় প্রায় সাড়ে ৪ কিলোমিটার অংশের কয়েকটি স্থানে নদীভাঙন শুরু হয়েছে। নদীর পানি আরো বাড়লে ভাঙন ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে। পাহাড়ি ঢলের তীব্র স্রোতে নদী তীরবর্তী গজারমারি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের আধাপাকা ভবনের অর্ধেক অংশ নদীতে বিলীন হয়েছে। সোমবার সকালে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে কোমরসমান পানি ছিল।’

এলজিইডির কলমাকান্দা উপজেলা প্রকৌশলী মমিনুল ইসলাম জানান, পাহাড়ি ঢলে উপজেলার প্রায় ১২ কিলোমিটার কাঁচা ও পাকা গ্রামীণ সড়ক তলিয়ে গেছে। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণে কাজ চলছে।

পাউবোর নেত্রকোনা কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী সাখাওয়াত হোসেন জানান, উপদাখালী নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর থাকলেও জেলার সোমেশ্বরী, কংস, মগড়া ও ধনু নদীর পানি এখনো বিপৎসীমার নিচে রয়েছে। সোমবার বিকেল ৩টা পর্যন্ত আটপাড়া পয়েন্টে মগড়া নদীর পানি বিপৎসীমার ৪৮ সেন্টিমিটার নিচে ছিল। একই সময়ে পূর্বধলার জারিয়া পয়েন্টে কংস নদী, খালিয়াজুড়ির ধনু নদী এবং দুর্গাপুর ও সোমেশ্বরী পয়েন্টে সোমেশ্বরী নদীর পানিও বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল।

জেলা প্রশাসক খন্দকার মুশফিকুর রহমান বলেন, ‘ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলো জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা পরিদর্শন করেছেন। এখন পর্যন্ত কোনো পরিবারের বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে সম্ভাব্য বন্যা পরিস্থিতি মোকাবেলায় ত্রাণসামগ্রী ও জরুরি সহায়তা প্রস্তুত রাখা হয়েছে।’

জামালপুরে পুকুরের পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু

সরিষাবাড়ী (জামালপুর) প্রতিনিধি
জামালপুরে পুকুরের পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু

জামালপুরের সরিষাবাড়ীতে পুকুরের পানিতে ডুবে তানজিল মিয়া (৫) নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

সোমবার (২০ জুলাই) দুপুরে উপজেলার কামরাবাদ ইউনিয়নের স্বাধীনাবাড়ী হুদুরমোড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কামরাবাদ ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আলমগীর হোসেন।

নিহতের পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, তানজিল স্বাধীনাবাড়ী গ্রামের করাতকল শ্রমিক শামীম মিয়ার ছেলে। সোমবার দুপুরে বাড়ির পাশে হুদুরমোড় এলাকায় একটি দোকানে বিস্কুট কিনতে যায় সে। পরে বাড়ি ফেরার পথে সড়কের ভাঙা অংশের গর্তে পড়ে পাশের পুকুরের পানিতে ডুবে যায়।

এ সময় তার সঙ্গে থাকা অন্য শিশুরা দৌড়ে গিয়ে পরিবারের সদস্যদের খবর দেয়। পরে পরিবারের লোকজন প্রায় এক ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে পুকুর থেকে তানজিলের মরদেহ উদ্ধার করেন।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে কামরাবাদ ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আলমগীর হোসেন বলেন, বাড়ি ফেরার পথে রাস্তার ভাঙা গর্তে পড়ে শিশুটি পুকুরের পানিতে ডুবে যায়। খবর পেয়ে পরিবারের সদস্যরা পুকুর থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করেন।